তাফসিরে কুরআন পবিত্র কুরআনের সহজ ব্যাখ্যা (পর্ব - ২)

  • Posted: 16/04/2018

মূল: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শেখ মুহসিন ক্বারাআতী, অনুবাদ: মোঃ মাঈনউদ্দিন

প্রশ্ন: بسم الله الر حمن الر حيم ( বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) কি আলাদা আয়াত ?
উত্তর: আল্লাহর রাসূলের (সা.) আহলে বাইতের (আ.)- বিশ্বাস মতে بسم الله الرحمن الرحيم ( বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) হলো আলাদা আয়াত এবং পবিত্র কোরআনের অংশ। উল্লেখ্য, রাসূল (সা:)-এর আহলে বাইত (আ.) অন্যান্য ফিকাহগত মাযহাবের নেতাদের চেয়ে একশ বছর আগে এসেছিলেন। তারা আল্লাহর দ্বীনের জন্যে শাহাদাত বরণ করেছিলেন এবং পবিত্র কোরআনেও তাদের পবিত্রতা সম্পর্কে সুস্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে। ফখরে রাযি নিজ তাফসীরে এর পক্ষে ষোলটি দলিল এনেছেন যে بسم الله হলো সূরার অংশ । অলুসীও এমন বিশ্বাস রাখেন। মুসনাদে আহমাদেওبسم الله -কে সূরার অংশ বলে গণনা করা হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, খ.৩, পৃ.১৭৭ ও খ.৪, পৃ.৮৫) যে সকল ব্যক্তিবর্গ بسم الله কে সূরার অংশ বলে মনে করতেন না এবং নামাযে তা ত্যাগ করতেন, তারা বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মুস্তাদরাকে হাকিমে এসেছে যে, একদিন মোয়াবিয়া নামাযে بسم الله বলেনি; লোকজন তার বিরোধিতা করে বলেছিল যে, أسرقت ام نسيت ‘আয়াত চুরি করলে, না-কি ভুলে গিয়েছিলে?!’ (মুস্তাদরাক, খ.৩, পৃ.৩৩৩)
পবিত্র ইমামগণ (আ.) নামাযে بسم الله উচ্চস্বরে শব্দ করে পড়ার জন্যে জোর সুপারিশ করতেন। ইমাম বাকের (আ.), যারা নামাযে بسم الله পড়তো না কিংবা সূরার আংশ বলে মনে করতো না, তাদের সম্পর্কে বলেন: سرقوا اکرمو آية অর্থাৎ তারা শ্রেষ্ঠ আয়াত চুরি করেছে। (বিহার , খ.৮৫, পৃ.২০) সুনানে বায়হাকিতে একটি হাদীসের বর্ণনায় এসেছে: কেন কেউ কেউبسم الله কে সূরার অংশরূপে স্থান দেয়নি! (সূনানে বায়হাকী, খ.২, পৃ.৫০) শহীদ মোতাহহারী (রহ:) সূরা হামদের তাফসীরে ইবনে আব্বাস, আসেম, কুসাই, ইবনে ওমর, ইবনে যুবাইর, আতা, তাউস, ফখরে রাযি ও সূয়ূতিকে সেই দলের মধ্যে বলে পরিচয় দিয়েছেন যারা بسم الله -কে সূরার অংশ বলে মনে করেছেন।
কুরতুবীর তাফসীরে ইমাম সাদিক (আ:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘ بسم الله হলো সূরাসমূহের তাজ।’ কেবলমাত্র সূরা বারয়াতের (সূরা তওবা) শুরুতে بسم الله আসেনি। আর তা হযরত আলী (আ.)-এর বর্ণনা মতে, এ কারণে যে, بسم الله হলো নিরাপত্তা ও রহমতের বাক্য; আর কাফের ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন (বারায়াত) করা এবং মহব্বত (ভালোবাসা) ও রহমতের বহি:প্রকাশের মধ্যে মিল হয় না। (তাফসীরে মাজমাউল বাইয়ান ও ফখরে রাযি.)
بسم الله (বিসমিল্লাহ)-র রূপ
১। بسم الله হলো এলাহী রং এবং আমাদের একত্ববাদিতার দিকে যাওয়ার কথা প্রকাশ করে। (ইমাম রেযা (আ.) বলেন: বিসমিল্লাহ (بسم الله ) মানে আল্লাহর বান্দেগী বা দাসত্বের আলামত নিজের উপর লাগানো। (তাফসীরে নূরুস সাকালইন।))
২। বিসমিল্লাহ হলো তাওহীদের গোপন রহস্য এবং এখানে আল্লাহর নামের স্থলে অন্য নাম স্মরণ করা কুফরীর গোপণ রহস্য । অন্যদের নামের পাশে আল্লাহর নাম নেয়া শিরক বা অংশীবাদের আলামত। আল্লাহর নামের পাশে অন্য কারো নাম আনবো না এবং তাঁর নামের স্থানেও অন্য কারো নাম বসাবো না। (কেবলমাত্র তাঁর (আল্লাহর ) যাত বা সত্তাই নয়, বরং তাঁর নামও যে কোন প্রকার শরীক বা অংশীদারিত্ব থেকে পবিত্র।سبح اسم ربک الاعلی (তোমার মহান প্রভুর নাম অতি পবিত্র)। এমনকি কোন কাজ একত্রে আল্লাহ এবং মোহাম্মদ (সা.)-এর নামে শুরু করা নিষেধ। (ইসবাতুল হুদাত, খ:৭, পৃ:৪৮২) )
৩। بسم الله হলো টিকে থাকা ও অব্যাহত থাকার রহস্য । কারণ যা কিছুই আল্লাহর রং বিহীন হবে, নি:শেষ হয়ে যাবে। (کل شیء هالک الا وجه (সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে একমাত্র তার (আল্লাহর ) চেহারা ব্যতীত), সূরা কাসাস, ৮৮।)
৪। بسم الله হলো আল্লাহর প্রতি প্রেম ও তাওয়াক্কুলের (আল্লাহর উপর নির্ভর করা) রহস্য। যিনি রহমান ও রাহীম (পরম দাতা ও দয়ালু) তাঁকে ভালোবাসার এবং তাঁর উপর নির্ভর করেই আমাদের কাজ শুরু করবো কারণ, তাঁর নাম স্মরণ করা, রহমত বা দয়া লাভের কারণ হয়।
৫। بسم الله হলো তাকাব্বুরী (অহংকার) থেকে বের হওয়ার এবং মহান প্রভুর দরবারে নিজ অপারগতা প্রকাশের গোপন কোড বা রহস্য।
৬। بسم الله হলো আল্লাহর বান্দেগী বা দাসত্বের পথে প্রথম পদক্ষেপ।
৭। بسم الله হলো শয়তানের পালানোর কারণ। যে আল্লাহকে সাথে রাখে, শয়তান তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।
৮। بسم الله কোন কাজের পবিত্রতা লাভের ও বীমা (নিশ্চয়তা লাভ) হওয়ার কারণ।
৯। بسم الله হলো আল্লাহর যিক্র বা স্মরণ, মানে ‘হে আল্লাহ! আমি আপনাকে ভুলে যাইনি।
১০। بسم الله আমাদের ঝোঁক বা প্রবণতার প্রকাশ ;অর্থাৎ হে আল্লাহ আমার উদ্দেশ্য হলেন আপনি, মানুষ নয়, নয় তাগুত (অত্যাচারী); না চাকচিক্য, না নাফসানিয়াত বা নফসের কামনা।
১১। ইমাম রেযা (আ:)বলেন’ بسم الله ইসমে আযমে ইলাহীর এমন কাছে যে চোখের সাদা অংশ কালো অংশের যত কাছে তার চেয়েও নিকটবর্তী। (তাফসীরে রা’হনাম)
বার্তাসমূহ:
১। সূরার প্রথমেই بسم الله الر حمن الر حيم থাকার রহস্য হলো এই যে, সূরার বিষয়বস্তুর উৎস মহান আল্লাহ এবং তা রহমতের থেকে নাযিল হয়েছে।
২। কিতাবের শুরুতে بسم الله الرحمن الرحيم মানে হেদায়াত কেবলমাত্র তাঁর (আল্লাহর) সাহায্যেই বাস্তবায়ন হয়। (সম্ভবত: এই যে বলে: ‘সমস্ত কোরআন সূরা হামদের মধ্যে এবং সমস্ত সূরা হামদ بسم الله -ও মধ্যে এবং সমস্ত بسم الله , باء (বা) অক্ষরের মধ্যে সংক্ষেপিত হয়েছে।’ -এর অর্থ হলো সমস্ত অস্তিত্বের সৃষ্টি ও এর হেদায়াত তাঁর সাহায্যেই হয়। যেমন মহানবী(সা:)-এর রিসালাতও তাঁর নামেই শুরু হয়। পড় তোমার প্রভুর নামে ( اقرأ باسم ربک))
