বন্ধুর অধিকার

সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু যে অপর বন্ধুর বিপদকালে তার পাশে দাঁড়ায় এবং “সফরকালে বন্ধুর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়” এমন অনেক প্রবাদ আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে ঘনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতা মূলত দু’বন্ধুর মাঝে পারস্পরিক আবেগ ও অনুভূতির সমন্বয়ে গড়ে উঠে। এ কারণে যখন বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ত্যাগ ও উৎসর্গের বিষয়ও আলোচিত হয়। তাইতো বলা হয়ে থাকে, “সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু যে অপর বন্ধুর বিপদকালে তার পাশে দাঁড়ায়” অথবা “সফরকালে বন্ধুর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়।” প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত প্রবাদের মাধ্যমে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় যে, দুঃসময় ও বিপদকালে বন্ধুর আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। ইসলাম মুসলমানদের প্রতি আদেশ দিয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং দুঃখ-দুর্দশায় যেন তার পাশে এসে দাঁড়ায়। নিশ্চয়ই একজন মুসলমানের উচিত অপর মুসলমান বন্ধুর জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা। বস্তুত প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে স্বীয় ঈমানদার বন্ধুর সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করা। পবিত্র ইসলাম ধর্মে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা মূলত পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, সেটার উপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ।

পক্ষান্তরে, পরহেজগারীতা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল এবং পৃথিবীতে তাকওয়া অবলম্বন ও সৎকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে একে অপরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরকালেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ও সুদৃঢ় থাকবে। যেহেতু এ পৃথিবীতে তাদের মাঝে গড়ে উঠা পারস্পরিক বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ ইতিবাচক ও নিষ্কলুষ, সেহেতু তা কেবল এ পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এরূপ বন্ধুত্ব পরকালীন জীবনেও ধারাবাহিকতা লাভ করবে।

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More