মাসআলা (৯): মুকাল্লিফের জন্য আহকাম নিরূপণ করার ও তা পালন করার তিনটি উপায় রয়েছে।
১. ইজতিহাদ
ইজতিহাদ হলো ইসলামী ফকীহবৃন্দের নিকট নির্ধারিত ও স্বীকৃত উৎস ও সূত্রসমূহ হতে শারয়ী হুকুম-আহকাম ও খোদায়ী বিধি-বিধানকে নিঃসরণ ও নির্ণয় করা।
২. এহতিয়াত
এহতিয়াত হচ্ছে এমন (সাবধানতার সাথে) আমল করা যাতে একজন মুমিন নিশ্চিত হতে পাওে যে সে নিজ শারয়ী কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছে। উদাহরণস্বরূপ যে কাজকে কোনো কোনো মুজতাহিদ হারা (নিষিদ্ধ) মনে করেন আর কোনো কোনো মুজতাহিদ হারাম মনে করেন না, এরূপ কাজ আঞ্জাম না দেওয়া। অনুরূপভাবে যে কাজকে কোনো কোনো মুজতাহিদ ওয়াজিব (অবশ্য পালনীয়) মনে করেন আর কোনো কোনো মুজতাহিদ ওয়াজিব মনে করেন না, এরূপ কাজকে আঞ্জাম দেওয়া।
৩. তাকলীদ
তাকলীদ হচ্ছে ধর্মীয় হুকুম-বিধানের ব্যাপাওে একজন সর্বশর্তসম্পন্ন মুজতাহিদেও শরণাপন্ন হওয়া। অন্যকথায় বলা যায়, তাঁরই নির্ণয়কৃত ফতোয়া অনুযায়ী শারয়ী আমলসমূহ পালন করা।
মাসআলা (১০): তাকলীদের ব্যাপারে বর্ণিত যুক্তি-প্রমাণ যেমন রয়েছে, আক্ল তথা বুদ্ধিবৃত্তি তদ্রূপ এটা নির্দেশ করে যে, ধর্মীয় হুকুম-বিধান সম্পর্কে যে ব্যক্তি অবগত নয়, তার উচিত একজন পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন মুজতাহিদের শরণাপন্ন হওয়া।
মাসআলা (১১): মুকাল্লাফ ব্যক্তি যদি ধর্মীয় হুকুম-বিধানের ব্যাপাওে মুজতাহিদ না হয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত যে ব্যক্তি মুজতাহিদ, তাঁর তাকলীদ করা। অথবা এহতিয়াত পদ্ধতিতে চলা।
মাসআলা (১২): যেহেতু এহতিয়াত পদ্ধতিতে চলার জন্য এহতিয়াতের ক্ষেত্র নির্ণয় ও এর নিয়মাবলি সম্পর্কে জানা থাকতে হয় এবং সময় বেশি লেগে যায়, একারণে মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য ধর্মীয় হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে একজন পূর্ণ শর্তসম্পন্ন মুজতাহিদেও তাকলীদ করাই শ্রেয়।
মাসআলা (১৩): তাকলীদ সেই ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব হয় যার মধ্যে নিন্মোক্ত তিনটি শর্ত বিদ্যমান-
ক. মুকাল্লাফ হওয়া, খ. মুজতাহিদ নয়, গ. এহতিয়াত পদ্ধতি অবলম্বনকারী নয়।