৩। بسم الله হলো এমন এক কথা, যার মাধ্যমে মানুষের সাথে মহান আল্লাহর কথা এবং মহান আল্লাহর সাথে মানুষের কথা শুরু হয়।
৪। আল্লাহর রহমতও তাঁর সত্তা ও যাতের মতই চিরন্তন ও অশেষ।
৫। বিভিন্নভাবে আল্লাহর রহমতের বর্ণনা রহমতের জোরালো সুপারিশের আলামত।(رحمن এর কাঠামোতে যেমন, তেমনি رحيم এর কাঠামোতেও) بسم الله الرحمن الرحيم
৬। সম্ভবত: কিতাবের শুরুতে رحمن ও رحيم শব্দ দু’টি উল্লেখ করা, প্রকাশ করে যে, কোরআন হলো আল্লাহর রহমতের দ্যুতি, যেমন করে মূল সৃষ্টি ও বে’সাত (বা নবুওয়াতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা) তাঁর দয়া ও রহমতের দ্যূতি। الر حمن الر حيم
لله رب العا لمين (২) الحمد
২. প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্যে যিনি বিশ্ববাসীদের প্রতিপালক
স্মরণীয় বিষয়সমূহ:
# رب (রব) বা তাঁকেই বলা হয় যিনি একদিকে যেমন কোন কিছুর মালিক ও অধিকারী অপরদিকে এর বিকাশ ও প্রতিপালনে ভূমিকা রাখেন। মহান আল্লাহ বিশ্বের প্রকৃত বা সত্যিকারের মালিকও যেমন, তেমনি এর পরিচালক ও প্রতিপালকও। সুতরাং সমস্ত বিদ্যমান বস্তুই পরিপূর্ণতা লাভের দিকে গতিশীল এবং মহান আল্লাহ যে পথ নির্দিষ্ট করেছেন, বিশ্ব সে পথেই পরিচালিত হয়।
# সূরা হামদ ব্যতীত অপর চারটি সূরা যথা: আনআম, কাহফ, সাবা এবং ফাতিরও لله الحمد (আলহামদুলিল্লাহ) বাক্য দিয়ে শূরু হয়েছে । কিন্তু কেবলমাত্র সূরা হামদেই উল্লেখিত বাক্যের পর رب العالمين (রাব্বিল আলামীন) কথাটি এসেছে।
# হামদ-এর তাৎপর্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা’ এ দু’য়ের সমবেত তাৎপর্য বহন করে। মানুষ সৌন্দর্য ও পূর্ণতার জন্যে প্রশংসা করে এবং নে’মাত, উপকারিতা ও দয়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। মহান আল্লাহ তাঁর পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের জন্যে প্রশংসার উপযুক্ত এবং তাঁর দয়া ও নে’মাতসমূহের জন্যে কৃতজ্ঞতা পাওয়ার উপযুক্ত।
# لله الحمد হলো মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। যে কেউ যেখানেই, যে ভাষাতেই, যে কোন পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের যে কোন প্রকার প্রশংসাই করুক না কেন, সে প্রকৃতপক্ষে এর উৎসেরই প্রশংসা করে। তবে মহান আল্লাহর হামদ ও প্রশংসার সাথে তাঁর সৃষ্টির প্রশংসার কোন বিরোধ নেই; তবে শর্ত হলো সে প্রশংসা মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ও তাঁর পথে হতে হবে।
# মহান আল্লাহ সবার বিকাশ ও প্রতিপালনের পথ নির্ধারণ করেছেন ربنا الذی اعطی کل شیء خلقه ثم هدی অর্থাৎ আমাদের প্রভু সব কিছুকে অস্তিত্বেও নেআমত দিয়েছেন অত:পর কামালত (পূর্ণতার)পথে হেদায়াত করেছেন। (তা-হা: ৫০) তিনি মৌমাছিদেরকে শিখিয়েছেন কোন উদ্ভিদ থেকে চুষতে হবে এবং পিঁপড়াকে শিখেয়েছেন কিরূপে শীতকালে নিজের দৈহিক শক্তিকে সংরক্ষণ করতে হবে। আবার মানুষের দেহকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, যখনই রক্তের অভাব দেখা দিবে রক্ত তৈরী হবে। আর এমন প্রভুই হাম্দ বা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য উপযুক্ত।
# মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক। وهو رب کل شیء (এবং তিনি সবকিছুর প্রভু) (আল-আনআম: ১৬৪) رب السموات والارض و ما بينهما (অর্থাৎ যা কিছু আকাশে ও পৃথিবীতে এবং এ দু’য়ের মাঝে আছে তাদের সবার প্রভু)। (শুয়ারা: ২৪ )
হযরত আলী (আ.) বলেন: من الجمادات و الحيوانات অর্থাৎ তিনি জড় ও জীবের প্রভু। له الخلق و الامر تبارک الله رب العالمين সৃষ্টিও তাঁর থেকে, পরিচালনাও তাঁর হাতে এবং তিনি সবকিছুর প্রতিপালক।
