খুলনায় হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

  • Posted: 05/06/2021

হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৪ঠা মে’২১ শুক্রবার সন্ধ্যা ০৭.৩০ মিঃ ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ইমামবাড়ীতে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভীর সভাপতিত্বে উক্ত স্মরণ সভা পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-ই-ইমামে জামান পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ শহিদুল হক। 

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ শহিদুল হক

আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল, তিনি বলেন মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ.) ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ও ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার। তার চিন্তাধারা মুসলিম বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে, তাই প্রতিটি বছর তার এই মৃত্যুবার্ষিকী আরো ব্যাপক আকারে পালন করার মাধ্যমে তার চিন্তাধারার বিস্তৃতি ঘটানো প্রয়োজন।

আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল

এরপর আলোচনা করেন, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল লতিফ, তিনি তার আলোচনায় ইসলামী বিপ্লবের মহানায়ক মরহুম ইমাম খোমেনী’র (রহ.) জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন যার মধ্যে আল্লাহর প্রতি যে তার অত্যধিক তাওয়াক্কুল তথা ভরসা ছিল সে বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন। 

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল লতিফ

অতঃপর আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আনিসুর রহমান, তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে সাড়া বিশ্বের আনাচে-কানাচে সবার কাছে হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) হচ্ছেন একটি পরিচিত নাম। তাঁর বিশুদ্ধ আত্মার পরিশুদ্ধ নিয়্যতই তাকে এই পরিচিতি প্রদান করেছে। কারণ, তিনি সব সময় এ কথাই বলেছেন যে, আমি যা কিছু করেছি সবকিছু আল্লাহর জন্য করেছি, জনগণের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য করিনি।

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আনিসুর রহমান

অতঃপর আলোচনা রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আলী মোর্ত্তজা, তিনি তার আলোচনায় বলেন, ইমাম খোমেনী (রহ.) শতাব্দীর মহানায়ক। ঊনবিংশ শতাব্দী হতে আজ বিংশ শতাব্দী অবধি এক ইমাম খোমেনী (রহ.) ব্যতীত অন্য কাউকে এধরণের ব্যক্তি হিসেবে দেখা যায়নি। তাছাড়াও ইমাম খোমেনীকে (রহ.) তার পিতা-মাতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাকে লালন-পালন করেছিলেন বলেই আজ তার দ্বারা এতকিছু সম্ভব হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আলী মোর্ত্তজা

সবশেষে আলোচনা সভার সভাপতি ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী তার সভাপতির ভাষণে বলেন, হযরত ইমাম মাহদীর (আ.) আগমনের পূর্বে হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিপ্লব এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের সকলের জন্য হুজ্জাত। তিনি মার্জায়ে তাকলীদ মরহুম আয়াতুল্লাহ বাকের সাদরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আয়াতুল্লাহ বাকের সাদর তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলতেন, ইমাম খোমেনী যেভাবে ইসলামের সাথে মিশে গেছেন তোমরাও ঠিক সেভাবে ইমাম খোমেনীর সাথে মিশে যাও। যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন ইমাম খোমেনি (রহ.) চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সকল মেহমান ও দর্শক শ্রোতাকে ধন্যবাদ জানান এবং দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 
Share: