ড. ফাখরিজাদের শাহাদাতে মাজমা’র মহাসচিবের শোকবার্তা

  • Posted: 01/12/2020

বিশিষ্ট ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী এবং ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার প্রধান শহীদ ড. মোহসেন ফাখরিজাদের শাহাদাতের ঘটনায় প্রদত্ত শোকবার্তায় তাঁর সহকর্মী, ছাত্র ও পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা পেশ করেছেন আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার মহাসচিব আয়াতুল্লাহ রামাজানি।
বিবৃতির মূল অংশ,


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

مِنَ المُؤمِنينَ رِجالٌ صَدَقوا ما عاهَدُوا اللَّهَ عَلَيهِ فَمِنهُم مَن قَضىٰ نَحبَهُ وَمِنهُم مَن يَنتَظِرُ وَما بَدَّلوا تَبديلا
“মুমিনদের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, তাদের কেউ কেউ শাহাদাতবরণ করেছেন এবং কেউ কেউ (শাহাদাত বরণের) প্রতীক্ষায় রয়েছেন; তাঁরা নিজেদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করে নি।” [সূরা আহযাব: ২৩]

বিশ্বসম্রাজ্জবাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও ইসলামি ইরানের স্বেচ্ছাসেবী মুজাহিদ ‘উস্তাদ হাজ মোহসেন ফাখরিজাদে’র উপর সন্ত্রাসী হামলা ও তাকে শহীদ করার ঘটনা শুধুমাত্র ইরানি জাতির নয় বরং বিশ্বের মুসলমান এবং বিশ্বের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়কে ব্যথিত ও প্রভাবিত করেছে।

আরেক পরমাণু বিজ্ঞানীর শাহাদাত দিবসে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের সম্মানিত শহীদ জেনারেল কাসেম সোলেইমান ও শহীদ আবু মাহদি আল-মুহানদিসে’র শাহাদাতের ১ম বর্ষপূর্তীর কাছাকাছি সময়ে ঘৃণিত ও নীচ এ পদক্ষেপ বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন সন্ত্রাসী সরকারের কাপুরুষোচিত হামলাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

সরকার সমর্থিত এ ধরনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদ, বিশ্বের সকল মানবিক আইনের লঙ্ঘন তো বটেই বরং মানবজাতির নিকট সমাদৃত সকল আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। এ হত্যকান্ডের সাথে জড়িতরা তখন আরো বেশী লাঞ্ছিত হবে যখন বিশ্ব জানবে যে, শিক্ষার শত্রুর অপবিত্র হাত এমন এক বিজ্ঞানীর জীবনকে কেড়ে নিয়েছে যিনি মানুষের কষ্টকে লাঘব করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন। তার সর্বশেষ অর্জন ছিল করোনা চিহ্নিতকরণ কিট এবং করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত যে ভ্যাক্সিনটি হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছে সেটাও তার নেতৃত্বাধীন টিমের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।

একটি বিশ্বসংস্থার মহাসচিব হিসেবে-বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী শত শত ব্যক্তি যার সদস্য-ঘোষণা করছি, যেকোন উপায়ে এ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং করোনার চেয়ে অধিক বিপজ্জনক (সন্ত্রাসী নামক) এ ভাইরাসের চিকিৎসা করতে হবে। আর এই ভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে এবং এ ধরণের অপরাধযজ্ঞ নিঃশেষ করতে বিভিন্ন ধর্মের আলেম ও ধর্মগুরু, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষা ও জ্ঞানে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ, যে সকল গণমাধ্যম এখনো নিজের কলমকে বিক্রি না করে বাস্তবতা ও স্বাধীনতায় পৌঁছতে মানুষের মনকে আলোকিত করে চলেছে এবং মানবিক মূল্যবোধের নাগরিক সংগঠনসহ ঐ সকল মানুষ যাদের নিকট বিশ্বের ভবিষ্যত গুরুত্ব রাখে তাদের কর্তব্য হল, এ ধরনের ঘটনার পরিকল্পনাকারীদেরকে রুখতে তাদের কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মানবাধিকার অঙ্গনে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নিরবতার কারণে লাগামহীন এই সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে; যেভাবে এর আগে ইরানসহ ইরাক, মিশর, লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবিদের বেলায় ঘটেছে।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা এ বিষয়ে যে কোন ধরণের দ্বিপক্ষিক বা বহুপাক্ষিক পদক্ষেপ গ্রহণে যে কোন ধরণের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
পরিশেষে, আমি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা, পরমাণু ও প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদেরকে বিশেষ করে তাঁর ধৈর্যশীল স্ত্রী এবং প্রিয় সন্তানদেরকে কঠোর পরিশ্রমী এ বিজ্ঞানীর শাহাদাতে শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।

মহান আল্লাহর নিকট প্রিয় এ শহীদের জন্য সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর মাওলা শহীদদের নেতা হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সাথে তার হাশরে উত্তোলনের তৌফিক প্রার্থনা করি। আর তাঁর পরিবারে জন্য ধৈর্য্য কামনা করি, পাশাপাশি সন্ত্রাসী ঐ হামলায় আহতদের জন্য দ্রুতসুস্থতা কামনা করছি।

‘হে আল্লাহ্! তোমার রাস্তায় আমাদেরকে শাহাদাতের তৌফিক দান করো এবং আমাদেরকে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও’।
‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর নিকট থেকে এসেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’ [সূরা বাকারাহ: ১৫৬]


রেজা রামাজানী
মহাসচিব, আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা
৮ অজার ১৩৯৯, ২৮ নভেম্বর ২০২০


উল্লেখ্য, ইরানের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার প্রধান শহীদ ড. মোহসেন ফাখরিজাদেহ গত শুক্রবার ২৭ নভেম্বর’২০ তেহরানের কাছে দামাভান্দ অঞ্চলের আবসার্দ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামত থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে হামলায় ইসরাইলি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।##

Share: