বন্ধু ও বন্ধুত্ব সম্পকৃত কিছু হাদিস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “মানুষ তার বন্ধুর বিশ্বাস দিয়ে প্রভাবিত হয়। তাই, নজর রাখো তোমাদের মধ্যে কার সাথে বন্ধুত্ব করছো।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-১৯২]

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: “তার বন্ধু হও যে তোমাকে গুণান্বিত করবে, কিন্তু তার বন্ধু হয়ো না যে তোমার মাধ্যমে গুণান্বিত হবে।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৬, পৃষ্ঠা-২৬৭]

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: “সে আমার সবচেয়ে প্রিয় ভাই যে আমার ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেয়।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-২৮২]

মাম জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (আ.) তার পূর্বপুরুষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমীরুল মু’মিনীন ইমাম আলী (আ.) বলেন: “নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুসলমানের তিন ধরনের বন্ধু আছে: ১. ঐ বন্ধু যে বলে: ‘আমি তোমার সাথে আছি তোমার জীবিত ও মৃত (উভয়) অবস্থায়’ সে হলো তার আমল (কাজসমূহ]; ২. ঐ বন্ধু যে বলে: ‘আমি তোমার সাথে আছি তোমার কবরের কিনারা পর্যন্ত এবং এরপর আমি তোমাকে ত্যাগ করবো’-সে হলো তার সন্তান; ৩. ঐ বন্ধু যে বলে: ‘আমি তোমার সাথে আছি তোমার মৃত্যু পর্যন্ত’ -সে হলো তার সম্পদ, যখন সে মারা যাবে তখন এসবের মালিক হবে তার উত্তরাধিকারীগণ।” [আল-খিসাল আস-সাদুকু, পৃষ্ঠা- ৩২২]

 এ হাদীসটি এবং এরকম আরো কিছু হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, পরকালে একমাত্র জিনিস যা কোন ব্যক্তির উপকারে আসবে তা হলো তার বিশ্বাস ও ভালো কাজসমূহ। এ বিষয়টি বিভিন্ন হাদীস এবং বিশেষ করে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

১. “যাদের বিশ্বাস আছে এবং ন্যায়নিষ্ঠ কাজগুলো করে তারা খুশি এবং ভালো হলো তাদের [সর্বশেষ গন্তব্যের স্থান।” [সূরা রা’দ: ২৯]

২. “আর যাদের বিশ্বাস আছে এবং ন্যায়নিষ্ঠ কাজগুলো করে নিশ্চয়ই আমরা তাদের পুরস্কার নষ্ট করি না, যারা কাজে ভালো।” [সূরা কাহ্ফ্ফ: ৩০]

৩. “আর যাদের বিশ্বাস আছে এবং ন্যায়নিষ্ঠ কাজ করে, তাদের জন্য থাকবে ফেরদৌসের জান্নাত বাসস্থান হিসেবে।” [সূরা কাহ্ফ: ১০৭]

৪. “নিশ্চয়ই যাদের বিশ্বাস আছে এবং ন্যায়নিষ্ঠ কাজ করে- সর্বদয়ালু তাদেরকে প্রিয় বানাবেন [তাঁর সৃষ্টিসমূহের কাছে)।” [সূরা মারইয়াম: ৯৬]

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: “সত্যবাদী বন্ধু গ্রহণ করার ব্যাপারে যত্নবান হও এবং তাদেরকে পেতে চেষ্টা কর, কারণ তোমার সমৃদ্ধিতে তারা হলো তোমার অবলম্বন এবং তোমার দুঃখ-দুর্দশায় তারা হলো তোমার রক্ষাকারী।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-১৮৭)

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেন: “ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের সমাবেশ [তোমাদেরকে] ন্যায়নিষ্ঠতার দিকে আহ্বান করে।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৮, পৃষ্ঠা-১৪১]

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেন: “পাপীদের সাথী হওয়া এবং অত্যাচারীদের সাহায্য করার ব্যাপারে তোমরা সাবধান থাকবে।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৮, পৃষ্ঠা-১৫১]

Related posts

আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব

ইমাম সাদিক (আ.)-এর শিক্ষা

হাদিস

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More