তাওয়াফের নামায সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া

Macca Kabe

প্রশ্ন-৬৩২ : যে ব্যক্তি ওমরাহ’র তাওয়াফের নামায হিজ্বরে ইসমাঈলের ভেতরে পড়েছে এবং তাছীর (চুল বা নখ ছাঁটাই) করার পর তা বুঝতে পারে সেক্ষেত্রে কর্তব্য কী?উত্তর: নামায পুনঃ আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-৬৩৩ : জনৈকা মহিলা তার তাওয়াফের নামায হিজুরে ইসমাঈলে পড়েছে এবং যখন বাসায় ফিরে আসে, লক্ষ্য করে যে, ঋতুবতী হয়ে পড়েছে এবং আরাফাতে এবস্থানকাল অবধি সে পবিত্র হবে না। তার নামাযের ব্যাপারে করণীয় কী? আর তার আমল কি সঠিক হবে?

উত্তর: তার ওমরাহ সঠিক এবং সে তামাকু হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধবে। আর যখন হজ্বের তাওয়াফ এবং নামায সম্পাদন করবে, তখন আগে কিম্বা পরে তামাতু ওমরাহর তাওয়াফের নামাযও পড়ে নেবে।

প্রশ্ন-৬৩৪ : এক ব্যক্তি যতই চেষ্টা করলো তার জ্বিরাআতের অশুদ্ধ স্থানগুলোকে সঠিক করে নিতে, পারলো না এবং কারো পেছনে নামায পড়ার জন্যে কিম্বা তারে। সঠিকভাবে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে দেবে এমন কাউকেও নাগালে পেল না, তার কর্তব্য

কী?

উত্তর: যেভাবেই সক্ষম হবে সেভাবেই পড়বে। আর এমনকি সম্ভব থাকলেও জামায়াতে পড়া ওয়াজিব নয়।’

প্রশ্ন-৬৩৫ঃ যে সময়ে এক ব্যক্তি তাওয়াফ করছিল, লোকজন অনেক বেশি ছিল। অতঃপর ভিড়ের কারণে মাকামের নিকটে নামায পড়তে পারেনি। তখন মাকাম থেকে

দূরে নামায পড়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। এমতাবস্থায় তার নামায কি সঠিক? উত্তরঃ যদি সম্ভবপর না হয়, তাহলে নিরূপায় অবস্থার ক্ষেত্রে নিষেধ নেই।

প্রশ্ন-৬৩৬: ভিড়ের সময় যখন মাকামের পেছনে কিম্বা কোনো একপাশে মিম্বারের সীমানা পর্যন্ত জায়গার মধ্যে তাওয়াফের নামায পড়া যায় না এবং মিম্বারের ডান অথবা বাম পার্শ্বে নামায পড়া হলো, সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে সেদিনেই কিম্বা অন্যান্য দিনগুলোতে কি পুনরায় নামায পড়া আবশ্যক?

উত্তর: তাওয়াফ এবং তার নামাযের মধ্যে সাধারণ বিবেচনা অনুযায়ী ধারাক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পরও যদি ওযর (সিদ্ধ কারণ) বহাল থাকে, তাহলে তা পুনঃ আদায় করা ওয়াজিব নয়।

প্রশ্ন-৬৩৭ : আপনি ‘তাহরীরুল ওয়াসিলা’ গ্রন্থে তাওয়াফের নামাযের ৬ নং মাসআলায় বলেছেন, “অধিকতর সতর্কতা হলো একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির পেছনে তাওয়াফের নামায পড়া” আর ঐ একই গ্রন্থে জামায়াতের নামাযের প্রথম মাসআলায় বলেছেন, ‘বরং তাওয়াফের নামায এবং একইভাবে এহতিয়াত তথা সতর্কতার নামায জামায়াতে পড়ায় অসুবিধা রয়েছে।’ এথেকে উদ্দেশ্য কী অনুগ্রহপূর্বক বুঝিয়ে বলুন?

উত্তর : এখানে উদ্দেশ্য হলো তার শুদ্ধতা। আর উক্ত সতর্কতা অবলম্বন মুস্তাহাব। জামায়াতের দ্বারা যথেষ্ট মনে করা উচিত নয়।

প্রশ্ন-৬৩৮ : যাদের কুরআনের উচ্চারণ তথা কিরাআত সঠিক নয় এবং তাদের তাওয়াফের নামায জামাআতে পড়তে চায়, তারা কি হজ্বের তাওয়াফের নামাযকে তাওয়াফে নিসার নামাযের সাথে কিম্বা এর বিপরীতক্রমে কোন ইমামের পেছনে পড়তে পারবে? অথবা যে ব্যক্তি প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে সে, যে ব্যক্তি প্রতিনিধি নয় তার সাথে, কিম্বা এর বিপরীতক্রমে কারও পেছনে পড়তে পারবে?

উত্তর: জামায়াতের দ্বারা তা যথেষ্ট মনে করা ঠিক নয়। আর প্রশ্নের প্রতিটি ক্ষেত্রে এহতিয়াত তথা সতর্কতা’ অবলম্বনের প্রয়োজন।

প্রশ্ন-৬৩৯ : যার কুরআনের উচ্চারণ শুদ্ধ নয়, সে কি স্ব-প্রণোদিত হয়ে যে ব্যক্তির ওপর হজ্ব ওয়াজিব তার প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করতে পারবে এবং হজ্ব পালন করতে পারবে?

উত্তর: এরূপ ব্যক্তির প্রতিনিধি হওয়া সঠিক নয়, যতই স্ব-প্রণোদিত হোক না কেন। যদি না নিজের কুরআন পড়াকে শুদ্ধ করতে সক্ষম হয় এবং ওষর সম্পন্নদের মধ্যে গণ্য না হয়। সেক্ষেত্রে সে প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করতে পারবে। তবে নিজের কুরআন পড়াকে শুদ্ধ করতে হবে।

প্রশ্ন-৬৪০: যে ক’দিন কাবাঘরের চারপাশে এমন ভিড় থাকে যে, তাওয়াফের লাইন মাকামে ইবরাহীম (আঃ) এর পেছন পর্যন্ত চলে আসে এবং মাকামের পেছনে ও তার নিকটে নামায পড়া সম্ভব হয় না, যদি না কয়েকজন লোক তাকে ঘিরে দাঁড়ায় যাতে সে তার তাওয়াফের নামাযকে পড়ে নিতে সক্ষম হয়। এমতাবস্থায় অনুগ্রহপূর্বক বলবেন যে, নামায কি অবশ্যই মাকামের পেছনে পড়তে হবে এই পরিস্থিতিতেও? নাকি পরে হলেও চলবে এবং যতদূরে গেলে একাকী নামায পড়তে পারবে যথেষ্ট হবে?

উত্তর: যদি সম্ভব হয় এবং কোন বাধা না থাকে, তাহলে মাকামের পেছনে এবং নিকটে নামায পড়তে হবে। আর জরুরি ক্ষেত্রে বিলম্ব করতে নিষেধ নেই। তবে নিকট থেকে অধিকতর নিকট (এর ধারা) মেনে চলতে হবে।’

প্রশ্ন-৬৪১:  তাওয়াফের নামাযের মধ্যে ব্যক্তি যখন যিকরে ব্যস্ত ছিল তখন কেউ তাকে ধাক্কা দেয় এবং যে যিকরকে পুনরাবৃত্তি করে। পুনরায় তাকে ধাক্কা দেয় এবং সে আবারও যিক্রকে পুনরাবৃত্তি করে। এতে কি অসুবিধা রয়েছে?

উত্তরঃ যদি এমনভাবে ধাক্কা খায় যে তার স্থিতি অবস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে অসুবিধা নেই। অন্যথায় পুনরাবৃত্তি করবে না, তবে সতর্কতার উদ্দেশ্য ছাড়া। আর শর্ত হলো। সংশয়ের বাতিকগ্রস্ত লোক যেন না হয়।

প্রশ্ন-৬৪২: যদি তাওয়াফ ও তার নামাযের মধ্যে কোনো মুস্তাহাব নামায কিম্বা মুস্তাহাব ইবাদত সম্পাদন করে, তাহলে কি অসুবিধা রয়েছে?

উত্তরঃ সতর্কতা হলো তা পরিত্যাগ করে তাওয়াফের নামাযে ব্রতী হওয়া

প্রশ্ন-৬৪৩ : কখনো কখনো মাকামে ইবরাহীম (আঃ) এর পেছনে লোকজনের চাপ অনেক বেশি। আর যেহেতু নারী ও পুরুষ পরস্পর পাশাপাশি অবস্থান করে, ফলে কখনো কখনো ভিড়ের চাপে পড়ে যায় কোনো অশ্লীলতা বা অনিষ্টতা সংঘটিত হওয়া ছাড়াই। এটা কি তাওয়াফের নামাযের ক্ষতি করে?

উত্তর: নামাযের ক্ষতি করে না।’

প্রশ্ন-৬৪৪: কখনো কখনো মানুষ জানে যে, যদি তাওয়াফের নামাযকে আরম্ভ করে তাহলে তাওয়াফকারীরা আসবে এবং তাকে ধাক্কা দেবে ও সরিয়ে দেবে।

এতদসত্ত্বেও নামায আরম্ভ করে। সে যদি এই নামায শেষ করে তাহলে কি সঠিক

হবে?

উত্তরঃ যদি সঠিকভবে শেষ করে তাহলে সমস্যা নেই।

প্রশ্ন-৬৪৫ : আপনি মাসআলার মধ্যে বলেছেন, প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে তার

প্রাত্যহিক নামাযসমূহের জন্যে কুরআন পড়া শিখতে হবে। বিশেষ করে হজ্বের জন্য। এখন যদি হাজী অবহেলা করে এবং নামাযের কুরআন পড়া শেখার জন্য উদ্যোগী না হয় তাহলে কি এই বাতিল নামাযই যথেষ্ট হবে? নাকি প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে হবে? আর যদি প্রতিনিধি প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন, তাহলে কি এই নামাযই যথেষ্ট?

উত্তর : যদি সময় সংকীর্ণ হয় এমনভাবে যে, যদি তাওয়াফের পর নামাযকে শিখতে চায় তাহলে নামায ও তাওয়াফের মধ্যবর্তী ধারাক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা নষ্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সে যেভাবেই পারবে সেভাবেই পড়বে।

প্রশ্ন-৬৪৬: জনৈকা মহিলা তামাণ্ডু ওমরাহ’র উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধেছে। অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করে তাওয়াফ সম্পন্ন করার পরে এবং তাওয়াফের নামায পড়ার আগেই কতবতী হয়ে পড়লো, তার কর্তব্য কী?

উত্তর : যদি সময় বিস্তর থাকে, তাহলে দেরি করবে যাতে পবিত্র হয়ে যায়। অতঃপর নামায পড়বে এবং বাদবাকী আমলসমূহকে সম্পন্ন করবে। আর যদি যাময় রংকীর্ণ হয়, তাহলে সাঈ এবং তামাকু ওমরাহ’র তাকছীরকে সম্পন্ন করবে বেং তামাকু হজ্বের জন্যে ইহরাম বাঁধবে। আর হজ্বের তাওয়াফের পর অথবা তার আগে এ নামাযকে পড়বে এবং তারপর অবশিষ্ট আমল সম্পন্ন করবে।।

প্রশ্ন-৬৪৭ : যে ব্যক্তি তার নামায ভুল পড়ে এবং তা শুদ্ধ করার সময়ও হাতে না থাকে, সে কি তাওয়াফের নামায যেভাবে পারে সেভাবেই পড়বে? আর এ ধরনের ব্যক্তি কি মুস্তাহাব ‘ইফরাদ ওমরাহ্’ পালন করতে পারবে?

উত্তর: অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন-৬৪৮: ‘মাকামের নিকটে তাওয়াফের নামায’ বলতে কি মাকামের পেছনে বুঝায়, নাকি মাকামের দু’পাশকেও বোঝায়?

উত্তর: মাকামের পেছনে হতে হবে।

প্রশ্ন-৬৪৯: যদি কেউ মাকামে ইবরাহীম ছাড়া অন্যত্র নামায পড়ে এবং তা সঠিক হয়েছে বলে বিশ্বাস পোষণ করে অবশিষ্ট আমলসমূহকে সম্পন্ন করে, তার কর্তব্য কী?

উত্তর: শুধু নামাযকেই পুনরায় পড়তে হবে।

প্রশ্ন-৬৫০ : যদি মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই তলা হয়, তাহলে উপরের তলায় নাকি ভূগর্ভস্থ তলায় নামায সঠিক হবে?

উত্তর: যদি নির্দিষ্ট না হয় যে মাকামের পেছনে নামায পড়েছে তাহলে সঠিক নয়।

প্রশ্ন-৬৫১ : এক ব্যক্তি হিজ্বরে  ইসমাঈলকে মাকামে ইবরাহীম ভেবে নিয়ে ঐ বিশ্বাসে হিজ্বরে ইসমাঈলে তাওয়াফের নামায পড়লো। তাকে কি করতে হবে?

উত্তর: নামাযকে পুনঃ আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-৬৫২ : ওয়াজিব তাওয়াফের নামায কি প্রাত্যহিক নামাযের জামাআতের সাথে পড়া যায়?

উত্তর: তা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সমস্যা রয়েছে।

প্রশ্ন-৬৫৩ : মাকামের পেছনে বলতে কতদূর বুঝায়? তার জন্য কি নির্দিষ্ট সীমারেখা কল্পনা করা যায়?

উত্তর: সাধারণ বিচার ও বিবেচনাই মাপকাঠি।

প্রশ্ন-৬৫৪ : তাওয়াফ ও নামাযের মাঝে দুই রাকআত পরিমাণ নামায দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করলে কি অসুবিধা রয়েছে? আর মূলত কতটুকু ব্যবধান হলে বিনষ্টকারী বলে গণ্য হবে?

উত্তর: অসুবিধা নেই। আর মাপকাঠি হলো সাধারণ বিচার। আর সর্বাবস্থায় নামায বিলম্বে হওয়ার কারণে তাওয়াফ পুনঃ আদায় করার দরকার নেই।

প্রশ্ন-৬৫৫: কখনো কখনো তাওয়াফ মসজিদের হলঘরসমূহের নিকেট পৌঁছে যায়। এমতাবস্থায় কি তাওয়াফের নামায তাওয়াফকারীদের পেছনে পড়া যায়? আর এতে কি মাকামের পেছনে কথাটি প্রযোজ্য হয়?

উত্তরঃ ‘পেছনে’ বলে প্রযোজ্য হওয়াটা সাধারণের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

প্রশ্ন-৬৫৬: আমি কয়েক বছর আগে মক্কা শরীফে যাই। সেখানে প্রথমত উভয় ওয়াজিব তাওয়াফ (অর্থাৎ একটি মুফরাদা ওমরাহ এবং অন্যটি হজ্বের) এর বাবদ তাওয়াফ নিসার নামায এবং তাওয়াফের নামায পড়িনি। দ্বিতীয়ত দ্বিতীয় তাওয়াফের পাক-সংখ্যা নিয়ে সন্দেহগ্রস্ত আছি। অনুগ্রহপূর্বক আমাকে নির্দেশনা দেবেন।

উত্তরঃ যদি তাওয়াফের পরে এবং তা থেকে নিরত হওয়ার পরে পাক-সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে থাকেন তাহলে সে সন্দেহের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না। আর যে নামাযগুলোকে পড়েননি, যদি মক্কায় প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম না হন, তাহলে স্ব- স্থানেই পড়বেন। আর যতক্ষণ না পড়বেন ততক্ষণ স্ত্রী নিষিদ্ধ হওয়াটা বলবৎ থাকবে।

(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More