# عالمين(আলামীন)বা বিশ্ববাসী বলতে, হয় কেবলমাত্র মানুষকে বুঝানো হয়েছে। যেমন: সূরা হিজরের ৭০ নম্বর আয়াতে যেখানে হযরত লূতের গোত্র, তাকে বলল: اولم ننهک عن العالمين অর্থাৎ ওহে আমরা কি তোমাকে জনগণের সাথে সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করিনি ? অথবা সমস্ত অস্তিত্ব জগৎ বুঝায়।عالم মাখলুকাত বা সৃষ্টকুল অর্থে এবং عالمين সমস্ত মাখলুকাত বা সমস্ত অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, সমস্ত অস্তিত্বময় বা সৃষ্টিরই একজন প্রতিপালক আছে, আর তিনিই (অর্থাৎ আল্লাহই) সে প্রতিপালক। সুতরাং জাহেলিয়াত বা অজ্ঞদের মধ্যে এবং কোন কোন জাতির মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে প্রত্যেক প্রকার বিষয় বস্তুর জন্যই খোদা বিদ্যমান এবং ঐ বিষয় বস্তুর পরিচালক ও প্রতিপালক ভিন্ন ভিন্ন বলে তারা মনে করতো, তা বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য।
বার্তাসমূহ:
১. সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য। (الحمد -তে ال (আলীফ ও লাম)-এর অর্থ হলো সমস্ত حمدএবং মূল প্রশংসা। ) الحمد لله
২. মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের প্রতিপালন ও বিকাশ ঘটানোর জন্য বাধ্য নন। কারণ, বাধ্য নন তবু করেছেন এমন কাজের জন্য حمد বা প্রশংসা।الحمد لله
৩. সমস্ত সৃষ্টি সুন্দর এবং সমস্ত সৃষ্টিকে পরিচালনা করা ভালো। কারণ হামদ হলো সৌন্দর্য ও ভালোর জন্য।
৪. তাঁকে আমাদের প্রশংসার কারণ হলো, তাঁর প্রতিপালনত্ব الحمد لله رب العالمين
৫. সৃষ্টির সাথে মহান আল্লাহর সম্পর্ক নিবিড় ও সার্বক্ষণিক। (رب العالمين) [ চিত্রকর ও কারিগর নিজ শিল্প উপস্থাপন করে ও চলে যায়। কিন্তু প্রতিপালককে প্রতিমুহূর্তের জন্য নজর রাখতে হয়।]
৬. সমস্ত অস্তিত্ব জগৎই এক আল্লাহর তত্তাবধানে আছে। (رب العالمين)
৭. বিকাশ ও প্রতিপালিত হওয়ার সম্ভাবনা সব কিছুতেই বিদ্যমান। (رب العالمين)
৮.মহান আল্লাহ নবীগণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকেও প্রতিপালন করেন শরীয়তগত প্রতিপালন ( تشريعی (। আবার জড়, প্রাণি ও উদ্ভিদসমূহকেও বিকশিত করেন ও প্রতিপালন করেন যা সৃষ্টিপ্রকরণগত (تکوينی) প্রতিপালন। (رب العالمين)
৯. মূমিনগণ কিতাবের (কোরআনের) শুরুতে প্রার্থনার সাথে মহান আল্লাহর দরবারে বলেন: الحمد لله رب العالمين এবং পরিশেষে বেহেশেও সেই শ্লোগান দেন آخر دعويهم ان الحمد لله رب العلمين অর্থাৎ তাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো: সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সে আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বের প্রভু। (সূরা ইউনুস: ১০) চলবে...

Share: