মাসআলা (৪১): যখন মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য নামাজের মাঝে এমন কোনো মাসআলা দেখা দেয় যার হুকুম তার জানা নেই, সেক্ষেত্রে সে উক্ত মাসআলায় যে দু’দিকে সম্ভাবনা দেখে তার কোনো একদিকে আমল করা জায়েয আছে এবং নামাজকে সমাপ্ত করবে। তবে নামায শেষে উক্ত মাসআলা সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। যদি সে যেদিকে আমল করেছে তা নামাজ বিনষ্টের কারণ হয়ে থাকে তাহলে তাকে ঐ নামায পুনরায় আদায় করতে হবে।
মাসআলা (৪২): একদৃষ্টিতে জাহেল তথা অজ্ঞ হচ্ছে দুই প্রকার। যথা:
১. জাহেলে কাসের: অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যে মোটেও তার অজ্ঞতার ব্যাপারে সজাগ নয় অথবা তার অজ্ঞতা দূর করার কোনো উপায় তার কাছে নেই।
২. জাহেলে মুকাসসির: অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যে নিজের অজ্ঞতার প্রতি সজাগ রয়েছে এবং নিজের সে অজ্ঞতাকে দূর করার উপায়ও তার জানা আছে, কিন্তু আহকাম শেখার ব্যাপারেই তার যত অবহেলা।
মাসআলা (৪৩): এহতিয়াতে ওয়াজিব এর অর্থ হলো এহতিয়াত তথা সাবধানতাবশত কোনো কাজ আঞ্জাম দেওয়া বা বর্জন করা ওয়াজিব হওয়া। এহতিয়াতে ওয়াজিবের ক্ষেত্রে মুকাল্লাফ ব্যক্তি আ’লামের পরের আ’লাম এর ক্রমধারা বজায় রেখে অন্য কোনো মুজতাহিদ, যিনি এহতিয়াত করেননি এবং সুস্পষ্ট ফতোয়া প্রদান করেছেন, তাঁর প্রতি রুজু করতে পারবে।
মাসআলা (৪৪): ‘আপত্তি বা সমস্যা রয়েছে’, ‘সমস্যা থেকে মুক্ত নয়’ ইত্যাদি যেসব পরিভাষা ফিকাহর কিতাবসমূহে ব্যবহার করা হয়, এসবগুলোই এহতিয়াতকে নির্দেশ করে। কেবল ‘এতে কোনো আপত্তি নেই’ পরিভাষাটি ভিন্ন অর্থাৎ ফতোয়ার নির্দেশ করে।
মাসআলা (৪৫): ‘আমলের পর্যায়ে জায়েয নয়’ এবং ‘হারাম’ এ দুটি কথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।