শিয়া মাযহাব, মহানবীর (সা.) সুন্নতেরই ধারাবাহিকতা

  • Posted: 24/10/2021

ভাষান্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আনিসুর রহমান

আল্লামা আসকারীর (রহ.) মৌলিক চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, ‘শিয়াদের হাদিস ও নিষ্পাপ ইমামগণের মাযহাব প্রকৃতপক্ষে রাসূলের (সা.) সুন্নতেরই ধারাবাহিকতা’ এটাকে প্রমাণিত করা।

এর স্বপক্ষে তিনি যেসব প্রমাণাদি উত্থাপন করেছেন সেগুলোকে এভাবে সাজানো যেতে পারে:
প্রথমত: আমাদের ইমামগণ বারংবার বলেছেন যে, “গবেষণা, সংশয়, মনেকরি এবং অবশ্যই এ রকম” এধরণের কথাবার্তার কোন স্থান নেই বরং আমাদের প্রশ্নের উত্তরে যা কিছু বলা হয় তার সবকিছুই রাসূলের (সা.) কথা। নিজ থেকে কোনকিছু সংযোজন করি না এবং আমাদের হাদিস মানেই রাসূলের (সা.) হাদিস।

দ্বিতীয়ত: শিয়াদের ইমামগণ একাধিকবার বলেছেন যে, আমরা বিভিন্ন ঘটনা, মাসয়ালা-মাসায়েল বা সমস্যাদির ক্ষেত্রে আল্লাহর কুরআন ও রাসূলের (সা.) সুন্নাত ব্যতিত শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসের উপর ফতোয়া দেই না।

তৃতীয়ত: ইমামদের অসংখ্য হাদিস আছে যেখানে হাদিস বর্ণনাকারী তাদের পিতাদের ধারাবাহিকতাকে স্বীয় সনদ তথা বর্ণনাকারীর ধারাবাহিকতা রাসূল (সা.) পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে এবং হাদিস বর্ণনাকারীদেরকে এই অনুমতিও দিয়েছেন যে, তারা যেন তাদের প্রতিটি হাদিসে এই সনদ বা বর্ণনাকারীর সিলসিলা তথা ধারাবাহিকতাগুলো উল্লেখ করেন।

চতুর্থত: ইমামগণ ও তাঁদের সঙ্গী-সাথীগণ “আল-জামেয়াহ” ও “মুসহাফে আলী” নামক গ্রন্থে অনেক জায়গায় তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আর এই গ্রন্থগুলো স্বয়ং রাসূলের (সা.) নির্দেশে তাঁর স্থলাভিষিক্তদের জন্য লেখা হয়েছে এবং তাতে তাঁর (সা.) ডিকটেশন ও আলীর (আ.) নিজের লেখা, দ্বীনি মাসয়ালা-মাসায়েল, কুরআনের তাফসীর ও অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে লেখা রয়েছে। আর সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে শিয়াদের ইমামগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিয়াদের ইমামগণ কখনও কখনও এমন হয়েছে যে, কোনো কোনো মাসয়ালার হুকুম তথা বিধানকে ইমাম আলী ইবনে আবী তালিবের (আ.) গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং “ইমামের গ্রন্থ” থেকে উদ্ধৃত বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কখনও কখনও ঐ একই হুকুম বা বিধানকে গ্রন্থের নাম উল্লেখ ছাড়াই তুলে ধরেছেন। সুতরাং ইমামগণের (আ.) হাদিসসমূহের সনদ তথা বর্ণনাকারীর ধারাবাহিকতা আছে যার একটি সনদ মহান আল্লাহ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। তাঁদের রেওয়ায়েতগুলো একই মূল হতে উৎসারিত ও একক সত্বার সাথে সম্পৃক্ত।

হিশাম ইবনে সালিম, হাম্মাদ ইবনে ওসমান ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেন যে, ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন: আমার হাদিসই, আমার পিতার হাদিস ও আমার পিতার হাদিসই আমার দাদার হাদিস এবং আমার দাদার হাদিসই হোসাইনের হাদিস অনুরূপভাবে হোসাইনের হাদিসই হাসানের হাদিস ও হাসানের হাদিসই আমিরুল মো’মিনীনের (আলীর) হাদিস এবং আমিরুল মো’মিনীনের হাদিসই রাসূলের (সা.) আর রাসূলের (সা.) হাদিসই স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা’র কথা। (আল-কাফী, খণ্ড. ১, পৃষ্ঠা. ৫৩; ইরশাদে শেখ মুফিদ, হাদিস. ৮৬)###

Share: