হুজ্জাতুল ইসলাম মো. আলী মোর্ত্তজা
হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) বলেছেন:
نحْنُ وَسِيلَتُهُ فِي خَلْقِهِ، وَ نَحْنُ خَاصَّتُهُ، وَ مَحَلُّ قُدْسِهِ، وَ نَحْنُ حُجَّتُهُ فِي غَيْبِهِ، وَ نَحْنُ وَرَثَةُ أَنْبِيَائِهِ
আমরা বান্দাদের মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, আমরা তাঁর বিশেষ ও মনোনীত বান্দা এবং ঐশী পবিত্র স্থান, আমরা তাঁর অগোচরে আলাহর প্রমাণ এবং তাঁর নবীদের উত্তরাধিকারী। (আওয়ালেমুল উলূম খণ্ড ১১, পৃ. ৮৯৪)
হাদিসটির ব্যাখ্যা:
পাক-পবিত্র, মুত্তাকি -পরহেজগার ও ধার্মিক ব্যক্তিরা মহান আল্লাহর নিকটঅত্যন্ত সম্মানের অধিকারী। তাঁদেরকে আল্লাহর দরবারে ওসিলা করে চাহিদা পূরণ করা যায়। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষায় এই বিষয়টিকে “তাওয়াসসুল” বলা হয়। মহান আল্লাহ নিজেই পবিত্র কোরআনে বলেছেন যে আল্লাহর রহমতের কাছে পৌঁছানোর জন্য তোমাদের ওসিলা তথা মাধ্যম সন্ধান করা উচিত।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদের (আ.) আহলে বাইত (আ.), জ্ঞান ও বিশ্বাসে, তাকওয়া ও পুণ্যে, উদারতা ও দয়ায় এবং কল্যাণে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে তারা হল “মাধ্যম” এবং আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের উপায়। তাদের অনেক মর্যাদা এবং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ঐশী পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা এবং মহত্ত্ব রয়েছে। তাঁর আল্লাহর পক্ষ থেকে হুজ্জাত তথা দলিল হিসাবে প্রেরিত হয়েনেছ। এবং ধর্মের দলিল। যে ঐশী মারেফাত মহানবীর মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পৌঁছেছে এবং এটি তাদের কাছে এসেই সঞ্চিত থাকে। তাঁরা হলেন মহানবীর পবিত্র আহলে বাইত, ইসলামী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী এবং আল্লাহর পথের আলো।
যখন আমরা এই পবিত্র আহলে বাইতের (আ.) গুণাবলী সম্পর্কে জানতে পারব, তখন এই জ্ঞান আমাদেরকে তাঁদের প্রতি ভালবাসা ও তাদের অনুসরণের দিকে পরিচালিত করবে। এই কারণে তাঁরা নিজেরাই তাদের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশ করেছেন, যাতে জনগণ মহান আল্লাহর এই হুজ্জাতদেরকে চিনতে পারে এবং তাদের জ্ঞান ও পূর্ণতা থেকে উপকৃত হতে পারে। আমরাও যেন তাঁদের মহৎচরিত্র ও সুন্দর গুণাবলীর অধিকারী হতে পারি, মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন।#####