খ্রিস্টান ধর্ম কি ঈসা (আঃ) কর্তৃক আনিত ধর্ম?

  • Posted: 25/12/2018

লেখকঃ রহুল কবির

১। খৃষ্টান জাতীর অবস্থা
২। ইঞ্ছিল বা বাইবেল প্রসঙ্গ
৩। ইঞ্জিল বারবানাস
৪। বারবানাস কে ছিলেন
৫। শেষ কথা

খৃষ্টান জাতীর অবস্থা

খ্রিষ্টিয় ধর্ম বলতে হযরত ঈসা (আঃ) কর্তৃক আনিত ধর্ম নয়, বরং ঈসা (আঃ)-এর বলে যাকে মনে করা হয় তাই। বর্তমান খ্রিষ্টবাদের শিক্ষা যে হযরত ঈসা (আঃ) দেননি সে সম্পর্কে অকাট্য প্রমান বিদ্যমান রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ঈসা (আঃ) মানব জাতীর কাছে সেই ইসলামই উপস্থাপন করেছিলেন, যা তার পূর্বে সমস্ত নবী ও রাসূলগণ উপস্থাপন করেছিলেন এবং তার পরে বিশ্ব নবী (সাঃ) উপস্থাপিত করেছিলেন।
বর্তমানে খ্রিষ্ট ধর্ম বলতে যা উপস্থিত রয়েছে তা হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রচারিত খোদায়ি জীবন ব্যবস্থা নয় বরং হযরত ঈসা (আঃ)-এর নামে পাদ্রিদের মনগড়া মতবাদ। ষষ্ঠ শতাব্দিতে খ্রিষ্টান জাতীর অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না। অত্যন্ত শোচনীয় ছিল তাদের অবস্থা। হযরত ঈসা (আঃ)-এর শিক্ষা ও আদর্শ পাদ্রিদের হাতে এমন ভাবে বিকৃত হয়ে পড়েছিল যে, স্বয়ং ঈসা (আঃ) ফিরে এলেও প্রচারিত আদর্শকে নিজের বলে চিনতে পারতেন না।
হযরত ঈসা (আঃ)-এর তাওহীদবাদি আদর্শকে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ত্রিতত্ববাদে পরিনত করেছিল। যে ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে এসেছিলেন মুর্তি ধ্বংস করার জন্যে, খ্রিষ্টানরা সেই ঈসার মূর্তি বানিয়েই পূজা শুরু করে দিল। সেই সাথে তার মা মেরিও {মরিয়ম (আ)} ঈশ্বরের এক তৃতীয়াংশরূপে সর্বত্র পূজিত হতে লাগল। শুধু কি তাই ? সেন্ট পল ও পিটারের মূর্তি বানিয়েও পূজা শুরু হল ! গোটা জীবন ধরে যে যত পাপই করুক না কেন, ত্রাণকর্তা যিশুকে একবার পূজা করলেই সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যাবে এই মতবাদ সমস্ত খ্রিষ্টানদের মন ও মগজে প্রতিষ্ঠিত করে দেওয়া হল।
এরপর ‘ঐড়ষু জড়সধহ ঊসঢ়রৎব’ নামে পৃথক একটি খ্রিষ্টান জগৎ প্রতিষ্ঠিত করা হল। রোমের পোপের হাতে খ্রিষ্টানদের যাবতীয় ধর্ম সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের দায়িত্ব অর্পন করা হল। এর পর ধর্মের দোহাই দিয়ে পোপ-পাদ্রিরা যে বীভৎস লীলাখেলা শুরু করেছিল, ইতিহাসের পৃষ্ঠা সে সব ঘৃন্য ঘটনায় আজও কলংকিত হয়ে আছে।
পোপ-পাদ্রিগন ঘোষনা করেছিল বেহেস্তের চাবি একমাত্র তাদেরই হাতে। যে যতবড় পাপই করুক না কেন, পোপকে উপযুক্ত মূল্যদান করলে তার আর কোন ভয় থাকবে না। তাকে বেহেস্তে যাবার পাস্পোর্ট দিয়ে দেয়া হবে।
এই ঘোষনার ফলে গোটা খ্রিষ্টান জগতে পাপ-অন্যায়-অনাচারের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল, অন্য জাতীর ইতিহাসে তার উপমা নেই। ঐ ঘৃন্য ঘোষনার ফলে আজও গোটা খ্রিষ্ট পৃথিবী পাপ পংকিলতার অতল তলে নিমজ্জিত হয়ে আছে। প্রকৃত অর্থে তাদের কাছে ধর্ম বলতে যা আছে তা হযরত ঈসা (আঃ)-এর শিক্ষা নয়।

ইঞ্ছিল বা বাইবেল প্রসঙ্গ

বর্তমানে ইঞ্জিল বা বাইবেল যেটা, তা প্রধানত ৪ টি গ্রন্থের সমষ্টিঃ ১.লুক। ২.মার্ক। ৩.মথি। ৪.যোহন। কিন্তু এই ৪ টা কিতাবের কোনটাই ঈসা (আঃ)-এর নয়। তার উপরে নাযিলকৃত ওহি একত্রে পাওয়া যায়না। হযরত ঈসা (আঃ) ভ্রমনকালে বিভিন্ন স্থানে যে সব উপদেশ দিয়েছেন সেগুলো স্বয়ং তার ভাষা নয়। বর্তমানে যা আছে তা যেমন আল্লাহ’র বাণী নয় তেমনি ঈসা (আঃ)-এর বাণীও নয়। এগুলো আসলে ঈসা (আঃ)-এর শিষ্যদের বরং তস্য শিষ্যদের লিখিত গ্রন্থ। তারা তাদের জ্ঞানের পরিধি অনুসারে ঈসা (আঃ)-এর জীবনি, ইতিহাস এবং বাণীসমূহ লিখেছেন। মথি নামে যে গ্রন্থ রয়েছে তা স্বয়ং মথির লেখা যে নয়, তা ঐতিহাসীক ভাবে প্রমানীত। মথির আসল গ্রন্থ লেজিয়া বহু পূর্বেই গায়েব হয়ে গেছে।
মথির নামে যে পুস্তক আছে তা যে কার লেখা তা জানার কোন উপায়ই পাদ্রিরা রাখেনি। স্বয়ং মথির নামের জায়গায় একজন অপরিচিত লোকের নামের মত উল্লেখ করা হয়েছে। মথি ৯ম অধ্যায়ে বলা হয়েছেঃ ইয়াসু সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হয়ে মথি নামক একজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন।
মথির রচয়িতা যদি স্বয়ং মথি হতেন তাহলে তিনি এমন করে তার নিজের নাম উল্লেখ করতেন না। মথির গ্রন্থ পাঠ করলে বুঝা যায়, তা মারকাস গ্রন্থ থেকে ধার করা। কারন মারকাস গ্রন্থের মোট আয়াতের সংখ্যা ১০৬৮ টি। এর মধ্যে ৪৭০ টি আয়াতের সাথে মারকাসের বাইবেলের আয়াতের অবিকল মিল রয়েছে। মথির রচয়িতা যদি স্বয়ং মথি হতেন বা হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গি হতেন তাহলে অন্য কার লেখা বই থেকে তিনি সংকলন করতেন না। খৃষ্টান গবেষকদের ধারনা, এই গ্রন্থটি ইসার ৪১ বছর পরে ৭০ খৃষ্টাব্দে লেখা। আবার কারো কারো ধারনা এটি ৯০ খৃষ্টাব্দে লেখা। যোহন নামে যে বাইবেল রয়েছে তাও হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গি যে যোহন তার লিখা নয় তা বর্তমান খৃষ্টান গবেষকগনই স্বীকৃতি দিয়েছেন। যোহন নামে অন্য কোন লোক এই যোহন কিতাব বানিয়েছে। এই কিতাব ৯০ খৃষ্টাব্দে বা তার আরো পরে রচনা করা হয়েছে। খৃষ্টান গবেষক হ্যারিং বলেছেন এটা ১১০ সালে রচিত।
মার্ক নামে যে বাইবেল আছে তা মারকাসের বাইবেল বলে স্বীকার করা হয়। কিন্তু মারকাস কোনদিন ঈসা (আঃ)-এর সাথে দেখা করেননি ও তার সঙ্গিও ছিলেন না। কেউ বলেছেন, এই মারকাস যিশুকে ক্রুশে বিদ্ধ করার সময় সেখানে দর্শক হিসাবে উপস্থিত ছিল। কিন্তু এ কথার কোন ভিত্তি নেই। মারকাস হল সেন্ট পিটর নামক শিষ্যের শিষ্য এবং তার কাছ থেকে তিনি যা শুনেছেন তাই তিনি গ্রিক ভাষায় লিখেছিলেন। এ কারনে খৃষ্টান ধর্ম বিশারদগন তাকে সেন্ট পিটারের বাণীর ব্যাখ্যা বলে দাবি করেন। ৬৩ সালে বা ৭০ সালে এই মার্ক গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। লুক যে বাইবেল লিখেছেন তার মধ্যেও মারাত্মক বিভ্রান্তি রয়েছে। এই লুক নামক ধর্ম নেতা যে কোন দিন ঈসা (আঃ)-কে দেখেননি এবং তার কথাও কোনদিন শোনেননি তা খৃষ্ট ধর্ম নেতারা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন। লুক ছিলেন সেন্ট পলের শিষ্য এবং তার সাথেই তিনি থাকতেন। লুক যা লিখেছেন তা সেন্ট পলের বাণী। স্বয়ং সেন্ট পল বলতেন লুক যে রচনা করেছে তা আমার।
অথচ মজার বিষয় হল, এই সেন্ট পলও ঈসা (আঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেননি। তিনি যিশু খৃষ্ট ক্রুসে বিদ্ধ হবার ৬০ বছর পরে খৃষ্ট ধর্মে দিক্ষীত হন। সূতরাং হযরত ইসা (আঃ) ও লুক এবং সেন্ট পলের মধ্যে অনেকগুলো বছরের শুন্যতা রয়ে গেছে।
লুক নামক এই লোক হযরত ঈসা (আঃ)-এর বাণী কোত্থেকে জুটালো তা গবেষকদের কাছে রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। তারপর লুকের বাইবেল ইতিহাসের কোন সময়ে রচিত তা এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়নি। কেউ বলেছেন লুক রচিত হয়েছে ৫৭ সালে আবার কেউ বলেছেন ৭৪ সালে। খৃষ্টান গবেষক পোমার, ম্যাকগিফটিং ও হ্যারিং-এর মত বিখ্যাত ব্যক্তিগণ বলেছেন ৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত লুক বাইবেল রচিত হয়নি।
অতএব এই ৪ খানা বাইবেল এর একটাও ঈসা (আঃ) পর্যন্ত পৌছে না। সূতরাং আজ জানারও কোন উপায় নেই যে, হযরত ঈসা (আঃ)কি বলেছেন আর কি বলেননি ! এই ৪ খানা বাইবেলের বর্ণনার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিরাজমান। ঈসা (আঃ) এর নীতি ও আদর্শের যা প্রধান ভিত্তি সেই পর্বোতরি উপদেশ গুলি মথি, মারকাস ও লুক তিনজনে তিনভাবে পরস্পর বিরোধি পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি গ্রন্থেই লেখকের নিজস্ব ধ্যান-ধারনা ও মনোভাব সুস্পষ্টভাবে অভিব্যাক্ত হয়েছে।
এসব পাঠ করলে মনে হয় যেন মথির প্রতিপক্ষ একজন ইহুদি এবং সে তার বিতর্কে বিজয় লাভ করতে উদগ্রীব। মারকাসের প্রতিপক্ষ যেন একজন রোমক এবং তাকে তিনি ইসরাইলী ইতিবৃত্ত শোনাতে চান। আর লুক যেন সেন্ট পলের উকিল এবং অন্যান্য শিষ্যদের বিরুদ্ধে তার দাবি সমর্থন করতে চান। আর যোহন যেন খৃষ্টিয় প্রথম শতকের শেষের দিকে খৃষ্টানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া দার্শনিক সূফিবাদী তত্ত্ব কথা দ্বারা প্রভাবিত। এভাবে বাইবেলগুলোর ভেতরে তত্ত্বগত মতভেদ শাব্দিক বিরোধের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে।
ওদিকে ইঞ্জিলগুলো লিপিবদ্ধ করার কোন চেষ্টাই খৃষ্টিই দ্বিতীয় দশকের আগে করা হয়নি। ১৫০ সাল পর্যন্ত এই ধরনের ধারনা প্রচলিত ছিল যে, লেখার চেয়ে মৌখিক বর্ণনা অধিক ফলদায়ক। দ্বিতীয় শতাব্দির শেষের দিকে যা লিখা শুরু হল সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য বলে মেনে নেওয়া হলোনা। নিউটেষ্টামেন্টের প্রথম প্রামান্য পান্ডুলীপিটি ৩৯৭ সালে অনুষ্ঠিত কর্টোজেনা কাউন্সিলে অনুমোদন দেওয়া হয়।
৪ খানা বাইবেলই প্রথমে গ্রীক ভাষায় লিখিত হয়েছিল। অথচ হযরত ঈসা (আঃ)-ও তার সমস্ত শিষ্যদের ভাষা ছিল সূরিয়ানী। এভাবে ভাষার পরিবর্তনের কারনে চিন্তাধারা ও বক্তব্যের বিষয়ের পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত স্বভাবিক। ইঞ্জিলের যে প্রাচীন কপিটি বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত তা খৃষ্টিয় চতুর্থ শতকের। দ্বিতীয় লিপিটি পঞ্চম শতকের।
আর তৃতীয় যে অসম্পূর্ন লিপিটি রোমের পোপের লাইব্রেরীতে আছে, সেটাও চতুর্থ শতাব্দির চেয়ে বেশি প্রাচীন নয়। সূতরাং প্রথম তিন শতাব্দিতে যে বাইবেল প্রচলিত ছিল তার সাথে বর্তমান বাইবেল কতখানি সংগতিপূর্ন তা বলা কতটা কঠিন, চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই তা অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন।
পরে যখন লিপিবদ্ধ করার কাজ শুরু হয় তখন তা নির্ভরশীল ছিল লিপিকারকদের কৃপার ওপর। লিপিকরনের সময় যে সকল জিনিষ লিপিকারকদের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ বিশ্বাসের পরিপন্থি তা কাট-ছাট করে নিজের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ বিশ্বাস অনুপ্রবিষ্ট করাটা অসম্ভবের কিছুই না। সূতরাং খৃষ্টানদের কাছে তাদের ধর্মের অবস্থা তখন যেমন ছিল বর্তমানে তারচেয়ে উন্নত তো নয়ই বরং অবনতিই আশা করা যায়।
সময়ে বাইবেলকে কূরআনের মত মুখস্ত করার কোন চেষ্টাই করা হয়নি। প্রথম দিকে এর প্রচার ও প্রসার সম্পূর্ন রূপে মর্মগত বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাইবেল এর শব্দ নয়-এর বিষয় বস্তু প্রচার করা হতো। এতে স্মৃতির ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং বর্ণনাকারকদের নিজস্ব ধ্যান-ধারনা প্রতিফলিত হওয়া স্বাভাবিক।

ইঞ্জিল বারবানাস

হযরত ঈসা (আঃ)-এর নিজের সঠিক অবস্থা ও তার প্রদত্ত আসল শিক্ষাবলী জানার নির্ভরযোগ্য সূত্র সেই ৪ খানা ইঞ্জিল নয়, যেগুলোকে খৃষ্টান গির্জা নির্ভরযোগ্য ও সর্বসমর্থিত ইঞ্জিল (ঈধহড়হরপধষ এড়ংঢ়বষং ঙহব ঈড়ঢ়ু) রুপে গ্রহন করে নিয়েছে। বরং তার জন্য অধিক অধিক বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য উপায় হল সেই ‘ইঞ্জিল বারবানাস’ ! যাকে গির্জা বেআইনি, সন্দেহজনক ও অপ্রমানিক (অঢ়ুপৎুঢ়যধষ) বলে চিহ্নিত করেছে। খৃষ্টানরা এই ইঞ্জিল লুকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা-যন্ত করেছে। শত শত বছর পর্যন্ত তা দুনিয়ায় অপরিচিত ও অপ্রকাশিত হয়ে রয়েছে। ষষ্ঠদশ শতকে এর ইটালিয় অনুবাদের মাত্র একখানা বই ঙহব পড়ঢ়ু পোপ সিক্সটাস (ঝরীঃঁং) এর গ্রন্থাগারে পাওয়া যেত, তা অন্য কারও পাঠ করার অনুমতি ছিল না। অষ্টাদশ শতাব্দির শুরুতে সেটা ডন টোলেগু নামক একজন ব্যক্তির হস্তগত হয়। অতঃপর বিভিন্ন হাত ঘুরে ১৭৩৮ খৃষ্টব্দে তা ভিয়েনা ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরিতে পৌছে। ১৯০৭ খৃষ্টাব্দে এই বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ডের ক্লে’রিন্ডন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তা প্রকাশিত হওয়ার পরই সম্ভবত খৃষ্টান জগত অনুভব করতে পারল যে, যে ধর্মমতকে হযরত ইসা (আঃ)-এর নামে চালানো হচ্ছে, এই বই সেই ধর্মের মূল শিকড় কেটে ফেলে। এ কারনে ঐ মুদ্রিত বইগুলো বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় লুকিয়ে ফেলা হয়। এরপর তা আর কখনও প্রকাশিত হতে পারেনি। অপর একখানা বই এই ইটালিও অনুবাদ হতে স্পেনিয় ভাষায়, তা অষ্টাদশ শতকে পাওয়া যেত। জর্জ সেল তার কুরআনের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকায় এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাও কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে সেটারও কোন নাম-চিহ্ন কোথাও খুজে পাওয়া যায় না। অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত এর ইংরেজি একটা কপি বহুকষ্টে একজন মুসলিম পন্ডিতের হস্তগত হয় ফলে শতশত বছর ধরে লুকায়িত সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়ে। এই কপিটি সত্যিই অনেক বড় নিয়ামত। খৃষ্টানরা নিছক হিংসা ও বিদ্বেষের কারনে সে ইঞ্জিল থেকে নিজেদের বষ্ণিত করে রেখেছে।
খৃষ্টানদের বই-পুস্তকে যেখানেই এই ইঞ্জিলের উল্লেখ আসে, তখন তাকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করা হয় যে, এটা নাকি জাল ইঞ্জিল! কিন্ত তাদের এই কথা ডাহা মিথ্যা ছাড়া কিছুই না। এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী উল্লেখ আছে বলেই তারা উক্ত ইঞ্জিল সম্পর্কে এমন অপপ্রচার করেছে এবং করছে।
নবী করীম (সাঃ)-এর জন্মের ৭৫ বছর পূর্বে পোপ প্রথম গেলাসিয়াস (এবষধংরঁং) এর সময়ে খারাপ বিশ্বাস ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী (যবৎবঃরপধষ) গন্থাবলির যে তালিকা তৈরি হয়েছিল ‘ইঞ্জিল বারবানাস’ও তার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ইতিপূর্বে খৃষ্টান গির্জায় দির্ঘদিন পর্যন্ত বারবানাসের ইঞ্জিল প্রচলিত ছিল। একে নিষিদ্ধ করা হয় ষষ্ঠ শতাব্দিতে।
বাইবেলে যে ৪ খানা ইঞ্জিল গ্রন্থকে আইনসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ঘোষনা করে সামিল করা হয়েছে তন্মন্ধে একখানা গ্রন্থের লেখকও ঈসা (আঃ)-এর কোন সাহাবি না। লেখকদের একজনও এই দাবি করেননি যে, তিনি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাহাবিদের কাছ থেকে তত্ত্ব ও তথ্য নিজের ইঞ্জিলে সামিল করেছেন। তারা যেসব উপায় ও সূত্র হতে তত্ত্ব ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন তার পরিচয়ও তারা দেননি। এর মূল বর্ণনাকারী নিজ চোখে যেসব ঘটনা দেখেছেন এবং যেসব কথা নিজের কানে শুনেছেন বলে তিনি বর্ণনা করেছে, কিংবা এক বা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে সেই কথাগুলো তার কাছে পৌছেছে, এ বিষয়ে কিছুই জানা যায় না। এটি একটি মৌলিক ত্রুটি। কিন্তু ‘ইঞ্জিল বার্বানাস’ এই সব দোষ ও ত্রুটি থেকে সম্পূর্ন মুক্ত। এই ইঞ্জিল রচয়িতা নিজেই বলেছেন, আমি নিজে হযরত ঈসা মসীহের প্রাথমিক বারোজন হাওয়ারীর একজন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি নিজে হযরত ঈসা মসীহের সঙ্গে রয়েছি। আমার নিজের চোখে দেখা ঘটনাবলী ও নিজের কানে শোনা কথা এবং বাণীসমূহ আমি এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছি। এতটুকু লিখেই তিনি ক্ষান্ত হননি। গ্রন্থের শেষভাগে তিনি বলেছেন, আমার সম্পর্কে যেসব ভুল ধারনা লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তা দূর করে দিও এবং যথাযথ অবস্থায় দুনিয়ার সম্মুখে উদঘাটিত করে দেওয়া তোমারই দায়িত্ব্য।


বারবানাস কে ছিলেন

এই বারবানাস কে ছিলেন? বাইবেলের কার্যাবলী (প্রেরিতদের কার্য) এ নামের এক ব্যক্তির বার বার উল্লেখ এসেছে। এই ব্যক্তি ছিল ইহুদি পরিবারের লোক খৃষ্টান ধর্ম প্রচার ও ঈসা মসীহর অনুসারিদের সাহায্য সহযোগিতা করার ব্যাপারে তার অবদানের খুব বেশি প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু সে কবে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করেছিল তা কোথাও বলা হয়নি। প্রাথমিক ১২ জনের যে তালিকা তিনখানা ইঞ্জিলে দেওয়া হয়েছে তাতে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কাজেই এই ইঞ্জিলের লেখক সেই বারবানাস কিংবা অন্য কেউ তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। মথি ও মার্ক শিষ্যদের (অঢ়ড়ংঃষবং) যে তালিকা দিয়েছেন, বারবানাসের দেয়া তালিকার সাথে মাত্র দুইটা নামের পার্থক্য। একজনের নাম হলো তুমা। এর পরিবর্তে বারবানাস নিজের নাম উল্লেখ করেছেন। লুক ইঞ্জিলে এই ২য় নামটিও রয়েছে। একারনে এরূপ ধারনা করার যৌক্তিকতা আছে যে, পরবর্তিকালে কোন এক সময় হাওয়ারি শিষ্যদের তালিকা থেকে বারবানাসকে বহিষ্কৃত করার উদ্দেশ্যে তুমা’র নাম শামীল করা হয়েছে, যেন বারবানাসের ইঞ্জিল থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা যায়। আর নিজেদের ধর্মগ্রন্থ সমূহে এই ধরনের পরিবর্তন করে নেওয়া এদের কাছে কোন দিনই কোন দোষ বা পাপের কাজ ছিল না, তা সর্বজনবিদিত।
৪টি ইঞ্জিলের অসংলগ্ন কাহিনীর তুলনায় এই গ্রন্থের ঐতিহাসীক বর্ণনাবলি অধিক সুসংবদ্ধ। এর বর্ণনার মাধ্যমে ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা অতীব উত্তমভাবে বুঝতে পারা যায়। হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রদত্ত শিক্ষাবলী চার ইঞ্জিলের তুলনায় এই গ্রন্থটিতেই অধিক স্পষ্ট, বিস্তারিত ও মর্মস্পর্শিভাবে বিবৃত হয়েছে। চারটি ইঞ্জিলের উদ্ধৃত তার বহু বাণী ও কথার মধ্যে যে বিরোধ ও অসংগতি সুস্পষ্ট, এই গ্রন্থটিতে তার নাম গন্ধও পাওয়া যাবে না।
এই ইঞ্জিলে হযরত ঈসা (আঃ)-এর জীবন ও তার শিক্ষাবলী একজন নবীর জীবন ও শিক্ষাবলীর মতই পুরাপুরিভাবে মনে হবে। তিনি এতে একজন নবী হিসাবেই নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন।
বারবানাসের ইঞ্জিলের নানা স্থানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমন সম্পর্কে স্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণী উদ্ধৃত হয়েছে। আর এই কারনেই খৃষ্টানরা এই ইঞ্জিল প্রত্যাখ্যান করেছে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।

শেষ কথা

হযরত ঈসা (আঃ) এর প্রথম যুগের অনুসারিরা তাকে একজন নবী মাত্র জানতেন। মূসা (আঃ)-এর প্রবর্তিত শরিয়াত মেনে চলতেন। আকিদা-বিশ্বাস, হুকুম-আহকাম ও ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে নিজেদেরকে অন্যান্য বনী ইসরাইল হতে কিছু মাত্র ভিন্ন, স্বতন্ত্র, বিচ্ছিন্ন মনে করতেন না। ইহুদিদের সাথে তাদের মতবিরোধ ছিল শুধু এ ব্যাপারে যে, এরা হযরত ঈসা (আঃ) কে মসীহ মানতে অস্বীকার করেছিল। উত্তরকালে যখন সেন্ট পল এই দলে শামিল হলেন, তখন তিনি রোমান, গ্রিক ও অন্যান্য অ-ইয়াহুদি লোকদেরকে ও অ-ইসরাঈলী লোকদের মধ্যেও এই দীনের প্রচার ও প্রসার শুরু করলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি একটি নতুন দীন রচনা করলেন।
এই দীনের আকিদা-বিশ্বাস, মুলনীতি ও আদেশ-নিষেধ হযরত ঈসা (আঃ)-এর পেশ করা দীন থেকে সম্পূর্ন ভিন্নতর ও অন্য রকম ছিল। এই ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর কোন সাহচর্য পাননি। বরং তিনি ঈসা (আঃ)- জীবদ্দশায় তার চরম বিরোধি ছিলেন। তারপর কয়েক বছর পর্যন্ত তার অনুসারীদের শত্রু হয়ে ছিলেন। পরে এই দলে শামিল হয়ে তিনি যখন একটা নতুন ধর্মমত রচনা করতে শুরু করলেন, তখন তিনি হযরত ঈসা (আঃ)-এর কোন কথার সনদ পেশ করেননি। তিনি ভিত্তি করেছেন নিজের কাশফ ও ইলহাম এরই উপর। এই নূতন ধর্ম রূপায়নে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, ধর্ম এমন হতে হবে যা সাধারন অ-ইয়াহুদি (এবহঃরষব) জগৎ গ্রহন করবে। তিনি ঘোষনা করেছিলেন, খৃষ্টানরা ইয়াহুদি শরীয়তের বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ন মুক্ত। পানাহারের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সকল বিধান তিনি খতম করে দিয়েছিলেন। খাতনা করার বিধানও তিনি নাকচ করে দেন। আর এ সকল বিধান অ-ইয়াহুদিদের কাছে অসহ্যের ব্যাপার ছিল। এমনকি তিনি মসীহর ইলাহ হওয়া, খোদার পুত্র হওয়া এবং শূল বিদ্ধ হয়ে প্রানদান করতঃ আদম সন্তানের জন্মগত পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যাওয়ার আকিদাও রচনা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসারীগন এসব বিদআতের বিরোধিতা করেন। কিন্তু যে দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন, তা থেকে অ-ইয়াহুদি খৃষ্টানদের একটা বিরাট বন্যা প্রবাহ এই ধর্মে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ লাভ করল। ফলে সেন্টপল বিরোধি মুষ্টিমেয় লোক এর মুকাবেলায় মুহূর্তের তরেও টিকতে পারলো না। এ সত্তেও খৃষ্টিয় তৃতীয় শতাব্দির সমাপ্তিকাল পর্যন্ত হযরত ঈসার ইলাহ হওয়ার ধারনাকে অস্বীকার করে এমন বহু লোকই বর্তমান ছিল।
চতুর্থ শতাব্দির শুরুতে (৩২৪ খৃ.) নাকিয়ার (ঘরপধবধ) কাউন্সিল সেন্টপল প্রবর্তিত আকীদাকে সর্বসম্মত খৃষ্টান ধর্মমত রূপে মনোনিত করে নিল। পরে রোমান সম্রাট ও সাম্রাজ্য নিজ থেকেই খৃষ্টান হয়ে গেল। এরপর এই ধর্মমতের বিপরীত আকীদা পেশ করার সমস্ত গ্রন্থাদি পরিত্যাক্ত ও বে-আইনি ঘোষিত হলো এবং এই আকিদার অনুকূল সমস্ত গ্রন্থাদি নির্ভরযোগ্যরূপে গৃহীত হলো। ৩৬৭ খৃষ্টাব্দে প্রথমবার আথানাসিয়াস (অঃযধহধংরঁং) লিখিত একটি চিঠির নির্ভরযোগ্য ও সর্বসম্মত গ্রন্থাবলীর একটি সমষ্টি ঘোষনা করা হল। পরে ৩৮২ খৃষ্টাব্দে পোপ ডেমানিয়াস (উধসধংরঁং)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তার সত্যতা স্বীকার (জধঃরভরপধঃরড়হ) করে নিল। পঞ্চম শতকের শেষে পোপ গেলাসিয়াস (এবষধংরঁং) এ গ্রন্থ সমষ্টিকে সর্বসম্মত ঘোষনা করার সঙ্গে সঙ্গে অসমর্থিত গ্রন্থাবলীরও একটি তালিকা রচনা করে দিল।অথচ পল প্রবর্তিত যে সব আকিদা-বিশ্বাসকে ভিত্তিরূপে গ্রহন করে ধর্মিয় গ্রন্থাবলীর নির্ভরযোগ্য ও অনির্ভরযোগ্য হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোন খৃষ্টান পন্ডিত কখনও এই দাবি করতে পারেনি যে, তার মধ্যে কোন একটি আকিদা-বিশ্বাস ঈসা (আঃ) নিজে শিক্ষা দিয়েছিলেন। বরং গ্রহনীয় কিতাবগুলোর মধ্যে যে সকল ইঞ্জিল গন্য তাতে হযরত ঈসা (আঃ)-এর নিজের উক্তি বলে এই সব আকিদার কোন প্রমান পাওয়া যায় না। বারবানাস এর ইঞ্জিল খৃষ্টধর্মের সরকারী আকীদার সম্পূর্ন বিপরীত আকিদা পেশ করে বিধায়, একে অগ্রহনীয় ও অসমর্থিত গ্রন্থাদির মধ্যে গন্য করা হয়েছে। এই গ্রন্থকার গ্রন্থের ভূমিকায় এই গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেছেন, ‘সেই লোকদের মতাবলীর সংশোধন করিতে হইবে, যাহারা শয়তানের প্রতারনায় প্রতারিত হইয়া ঈসা মসীহ’কে খোদার পূত্র বলিয়া মনে করিতে শুরু করিয়াছে, খাতনা করা অপ্রয়োজনীয় মনে করে। সেন্টপল এই প্রতারিত দলের একজন।’
গ্রন্থকার বলেন, “হযরত ঈসা যখন দুনিয়ায় ছিলেন, তখন তাহার মুযিযা সমূহ দেখিয়া সর্বপ্রথম মুশরিক রোমান সৈন্যরা তাকে খোদা এবং কিছু লোক তাকে খোদার পূত্র বলিতে শুরু করিল। পরে বনী ইসরাইলের সাধারন মানুষের মনেও এই ছোয়াচ লাগিয়া যায়। ইহাতে হযরত ঈসা খুবই বিব্রত হইয়া পড়েন। তিনি বার বার অত্যন্ত কঠোরতা সহকারে তাহার নিজের সম্পর্কিত এই ভুল আকিদার তিব্র প্রতিবাদ করিলেন এবং যাহারা তাহার সম্পর্কে কথা-বার্তা বলে তাহাদের উপর অভিশাপ বর্ষন করিলেন এবং এর তিব্র প্রতিবাদ করিলেন। পরে তিনি তাহার শিষ্যবর্গকে সমগ্র ইয়াহুদায় এই আকিদার প্রতিবাদ করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর তাহার দোয়ায় শিষ্যদের দ্বারাও সেই সব মুযিযা সংঘঠিত করাইলেন যাহা স্বয়ং হযরত ঈসা (আঃ) কর্তৃক সংঘঠিত হইতেছিল। যেন যে লোকের দ্বারা এই মুযিযা সংঘঠিত হয় সে খোদা বা খোদার পূত্র এই ভূল ধারনা সহজেই দূর হয়ে যায়”।
এই প্রসঙ্গে হযরত ঈসা (আঃ)- বিস্তারিত ভাষন উদ্ধৃত করেছেন। তাতে তিনি কঠোর ভাষায় এই সব ভুল বিশ্বাসের প্রতিবাদ করেছেন। এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার দরুন তিনি নিজে যে বিব্রত ও কাতর হয়ে পড়েছিলেন, নানা স্থানে তার বর্ণনাও দিয়েছেন। এতদ্ব্যত্যিত হযরত ইসা মসীহ শূলে প্রান ত্যাগ করেছেন সেন্টপল রচিত এই ভ্রান্ত আকিদারও তিব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে এই গ্রন্থে। গ্রনহথকার তার প্রত্যক্ষ বিবরনে বলেছেন, ইয়াহুদ ইস্কারিউতি যখন ইয়াহুদিদের সরদার পার্দ্রির নিকট হইতে ঘুষ গ্রহন করিয়া হযরত ঈসাকে গ্রেফতার করাইবার জন্য সিপাহীদের লইয়া আসিল, তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে চারজন ফেরেশতা তাহাকে তুলিয়া লইয়া গেলেন এবং ইস্কারিউতির আকৃতি ও কন্ঠস্বর হযরত ঈসার মতই বানাইয়া দেওয়া হইয়াছিল। এবং তাহাকেই শুলে চড়ানো হইয়াছিল-হযরত ঈসাকে নয়।এভাবেই এই ইঞ্জিল গ্রন্থটি-সেন্টপল রচিত খৃষ্টধর্মের শিকড় উৎপাটন করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে কূরআন শরিফের এতদসম্পর্কিয় বর্ণনার সত্যতা ও যথার্থা ঘোষণা করেছে। অথচ কূরআন নাযিল হওয়ার ১১৫ বছর পূর্বে এই গ্রন্থটির এমন বর্ণনা সমূহের কারনেই খৃষ্টান পাদ্রিগণ তাকে সম্পূর্নভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ইঞ্জিল বারবানাস এর সাহায্যে নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে সংশোধিত ও নির্ভুল ভাবে গড়ে তোলা ও হযরত ঈসা মসীহ’র আসল শিক্ষাদি জেনে নেওয়ার যে মহা সুযোগ খৃষ্টানদের কাছে ছিল, কেবলমাত্র জিদের বশবর্তি হয়েই তারা তা হতে নিজেদের বষ্ণিত করে রাখলো। (সূত্রঃ ইন্টারনেট)###

Share: