হজ্ব এর আহকাম

  • Posted: 11/05/2018

মুস্তাহাব হজ্ব

১৪৫. যে ব্যক্তির হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী যেমন সাবালকত্ব, সামর্থ্য ইত্যাদি নেই, তার জন্য সম্ভব হলে হজ্ব পালন করা মুস্তাহাব। তদ্রƒপ যে ব্যক্তি তার ওয়াজিব হজ্বকে পালন করেছে তার জন্য পুনরায় হজ্ব পালন করা মুস্তাহাব। আর প্রত্যেক বছর হজ্ব পুনঃ পুনঃ আদায় করা মুস্তাহাব। বরং পরপর পাঁচ বছর পর্যন্ত তা পরিত্যাগ করা মাকরূহ। আর মক্কা থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রত্যাবর্তনের নিয়্যত করা মুস্তাহাব। আর প্রত্যাবর্তন না করার সংকল্প করা মাকরূহ।

১৪৬. আত্মীয়-স্বজন এবং অন্যান্যদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাব্রত হয়ে হজ্ব পালন করা মুস্তাহাব। তা তারা জীবিতই হোক অথবা মৃত। তদ্রুপ মাসুমগণের (আঃ) পক্ষ থেকেও। আরও মুস্তাহাব হলো তাঁদের ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে তাওয়াফ সম্পাদন করা। তবে শর্ত হলো তারা যেন মক্কায় না থাকে কিম্বা ওযরধারী বা অক্ষম যেন না হয়।
১৪৭. যে ব্যক্তির হজ্বের জন্য পাথেয় ও বাহন নেই তার জন্য ধার করে হজ্বে যাওয়া মুস্তাহাব, যদি সে ধার পরিশোধ করতে সক্ষম থাকে।
১৪৮. হারাম ধন-সম্পদ দ্বারা হজ্বে যাওয়া জায়েজ নয়। আর যদি তার ধন সম্পদ সন্দেহযুক্ত হয় এবং তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞাত না থাকে তাহলে তা ব্যয় করতে পারবে।
১৪৯. মুস্তাহাব হজ্ব থেকে অবসর হওয়ার পর তার সওয়াব অন্যকে দান করতে পারে। যেমনভাবে হজ্ব শুরু করার সময়ও সে এ নিয়ত করতে পারে।
১৫০. যারা হজ্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই, তার জন্য প্রয়োজনীয় নেই, তার জন্য এমনকি নিজেকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের প্রতিনিধি হয়ে হজ্ব পালন করাও মুস্তাহাব।

ওমারাহ'র প্রকারভেদ

১৫১. হজ্বের মতো ওমরাহও দুই প্রকারঃ ওয়াজিব ও মুস্তাহাব। আর সামর্থ্যবান হওয়ার শর্তাবলী যার মধ্যে থাকে তার জন্য জীবনে একবার ওয়াজিব হয়। আর এটাও ওয়াজিব হজ্বের ন্যায় শীঘ্রই পালনীয়। আর তা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ হজ্বের মত সামর্থ্যবান হওয়া আবশ্যক নয়। বরং যদি ওমরাহ্র জন্য সামর্থ্যবান হয়, তাহলে তা ওয়াজিব হবে। যদিও হজ্বের সামর্থ্য তার না থাকে। তদ্রুপ এর বিপরীত ক্ষেত্রেও একই কথা। অর্থাৎ, যদি হজ্বের জন্য সামর্থ্যবান হয় এবং ওমরাহর সামর্থ্য না থাকে তাহলে হজ্ব সম্পাদন করবে। কিন্তু জানা থাকতে হবে যারা মক্কা থেকে দূরে অবস্থান করেন (যেমন ইরানীরা) যাদের কর্তব্য হলো তামাত্তু হজ্ব পালন করা, তাদের জন্য কখনোই হজ্বের সামর্থ্য ওমরাহর সামর্থ্য থেকে পৃথক নয় এবং ওমরাহর সামর্থ্যও হজ্বের সামর্থ্য থেকে পৃথক নয়। কেননা, তামাত্তু হজ্ব দু’টি আমলের সম্মিলিত রূপ। পক্ষান্তরে, যারা মক্কায় কিম্বা নিকটবর্তী অধিবাসী যাদের কর্তব্য হলো মুফরাদ হজ্ব ও ওমরাহ পালন করা, তাদের জন্য যে কোনো একটির সামর্থ হিসাব করা যায়।
১৫২. যে ব্যক্তি মক্কায় প্রবেশ করতে চায় তার জন্য ইহরাম সহকারে প্রবেশ করা ওয়াজিব। আর ইহরামের জন্য ওমরাহ কিম্বা হজ্বের নিয়্যত রাখা আবশ্যক। আর যদি হজ্বের সময় না হয় এবং মক্কায় প্রবেশ করতে চায় তাহলে মুফরাদ ওমরাহ সম্পাদন করা ওয়াজিব। তবে যারা পেশাগত প্রয়োজনে বেশি বেশি মক্কায় প্রবেশ করে থাকে এবং সেখান থেকে বের হয় তারা এই নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত নয়।
১৫৩. পূনঃ পূনঃ ওমরাহ পালন করা পূনঃ পূনঃ হজ্ব পালন করার ন্যায়। আর দুই ওমরাহ’র মধ্যবর্তী ব্যবধান নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকতর সতর্কতা হলো এক মাসেরও কম সময়ে সওয়াবের আশায় পালন করা যাবে।

হজ্বের প্রকারভেদঃ

হজ্ব তিন প্রকারঃ তামাত্তু, কেরান এবং ইফরাদ।
তামাত্তু হজ্ব সে সকল ব্যক্তির জন্য, যারা মক্কা থেকে ৪৮ মাইল (১৬ ফারসাখ) দূরে বাস করে।
আর তাছাড়া অন্যান্যদের জন্য কেরান ও ইফরাদ হজ্ব ওয়াজিব। ওয়াজিব হজ্বের আলোচনার মধ্যে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে।

ইফরাদ হজ্ব ও ইফরাদ ওমরাহ'র রূপ

১৫৪. ইফরাদ হজ্ব না কখনো তামাত্তু হজ্ব পালনকারীর জন্যও অপরিহার্য হয়ে পড়ে তা এরূপঃ
ঋতুবর্তী মহিলা কিম্বা অন্য কেউ, যে সময় সংকীর্ণতার কারণে তামাত্তু ওমরাহ পালন করতে সক্ষম নয়, তাকে ইফরাদ হজ্বের সংকল্প করতে হবে। আর তামাত্তু ওমরাহ্’র ঐ ইহরাম যাকে ইফরাদে পরিবর্তন করেছে, তা দ্বারাই আরাফাতে গমন করবে এবং অন্যান্য হাজীদের ন্যায় আরাফাতে অবস্থান করবে। অতঃপর মাশআরে গমন করবে এবং সেখানে অবস্থান করবে। এরপর যাবে মিনায় এবং সেখানে অবস্থান করবে। তবে কুরবানি ছাড়া সেখানকার সব আমল করবে কারণ কুরবানি তার ওপর ওয়াজিব নয়। এরপর মক্কায় যাবে এবং হজ্বের তাওয়াফ, নামায, সাঈ, তাওয়াফে নিসা এবং তার নামায সম্পন্ন করবে। তারপর ইহরাম থেকে সে বের হয়ে আসবে। এরপর রত্রিযাপনের জন্য মিনায় প্রত্যাবর্তন করবে এবং তাশরীক দিবসসমূহের (১১, ১২ ও ১৩ই জিলহজ্ব) আমলসমূহকে অন্যান্য হাজীবৃন্দ যেভাবে পালন করে সেভাবেই সম্পন্ন করবে। সুতরাং ইফরাদ হজ্বের নিয়মও হুবহু তামাত্তু হজ্বের মতো, পার্থক্য শুধু একটি। তাহলো, তামাত্তু হজ্বে কুরবানী করতে হয়। আর ইফরাদ হজ্বে তা করা ওয়াজিব নয়, তবে মুস্তাহাব।
১৫৫. মুফরাদা ওমরাহ (যা কোন ব্যক্তির তামাত্তু হজ্ব ইফরাদ হজ্বে পরিবর্তিত হলে তাকে হজ্বের পরে তা পালন করতে হয়) এর নিয়ম হলো ‘আদনাল হিল্ল’ তথা নিকটতম হালাল হওয়ার স্থানে চলে যাবে। যেমন জা’রানাহ কিম্বা হুদায়বিয়া কিম্বা তানঈম যা মক্কার সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থান। ওখানে গিয়ে ইহরাম বেঁধে মক্কায় আসবে এবং তাওযাফ করবে, তাওয়াফের নামায পড়বে, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করবে এবং চুল বা নখ ছাঁটবে কিম্বা মাথা মু-ন করবে, তাওয়াফে নিসা সম্পাদন করবে এবং তাওয়াফের নামায পড়বে।
১৫৬. মুফরাদা ওমরাহ’র সাথে তামাত্তু ওমরাহ (যার বিস্তারিত শীঘ্রই আসবে) ধরনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, কয়েকটি বিষয় ছাড়াঃ
প্রথমতঃ তামাত্তু ওমরাহ’র মধ্যে চুল বা নখ ছাঁটতে হয়। মাথা মু-ন করা জায়েজ নয়। আর মুফরাদা ওমরাহ’র মধ্যে মাথা মু-ন করা আর চুল বা নখ ছাঁটার মধ্যে যে কোন একটু বেছে নেয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয়তঃ তামাত্তু ওমরাহ’র মধ্যে তাওয়াফে নিসা নেই। কিন্তু মুফরাদা ওমরাহ’র মধ্যে রয়েছে।
১৫৭. ইফরাদ হজ্বের আমলসমূহের পদ্ধতি ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে আরাফাত ও মাশআরে অবস্থান, মিনা ও মক্কার আমলসমূহ, সবকিছুই হুবহু তামাত্তু হজ্বের আমলসমূহের মতই। নিয়মাবলীর দিক থেকেও তা অভিন্ন। আর তামাত্তু ওমরাহ’র আমলসমূহের পদ্ধতি ইহরাম বাঁধা থেকে নিয়ে তাওয়াফ ও অন্যান্য সকল আমলই হুবহু মুফরাদা ওমরাহ’রই মত।
১৫৮. কেউ যদি তামাত্তু ওমরাহ সম্পাদন করে তাহলে মুফরাদা ওমরহ’র জন্য তা যথেষ্ট হবে।
১৫৯. যার কর্তব্য হলো তামাত্তু হজ্ব পালন করা যেমন যারা মক্কা থেকে (কমপক্ষে) ১৬ ফারসাখ শরিয়তী দূরত্ব দূরে বাস করে, যদি তার ওমরাহ করার সামর্থ্য থাকে এবং হজ্বের জন্য সামর্থ্য না থাকে, তাহলে মুফরাদা ওমরাহ তার ওপর ওয়াজিব নয়। যেমন বদলী হজ্বের প্রতিনিধিস্বরূপ যে হজ্ব পালন করে। যদিও এহ্তিয়াত বা সতর্কতা হলো, তা সম্পাদন করা।
১৬০. যে ব্যক্তি মুফরাদা ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধে, তার জন্য তামাত্তুর ইহরামে যা কিছু হারাম বলে উল্লেখিত হয়েছে, সেগুলো সবই হারাম হবে। আর চুল বা নখ ছাঁটা কিম্বা মাথা মু-ন করার পর তার ওপর সবকিছুই হালাল হবে কেবল স্ত্রী ছাড়া। আর তাওয়াফে নিসাকে এর নামাযসহ সম্পন্ন করার পর স্ত্রীও তার জন্যে হালাল হয়ে যাবে।
১৬১. মুফরাদা ওমরাহ তাওয়াফে নিসাকে চুল বা নখ ছাঁটা কিম্বা মাথা মু-নের পরে সম্পাদন করবে।
১৬২. যে ব্যক্তি মুফরাদা ওমরাহ’র ইহরাম বেঁধে মক্কায় প্রবেশ করেছে, যদি তার ইহরাম হজ্বের মাসসমূহে হয়ে থাকে, তাহলে মুফরাদা ওমরাহ্কে তামাত্তু ওমরাহতে পরিবর্তন করা তার জন্য জায়েজ। আর তার পশ্চাতে তামাত্তু হজ্ব পালন করবে। আর এক্ষেত্রে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

সংক্ষেপে তামাত্তু হজ্বের নিয়ম

জেনে রাখবেন, তামাত্তু হজ্ব দু’টি আমলের সমষ্টি। এক. তামাত্তু ওমরাহ্ এবং দুই. তামাত্তু হজ্ব। অর তামাত্তু ওমরাহ্ হলো তামাত্তু হজ্বের আগে পালনীয়।
তামাত্তু ওমরাহ্ পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিতঃ
একঃ ইহরাম
দুইঃ কাবা ঘর তাওয়াফ করা
তিনঃ তাওয়াফের নামায
চারঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা (বা দৌড়ানো)
পাঁচঃ তাকছীর (চুল বা নখের কিছু অংশে ছেঁটে ফেলা)
আর ইহরামকারী যখন এসব আমল থেকে অবসর হয়, তখন যেসব কাজ ইহ্্রাম বাঁধার কারণে তার ওপর হারাম হয়েছিল, তা হালাল হয়ে যাবে।
আর তামাত্তু হজ্ব ১৩টি আমল নিয়ে গঠিত যথাঃ
এক. মক্কায় ইহরাম বাঁধা
দুই. আরাফাতে অবস্থান করা
তিন. মাশআরুল হারামে অবস্থান করা
চার. মিনার আকাবা জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ
পাঁচ. মিনায় কুরবানী করা
ছয়. মিনায় মাথা মু-ন করা কিম্বা চুল বা নখ ছেঁটে ফেলা
সাত. মক্কায় যিয়ারতের তাওয়াফ করা
আট. দুই রাকআত তাওয়াফের নামায পড়া
নয়. সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা
দশ. তাওয়াফে নিসা
এগারো. তাওয়াফে নিসার দুই রাকাআত নামায পড়া
বারো. কিছু কিছু ব্যক্তির (জিলহজ্ব মাসের) এগার, বারো এবং তেরতম রাতে মিনায়ে মিনায় রাত্রি যাপন করা
তের. এগার এবং বারোতম দিনে মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা। আর যেসব লোক তেরতম রাতে মিনায় অবস্থান করেছে, সে দিনে তাদেরকে কঙ্কর নিক্ষেপের আমল করতে হবে।
এটা হলো এই দু’টি আমলের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর বিস্তারিত পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।
১৬৩. মুকাল্লাফ দ্বীনি দায়িত্ব পালনের উপযোগী ব্যক্তিকে ওমরাহ ও হজ্বের আমলে প্রকাশ করার পূর্বেই এসব আমলকে পুরোপুরি বা সংক্ষেপে জানাও আবশ্যক নয়। শুধু তামাত্তু ওমরাহ্’র নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ, যে ইবাদতকে আল্লাহ্ তার ওপর ওয়াজিব করেছেন তা পালন করার নিয়ত করা। একইভাবে তামাত্তু হজ্বকে যেমনভাবে তার ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে আর তার পদ্ধতি ও বিস্তারিত আমল করার সময়ে তার মাসআলা বা নিয়মাবলীর বই থেকে শিখে নেবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে। তবে তা সংক্ষেপে শিখে নেয়া উত্তম এবং এটাই সতর্কতার জন্য উপযোগী।

তামাত্তু ওমরাহ্ ইহরাম বাঁধার স্থান

১৭৭. ইহরাম বাঁধার স্থানকে মীকাত বলা হয়। তামাত্তু ওমরাহ্’র ইহরাম বাঁধার মীকাত একাধিক। হাজীগণের মক্কাগামী পথসমূহের ভিন্নতা অনুযায়ী মীকাতও ভিন্ন ভিন্ন হয়। মীকাতের স্থান পাঁচটি। যথাঃ
প্রথমঃ মসজিদে শাজারাহ। এর অপর নাম যুল-হুলাইফা। এটি হলো যারা মদীনা থেকে মাক্কায় যায়, তাদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান।
১৭৮. জরুরী অবস্থায় ইহরামকে মসজিদে শাজারাহ্ থেকে শাম (বা সিরিয়া) বাসীদের মীকাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা জায়েজ।
১৭৯. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, মসজিদে শাজারাহ্ মধ্যে ইহরাম বাঁধা, তার বাইরে নয়। যতই তা মসজিদের নিকটবর্তী হোক না কেন।
১৮০. জানাবাতগ্রস্ত (যৌন কারণে অপবিত্র) ব্যক্তি এবং ঋতুবর্তী মহিলারা মসজিদ থেকে অতিক্রমরত অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে পারবে। মসজিদের মধ্যে থাকতে পারবে না।
১৮১. যদি ঋতুবর্তী মহিলা পবিত্র হওয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে না পারে তাহলে সতর্কতা হলো মসজিদের সন্নিকটে ইহরাম বাঁধবে এবং ‘জুহ্ফা’ কিম্বা তার পাশ্ববর্তী স্থানে ইহ্রামকে পুনঃ সম্পন্ন করবে।
দ্বিতীয়ঃ ওয়াদী-ই-আকীক (আকীক প্রান্তর)। যারা প্রথমভাগকে ‘মাছলাখ’ দ্বিতীয় ভাগকে ‘ওমরাহ’ এবং শেষভাগকে ‘যাতু ইরক’ বলা হয়। যা সর্ব-সাধারণের ইহরামের স্থান বটে। আর এটা হলো যারা ইরাক ও নাজ্ দের পথ দিয়ে মক্কায় যায় তাদের মীকাত।
তৃতীয়ঃ ‘কারনুল মানাযিল’। আর এটা হলো যারা তায়েফের পথ দিয়ে হজ্বে গমন করে তাদের মীকাত।
চতুর্থঃ ইয়ালাম্লাম্। এটা একটি পাহাড়ের নাম। আর এটা হলো যারা ইয়ামানের পথ দিয়ে মক্কায় গমন করে তাদের মীকাত।
পঞ্চমঃ জুহ্ফা। এটা হলো যারা শাম বা সিরিয়া থেকে হজ্বে যায় তাদের মীকাত।
১৮২. যদি শরিয়তগত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় অর্থাৎ দু’জন ন্যায়বান সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে যে অমুক স্থানটি মীকাত তাহলে অনুসন্ধান ও নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক নয়। আর যদি নিশ্চিত জ্ঞান লাভ ও শারয়ী প্রমাণ সম্ভব না হয় তাহলে যারা উক্ত স্থানসমূহের ব্যাপারে অবগত তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে অর্জিত ধারণার ওপর ভরসা করতে পারবে।
১৮৩. যখন কেউ এমন কোন পথ ধরে মক্কায় যায় যা কোন একটি মীকাত অতিক্রম করে না, তখন মীকাতের সমান্তরাল পাশ্ববর্তী স্থান থেকে ইহ্রাম বাঁধতে হবে।
১৮৪. হজ্বের সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধাকে বিলম্ব করে এবং কোন ওযর বা সমস্যাবশত মীকাতে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব না থাকে এবং অপর কোন মীকাতও সামনে না থাকে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তী বছরে তাকে হজ্ব পালন করতে হবে।
১৮৫. যে ব্যক্তি মীকাতের সমান্তরাল পাশ্ববর্তী স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যদি সমান্তরাল পাশ্ববর্তী স্থানকে না জানে তাহলে এ ব্যাপারে জ্ঞাত ও বিশ্বস্ত লোকদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করবে। আর যে মুজতাহিদ ঐ স্থান সম্পর্কে অবগত নন, এ ব্যাপারে তার কথার মূল্য নেই। আর যদি সমান্তরাল পাশ্ববর্তী স্থানকে বুঝতে না পারে, তাহলে যে স্থানকে সমান্তরাল হিসেবে সম্ভাব্য মনে করে যার পাশ থেকে অতিক্রম করে গেছে, সেখানে পৌঁছানোর আগেই মানতের নিয়্যতে ইহ্রাম বাঁধবে। আর যদি সমান্তরাল পার্শ্বে পৌঁছানোর পূর্বে নির্দিষ্ট স্থান থেকে মানতের নিয়তে ইহরাম বাঁধে তাহলে সেটাই বরং অধিকতর সতর্কতামূলক।
১৮৬. সমান্তরাল পার্শ্ব বলতে বুঝায়, যে ব্যক্তি মক্কার দিকে যায়, এমন একটা স্থানে পৌঁছায় যখন মীকাত তার ডান অথবা বাম পার্শ্বে অবস্থান করে সোজাসুজিভাবে। অর্থাৎ এমনভাবে যে যদি সেখান থেকে অতিক্রম করে যায়, তাহলে মীকাত তার পেছনে পড়ে যাবে।
১৮৭. সমান্তরাল পার্শ্ব নির্ধারিত হয় নিশ্চিত জ্ঞান দ্বারা এবং দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর দ্বারা। আর যদি এগুলোও সম্ভব না হয়, তাহলে যারা ঐ স্থানসমূহ সম্পর্কে অবগত তাদের বক্তব্য থেকে যদি ধারণা অর্জিত হয় তাহলেই বাহ্যত যথেষ্ট হবে। বরং যারা বিশেষজ্ঞ এবং বৈজ্ঞানিক নিয়ম পদ্ধতির মাধ্যমে সমান্তরাল পার্শ্বকে নির্ধারণ করে থাকেন তাদের কথা থেকে যদি ধারণা অর্জিত হয় তাহলেই বাহ্যত যথেষ্ট হবে।
১৮৮. যে ব্যক্তি ভুলে যাওয়া কিম্বা মাসআলা না জানার কারণে, কিম্বা অন্য কোন কারণে ইহরাম ছাড়াই মীকাত থেকে অতিক্রম করে গেছে, অতঃপর যদি মীকতে ফিরে আসা সম্ভব থাকে এবং ফিরে আসার মাধ্যমে ওমরাহ্’র আমলসমূহে পৌঁছাতে পারে, তাহলে তার ফিরে আসাই ওয়াজিব এবং তাকে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে, সে হেরেমেই প্রবেশ করে থাকুক বা প্রবেশ না করে থাকুক। আর যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সেভাবে ফিরে আসা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে যদি হেরেমে প্রবেশ না করে থাকে, তাহলে ঐ স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো যতটুকু পারে মীকাতের দিকে ফিরে আসবে এবং সেখানে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে যদি সক্ষম হয় এবং ওমরাহ্’র আমলসমূহে পৌঁছুতে পারে তাহলে ওয়াজিব হলো হেরেম থেকে বের হওয়া এবং ইহরাম বাঁধা। আর যদি এভাবে সক্ষম না হয়, তাহলে সেখানেই ইহরাম বাঁধতে হবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো যতটুকু সম্ভব হেরেমের দিকে ফিরে আসবে এবং সেখানে ইহরাম বাঁধবে।
১৮৯. ঋতুবর্তী মহিলা যদি মাসআলা না জানে এবং বিশ্বাস করে যে, মীকাতে ইহরাম বাঁধা উচিত নয় এবং ইহরাম না বাঁধে, তাহলে তার ব্যাপারে নির্দেশ হলো সেটাই, যা পূর্বের মাসআলায় বলা হয়েছে।
১৯০. মীকাতে পৌঁছবার পূর্বে ইহরাম বাঁধা জায়েজ নয়। আর যদি ইহরাম বাঁধে তা যথার্থ হবে না, কিন্তু যদি মানত করে যে মীকাতের পূর্বে একটি স্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে তাহলে তা জায়েজ। সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ মানত করে যে, ‘কোম্’ থেকে ইহরাম বাঁধবে, তাহলে তা পালন করা ওয়াজিব।
১৯১. সুযোগ থাকা অবস্থায় ইহরাম বাঁধাকে মীকাত থেকে দেরি করা জায়েজ নয়।
১৯২. যদি ইহরাম বাঁধা ছাড়াই মীকাত অতিক্রম করে যায়, তাহলে ওয়াজিব হলো সম্ভব হলে ফিরে আসা এবং ঐ মীকাতের ইহরাম বাঁধবে। বরং ঐ মীকাতের পরে যদি আরেকটি মীকাত থাকে, তাহলে সতকর্তামূলক ওয়াজিব হলো যে মীকাতকে অতিক্রম করে গেছে সেখানে ফিরে আসা এবং ইহরাম বাঁধা।

মীকাতের বিবিধ মাসায়েল

১৯৩. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো খোদ্ মসজিদে শাজারাহতেই ইহ্রাম বাঁধতে হবে, তার আশপাশ থেকে নয়। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো মসজিদের মূল স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। যদিও সর্বৈবভাবে মসজিদ থেকে জায়েজ নয়, এমনকি যে অংশে মসজিদ সম্প্রসারিত হয়েছে সেখান থেকেও নয়।
১৯৪. যারা উড়োজাহাজে জেদ্দায় যায়, জেদ্দা কিম্বা হুদায়বিয়া থেকে ইহরাম বাঁধতে পারে না বরং যে কোন মীকাতে যেমন জুহফা’য় যেতে হবে এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি মদীনা থেকে যায়, শাজারাহ মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধবে। এই নির্দেশের ব্যাপারে তামাত্তু ওমরাহ বা মুফরাদা ওমরাহ’র সংকল্প করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আর হুদায়বিয়া হলো যারা মক্কায় রয়েছে তাদের মুফরাদা ওমরাহ্’র মীকাত।
১৯৫. যাদের কাছে মীকাত সুনির্দিষ্ট নয়, তারা গাইড কিম্বা কাফেলা পরিচালকের কথামতো কোন জায়গাকে মীকাত ধরে সেখানে ইহরাম বাঁধতে পারবে না। যদি না তার কথা থেকে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জিত হয়। নতুবা এ ব্যাপারে প্রচলিত স্থানীয় সাধারণ ধারণার আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
১৯৬. যখন প্রমাণিত নয় যে, ‘রাবেগ’ জুহফা’র সমান্তরাল পার্শ্ববর্তী স্থান তখন সেখানে ইহরাম বাঁধা জায়েজ নয়।
১৯৭. যে ব্যক্তি হজ্বের মাসসমূহ ভিন্ন অন্য সময়ে মক্কায় গেছে এবং মুফরাদা ওমরাহ পালন করেছে এবং হজ্বের মাসসমূহ পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করেছে তাকে তামাত্তু ওমরাহ’র ইহরাম বাঁধার জন্য প্রসিদ্ধ পঞ্চ মীকাতের কোন একটিতে আমল করতে হবে। ‘তানঈমে’ইহরাম বাঁধতে পারবে না।
১৯৮. যারা মুফরাদা ওমরাহ্’র জন্য মক্কায় গমন করে এবং প্রসিদ্ধ মীকাতসমূহের কোন একটিতে যেতে হয়, তারা ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করে যেতে পারবে না। আর অতিক্রম করলে মীকাতে ফিরে আসা এবং সেখানেই ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। আর যদি কেউ ফিরে আসতে না পারে, তাহলে যেখানেই আছে সেখানেই ইহরাম বাঁধবে।
১৯৯. যদি কোন লোক মক্কায় থাকে এবং তামাত্তু ওমরাহ্ পালন করতে চায় এবং কোন না কোন কারণে তামাত্তু ওমরাহ্’র মীকাতে যেতে অক্ষম থাকে তাহলে হেরেমের বাইরে যাবে এবং সেখানেই ইহ্্রাম বাঁধবে এবং ‘আদনাল হিল্ল’ তথা হালাল হওয়ার ন্যূনতম দূরত্ব থেকে হলেই তা যথেষ্ট হবে।
২০০. জেদ্দায় অথবা অন্যত্র কর্মরত ইরানী ও অন্যান্যদের জন্য তামাত্তু ওমরাহ এবং মুফরাদা ওমরাহ’র মীকাত হলো ঐ প্রসিদ্ধ মীকাতসমূহই। জেদ্দা থেকে কিম্বা ‘আদ্নাল হিল্ল’ (হালাল হওয়ার ন্যূনতম দূরত্ব) থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে না।
২০১. হজ্ব কাফেলার সেবকরা যারা মক্কায় যেতে চায় এবং মক্কা থেকে তাদেরকে আবার বাইরে যেতে হবে, সতর্কতার ভিত্তিতে তারা তামাত্তু ওমরাহ পালন করবে না। বরং মক্কায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত যে কোন একটি মীকাতে চলে যাবে এবং সেখান থেকে মুফরাদা ওমরাহর জন্য ইহরাম বাঁধবে। আর ‘আদনাল হিল্ল’ এদের জন্য মীকাত নয়। মুফরাদা ওমরাহ পালনের পর মক্কা থেকে বের হতে পারবে। আর যদি মক্কা থেকে বের হয়ে শুধু জেদ্দা অভিমুখে আসে, তাহলে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এবং তৎপরবর্তীতে মক্কায় প্রবেশের জন্য ইহরাম ওয়াজিব নয়। কিন্তু যদি মদীনায় যায় ও সেখান থেকে মক্কায় যেতে চায় তাহলে মসজিদে শাজারায় ইহরাম বাঁধতে হবে আরেকটি মুফরাদা ওমরাহ’র জন্য। আর যেহেতু এই মুফরাদা ওমরাহ এবং পূর্ববর্তী মুফরাদা ওমরাহ’র মধ্যে একমাস ব্যবধান হয়নি কাজেই দ্বিতীয় ওমরাহকে সওয়াবের আশায় সম্পাদন করবে। যাই হোক, এ সকল ব্যক্তি শেষ বার যখন মক্কায় যাবে, যে কোন একটি স্বীকৃত মীকাতে যেমন মসজিদে শাজারাহ কিম্বা জুহফায় যেতে হবে এবং সেখানেই তামাত্তু ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধবে।

ইহরামের ওয়াজিব সমূহ

২২২.ইহরামের সময় তিনটি জিনিস ওয়াজিবঃ
প্রথমঃ নিয়ত। অর্থাৎ মানুষ যখন ইহরাম বাঁধতে চায় তামাত্তু ওমরাহ বাবদ, তখন তামাত্তু ওমরাহ্’র নিয়ত করবে। আর ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ হারাম হয় সেগুলো বর্জন করার নিয়ত করার আবশ্যকতা নেই। বরং যে ব্যক্তি তামাত্তু ওমরাহ্’র নিয়তে কিম্বা তামাত্তু হজ্বের নিয়তে ওয়াজিব লাব্বায়েকসমূহে বলবে, সে ইহরাম সম্পন্ন হবে। তা সে ইহরামের উদ্দেশ্যেই করুক অথবা না করুক। আর হারামসমূহকে বর্জন করার সংকল্পেই সে তা করুক অথবা না করুক। কাজেই যে ব্যক্তি জানে যে, কোন কোন হারাম কাজ যেমন সফর অবস্থায় ছায়ার নিচে সে যাবে, তার ইহরাম সঠিক হবে। তবে সতর্কতা হলো, হারামসমূহকে বর্জনের সংকল্পও সে করবে।
২২৩. হারামসমূহ বর্জনের সংকল্প করার আবশ্যকতা নেই বলে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ঐ হারামসমূহ থেকে ভিন্ন, যা ওমরাহ কিম্বা হজ্বকে বাতিল করে দেয়। যেমন অধিকাংশ হারাম কাজ। কিন্তু যা ওমরাহ কিম্বা হজ্বকে বাতিল করে দেয় যেমন স্ত্রী সহবাসের কিছু কিছু ধরন, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে। সুতরাং তা সম্পাদন করার উদ্দেশ্য থাকলে ইহরাম বাতিল বরং অসম্ভব হবে।
২২৪. ওমরাহ এবং হজ্ব এবং তার অংশসমূহ ইবাদাতেরই অন্তর্ভূক্ত। মহান আল্লাহর আনুগত্যের একনিষ্ঠ সংকল্প সহকারেই তা পালন করতে হবে।
২২৫. যদি হজ্বকে একনিষ্ঠ নিয়ত সহকারে পালন না করে বরং কপটতা বা অন্য কিছু দ্বারা বাতিল করে, তাহলে পরবর্তী বছরে ওমরাহ ও হজ্ব পুনঃআদায় করতে হবে।
২২৬. যদি ওমরাহ ও হজ্বের কিছু কিছু বা মূল বিষয়কে একনিষ্ঠ নিয়ত সহকারে পালন না করে এবং কপটতা বা অন্য কিছু দ্বারা বাতিল করে এবং তা পূরণ করতে না পারে, তাহলে ওমরাহ’র বেলায় তা বাতিল হওয়ার নির্দেশ জারী হবে। আর হজ্বের বেলায়ও তা বাতিল হওয়ার নির্দেশ জারী হবে। কিন্তু যদি পূরণ হওয়ার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে এবং তা পূরণ করে তাহলে তার আমল সঠিক হবে যদিও সে পাপ করলো।
২২৭. যদি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা অন্য কোন কারণে তামাত্তু ওমরাহ’র নিয়তের স্থলে তামাত্তু হজ্বের নিয়ত করে, সেক্ষেত্রে যদি তার দৃষ্টিতে এটা থাকে যে, অন্য সবাই এই যে আমলটি পালন করছে, সেও তা সম্পাদন করবে এবং ধারণা করেছে যে হজ্বের দুই অংশের প্রথম অংশটির নাম তামাত্তু হজ্ব, সেক্ষেত্রে বাহ্যত তার আমল সঠিক এবং তামাত্তু ওমরাহ হবে। তবে উত্তম হলো নিয়তকে নতুন করে করবে।
২২৮. যদি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা অন্য কোন কারণে ধারণা করে যে, তামাত্তু হজ্ব, তামাত্তু ওমরাহ’র চেয়ে অগ্রবর্তী এবং তামাত্তু হজ্বের নিয়ত করে এই সংকল্পে যে, ইহরামের পরে আরাফাত ও মাশআরুল হারামে যাবে এবং হজ্ব সম্পাদন করবে এবং ওমরাহকে তার পরে পালন করবে তাহলে তার ইহরাম বাতিল হবে। তাকে মীকাতে গিয়ে পুনরায় ইহরাম বাঁধতে হবে। আর যদি মীকাত থেকে পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সম্ভব হলে মীকাতে ফিরে যাবে ও ইহরাম বাঁধবে। নতুবা ঐ জায়গা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে এবং বুঝতে পারে, তাহলে সম্ভব হলে হেরেম থেকে বাইরে যাবে এবং ইহরাম বাঁধবে। নতুবা ঐ জায়গাতেই ইহরাম বাঁধবে।
২২৯. দ্বিতীয়ঃ তালবীয়্যহ, অর্থাৎ লাব্বায়েক বলা। আর তার সঠিকতম রূপ হলো বলতে হবে যে, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক।”
যদি এই অংশটুকুই বলে তাহলে সে ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং তার ইহরাম সঠিক হবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো উপরোক্ত নিয়মে চারবার ‘লাব্বাইকা’ বলার পরে বলবেঃ ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা।
আর যদি অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে চায় তাহলে উল্লেখিত অংশ বলার পরে বলবেঃ লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্, লাব্বাইকা ইন্নাল্ হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাকা লাব্বাইক।
আর মুস্তাহাব হলো এর পরে বলবেঃ লাব্বাইকা যাল মাআরিজি লাব্বাইক। লাব্বাইকা দাঈআন্ ইলা দারিছ্ ছালামি লাব্বাইক। লাব্বাইকা গাফ্ফারায যুনুবি লাব্বাইক। লাব্বাইকা আহ্লাত তাল্বিয়্যাতি লাব্বাইক। লাব্বাইকা যাল হালালি ওয়াল ইকরামি লাব্বাইকা। লাব্বাইকা তুবদিউ ওয়াল মাআদু ইলাইকা লাব্বাইক, লাব্বাইকা তাস্তাগ্নী ওয়া ইউফতাকারু ইলাইকা লাব্বাইক্, লাব্বাইকা মারহুবান ওয়া মারগুবান ইলাইকা লাব্বাইক্। লাব্বাইকা ইলাহাল্ হাক্কি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা যান না’মায় ওয়াল্ ফাদ্লিল্ হাছানিল জামিলি লাব্বাইক। লাব্বাইকা কাশশাফাল কারবিল ইযামি লাব্বাইক। লাব্বাইকা আব্দুকা ওয়াবনু আব্দাইকা লাব্বাইক্। লাব্বাইকা ইয়া কারিমু লাব্বাইক্।
এই বাক্যগুলোও বলা ভালঃ লাব্বাইকা আতাকাররাবু ইলাইকা বি মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন লাব্বাইক। লাব্বাইকা বিহাজ্জাতিন ওয়া উমরাতিন লাব্বাইক। লাব্বাইকা ওয়া হাযিহী উমরাতু মুতআতিন ইলাল হাজ্জি লাব্বাইক। লাব্বাইকা আহ্লাত্ তাল্বিয়্যাতি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা তাল্বিয়্যাতি তামামুহা ওয়া বালাগুহা আলাইক্।
২৩০. উপরোক্ত ওয়াজিব পরিমাণ ‘লাব্বায়েক’কে সঠিকভাবে বলা ওয়াজিব। যেমনভাবে নামাযে তাকবীরাতুল ইহরামকে সঠিকভাবে বলা ওয়াজিব।
২৩১. যদি উল্লেখিত পরিমাণ ‘তালবিয়্যাহ’কে সঠিকভাবে বলতে না জানে, তাহলে তাকে তা শিখতে হবে কিম্বা বলার সময় কেউ তাকে উচ্চারণ করে বলে দেবে। অর্থাৎ উক্ত ব্যক্তি প্রতিটি শব্দ পৃথকভাবে উচ্চারণ করে যাবে, আর ইহরাম বাঁধা ব্যক্তিও তাকে অনুসরণ করে সঠিকভাবে সেগুলো উচ্চারণ করবে।
২৩২. যদি কেউ শিখতে সক্ষম না হয়, কিম্বা শেখার সময় হাতে না থাকে এবং উচ্চারণ করে বলে দেবার মাধ্যমেও বলতে না পারে, তাহলে সতর্কতা হলো, যেভাবেই পারে বলবে এবং তার অনুবাদও বলবে। আর উত্তম হলো এছাড়া প্রতিনিধিও নিযুক্ত করবে।
২৩৩. যদি লাব্বায়েক বলতে ভুলে যায় কিম্বা এ সংক্রান্ত নির্দেশ না জানার কারণে না বলে, তাহলে সম্ভব হলে মীকাতে ফিরে আসা ও ইহরাম বাঁধা এবং লাব্বায়িক বলা ওয়াজিব। আর যদি ফিরে আসতে না পারে, তাহলে সেখানেই বলবে, যদি তখনও হেরেমে প্রবেশ না করে থাকে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে তাহলে হেরেমের বাইরে বের হয়ে আসা এবং ইহরাম বাঁধা এবং লাব্বায়েক বলা ওয়াজিব। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেখানেই ইহরাম বাঁধবে এবং লাব্বায়েক বলবে। অতঃপর যদি তা পূরণ করার সময় পার হওয়ার পর তার মনে পড়ে তাহলে তার আমল সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়।
২৩৪. যদি কেউ ওয়াজিব লাব্বায়েক না বলে তা সমস্যার কারণেই হোক আর বিনা কারণেই হোক, ইহরাম সম্পন্ন ব্যক্তির ওপর যেসব জিনিস হারাম হয় তার ওপর তা হারাম হবে না। আর ইহরামে যা কিছু কাফ্ফারার কারণ হয় সেগুলো যদি করে তাহলে কোন কাফফারা লাগবে না। তদ্রপ যদি লাব্বায়েককে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যেও বাতিল করে ফেলে, তাহলেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
২৩৫. যদি মীকাতে ওয়াজিব লাব্বায়েক বলার পর তামাত্তু ওমরাহর নিয়ত করেছে নাকি তামাত্তু হজ্বের নিয়ত করেছে তা ভুলে যায়, তাহলে ধরে নেবে যে, তামাত্তু ওমরাহর নিয়ত করেছে। তার ওমরাহ সঠিক। তদ্রƒপ যদি যিলহজ্বের ৮ম দিনে লাব্বায়েক বলার পর যা তামাত্তু হজ্বের জন্য বলতে হবে, কিন্তু হজ্বের জন্য বলেছে নাকি ওমরাহর জন্য, তা ভুলে যায়, তাহলে ধরে নেবে তামাত্তু হজ্বের জন্যই তা বলেছে। তার হজ্ব সঠিক ও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো তালবিয়্যাহকে পুনঃসম্পাদন করা।
২৩৬. ওয়াজিব লাব্বায়েক বলাকে মীকাত থেকে বিলম্ব করা জায়েজ নয়। আর যদি বিলম্ব করে তাহলে ১৮৮নং মাসআলার বর্ণিত নির্দেশ অনুযায়ী আমল করবে।
২৩৭. লাব্বায়েক একবারের বেশি বলা ওয়াজিব নয়। তবে পুনরাবৃত্তি করা এবং যত পারে ততবার বলা মুস্তাহাব। আর ৭০ বার বলার জন্য অনেক সওয়াবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইহরাম বাঁধা অবস্থায় যা বলেছে তা পুনরাবৃত্তি করা আবশ্যক নয়। বরং ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বললেই যথেষ্ট হবে। অথবা শুধুমাত্র ‘লাব্বাইকা’ অংশটি পুনরাবৃত্তি করবে।
২৩৮. যে ব্যক্তি তামাত্তু ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বেঁধেছে, তার জন্য সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মক্কার ঘর-বাড়ি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সময় ‘লাব্বাইকা’ বলা ত্যাগ করা এবং আর লাব্বাইকা না বলা। আর মক্কার ঘরবাড়ি বলতে বুঝায় যখন ওমরাহ পালন করে তখন যেসব ঘরবাড়ি মক্কার অন্তর্গত থাকে, মক্কা শহর যতই বড় হোক না কেন। আর যে ব্যক্তি হজ্বের ইহরাম বেঁধেছে তার জন্য সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো লাব্বাইক্ কে আরাফাতের দিবসের যোহরের ওয়াক্তের পর না বলা।
২৩৯. তৃতীয়ত ইহরামের দু’টি কাপড় পরিধান করা (পুরুষদের জন্য)। একটি লুঙ্গী এবং অপরটি চাদর যা কাঁধের ওপরে রাখতে হবে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো এই কাপড় দুটোকে ইহরামের নিয়ত ও লাব্বাইক বলার আগে পরিধান করতে হবে। আর যদি লাব্বাইক বলার পরে পরিধান করে তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো লাব্বাইক্কে পুনরায় বলবে।
২৪০. লুঙ্গি নাভী ও হাঁটুকে আবৃত করা আবশ্যক নয়। প্রচলিত নিয়মে হলেই তা যথেষ্ট হবে। তবে নাভী ও হাঁটুকে ঢাকা মুস্তাহাব।
২৪১. ইহরামের কাপড় দুটো পরিধান করার ব্যাপারে বিশেষ কোন ধারাবাহিকতা জরুরী নয়। বরং যে ধারাতেই পরিধান করুক আপত্তি নেই। শুধু একটিকে লুঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করবে, তা যে পদ্ধতিতেই হোক। আর অপরটিকে চাদর হিসেবে নির্ধারণ করবে, তা যে পদ্ধতিতেই হোক। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো চাদরটি কাঁধকে আবৃত করে থাকবে।
২৪২. সুযোগ থাকা অবস্থায় সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো কেবল একটি দীর্ঘ জমা দ্বারাই ক্ষান্ত না হওয়া, যার কিছু অংশকে লুঙ্গী আর কিছু অংশকে চাদর হিসেবে নির্ধারণ করা বরং দু’টি পৃথক কাপড় হতে হবে।
২৪৩. ইহরামের কাপড় পরিধানের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো নিয়ত করবে এবং খোদায়ী নির্দেশ পালন ও তাঁর আনুগত্য করার সংকল্প করবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো সেলাইকৃত কাপড় খুলে ফেলার বেলায়ও নিয়ত এবং আনুগত্যের সংকল্প করবে।
২৪৪. এ দু’টি কাপড়ের বেলায় শর্ত হলো তা দিয়ে নামায পড়া সঠিক হতে হবে। কাজেই রেশমী ও অ-খোরাকীয় কাপড় এবং যে কাপড় অপবিত্র থাকে, এমন অপবিত্রতা যা নামায শুদ্ধ হবার ব্যাপারে অমার্জনীয় তেমন কাপড় ইহরামের জন্য যথেষ্ট নয়।
২৪৫. যে কাপড়কে লুঙ্গী হিসাবে নির্ধারণ করবে তা যেন এমন পাতলা না হয় যাতে শরীর দেখা যায়। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো চাদরও যেন শরীর প্রকাশক না হয়।
২৪৬. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মহিলাদের ইহরামের কাপড় যেন খাঁটি রেশমের না হয়। বরং সতর্কতা হলো শেষ অবধি রেশম পরিধান না করা।
২৪৭. ইহরামকারী ব্যক্তিকে যে দু’টি কাপড় পরিধান করার কথা বলা হয়েছে তা কেবল পুরুষদের জন্য স্বতন্ত্র। আর মহিলারা তাদের কাপড়ে যেভাবে হোক ইহরাম বাঁধতে পারবে। সেটা সেলাইকৃত হোক কিম্বা না হোক। তবে খাঁটি রেশমী যেন না হয়, যেমনটা ইতঃপূর্বে বলা হয়েছে।
২৪৮. যদি ইহরামের কাপড় কিম্বা শরীরকে পবিত্র না করে তাহলে ইহরামকারীর কাফ্ফারা নেই।
২৪৯. সতর্কতা হলো ইহরামের কাপড় চামড়ার না হওয়া। তবে বাহ্যত যদি সেটাকে কাপড় বলা হয় তাহলে আপত্তি নেই।
২৫০. ইহরামের কাপড় বয়নকৃত হওয়া আবশ্যক নয়। বরং যদি পশমের মতো লেপ্টে থাকে এবং সেটাকে কাপড় বলা হয়, তাহলে আপত্তি নেই।
২৫১. উত্তম হলো ইহরামকারী ব্যক্তি যদি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে থাকে, যখন তাওয়াফের জন্য মক্কায় প্রবেশ করবে তখন ঐ যে কাপড়ে ইহরাম বেঁধেছে সেটাই পরিধান করবে। বরং এ মতটি সতর্কতামূলক মুস্তাহাবের পক্ষে।
২৫২. যদি ঠান্ডা বা অন্য কোন কারণে ইহরামকারী ব্যক্তি ওভার কোট বা জামা পরিধান করতে বাধ্য হয়, তাহলে তা পরতে পারবে। তবে ওভারকোটকে উপর নিচে উল্টো করে কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে দেবে এবং হাতকে আস্তিনের মধ্যে ঢুকাবে না। আর অধিকতর সতর্কতা হলো ভিতর-বাইরেও উল্টো করে পরবে। আর জামাকেও কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবে, পরিধান করবে না। আর যদি তা পরিধান না করলে প্রয়োজন না মেটে তাহলে পরিধান করতে পারবে।
২৫৩. ইহরামের কাপড়কে সব সময় পরিধান করে থাকতে হবে এমন কোন আবশ্যকতা নেই। বরং তা পরিবর্তন করা এবং ধোয়ার জন্য ও গোসল করার জন্য খুলে ফেলা জায়েজ। বরং প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার প্রয়োজনে দুটোই খুলে ফেলা এবং উলঙ্গ হওয়াও জায়েজ।
২৫৪. ইহরামকারী ব্যক্তি ইহরামের দু’টি কাপড়ের চেয়ে বেশি কাপড়ও পরতে পারবে। যেমন, ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য বা অন্য কোন কারণে দু’তিনটি লুঙ্গী এবং দু’তিনটি চাদরও পরতে পারবে।
২৫৫. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ইহরামের পোশাক পরিধান না করে কিম্বা যখন ইহরাম বাঁধতে চায়, সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করে তাহলে সে পাপ করলো। কিন্তু তার ইহরামের কোন ক্ষতি হবে না। তার ইহরাম সঠিক। আর যদি সমস্যার কারণে হয়, তাহলে পাপও করেনি এবং তার ইহরামও সঠিক।
২৫৬. ইহরামের কাপড়ে গিরা দেয়ায় আপত্তি নেই। কিন্তু সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, যে কাপড়টা লুঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেটাকে গলায় গিঁট না দেয়া। আর যদি অজ্ঞতা কিম্বা ভুলবশত গিঁট দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো শীঘ্রই তা খুলে ফেলা। কিন্তু এতে তার ইহরামের ক্ষতি হবে না এবং তার ওপর কোন কিছু বর্তাবেও না। আর ইহরামের কাপড়ে পাথর রাখা এবং সুতা দ্বারা আটকানো জায়েজ।
২৫৭. ইহরাম বাঁধার ক্ষেত্রে বড় ও ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকার শর্ত নেই। কাজেই জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতা, মসিক প্রসবান্তিক স্রাব অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধা জায়েজ। বরং মাসিক ও প্রসবান্তি স্রাব গ্রস্তদের জন্য ইহরামের গোসল মুস্তাহাব।
২৫৮. যদি ইহরাম বাঁধার পরে জামা পরিধান করে তাহলে জামাকে ফেঁড়ে ফেলবে এবং নিচ দিয়ে বের করে আনবে। কিন্তু যদি জামা পরিধান করে ইহরাম বাঁধে তাহলে ফেঁড়ে ফেলা এবং নিচ থেকে বের করে আনার দরকার নেই। এটাই যথেষ্ট যে, সেটা খুলে ফেলে ইহরামের কাপড় পরবে। আর উভয় অবস্থায় তার ইহরাম সঠিক।

(সূত্রঃ হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Share: