যে ব্যাক্তি তামাওু ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাধেঁ এবং মক্কা শরীফে প্রবেশ করে, তার ওপর ওমরা’হর আমল সমূহ মধ্যে থেকে যে কাজটি সর্বপ্রথম ওয়াজিব, তাহলো তামাওু ওমরাহ’র উদ্দেশ্যে কাবা ঘরের চতুর্দিকে তাওয়াফ বা প্রদিক্ষন করা ।
৪৫৪. তাওয়াফ হলো কাবা ঘরের চতুর্দিকে সাত পাক এমনভাবে প্রদিক্ষন করা, যার নিয়ম পরবর্তী বর্নিত হবে । এক একটি পাককে ’শৌত’ বলা হয় । কাজেই তাওয়াফ বলতে সাত শৌতকেই বা সাতপাককেই বুঝায়।
৪৫৫. তাওয়াফ ওমরাহ’র রোকনভুক্ত । কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করে যতক্ষন অবধি তা পালনের সময়সীমা বিদ্যামান থাকে , তার ওমরাহ বাতিল হবে । সে মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকুক আর না থাকুক ।
৪৫৬. এরুপ যে ব্যক্তি স্বীয় ওমরাহ’কে বাতিল করে, অধিকতর সতর্কতা হলো তাকে ইফরাদ হজ্ব পালন করতে হবে । অতপর ওমরাহ পালন করবে । আর হজ্বকে পরবর্তী বছর পুনঃ আদায় করবে ।
৪৫৭. তাওয়াফ হাতছাড়া হওয়ার শেষ সময়সীমা হলো তখনই, যখন তাওয়াফকে ওমরাহ্’র বাদবাকি আমলের সাথে সম্পাদন করতে চায়, তাহলে আরাফাতে অবস্থান করতে সক্ষম হবে না।
৪৫৮. যদি তাওয়াফকে ভুলক্রমে বর্জন করে থাকে, তাহলে যখনই হোক তা সম্পাদন করবে । আর যদি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে থাকে এবং মক্কায় ফিরে যেতে সক্ষম না থাকে কিম্বা তা কষ্টকর হয়, তাহলে বিশ্বাসভাজন কোনো লোককে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে ।
৪৫৯, যদি তাওয়াফ সম্পন্ন করার পূর্বে সাঈ সম্পাদন করে থাকে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো সাঈও পুনঃসম্পাদন করবে। আর যদি তওয়াফের নামাযকে পূর্বেই সম্পাদন করে থাকে, তাহলে তাওয়াফের পর সেটাও পুন: আদায় করবে।
৪৬০. যদি ইহরামধারী ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে নিজে তওয়াফ সম্পাদন করতে সক্ষম না থাকে এবং সময় সংকীর্ণ হয়ে আসা পর্যন্ত সক্ষমতা লাভ না করে,যদি কোন ভাবে নিয়ে গিয়ে তাওয়াফ করানো সম্ভব হয়, এমনকি যদি কাধে তুলে নিয়ে কিম্বা খাটিয়াতে বসিয়ে হলেও। আর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে তার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে ।
৪৬১. অসুস্থ লোককে তাওয়াফ করানোর সময় যথাসম্ভব তাওয়াফের শতাবলী। হুকুম-আহকাম মেনে চলতে হবে ।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)