ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ সমূহ

Macca Kabe

প্রথম : মরুর জন্তুকে শিকার করা যা হিংস্র। যদি না তা থেকে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে ।

২৭১. সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করতে নিষেধ নেই ।

২৭২. গৃহপালিত জন্তুসমূহ যেমন মোরগ-মুরগী, গরু, ভেড়া এবং উট জবাই করা এবং ভক্ষণ করাও নিষিদ্ধ নয় ।

২৭৩. সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করতে আপত্তি নেই ।

২৭৪. পাখীরা মরুচারী প্রাণীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এবং পঙ্গপালও মরুচারী প্রাণীর নির্দেশভুক্ত ।

২৭৫. তার কাছে যে পাখি রয়েছে এখনো যদি তার পালক না গজিয়ে থাকে কিম্বা তার পালককে উপড়ে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে ওয়াজিব হলো তাকে সংরক্ষণ করা যাতে পালক গজায় এবং এরপর তাকে ছেড়ে দিতে হবে । বরং এটাও ওয়াজিব হওয়া অসম্ভব নয় যে, শিকার করা বাচ্চা যেমন হরিণ শাবককে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে বড় হয় । অতঃপর তাকে ছেড়ে দিতে হবে ।

২৭৬. যে শিকারই হারাম হবে তার ছানা এবং ডিমও হারাম । শিকার সম্পর্কীয় বিধি-বিধান অনেক । কিন্তু যেহেতু এখানে ততটা প্রয়োজন নেই, সে কারণে তা বর্ণনা করা হলো না।

দ্বিতীয় :  স্ত্রী সহবাস, চুম্বন করা, কামনার বশে তাকানো বরং সব ধরনের সম্ভোগ ও তৃপ্তি উপভোগ কর 

২৭৮. এই যে দু’টি ক্ষেত্রে হজ্জ্ব বিনষ্ট হলো, তাকে ঐ হজ্ব সম্পূর্ণ করতে হবে। এবং পরবর্তী বছরেও হজ্ব সম্পাদন করতে হবে ।

২৭৯. যদি এ কাজ আরাফাত ও মাশআরে অবস্থানের পরে ঘটে, তাহলে দুই ধরনের হতে পারে :

একটি হলো : তাওয়াফে নিসা’র অর্ধেকাংশ অতিক্রম করার পূর্বে এ কাজ করেছে, সেক্ষেত্রে তার হজ্ব সঠিক হবে এবং শুধুই কাফফারা প্রদান করবে।

আর দ্বিতীয়টি হলো : তাওয়াফে নিসা’র অর্ধেকাংশ অতিক্রম করার পরে এ কাজ করেছে; তাহলে তার হজ্ব সঠিক এবং অধিকতর শক্তিশালী মত হলো তার কাফফারাও লাগবে না

২৮০. যদি স্ত্রীকে কামনার বশে চুম্বন করে, তাহলে তার কাফফারা হলো একটি উট । আর যদি কামনা ব্যতীত চুম্বন করে তাহলে তার কাফফারা হলো একটি ভেড়া। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো একটি উট কাফফারা প্রদান করবে ।

২৮১. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজ স্ত্রী ভিন্ন অপর কোন নারীর প্রতি তাকায় এবং তার বীর্যপাত ঘটে, তাহলে অধিকতর সতর্কতা হলো যদি সক্ষম হয় একটি উট কাফফারা প্রদান করবে। আর যদি সক্ষম না হয় তাহলে একটি গরু । আর যদি তাও সক্ষম না হয় তাহলে একটি ভেড়া কাফফারা প্রদান করবে।

২৮২. যদি ইহরামকারী ব্যক্তি কামনা সহকারে স্বীয় স্ত্রীর প্রতি তাকায় এবং তার বীর্যপাত ঘটে, তাহলে প্রসিদ্ধ হলো একটি উট কাফফারা প্রদান করবে । কিন্তু যদি কামনা সহকারে না হয় তাহলে কাফফারা নেই ।

২৮৩. যদি কেউ স্ত্রীর সাথে কামনা সহকারে রতিঃক্রীড়া করে এবং তার বীর্যপাত না ঘটে তার কাফফারা হলো একটি ভেড়া। আর যদি বীর্যপাত ঘটে, তাহলে সতর্কতা হলো একটি উট কাফফারা প্রদান করবে। যদিও ভেড়া দ্বারা যথেষ্ট হওয়াটাই জোরালো

২৮৪. এই যেসব ক্ষেত্রে কাফফারার কারণ হয় সেগুলো যদি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা উদাসীনতা বশত কিম্বা ভুলে যাবার ফলে সংঘটিত হয়, তা তার ওমরাহ্ ও হজ্বের ক্ষতি করবে না এবং ব্যক্তির ওপর কাফফারাও অর্পিত হবে না।

২৮৫. যদি কোন লোক স্বীয় ইহরাম অবস্থায় থাকা স্ত্রীর সাথে জোরপূর্বক সহবাস করে তাহলে স্ত্রীর উপর কিছুই বর্তাবে না । উক্ত ব্যক্তিকে নিজের কাফফারা ছাড়াও স্ত্রীর কাফফারাও প্রদান করতে হবে। আর স্ত্রী যদি সম্মতিক্রমে সহবাসে লিপ্ত হয়, তাহলে তার নিজের ওপরে কাফফারা বর্তাবে এবং পুরুষ তার নিজের কাফফারা প্রদান করবে । আর কাফফারা কী দিতে হবে তা পূর্বেই উল্লেখিত হয়েছে।

তৃতীয় : নিজের কিম্বা অপরের জন্য নারীকে বিয়ে করা, ঐ অপর ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে থাকুক আর না থাকুক এবং মুহিল্ল তথা হালাল অবস্থায় থাকুক

২৮৬. যে স্ত্রীকে রাজঈ তালাক (তথা প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাক) প্রদান করেছে, তার প্রতি প্রত্যাবর্তন করতে নিষেধ নেই ।

২৮৭. যদি মাসআলা জানা অবস্থায় কোন মহিলাকে নিজের জন্য বিয়ে করে তাহলে উক্ত মহিলা তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে ।

২৮৮. চতুর্থঃ হস্তমৈথুন অর্থাৎ স্বীয় হস্ত দ্বারা কিম্বা অন্য কোন উপায়ে বীর্যস্খলন

ঘটানো । যদিও বা তা কল্পনা কিম্বা স্বীয় স্ত্রী বা অপর কারো সাথে রতিঃক্রীড়ার মাধ্যমে কিম্বা অন্য যে কোনো উপায়ে ঘটে । সুতরাং যদি বীর্যস্খলন ঘটে তাহলে তার কাফফারা হলো একটি উট । আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যেসব ক্ষেত্রে সহবাস করা হজ্ব বাতিল হওয়ার কারণ হয়, ঐসব ক্ষেত্রে হস্তমৈথুন ও (আমল) বাতিল হওয়ার কারণ হয়, যা সহবাসের আলোচনায় বলা হয়েছে ।

পঞ্চম : সুগন্ধী ব্যবহার করা। যেমন মিশুক, জাফরান, কর্পূর, আম্বার বরং সকল আতর তা যে ধরনেরই হোক না কেন

২৮৯. শরীর ও কাপড়ে আতর মাখানো জায়েজ নয়। তদ্রূপভাবে, যে কাপড়ে আতরের ঘ্রাণ দেয় যদিও তাতে পূর্বেই আতর লাগানো থাকে, তা পরিধান করা জায়েজ নয়।

২৯০. যে জিনিসের মধ্যে সুঘ্রান যুক্ত কিছু যেমন জাফরান রয়েছে তা খাওয়া জায়েজ নয়

২৯১. যদি সুঘ্রাণযুক্ত কাপড় পরিধান করা কিম্বা খাবার ভক্ষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তাহলে নাক চেপে ধরতে হবে যাতে সুঘ্রাণ তাতে না পৌঁছে।

২৯২. যেসকল ফুল ও সব্জি সুঘ্রাণযুক্ত সেগুলোকে পরিহার করতে হবে। তবে কিছু কিছু মরু প্রজাতি যেমন (Santonica ), ( Yarrow) এবং (Khojami) বলা হয়। এগুলো সবচেয়ে সুঘ্রাণযুক্ত ফুল ।

২৯৩. সতর্কতা হলো দারুচিনি, আদা, হলুদ ইত্যাদিকেও পরিহার করা । যদিও অধিকতর শক্তিশালী মত হলো সেগুলো হারাম নয় ।

২৯৪. আপেল এবং Quince ফল এর ন্যায় সুঘ্রাণযুক্ত ফল পরিহার করা আবশ্যক নয় । সেগুলো ভক্ষণ করা এবং ঘ্রাণ নেয়া আপত্তি নেই । তবে সতর্কতা হলো ঘ্রাণ নেয়া থেকে বিরত থাকা।

২৯৫. শক্তিশালী মত হলো দুর্গন্ধ থেকে নাক চেপে ধরা হারাম । তবে দুর্গন্ধ থেকে দ্রুতগতিতে চলার মাধ্যমে পলায়ন করতে আপত্তি নেই ।

২৯৬. আতর সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু সেগুলো পরীক্ষার জন্য সেগুলোর ঘ্রাণ নেবে না কিম্বা ব্যবহার করবে না।

২৯৭. সুগন্ধী ব্যবহার করার কাফফারা হলো একটি ভেড়া, সতর্কতামূলক ওয়াজিবের ভিত্তিতে ।

২৯৮. এটাই প্রসিদ্ধ যে “খুলুক-এ কা’বা” ব্যবহার করা হারাম নয়। “খুলুক-এ কাবা” বলতে ঐ দ্রব্যকে বুঝায় যা দ্বারা কা’বাকে সুগন্ধী করা হয় । কিন্তু যেহেতু খুলুক কী তা জ্ঞাত নয়, কাজেই সতর্কতা হলো কা’বায় যে সুঘ্রাণ রয়েছে তা পরিহার করা।

২৯৯. যদি সুগন্ধীকে একই সময়ে পুনঃ পুনঃ ব্যবহার করে তাহলে একটি ভেড়াই যথেষ্ট হওয়া অসম্ভব নয় । তবে সতর্কতা হলো সংখ্যা মেনে চলা । আর যদি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ব্যবহার করে থাকে তাহলে সতর্কতা বর্জন করা উচিত হবে না । আর যদি ব্যবহার করার পর কাফফারা প্রদান করে এবং পুনরায় ব্যবহার করে তাহলে ওয়াজিব হলো পুনরায় কাফফারা প্রদান করবে।

ষষ্ঠঃ সেলাইকৃত কোনো কিছু পরিধান করা। যেমন জামা, ওভারকোট ইত্যাদি

৩০০. যেসব কাপড় সেলাইকৃতের ন্যায় যেমন যেসব জামা চরকা অথবা হস্ত দ্বারা প্রস্তুত করা হয়, অথবা যেসব জিনিস উটের লোম দ্বারা তৈরি ওভারকোট । টুপি ইত্যাদি পরিধান করা জায়েজ নয়।

৩০১. অধিকতর সতর্কতা হলো সব ধরনের সেলাই করা (কাপড়) পরা থেকে বিরত থাকা । তা যত সামান্যই হোক না কেন । যেমন সেলাই করা বেল্ট এবং নৈশ টুপি

৩০২. যে পোটলার মধ্যে টাকা রাখে তা কোমরে বাঁধতে আপত্তি নেই যদিও তা

সেলাইকৃত হয় । আর উত্তম হলো তা এমন ধরনের হওয়া যা গিঁটবিহীন থাকবে ।

৩০৩.  (অস্ত্রবৃদ্ধিরোধ দমনে) ডাক্তারী লেঙট যদি সেলাই করা হয় তাহলে জরুরি কারণে বাঁধা জায়েজ । কিন্তু সতর্কতা হলো কাফফারা প্রদান করবে ।

৩০৪. যদি সেলাই করা কাপড়ের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে তা পরিধান করা

জায়েজ। তবে কাফফারা প্রদান করতে হবে।

৩০৫. ইহরামের কাপড়ে গিঁট দেয়া জায়েজ। তবে সতর্কতা হলো গিঁট না দেয়া । আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো লুঙ্গিকে গলার সাথে গিঁট না দেয়া।

৩০৬. ইহরামের কাপড়কে সূঁচ কিম্বা অন্য কিছু দিয়ে এক অংশকে অপর অংশের সাথে জোড়া দেয়া জায়েজ। যদিও সতর্কতা হলো তা পরিহার করা ।

৩০৭. মহিলাদের জন্য সেলাই করা কাপড় যতটা ইচ্ছা পরিধান করা জায়েজ। এতে কোন কাফফারা নেই। তবে হ্যাঁ, তাদের জন্য ‘কাফাযিন’ পরিধান করা জায়েজ নয় । আর সেটা হলো আরবের নারীরা তার মধ্যে তুলা ভর্তি করে শীত থেকে বাঁচার জন্য হাতে পরিধান করত ।

৩০৮. সেলাই করা কাপড় কাফফারা হলো একটি ভেড়া । (সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More