মাসআলা (১০৮৫): ‘খুমস’ কথাটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে এক-পঞ্চমাংশ। আর পরিভাষায় খুমস হচ্ছে ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ওয়াজিব কাজ। প্রত্যেক শর্তসম্পন্ন ব্যক্তি যে সম্পদের অধিকারী থাকে, তা থেকে বিশেষ নিয়মে এক-পঞ্চমাংশ সম্পদ প্রদান করাই খুমস।
মাসআলা (১০৮৬): ইসলামী প্রজাতন্ত্রীয় সরকার আইন বা বিধানের ভিত্তিতে যেসব কর নির্ধারণ করে, যদিও উক্ত আইনের আওতায় যারা পড়বে তাদের জন্য তা পরিশোধ করা ওয়াজিব এবং প্রত্যেক বছরে কর ঐ বছরেরই জীবন নির্বাহ খরচের মধ্যে গণ্য হবে, কিন্তু খুমসের অংশ হিসাবে গণ্য হবে না। বরং জীবন নির্বাহ খরচের অতিরিক্ত হিসাবে তাদের বাৎসরিক আয়ের স্বতন্ত্রভাবে খুমস প্রদান করা তাদের জন্য ওয়াজিব।
মাসআলা (১০৮৭): খুমস ওয়াজিব হওয়া ইসলামের এক অত্যাবশ্যকীয় বিধান। তা অস্বীকার করা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রেসালাতকে অস্বীকার করার কিংবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর হয় অথবা শরীয়াতের ওপর কোনো ত্রুটি আরোপের শামিল হয়, তাহলে তা কুফর ও মুরতাদ হয়ে যাওয়ার কারণ হবে।
মাসআলা (১০৮৮): খুমস প্রদানের ক্ষেত্রে নিছক অক্ষমতা কিংবা কঠিন ব্যাপার হওয়ার কারণে তা হতে জিম্মা মুক্ত হওয়া ও কর্তব্য মওকুফ হয়ে যাওয়ার কারণ হয় না। একারণে যেসব লোকের পর খুমস ওয়াজিব রয়েছে, কিন্তু এখন অবধি তা পরিশোধ করেনি, আবার বর্তমান অবস্থায় তা পরিশোধ করার সামর্থ্যও রাখে না অথবা তাদের জন্য এটা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, তাদের জন্য ওয়াজিব হলো যখনই তারা খুমসের দেনা পরিশোধ করার সামর্থ্য অর্জন করবে তখনই তা পরিশোধ করতে হবে। এরূপ ব্যক্তিরা খুমসের ওয়ালীয়ে আমর অথবা তার প্রতিনিধির সাথে অর্থ হাত ঘুরানো পদ্ধতিতে পরিমাণ ও সময়সীমার দিক থেকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে নিজেদের দেনা পরিশোধ করতে পারবে।
মাসআলা (১০৮৯): খুমস পরিশোধ করতে যদি খুমসের বছর হতে বিলম্ব হয়ে পরের বছরে গিয়ে পড়ে, তাহলে যদিও যখনই তা পরিশোধ করবে, দেনা আদায় হয়ে যাবে বটে, তবে যদি টাকার মান হ্রাস পায় তাহলে এহতিয়াতে (ওয়াজিব) অনুসারে ফকীহ’র সাথে আপোসরফা করে নিতে হবে।
মাসআলা (১০৯০): যখন কোনো নাবালক ব্যক্তির সম্পদে খুমস ধার্য হয় (যেমন ধরুন খনি কিংবা হারামের সাথে মিশ্রিত হালাল সম্পদ), তখন তার শরীয়াতগত অভিভাবকের উপর তা পরিশোধ করা ওয়াজিব হবে। যদি না তার সম্পদ দ্বারা বাণিজ্য থেকে অর্জিত লভ্যাংশ হয় কিংবা তার ব্যবসায়ের মুনাফা হয়, সেক্ষেত্রে তা পরিশোধ করা অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব নয়। বরং এহতিয়াতে (ওয়াজিব) অনুসারে, যদি অর্জিত লভ্যাংশ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে শিশু সাবালক বয়সে উন্নীত হওয়ার পর স্বয়ং তার উপরই উক্ত খুমস আদায় করা ওয়াজিব হবে।
মাসআলা (১০৯১): খুমস শুধু প্রকৃত ব্যক্তিত্বের (ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ) উপর ওয়াজিব হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্বসমূহ, যেমন: সরকারক, সংস্থা, ব্যাংক ইত্যাদির উপর খুমস ওয়াজিব নয়। কাজেই যদি কোনো প্রতিষ্ঠান মুনাফা করে, তাহলে বছরের খরচাদি কর্তন করার পর মুনাফার খুমস প্রদান করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে হ্যাঁ, যদি উক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্বের সম্পদ প্রকৃত ব্যক্তিবর্গের সম্পত্তি হয়ে থাকে তাহলে তার লভ্যাংশের খুমস প্রদান করতে হবে।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত