তাওয়াফ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া
প্রশ্ন-৫৪৭ : যদি তাওয়াফের মাঝে নামাযের জামাআত দাঁড়িয়ে যায় এবং তাওয়াফকারী তাওয়াফ অব্যাহত রাখতে অপারগ হয়ে পড়ে, তাহলে তার কর্তব্য কী? আর এটা যদি সাঈ’র মাঝে ঘটে তাহলে কর্তব্য কী?উত্তরঃ যদি তাওয়াফ কিম্বা সাঈ’র চতুর্থ পাকের পরে ছেদ করা হয়’ তাহলে যে স্থান থেকে ছেদ ঘটেছে সেখান থেকেই তা সম্পূর্ণ করতে হবে। আর যদি তাওয়াফের স্থান থেকের পূর্বে হয় এবং বিলম্ব দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে পাড়ার থেকেই শুরু করবে। যদিও সতর্কতা হলো তাওয়াফ সম্পূর্ণ করে তার নামায পড়ার পর তাওয়াফ পুনঃ আদায় করতে হবে এবং আরেকবার তাওয়াফের নামায পড়তে হবে। আর সাঈয় বেলায়ও সতর্কতা হলো সম্পূর্ণ করে পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৪৮ : এক ব্যক্তি তাওয়াফের অবস্থায় কাবাঘরে চুম্বন করে এবং সম্ভাবনা দেখা দেয় যে ঐ অবস্থায় কয়েক ধাপ পথও চলেছে, এক্ষেত্রে তার কর্তব্য কী? অবশ্য এই সন্দেহ তার আমল শেষ হওয়ার পর উদ্ভব হয়েছে।
উত্তর: তার তাওয়াফ সঠিক।
প্রশ্ন-৫৪৯ : যদি তাওয়াফের মাঝে পূর্ববর্তী পাকের কিম্বা যে পাক প্রদক্ষিণরত রয়েছে তার অংশ বিশেষের বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয় এবং সে স্থান পারও হয়ে যায়, তাহলে তার নির্দেশ কী? যেমন ধরুন, সে জানে না যে হিজ্বরের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাওয়াফের গণী থেকে বাইরে গেছে কি-না?
উত্তর: যদি সে মাসআলা জানে এবং সঠিক আমল সম্পাদন করতে চেয়ে থাকে অর্থাৎ উদাসীন না থাকে, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
প্রশ্ন-৫৫০ঃ যে ব্যক্তি চতুর্থ পাকে হাজারুল আসওয়াদ থেকে হিজ্বরে ইসমাঈলের শুরু পর্যন্ত অতিক্রম করেছে এবং চিন্তা করেছে যে, চতুর্থ পাকের প্রথমে এই পাকের জন্য আলাদা নিয়ত করেনি সুতরাং পাকের এই অংশকে পুনঃ আদায় করতে হবে। অতএব পাকের অবশিষ্ট অংশকে নিয়ত ছাড়াই পার হয়ে গেছে এবং হাজারুল আসওয়াদ থেকে চতুর্থ পাকের নিয়তে তাওয়াফ করেছে। এতে কি তাওয়াফে কোনো সমস্যা ঘটবে?
উত্তর: সমস্যা রয়েছে।
প্রশ্ন-৫৫১: যেসব ব্যক্তি তাওয়াফ করতে সক্ষম নয় তাদের জন্য কি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে নাকি তাদেরকে চলমান খাটিয়ায় তাওয়াফ করাতে হবে? লক্ষণীয়, উক্ত বাহনের বহনকারীরা তাওয়াফের গনীর বাইরে তাওয়াফ করায়?
উত্তর : সতর্কতামূলক উভয় কাজই পালন করবে। যদিও তাওয়াফের গণীর বাইরে তাওয়াফ করানো যথেষ্ট হবে।’
প্রশ্ন-৫৫২৪ এক ব্যক্তি তাওয়াফের অবস্থায় ভুলক্রমে তাওয়াফের নিয়তে হিজ্বরে ইসমাঈলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। অতঃপর যখন বুঝতে পারে তখন ফিরে আসে এবং যে স্থান থেকে হিজ্বরে প্রবেশ করেছিল সেখান থেকেই তাওয়াফ শুরু করে উক্ত পাককে সম্পূর্ণ করলো। তার তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর : আপত্তি রয়েছে। হ্যাঁ, যদি হিজ্বরে ইসমাঈলে বুঝতে পারার পর হাজরে আসওয়াদ থেকে সতর্কতার নিয়তে উক্ত পাক পুনঃ আদায় করতো এবং যে স্থান থেকে হিজুরে প্রবেশ করেছে সেখান থেকে সুদৃঢ় নিয়ত সহকারে তাওয়াফ করতো তাহলে তার তাওয়াফের সমস্যা হতো না।
প্রশ্ন-৫৫৩: যদি তাওয়াফ কিম্বা সাঈ অথবা নামাযের মধ্যে সন্দেহ করে যে কত তম পাক বা কততম রাকআত, আর এ অবস্থার মধ্য দিয়ে তাওয়াফ, সাঈ ও নামায অব্যাহত রাখে অতঃপর সন্দেহের এক পাল্লার প্রতি নিশ্চিত হয় এবং আমলসমূহ সম্পন্ন করে, উল্লেখিত পন্থায় তার আমল কি সঠিক?
উত্তর: যদি তাওয়াফ কিম্বা সাঈকে সন্দেহ অবস্থায় অব্যাহত রাখে অতঃপর তা সঠিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তাহলে অসুবিধা নেই। আর তাওয়াফ ও সাঈ সঠিক। কিন্তু অপরিতৃপ্ত নামাযের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। আর অধিকতর সতর্কতা হলো তা পুনঃ আদায় করা।
প্রশ্ন-৫৫৪ : তাওয়াফের গণীপথে তাওয়াফকারীর কোন জিনিস যেমন ঘড়ি ইত্যাদি পড়ে যায় এবং যারা তাওয়াফ করে তাদের পায়ের তলায় পড়ে। এতে কি তাওয়াফের ক্ষতি হয় না এবং তা বাতিল হওয়ার কারণ হয় না?
উত্তর: তাওয়াফ বাতিলের কারণ হয় না।
প্রশ্ন-৫৫৫: যদি মানুষ জানে যে, অন্যের ইহরামের কাপড় ইত্যাদির ওপর পা ফেলা তার কষ্ট ও অসন্তুষ্টির কারণ হয়, এই অসন্তুষ্টি কি তাওয়াফের ক্ষতি করে না?
উত্তর: তাওয়াফের ক্ষতি করে না।
প্রশ্ন-৫৫৬: এক ব্যক্তি হাজারুল আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ আরম্ভ করলো এবং প্রতে প্রশ্ন পাকে যখন রোকনে ইয়ামেনীতে পৌছাচ্ছিল, সমাপ্তের নিয়ত করছিল এবং হাজারুল আসওয়াদ থেকে পরবর্তী পাকের নিয়্যত করছিল এবং এই পদ্ধতিতে তাওয়াফের সাত পাক সম্পন্ন করলো এই ধারণার ভিত্তিতে যে, তাওয়াফের পাকসমূহ রোকনে ইয়ামেনীতে সমাপ্ত হতে হবে। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: এই তাওয়াফে সমস্যা রয়েছে। তা পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৫৭ : কখনো কখনো মসজিদুল হারামের পরিচ্ছন্নতার কর্মীরা পরস্পর হাত বেঁধে লম্বা শিকলের মতো হয়ে এতদূর ছাড়িয়ে যায় যে, তাওয়াফকারীকে তাওয়াফের গণীপথের বাইরে সরে দাঁড়াতে হয়। এটুকু পরিমাণ গনীপথ থেকে বাইরে চলে যাওয়াই কি তাওয়াফের গনীপথের বাইরে জরুরি কারণে তাওয়াফের ভিত্তিতে তা সঠিক হওয়ার জন্য যথেষ্ট? নাকি দেরি করতে হবে, যতক্ষণ না পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়? আর যদি লোকেরা ধারণা করে থাকে যে, এটাও জরুরি কারণ এবং তাওয়াফ সম্পাদন করে তাহলে এমতাবস্থায় তাদের কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি গণীর মধ্যে তাওয়াফ করা সম্ভব থাকে তাহলে দেরি করবে এবং গনীর মধ্যেই তাওয়াফ করবে। আর এক্ষেত্রে গীর বাইরে তাওয়াফ করা সঠিক নয়।
প্রশ্ন-৫৫৮: জনৈকা মহিলা, যে তাওয়াফ করতে সক্ষম নয়, তার জন্যে উপায় হলো দুটোর মধ্যে যে কোনো একটি, হয় তাকে খাটিয়ায় বসিয়ে গীর বাইরে তাওয়াফ করাবে নতুবা না-মাহরাম লোক তাকে পিঠে নিয়ে গীর মধ্যেই তাওয়াফ করাবে, এক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর: তাকে গীর মধ্যেই তাওয়াফ করাতে হবে, যতই না-মাহরাম লোক তাকে পিঠে নেয়।
প্রশ্ন-৫৫৯: যে ব্যক্তির কর্তব্য হলো তাওয়াফ সম্পূর্ণ করে পুনরায় তাওয়াফ করা, সে সম্পূর্ণ করলো এবং পুনঃ আদায়ে ব্যস্ত হলো যা পুনরায় তাওয়াফের কোন এক পাকে এসে ছেদ হয়ে গেল প্রথমবারের মতই। তাহলে সে কি এই তাওয়াফকেও সম্পূর্ণ ও পুনঃ আদায় করবে?
উত্তর: কোন পার্থক্য নেই।
প্রশ্ন-৫৬০: এক ব্যক্তি তাওয়াফের সময় পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললো এবং কয়েক ঘণ্টা পর হুঁশ ফিরে পেল। সে কি ঐ যে স্থান থেকে তাওয়াফকে ছেদ করেছিল সেখান থেকেই শুরু করবে এবং বাদবাকি আমলসমূহ অব্যাহত রাখবে?
উত্তর : যদি চতুর্থ পাকের পূর্বে হয়, তাহলে ওযু করবে এবং তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে। আর যদি চতুর্থ পাকের পরে হয় তাহলে ওযু করে তাওয়াফকে সম্পূর্ণ করবে।
প্রশ্ন-৫৬১ : বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন হেজ্বাজের জনসংখ্যা অনেক বেশি এবং কিছুসংখ্যক অক্ষম লোক রয়েছে যারা গণীর মধ্যে তাওয়াফ করতে পারে না। তাওয়াফের গীতে কি প্রশস্ততা রয়েছে? তদ্রূপ মাকামের পেছনে যেখানে হয় নামায পড়া যায় না অথবা সেখানে নামায পড়ার অর্থ তাওয়াফ কারীদের বিরক্ত করার নামান্তর এবং সেখানে নামায সম্পূর্ণ পড়ার ব্যাপারে বিশেষ করে দুর্বল লোকদের বেলায় নিশ্চিত হওয়া যায় না। এমতাবস্থায় দূরে সরে গিয়ে নামায পড়ার হুকুম কি? আর যদি ব্যক্তি মক্কায় প্রবেশ করে সে কি অনতিবিলম্বে তাওয়াফের আমলসমূহ এবং নামাযে ব্যস্ত হতে পারবে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন? নাকি ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে যতক্ষণে সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে, যেমন নবম রাত, অতঃপর এরূপ করবে? যদিও একথা সকলের জানা যে, একাজ সবার পক্ষে সম্ভব নয়?
উত্তরঃ যদি সক্ষম হয় এমনকি যদি নিরিবিলি সময়েও তাওয়াফের গীর মধ্যে
তাওয়াফ করতে পারে তাহলে সে গণীর মধ্যেই তাওয়াফ করবে। আর জরুরি ক্ষেত্রে দূরে সরে গিয়ে নামায পড়তে নিষেধ নেই এবং দেরি করার প্রয়োজন নেই।’ প্রশ্ন-৫৬২: যদি কেউ হাজারুল আসওয়াদের পূর্বে থেকে তাওয়াফ আরম্ভ করে এবং সেখানেই সমাপ্ত করে তাহলে তার তাওয়াফ কি বাতিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তাওয়াফ বাতিল।
প্রশ্ন-৫৬৩: চতুর্থ পাকের পূর্বে কি কোন কারণ ছাড়াই তাওয়াফ ভেঙ্গে ফেলা যায় এবং কিছুই ছিল না বলে মনে করা যায়? নাকি নামাযের ন্যায় তা ছেদ করা জায়েজ
নয়?
উত্তর : ছেদ করতে নিষেধ নেই। তবে ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতা বিনষ্ট হওয়ার আগে হলে, তা প্রথম থেকে পুনরারম্ভ করতে পারবে না।’
প্রশ্ন-৫৬৪ : যে ব্যক্তি তাওয়াফ করতে এমনকি তাওয়াফের গীর বাইরেও তাওয়াফ করতে অপারগ। আবার ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে খাটিয়ার মাধ্যমে তাওয়াফ
করাও তার জন্য সমস্যার হয় তাহলে কি সীমানার মধ্যে প্রতিনিধির মাধ্যমে তাওয়াফ করানো তার জন্যে যথেষ্ট হবে?
উত্তর : যদি এমনকি খাটিয়ার মাধ্যমেও তাওয়াফ করতে অপারগ হয় তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে।’
প্রশ্ন-৫৬৫ : কিছু কিছু লোক তাওয়াফকে ১৪ পাক বিশিষ্ট মনে করে এই পদ্ধতিতে তাওয়াফ সম্পাদন করেছে, এটা কি তাওয়াফকে নষ্ট করে দেবে?
উত্তরঃ যদি ১৪ পাকের নিয়্যতে তাওয়াফ করে থাকে তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল।
প্রশ্ন-৫৬৬ ৪ এক ব্যক্তি তাওয়াফের সময় পঞ্চম পাকে একটি সমস্যার সম্মুখীন হলো সে কি পরবর্তীতে এই তাওয়াফই সমাপ্ত করবে নাকি অন্য আরেক তাওয়াফ করবে?
উত্তর: এই তাওয়াফকেই সম্পূর্ণ করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৬৭ : এক ব্যক্তি তাওয়াফের সময় তার নাকের ভেতরে সামান্য রক্ত দেখতে পায় এবং রুমাল দ্বারা পরিষ্কার করে নিয়ে তার তাওয়াফ সমাপ্ত করে। এ তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তরঃ যদি তার নাক অপবিত্র হয়ে থাকে তাহলে নাক ধুয়ে ফেলবে এবং তাওয়াফ সম্পূর্ণ করবে। আর যদি নাক না ধুয়ে তাওয়াফ অব্যাহত রাখে তাহলে সতর্কতা হলো তা সম্পূর্ণ করার এবং নামায পড়ার পর তাওয়াফ ও নামায পুনঃ আদায় করবে। তদ্রূপ যদি অপবিত্র রুমাল তার সাথে থাকে তাহলেও এটাই করবে।
প্রশ্ন-৫৬৮: এক ব্যক্তি তাওয়াফের দ্বিতীয় পাকে সন্দেহ করে যে, তাওয়াফ কি
যার প্রতিনিধিত্ব করছে তার নিয়তে সম্পাদন করছে নাকি নিজের নিয়তে আরম্ভ করেছে, তার কর্তব্য কী?
উত্তর : সতর্কতা হলো যাঁর প্রতিনিধিত্ব করছে তাঁরই নিয়তে তাওয়াফ সমাপ্ত করা। আর নামাযের পরে পুনরায় আরেক নামায সহকারে (ঐ তাওয়াফ) পুনঃ আদায় করবে।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)