আয়াতুল্লাহ মিরযা আলী ফালসাফির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

  • Posted: 24/11/2020

অনুবাদ: মো. আলী মোর্ত্তজা

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন:
أعمارُ أمتي ما بينَ الستِّينَ إلى السبعينَ
আমার উম্মতের অধিকাংশ মানুষের আয়ুষ্কাল ৬০ থেকে ৭০ বছর মধ্যে সীমাব্ধ।

সুতরাং যাদের বয়স ৬০ বছরে উপনীত হয়েছে সে যেন নিজেকে আখরাতের জন্য প্রস্তুত করে। নিজের আখিরাতের চিন্তায় থাকে এবং যে সকল অন্যায় কাজ করেছে তার সমাধান করার চেষ্টা করে, যে সকল গোনাহ করেছে তার জন্য তাওবা করে। সমস্ত কাজা নামায ও রোযা আদায় করে। মোটকথা শরীয়তের সকল দায়িত্ব কর্তব্য যেন সঠিকভাবে পালন করে এবং মানুষের হক (হাক্কুন নাছ) ও আল্লাহর হক (হাক্কুল্লাহ) পুরোপুরি আদায় করে মৃত্যু বরণ করে।

রাসূল(সা.) আরও বলেছেন:
্র ان لله تعالی ملکا ینزل فی کل لیلة، فینادی یا أبناء العشرین جدوا و اجتهدوا، و یا ابناء الثلاثین لا تغرنکم الحیاة الدنیا، و یا ابناء الاربعین ماذا أعددتم للقاء ربکم، و یا ابناء الخمسین آتاکم النذیر، و یا ابناء الستین زرع آن حصاده، و یا ابناء السبعین نودی لکم فأجیبوا، و یا ابناء الثمانین أتتکم الساعة و انتم غافلون، ثم یقول: لولا عباد رکع و رجال خشع و صبیان الرضع و أنعام رتع لصبت علیکم العذاب صبا গ্ধ؛

প্রতি রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে বলে: তোমাদের যাদের বয়স ২০ বছর হয়েছে তারা অধিক চেষ্টা কর এবং অধ্যাবসায়ী হও। হে যাদের বয়স ত্রিশে পৌঁছেছে! দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারণা না করে এবং হে চল্লিশ বছর বয়সী! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য কি কি প্রস্তুতি নিয়েছ? হে পঞ্চাশ বছর বয়সী! সতর্কবার্তা (মৃত্যুর সংবাদ) তোমার কাছে এসেছে । হে ষাট বছর বয়সী! তোমার ফসল কাটার সময় ঘনিয়ে এসেছে । হে সত্তর বছর বয়সী! তোমার মৃত্যু ঘন্টা বেজে গেছে, সুতরাং এই আমন্ত্রণটি গ্রহণ কর। আর হে আশি বছর বয়সী! তোমার কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে কিন্তু তুমি এখনো উদাসীন। (ইরশাদুল কুলুব ১ম খন্ড, পৃ: ৩২)। ওসায়েলুশ শিয়া গ্রন্থে একটি অধ্যায় রয়েছে যেখানে উল্লেখ আছে মানুষ যখন শেষ বয়সে পৌছে যায় তখন তার দায়িত্ব হচ্ছে পূর্বের সকল ত্রুটি ও ঘাটতি পূরণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

রাসূল(সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি ঐ সকল নারী পুরুষকে শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করি যারা তাদের জীবনকে ইসলামের পথে ব্যয় করেছে।

মহানবী(সা.) এই হাদিসটি বলার পর ক্রন্দন করলেন। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল(সা.) বললেন: আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন, আর তোমাদের গোনাহ করতে কি একটুও লজ্জাবোধ হয় না??

আমি এ জন্য কাঁদছি যে, যারা তাদের জীবনকে ইসলামের পথে ব্যয় করেছে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করছেন অথচ তোমরা গোনাহ করতে মোটেও লজ্জা পাচ্ছ না।
আমিরুল মু’মিনি হযরত আলী (আ.) বলেছেন: আমি এমন বয়সে উপনীত হয়েছি যে এখন নিজের পরকালের চিন্তায় ব্যস্ত থাকতে হবে।

তবে যেনে রাখা দরকার, কেউ যদি নিজেকে গড়তে চায় তাহলে প্রথম থেকেই চেষ্টা করতে হবে। যেভাবে হযরত আলী শৈশব থেকেই নিজেকে সঠিক পথে গড়ে তুলেছেন। পরে চেষ্টা করলে হবে না। অনেকে মনে করে এখন যৌবন আছে যা ইচ্ছা করে নেই পরে যেয়ে ভাল হয়ে যাব, না তা হয় না। যদি কেউ ভাল হতে চায় তাকে প্রথম থেকেই ভাল হতে হবে। পরে গিয়ে আর ভালো হওয়া সম্ভব না। এটা মুলত শয়তানের প্ররোচনা যে এখনও সময় আছে পরে ভাল কাজ কর এখন যত পার আনন্দ ফুর্তি করে নাও। এটা ঐ রকম যে আগাছা কাটার দরকার নেই তা ফসলের কোন ক্ষতি করবে না। কিন্তু তাই কি হয়? না কখনোই হয় না। আগাছা না কাটলে ফসল নষ্ট হবেই, এটাই হচ্ছে নিয়ম।

সুতরাং যদি কেউ নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে চায় এবং একজন আদর্শ ধর্মপরায়ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে চায় তাহলে তাকে এখন থেকেই শুরু করতে হবে। বৃদ্ধ বয়সের জন্য রেখে দিলে চলবে না। যেভাবে আগাছা ছোট থাকতে তোলা যতটা সহজ শিকড় গভীরে চলে গেলে তা ওঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আর এজন্যই প্রবাদে বলা হয় কাচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ঠাস ঠাস।###

 

Share: