আশুরার শোককে আনন্দ উৎসবে পরিণত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত

  • Posted: 21/08/2021

-------- সাঈদ মোস্তফা হাসান

৬১ হিজরির ১০ই মুহাররাম মানবেতিহাসে একটি বেদনা বিধুর শোকাবহ দিন। এই দিনে প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় নাতি, যুগশ্রেষ্ঠ মানব হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-কে কারবালার ময়দানে তাঁর ৭২ জন সঙ্গী- সাথীসহ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। তৎকালীন মুসলিম জাহানের অবৈধ খলিফা ইয়াজিদ (লা.) - এর হুকুমে এই ঘৃণ্য ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটানো হয়। পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ এবং তার পরবর্তী বংশধরেরা এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, এ দিনটিকে আনন্দ উৎসবের দিন হিসাবে পালন করার উদ্দেশ্যে নানারকম হীন ও ঘৃণ্য ষঢ়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করে। এর মধ্যে জাল হাদিস ও মিথ্যা ইতিহাস রচনা ছিল অন্যতম। আরো ছিল ভাড়াটে আলেম ও মুফতিদের মাধ্যমে মনগড়া ফতোয়া প্রদান, ‘বিদাত’ এর অভিনব ব্যাখ্যা প্রদান এবং হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) ও আহলে বাইতের মর্যাদাকে গুরুত্বহীন করে তোলা। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরে আরো সত্তর বছর উমাইয়া বংশ মসনদে আসীন থেকে কঠোর শাসনের মাধ্যমে তাদের হীন স্বার্থে দ্বীন ইসলামে বিভ্রান্তি ও বিকৃতি ছড়িয়ে দেয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এক শ্রেণির আলেম ও খতিব মসজিদের পবিত্র মিম্বরে দাঁড়িয়ে, ওয়াজের ময়দানে আলীশান কুরছিতে আসীন হয়ে কোন যাচাই- বাছাই না করে তাদের অতীত গুরু-শায়েখদের বক্তব্য অবিরামভাবে বয়ান করতে থাকেন। যেমন, আশুরার দিনের ঘটনাবলিঃ 

  • ১. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুনিয়া-জাহান পয়দা করার শুভ সূচনা করেন;
  • ২. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুনিয়ায় প্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করেন ;
  • ৩. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আ.) -এর দেহে প্রাণ সঞ্চার করেন ;
  • ৪. হযরত আদম (আ.) এবং মাতা হাওয়া (আ.) দুনিয়ার মাটিতে আগমন করেন;
  • ৫. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.) এর তাওবা কবুল করেন;
  • ৬. মহাপ্লাবনের পরে হযরত নুহ (আ.) কিস্তি থেকে জুদি পর্বতে পদার্পণ করেন;
  • ৭. হযরত ইউনুছ (আ.) দজলা নদীর মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন;
  • ৮. হযরত আইউব (আ.) সুদীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যন্ত্রণাদায়ক রোগ ভোগের পরে শেফা লাভ করেন এবং তাঁর হারানো সম্পদ ফিরে পান;
  • ৯..হযরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরে আরামদায়ক পরিবেশ লাভ করেন;
  • ১০.হযরত ইয়াকুব (আ.) দীর্ঘ ৪০ বছর পরে হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.) কে এবং অন্ধ হয়ে যাওয়া চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান;
  • ১১.হযরত সুলাইমান (আ.) তাঁর হারানো আংটি এবং রাজত্ব ফিরে পান;

পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে এসব ঘটনার কোনো কোনটির বিবরণ থাকলেও কোন দিন, মাসের তারিখ উল্লেখ নেই। জিজ্ঞাসা করে দেখুন তারা এসব ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোন দিন, মাসের প্রমান দিতে পারবে না। (আরো ভাল করে জানতে হলে দেখুনঃ মা সাবাতা বিস-সুন্নাহ ফি আইয়্যামিস সানাহ- মুহাদ্দিসে আব্দুল হক দেহলভীঃ পৃ. ২৫৩-২৫৭ এবং আল-আসারুল মারফু‘আহ -আব্দুল হাই লাখনৌবি, পৃ. ৯৪-১০০)

উপরে উল্লেখিত ঘটনা ছাড়াও আরো কিছু ঘটনা ১০ই মুহাররামে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়, যেমন-

  • ১. আসমান, জমিন, লওহ, কলম তৈরি করা হয়;
  • ২.আল্লাহ হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে খলিলুল্লাহ খেতাব দান করেন;
  • ৩. হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং আসমানে আরোহন করেন;

পবিত্র কুরআন ঘোষণা করে-“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিকট গণনায় মাস বারটি। আর তা আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকে।” (সুরা তাওবাহ : ৩৬)
আবার যেহেতু পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে বলা হয়েছে-“আল্লাহ ছয় দিনে বিশ্ব-জগত পয়দা করেছেন।” তাহলে সৃষ্টির আগেই ১০ই মুহাররাম আসে কিভাবে?
আসলে তারা যা বলতে চায়, তা হলো এসব ঘটনার প্রত্যেকটি খুশির ঘটনা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পরিবারের সদস্যগণের নির্মম হত্যাকান্ডকে এমনই একটি খুশির ঘটনা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এজিদের অনুসারীগণ উল্লেখিত ঘটনাগুলোকে আশুরার দিনের সাথে মিলিয়ে ফেলে। কারবালার বিজয়ী (?) এজিদিরা আশুরার দিনটিকে আনন্দ উৎসবের দিন হিসাবে গণ্য করে। অপর দিকে এই দিনে আশেকে রাসুল (সা.)-গণ ইমাম হুসাইন (আ.) এর পবিত্র শাহাদাতের স্মরণে মর্সিয়া, ক্রন্দন, শোকগাঁথা পাঠ. শোকমজলিশ, শোকমিছিল, কালো পোষাক পরিধান, বুক চাপড়ানো, পানি বা শরবত পান করানোর মাধ্যমে ইমাম হুসাইনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে থাকেন। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেন : হুসাইন আমা থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইন (রা.)-কে ভালবাসে আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে ভালবাসবেন। (সুনানু ইবনে মাজা, ১ম খন্ড, ই.ফা./১৪৪) ;

অপর দিকে এজিদিরা এসব আমলকে বিদাত’ আখ্যা দিয়ে মসজিদের মিম্বরে মিম্বরে, ওয়াজ নসিহতে এবং বই-পুস্তকে অবিরাম নসিহত খয়রাত করে আসছে। কারণ ইমাম হুসাইন (আ.) এর প্রতি ভালবাসা প্রদর্শিত এবং আহলে বাইয়াতের গৌরব গাঁথা প্রচারিত হলে ইয়াজিদ ও তার অনুসারীদের ঘৃণ্য অপকর্ম প্রকাশ হয়ে পড়ে, শুরু হয় গাত্রদাহ।
মৃতদের জন্য তিন দিনের বেশি শোক না করার জন্য যে সকল হাদিস রয়েছে তা মৃতের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য। ইমাম হুসাইন (আ.) মৃত নন, তিনি শহিদ। পবিত্র কুরআনের ভাষায় ঃ “আল্লাহর পথে নিহতদের কখনই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত; নিজেদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তারা জীবিকা পেয়ে থাকে।”(২ঃ ১৬৯)
ইমাম হুসাইন (আ.)- এবং তাঁর সাথীদের শাহাদাত জগতের আর কোন শাহাদাতের সাথে তুলনা হতে পারেনা। উপরে উল্লেখিত আমলগুলোর মাধ্যমে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি খালেস মুহাব্বাতের প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। এমনিভাবে তাগুত, অন্যায়, অসত্য এবং জুলুমের বিরুদ্ধে কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত রেখে ইনসাফের ঝান্ডাকে সমুন্নত করা আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল ঈমানের দাবী।

আশুরার দিনকে একটি উৎসবের দিন হিসাবে এজিদিরা ভালো ও প্রচুর পরিমাণে খানাপিনার আয়োজন করে থাকে। এটাকে একটি দ্বীনি ভিত্তি প্রদানের জন্য তারা একটি জাল হাদিস রচনা করে ব্যাপকভাবে প্রচার করে বেড়ায়। তাদের প্রচারিত এই হাদিসটি হলো “যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম, পর্যাপ্ত খাবারের আয়োজন করবে-আল্লাহ তার সারা বছরের আয়-রোজগারে বরকত দান করবেন।”

এই মিথ্যা বানোয়াট হাদিসটিকে সিহা সিত্তার কোন সংকলক তাঁদের কিতাবে স্থান দেননি। এমনকি সিহা সিত্তার পরে সহি বলে স্বীকৃত যেমন, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক এবং মুস্তাদারাকে হাকিম ইত্যাদি হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ এ হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আল্লামা ইবনে জাওযীসহ অনেক মুহাদ্দিস উল্লেখিত হাদিসটি সম্পর্কে তীব্র আপত্তি করেছেন।

আশুরার দিন মদিনার ইহুদিগণ ঈদ উৎসব পালন করতো। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে প্রিয় নবী (সা.) কেন ইহদিদের অনুকরণে এ দিনে পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম ও পর্যাপ্ত খাবারের আয়োজন করার কথা বলবেন? হায়রে নির্বোধ অভাগা মুসলমান !

আশুরার রোজা প্রসঙ্গঃ কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করে বলা হয় যে, “রাসুলুল্লাহ (সা.) যথন মদিনায় এলেন, তখন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করতো। (জিজ্ঞাসা করা হলে) তারা বললো ঃ এ দিনে মুসা (আ.) ফিরআউনের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী করিম (সা.) তাঁর সাহাবিদের বললেন, মুসা (আ.) সম্পর্কে তাদের (ইহুদিদের) চাইতে তোমরাই অধিক হকদার। সুতরাং তোমরাও ওই দিন রোজা পালন কর।”

প্রশ্ন হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি কখনো বিধর্মী, পথভ্রষ্ট, ইহুদি-নাছারাদের দেখে বা তাদের কথা শুনে কোন বিধি-বিধান দিতে পারেন? কখনোই না। তিনি কি মুসা (আ.) এর দুশমনের কবল থেকে নাজাতের ঘটনা ও দিন, তারিখ ইহুদিদের কাছে শিখবেন ? (নাউজুবিল্লাহ)!

রাসুলে কারিম (সা.) হিজরতের পূর্বে মক্কায় অবস্থানকালে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে এ ঘটনা জানিয়ে দেন এবং বলেন “নিঃসন্দেহে আমরা মুসার প্রতি (এ ব্যাপারে) প্রত্যাদেশ করেছিলাম যে, আমার বান্দাদের নিয়ে রাতারাতি বহির্গত হও। অতঃপর তাদের জন্য সমুদ্রে শুষ্ক পথ করে দাও ; তুমি পশ্চাদ্ধাবনের ভয়ও করবে না, আর (নিমজ্জিত হওয়ার) আশংকাও করবে না। তখন ফিরআউন তার সৈন্যবাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল অতঃপর সমুদ্রের জলরাশি তাদের সম্পূর্ণরূপে আবৃত করল। (সুরা ত্বাহা ঃ ৭৭-৭৮, মক্কায় অবতীর্ণ) ;

অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে ‘‘যেহেতু ইহুদিরা শুধু আশুরার দিনে রোজা রাখে তাই যদি আমি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে নবম তারিখসহ দু‘টি রোজ রাখব।’ কিন্তু পরের বছর দশই মুহাররাম আসার আগেই নবী (সা.) ইন্তিকাল করেন।

এখানে অনেকগুলো জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়। প্রথম বর্ণনায় বলা হয়েছে নবীজি (সা.) হিজরত করে মদিনায় আসার পরে দেখলেন। আবার দ্বিতীয় বর্ণনায় দেখা যায় যে, তিনি (সা.) দশ বছর মদিনায় অবস্থান করেও ইহুদিদের আশুরার রোজার ব্যাপারটি লক্ষ্য করেননি। বিদায় হজ্জের পরে যখন আলাহ রাব্বুল আলামিন ইসলাম ধর্মের পরিপূর্ণতার ঘোষণা দান করেছেন, তারপরে দশই মুহাররাম অতিক্রান্ত হয়েছে। তারপরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের দেখে আশুরার রোজা রাখার আশা পোষণ করছেন। এটা কী করে সম্ভব যে নবী (সা.) ওহি ছাড়া কথা বলবেন ? এ হাদিসটিকে যদি সহি বলে ধরে নেওয়া হয় তাহলে তো স্পষ্ট , নবিজী (সা.) কখনোই আশুরার রোজা রাখেননি। এরপরেও যারা আশুরার রোজার ফজিলত বলে বেড়ায় এবং আশুরার রোজা পালন করে তারা পবিত্র কুরআনের বিরোধীতা করে। কারণ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-“হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সম্মুখে তোমরা (কোনো বিষয়ে) অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর। ”(আল কুরআন, সুরা হুজুরাত-১)

আসল কথা হলো যারা আশুরার দিনে রোজা রাখে তারা জেনে হকের বা না জেনেই হকো তারা জাহেলিয়াতের যুগের মুশরিকদের অনুসরণ করে। দলিল হিসাবে দেখুন ঃ “হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার রোজা পালন করত। মহানবী (সা.)ও সে রোজা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখনও তিনি সে রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমজানের ফরজ রোজার হুকুম নাযিল হল তখন আশুরার রোজা ছেড়ে দেয়া হলো। এরপর যে চাইত সে উক্ত রোজা পালন করত আর যে চাইত পালন করত না।” (বুখারী শরীফ, ৭ম খন্ড /৪১৫২, ই.ফা.) ।

‘আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসুদ) (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর নিকট আশ‘আস (রা.) আসেন। এ সময় ইবনে মাস‘উদ (রা.) পানাহার করছিলেন। তখন আশ‘আস (রা.) বললেন, আজকে তো ‘আশুরা’। তিনি বললেন, রমজানের রোজার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে ‘আশুরার’ রোজা পালন করা হত। যখন রমজানের (এর রোজার হুকুম) নাযিল হলো, তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এস, তুমিও খাও। (বুখারী শরীয়, ৭ম খন্ড /৪১৫১, ই.ফা.) ।

এ হাদিস থেকে জানা গেল সাহাবিগণও আশুরার রোজা পালন করতেন না। ইবনে মাসুদ (রা.) স্পষ্ট করে বলেছেন যে আশুরার রোজা পরিত্যাগ করা হয়েছে।

আশুরার দিনে মুসা (আ.) -এর দুশমনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে ইহদিরা রোজা রাখে। তাই এ দিনে কারবালা বিজয়ের (?) আনন্দে এজিদিরা রোজা রাখে এবং সকল মুসলমানকে তাঁদের আনন্দে শরিক করার জন্য তারা এই জাল হাদিস রচনা করেছে।

এজিদ ও তার বাপ- দাদারা তো মক্কা বিজয়ের পরে প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সা) -এর নজিরবিহীন ঔদার্যে ক্ষমাপ্রাপ্ত। তাদের অন্তরে যদি ইসলাম থাকতো তাহলে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আহলে বায়াতের সাথে এহেন জঘন্য আচরণ করতে পারতো না। তাদের অন্তরে ছিল জাহেলিয়াত। তাই তারা জাহেলিয়াতের যুগের আশুরার রোজা ত্যাগ করতে পারেনি। আর তাদের অনুসারীগণও জাল ও জইফ হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ করে এজিদি ও নাসেবিদের অনুসরনে আশুরার রোজা রাখতে বেশ তৎপর হয়ে উঠে।
আশুরার রোজাকে গুরুত্ববহ করে তোলার জন্য অপর একটি জাল হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ করা হয় যেমন, - “তোমরা আশুরার দিনে রোজা পালন করো এবং এ ব্যাপারে ইহুদিদের বিরোধিতা করো। আশুরার এক দিন আগে কিংবা পরে আরো এক দিন রোজা পালন করো।”

যুক্তিসংগত কথা হলো যদি ইহুদিদের বিরোধীতা করতে হয় তাহলে এই দিনে এবং এই দিনের আগে বা পরে রোজা পালন না করাই কর্তব্য। যদি এই দিনে এবং এই দিনের আগে বা পরে রোজা পালন করা হয়, তাহলে হয় ইহুদিদের অর্ধেক অনুসরন করা হয় নতুবা দ্বিগুন অনুসরণ করা হয়। তাই আসুন আমরা এজিদি ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে সহি হাদিসের পথ ধরি এবং আশুরার রোজা বর্জন করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ । ####

Share: