আমাদের সম্পর্কে

পাক্ষিক ফজর- এর ইতিকথা

“পাক্ষিক ফজর” বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর, বন্দর ও শিল্প নগরী খুলনা থেকে প্রকাশিত জাফরী ফিকাহ’র একমাত্র ধর্মীয় পাক্ষিক ও মুখপত্র। সরকারী নিবন্ধনকৃত পাক্ষিক ফজর এ দেশে সাধারণ কোন পাক্ষিক পত্রিকা নয়। বাংলার এ জনপদে জাফরী মাযহাবের অনুসারীদের নিয়মিত কোন পত্রিকা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এ মাযহাবের অনুসারীরা বাংলাভাষায় একটি পত্রিকা প্রকাশের অভাব অনুভব করছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ, উদ্যোক্তা ও বলিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছা বাস্তবতা লাভ করেনি।

১৯৯৭ সালের সূচনা লগ্নে ফজরের প্রধান উপদেষ্টা ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন সকলের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হুজ্জাতুল ইসলা সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী মহোদয়ের অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকাতায় একটি ধর্মীয় পত্রিকা বাংলাভাষায় প্রকাশের প্রচেষ্টা নেয়া হয়। শুরু হয় পত্রিকা প্রকাশের আয়োজন। প্রথমে পত্রিকার নাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। শুরু হয় পরামর্শ সভা। প্রধান উপদেষ্টা জনাব সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী তিনটি নাম প্রস্তাব করেন, যথাক্রমে ১) কাউসার ২) ফজর ৩) আসর। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পত্রিকা প্রকাশের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন পত্র ও বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী বহু পথ অতিক্রম করে সর্বশেষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ফজর নামে ছাড়পত্র প্রদান করে এবং খুলনার জেলা প্রশাসক সাহেব ঐ নামেই পত্রিকার ডিক্লারেশন প্রদান করেন। ৩০শে আগষ্ট ১৯৯৭, শুরু হয় ফজর এর পদযাত্রা। যদিও ফজর প্রকাশের পূর্বে কাউসার নামে দু’টি সংখ্যা পরীক্ষামূলকভাবে প্রকাশিত হয়। ফজর এর প্রথম সংখ্যায় বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ধর্মমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: মনিরুজ্জামান মিঞা, বিশিষ্ট দার্শনিক মরহুম দেওয়ান মোহাম্মাদ আজরফ, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, খুলনার উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার উল আবেদীন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এটিএম রফিক, ইসলামী ফাউন্ডেশন খুলনার বিভাগীয় পরিচালক আব্দুস সালাম খান পাঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা খলিলুর রহমান, জাফরী মাযহাব এর অন্যতম আলেমে দ্বীন হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ নাক্বী ইমাম প্রমূখ বিশিষ্ট গুণীজনেরা ফজর এর প্রথম প্রকাশনাকে স্বাগত জানিয়ে বাণী প্রদান করেন।

পাক্ষিক ফজর এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. মো: জাকির হোসেন যিনি একজন প্রতিযযশা সাংবাদিক এবং গনমাধ্যম জগতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি পাক্ষিক ফজর এর সাথে নিজেকে এখনো সম্পৃক্ত রেখেছেন। প্রকাশক জনাব মো: ইকবাল যার প্রকাশনায় পাক্ষিক ফজর পাঠক সমাজের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে তিনি আজও পাক্ষিক ফজর এর প্রকাশনা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ঠ যাবতীয় সবকিছুই অত্যন্ত শিষ্ঠা ও দায়িত্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া পাক্ষিক ফজর এর যাবতীয় নিউজ, শেখা-বিন্যাস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ব নিজ কান্ধে তুলে নিয়ে জনাব আব্দুল লতিফ পত্রিকাকে সময়মত পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার নিরলস প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। সহ-সম্পাদক মল্লিক শিহাব ইকবাল প্রায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফজর এর খুটিনাটি বিষয়ের প্রতি তার গভীর দৃষ্টির মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করে চলেছেন।

প্রথম যাত্রা থেকে শুরু করে ফজর আজ ২১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ফজর এর এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা। তারপরেও নানা প্রতিকুলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ফজর আজ ২১তম বর্ষ অতিক্রম করছে। মহান আল্লাহর অপরিসীম রহমত, মাসুম ইমামগণের (আ.) রুহানী দোয়ার বরকত, নিঃস্বার্থ সহ-কর্মীদের নিরলস শ্রম ও প্রচেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার অকৃত্রিম উৎসাহ ও অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকাতার ফলে ফজর এর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে পাক্ষিক ফজর-ই শিয়া মাযহাবের বাংলা ভাষায় প্রথম নিয়মিত পত্রিকা যার প্রকাশনা বিরতিহীনভাবে অব্যাহত আছে। যদিও অর্থনৈতিক তথা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারণে প্রচার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছেনা। তারপরও বলা যায় সম্মানিত পাঠক সমাজ তথা পৃষ্ঠপোষকদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল তথা শিয়া কেন্দ্রসমূহে প্রতিটি সংখ্যা ডাকযোগে নিয়মিতভাবে প্রেরণ করা হয়।

এছাড়া অন্যান্য সরকারী অফিস, গ্রন্থাগার, মাদ্রাসাসমূহে ফজর এর সৌজন্য কপি নিয়মিত যায়। অনেক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভাইরাও পাক্ষিক পজর এর গ্রাহক হয়েছেন পত্রিকা পাঠে আনন্দ পান বলে তাদের সংখ্যাও কম নয়। পাক্ষিক ফজর পত্রিকা দেশের অন্যান্য সংবাদপত্র থেকে যে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের সে কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ “ফজর” অর্থ প্রভাতের শুভ সূচনা। সুতরাং পাক্ষিক ফজর পত্রিকা দ্বীনের মুখপত্র বা দ্বীনের শুভপ্রভাত বা প্রভাতের শুভলগ্ন। যে কারনে এর আদর্শও ভিন্নতর। পবিত্র কোরআন, হাদীস, রাসুল (সা.), আহলে বাইত ও মাসুম ইমামগণের (আ.) জীবনাদর্শ, ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য, হারিয়ে যাওয়া অতীত, ইসলামের শত্রুদের সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, সমকালীন ইসলামী বিশ্বের রাজনৈতিক সামাজিক ও ধর্মীয় সংবাদ প্রচারই পাক্ষিক ফজর এর মূখ্য উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া সকল উগ্রতা ধর্মান্ধতা পরিহার করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় মানবতার দুশমনদের মোকাবেলায় সকল মাযহাবী ভেদাভেদের উর্দ্ধে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহ গঠনে জনমত সৃষ্টি করা পাক্ষিক ফজর এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাক্ষিক ফজর অশান্ত বিশ্বে শান্তি চায়, কল্যাণ চায়, মানবতার বিজয় চায়। কারবালার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ফজর প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর কাছে পৌঁছে দিতে চায় এটাই হচ্ছে “পাক্ষিক ফজর” এর ধর্মীয় দায়িত্ব।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফজর এর প্রকাশনাকে অব্যাহত রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সুস্থ্য রাখুন যাতে “ফজর” তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। আমিন।######