ইসলামী ঐক্য বনাম ইসলামী রাজনৈতিক ঐক্য

  • Posted: 20/11/2019

লেখকঃ নুর হোসাইন মাজিদি

ইসলামী ঐক্য (ওয়াহহাদাতে ইসলামী) একটি সুপরিচিত পরিভাষা। অতীতে এ পরিভাষাটি দ্বারা ইসলামী মত-পথের বিভিন্ন ধারার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা এবং প্রয়োজনে ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বা উপনিবেশবাদী শাসন থেকে মুসলমানদের মুক্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও আন্দোলন-সংগ্রামকে বুঝাতো। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মিসরে শহীদ হাসানুল্ বান্না’ কর্তৃক ইখওয়ানুল্ মুসলিমীন প্রতিষ্ঠা ও তার পর বিশ্বের বিভন্ন অঞ্চলে ইসলামের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গড়ে উঠতে শুরু করার পর থেকে ইসলামী ঐক্য বলতে সাধারণতঃ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল ও আধা-রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের রাজনৈতিক লক্ষ্যাভিসারী ঐক্যকে বুঝানো হয়। এ লক্ষ্য যেমন হতে পারে সমাজে অনৈসলামী আদর্শিক-রাজনৈতিক প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, তেমনি হতে পারে অনৈসলামী রাজনৈতিক শক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অথবা হতে পারে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলসমূহের শাসনক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে নির্বাচনী ঐক্য বা সমঝোতা।
এটা অনস্বীকার্য যে, “ইসলামী ঐক্য” মানে ইসলামের বিভিন্ন মত-পথ ও মাযহাবের অনুসারীদের এক দেহে লীন হয়ে যাওয়া নয়, বরং একে অন্যের সহযোগী ও সমব্যথী হওয়া ও ধর্মীয় মৌলিক ইস্যুগুলোতে অভিন্ন মতে উপনীত হওয়া এবং প্রয়োজনে বিজাতীয়দের আদর্শিক, সাংস্কৃতিক ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলন করা, তেমনি প্রয়োজনে জাতীয় স্বাধীনত্-াসার্বভৌমত্বের হেফাযতের লক্ষ্যে মুসলমানদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাও অপরিহার্য, কারণ, একটি দেশের জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হলে, উদাহরণস্বরূপ, দেশ বহিঃশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হলে ও তাদের দখলে চলে গেলে সকলকেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
কিন্তু ইসলামী ঐক্য মানে যখন হয় বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের ও ক্ষেত্রবিশেষে এতদসহ বিভিন্ন আধা-রাজনৈতিক সংগঠনের একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামী রাজনৈতিক জোট সে ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। তাই এ ব্যাপারে গভীরভাবে তলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, প্রকৃত পক্ষে ইসলামে রাষ্ট্রপরিচালনা আছে, কিন্তু রাজনীতি বলতে যা বুঝায় ইসলামে তা নেই; কারণ, রাজনীতি মানেই হচ্ছে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা দখল করা ও ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা। [এ বিষয়ে ফেসবুকে তিন কিস্তীতে প্রকাশিত আমার “ইসলাম বনাম রাজনীতি” শীর্ষক নোটে ও “ইসলামী হুকূমাত প্রতিষ্ঠার পথ” শীর্ষক ধারাবাহিক নোটে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।]
বস্তুতঃ রাজনীতিতে ঐক্য মানেই রাজনৈতিক স্বার্থে সাময়িক ঐক্য এবং বড় ও শক্তিশালী দল কর্তৃক ছোট ছোট দলগুলোকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা। অবশ্য যতোদিন প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী থাকে ততোদিন এ ধরনের ঐক্য অটুট থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে গেলে জোটের বড় দল কর্তৃক ছোট দলকে তার মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে বাধ্য করা বা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপার এবং বিশেষতঃ ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হলে ও প্রতিপক্ষকে দুর্বল দেখতে পেলে অতঃপর স্বীয় জোটের শরীক দলগুলোকে নিজের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বিবেচনা করলে ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক সরকারী ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদেরকে দমন করা ও নিশ্চিহ্ন করে ফেলার চেষ্টা চালানো অবশ্যম্ভাবী। এ সব ক্ষেত্রে তথাকথিত ইসলামী রাজনৈতিক জোট ও অনৈসলামী রাজনৈতিক জোটের মধ্যে পার্থক্য নেই।
প্রকৃত ইসলামী ঐক্য মানে ইসলামী চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে ঐক্য; এ ক্ষেত্রে শতকরা একশ’ ভাগ মতৈক্য অপরিহার্য নয় এবং তা সম্ভবও নয়। তবে যে সব মতপার্থক্য একজন আরেক জনকে কাফের বা গোমরাহ্ গণ্য করতে পর্যন্ত প্ররোচিত করে সে সব মতপার্থক্য নিরসন ব্যতীত ঐক্যের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হতে পারে না। তাই সত্যে উপনীত হওয়া তথা ইসলামের প্রকৃত রূপের সাথে পরিচিত হওয়া এবং দ্বীনদার মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ও বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনী বিষয়াদিতে মতপার্থক্য নিরসন করা অপরিহার্য, আর তা সম্ভব কেবল অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে সঙ্কীর্ণতা থেকে মুক্ত (মাযহাবী বা লা-মাযহাবী হওয়ার উর্ধস্থ) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বীনের প্রতি নতুন করে দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে।
অত্র নিবন্ধকারের মতে, ইসলামের অকাট্য জ্ঞানসূত্র চারটি; ‘আক্বাএদের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা এবং মৌলিক ফরয ও হারামের ক্ষেত্রে কেবল এ অকাট্য দলীল গ্রহণযোগ্য। এ দলীল সমূহ হচ্ছে : (১) সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধি (‘আক্বলে সালীমে ‘উমূমী) যার ভিত্তিতে একজন অমুসলিম ইসলামী ‘আক্বাএদের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর অর্থাৎ তাওহীদ, আখেরাত, খাতমে নবুওয়াত ও কোরআন মজীদের ঐশিতার ওপর ঈমান আনয়ন করে, তাই সর্বজনীন সুস্থ বিচারবুদ্ধির আলোকে ‘আক্বাএদের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে নতুন করে জানা ও উপস্থাপন করা অপরিহার্য। কোরআন মজীদে ‘আক্বলের ব্যবহারের ওপর অনেক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং যারা ‘আক্বল্ ব্যবহার করে না তাদের নিন্দা করা হয়েছে, তাই কোরআন মজীদ থেকে সর্বজনীন সুস্থ ‘আক্বলের রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং কোরআনের তাৎপর্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও এর সাহায্য নিতে হবে। (২) কোরআন মজীদ, (৩) মুতাওয়াতির হাদীছ এবং (৪) উপরোক্ত কোনো অকাট্য দলীলের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে উম্মাহর মধ্যে ইসলামের প্রথম যুগ থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসা অভিন্ন মত ও আমল সমূহ যাকে আমি ইজমাা‘এ উম্মাহ্ বলে থাকি (এ পর্যন্ত ইজমাা‘এ উম্মায় উপরোক্ত তিন অকাট্য সূত্রের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু পাই নি)। নিঃসন্দেহে শেষোক্ত দু’টি সূত্র অকাট্যভাবেই সুন্নাতে রাসূল (সা.)-এর উদ্ঘাটনকারী।
খবরে ওয়াহেদ হাদীছ ও মনীষীদের মতামত কেবল এ চার দলীলের কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে প্রায়োগিক বিষয়াদিতে (ফরয ও হারাম বাস্তবায়নের শর্তাবলীর ক্ষেত্রে) এবং গৌণ (মাকরূহ ও মুস্তাহাব) বিষয়াদিতে গ্রহণযোগ্য। [এ সম্পর্কে আমার নোট “ইসলামী জ্ঞানচর্চার নতুন বিন্যাস : আপত্তি ও জবাব” দ্রষ্টব্য।]
“মুসলিম” হবে ভারসাম্যপূর্ণ (আদেল্) ও মধ্যমপন্থী (উম্মাতে ওয়াসাত্ব); চরমপন্থীও নয়, শিথিলপন্থীও নয়। সর্বজনীন সুস্থ ‘আক্বল্ হচ্ছে ইসলামী ‘আক্বাএদের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি এবং ইসলাম রূপ গৃহে প্রবেশের দরযা স্বরূপ। আর সর্বজনীন সুস্থ ‘আক্বল্ মুতাওয়াতির বর্ণনা এবং সর্বসম্মত মত ও আচরণকে এর উৎস থেকে আগত হওয়ার সত্যতাকে গ্রহণ করে। অন্যদিকে আল্লাহ্ তা‘আলা কোরআন মজীদে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে কতক হালাল-হারাম নির্ধারণের এখতিয়ার দিয়েছেন। সুতরাং যারা কোরআন মজীদের পাশাপাশি সর্বজনীন সুস্থ ‘আক্বল্, মুতাওয়াতির্ হাদীছ এবং উম্মাহর সর্বসম্মত মত ও আমল মেনে নেন কেবল তাঁদের পক্ষেই দ্বীনী বিষয়াদিতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।
কিন্তু মনে রাখতে হবে, হাদীছ রাসূলুল্লাহর (সা.) ইন্তেকালের প্রায় দেড়শ’ বছর পরে এবং বেশীর ভাগই সোয়া দু‘শ বছর পরে প্রধানতঃ মৌখিক সূত্র থেকে সংকলিত হয় এবং সংকলণকারীগণ ও রাভীগণ মা‘ছূম ছিলেন না। সুতরাং হাদীছ গ্রন্থে স্থানপ্রাপ্ত রাসূলের (সা.) নামে বা কোনো মা‘ছূম ইমামের (আঃ) নামে বর্ণিত যে কোনো হাদীছই প্রকৃতই রাসূল (সা.) থেকে বা মা‘ছূম ইমাম (‘আঃ) থেকে আগত হওয়ার ধারণা সঠিক নয়, বরং তা সঠিক হতেও পারে, না-ও হতে পারে। তাই খবরে ওয়াহেদ হাদীছ চোখ বুঁজে গ্রহণ করা যাবে না, বরং উপরোক্ত চার সূত্রের আলোকে বিচার করে গ্রহণ-বর্জন করতে হবে। মনীষীদের মতামতের ক্ষেত্রেও তা-ই।
অকাট্য চার দলীল দ্বারা প্রমাণিত অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পর বাকী বিষয়গুলোতে একজন দ্বীনী জ্ঞানগবেষককে নিজেকেই চিন্তা-গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেবল এভাবেই সমাজে প্রকৃত ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া’ গড়ে ওঠা সম্ভব যাদের ক্ষেত্রে কোরআন মজীদে উক্ত “ইয়াতাফাক্বক্বাহু ফীদ্দীন” কথাটি প্রযোজ্য হতে পারে এবং রাসূলুল্লাহর (সা.) পরবর্তী যুগের পরিভাষায় যাদেরকে “মুজতাহিদ” বলা যেতে পারে। সমাজে এ ধরনের মুজতাহিদের উপস্থিতি ব্যতীত ইসলামী চিন্তা-চেতনার ঐক্য সম্ভব নয় এবং চৈন্তিক ঐক্য ব্যতীত বাস্তব ঐক্য অর্থহীন; এতদ্ব্যতীত বাস্তব ঐক্য আপাততঃ সম্ভব হলেও তা টেকসই হতে পারে না; [নিকট অতীতের ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে এবং আমাদের দেশেও এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায়]। তাই সমাজে এ ধরনের মুজতাহিদের উপস্থিতি ফরযে কেফায়ী এবং এ ধরনের মুজতাহিদ না থাকলে যারা এর প্রয়োজনের অপরিহার্যতা বুঝতে পেরেছেন তাঁদের জন্য নিজেদেরকে এ দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলা অপরিহার্য।
এখানে ইজতিহাদের দরযাহ্ বন্ধ থাকা সম্পর্কিত আমাদের সমাজে বহুলপ্রচারিত একটি ধারণার ভিত্তিতে নতুন ইজতিহাদের বিরোধিতা করা হতে পারে। এ সম্পর্কে কেবল এতোটুকু উল্লেখ করাই যথেষ্ট যে, ইজতিহাদ যদি ইসলাম সম্মত কোনো কাজ হয়ে থাকে তাহলে তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত বৈধ এবং তা যদি ফরযে কেফায়ী হয়ে থাকে তাহলে তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত ফরযে কেফায়ী, অন্যদিকে তা যদি ইসলাম সম্মত কাজ না হয়ে থাকে তাহলে অতীতের সমস্ত ইজতিহাদই অবৈধ ও বাতিল। যেহেতু অতীতের ইজতিহাদ সমূহকে অবৈধ গণ্য করা হয় না সেহেতু ইজতিহাদের দরযাহ্ বন্ধ হতে পারে না এবং অতীতে যে বা যারা ইজতিহাদের দরযাহ্ বন্ধ ঘোষণা করেছিলো তারা আল্লাহ্ তা‘আলার নির্ধারিত জায়েয-নাজায়েয-এর সীমারেখা লঙ্ঘন করেছিলো এবং একটি ফরযে কেফায়ীকে নিষিদ্ধ করেছিলো। তেমনি কারো জন্য এ কথা বলারও ঐশী এখতিয়ার নেই যে, অতীতের মুজতাহিদগণ যে কাজ করেছেন ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তা-ই যথেষ্ট এবং তাঁরা মা‘ছূম ছিলেন না বিধায় এ কথা বলারও অবকাশ নেই যে, তাঁদের কোনোই ভুল ছিলো না; তাঁদের যে ভুল ছিলো তা বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষতঃ ‘আক্বাএদের বিভন্ন প্রশাখার ক্ষেত্রে এবং কতক ফরয ও হারামের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্যই তার প্রমাণ। তেমনি নবজাগ্রত যুগজিজ্ঞাসাসমূহের জবাব উদ্ঘাটনের জন্যও ইজতিহাদ অপরিহার্য।
এ ধরনের ইসলাম-বিশেষজ্ঞ বা মুজতাহিদ অতীতের কোনো ইসলামী মনীষীর বা কোনো মাযহাবী ধারার অন্ধ অনুসরণে বাধ্য থাকবেন না, কারণ, অন্যের অন্ধ অনুসরণকারী ব্যক্তি (মুক্বল্লিদ) মুজতাহিদ হতে পারেন না। একজন মুজতাহিদ যে সব নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে কাজ করবেন তা তাঁর নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে; এ ক্ষেত্রে তিনি অতীতের মুজতাহিদগণের অনুসৃত কোনো নীতি অনুসরণীয় বলে গণ্য করলে তা অনুসরণ করবেন এবং অনুসরণযোগ্য বলে মনে না করলে তা বর্জনের ব্যাপারে স্বাধীন হবেন। তবে এ বিষয়ে কেবল দু’টি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে : (১) প্রচলিত সংজ্ঞায় সাহাবী বলতে যা বুঝায় তাতে রাসূলুল্লাহর (সা.) যুগের মুনাফিক্বরাও শামিল রয়েছে এবং কোরআন মজীদে এর প্রমাণ আছে [এ বিষয়ে ফেসবুকে প্রকাশিত আমার নোট “কোরআন মজীদের দৃষ্টিতে সাহাবী ও রাসূলুল্লাহ (সা.) যুগের মুনাফিক্ব্” দ্রষ্টব্য], সুতরাং রাভী বিচারের সময় সাহাবীদের অবস্থাও পর্যালোচনা করতে হবে। (২) সুন্নাতে রাসূল (সা.) সম্পর্কে এমন সাহাবীর বা সাহাবীগণের সূত্রে বর্ণিত হাদীছকে অগ্রাধিকার দিতে হবে যিনি বা যারা রাসূলুল্লাহর (সা.) নবুওয়াতী যিন্দেগীতে সর্বাধিক সময় তাঁর সাহর্চযে ছিলেন এবং তাঁদের সূত্রে বর্ণিত হাদীছের ক্ষেত্রেও একই বিষয়ে পারস্পরিক সাংঘর্ষিকতার ক্ষেত্রে ‘ইলমী অগ্রগণ্যতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্যতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।####

Share: