৭৮৮, যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখে দিবাগত রাতে আরাফাতে অবস্থান থেকে অবসর হওয়ার পর, মাশআরুল হারাম অভিমুখে রওনা হতে হবে। মাশআরুল হারাম একটি প্রসিদ্ধ স্থান এবং নির্দিষ্ট সীমানা সম্বলিত ।
৭৮৯, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো দশ তারিখের পূর্বরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাশআরুল হারামে অবস্থান করতে হবে এবং মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের নিয়ত করতে হবে ।
৭৯০. সুবহে সাদিকের উদয় হলে মাশআরুল হারামে অবস্থানের নিয়ত করতে হবে এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত থাকতে হবে। আর যেহেতু এই অবস্থান মহান আল্লাহর ইবাদত, সুতরাং কোনরকম আত্মপ্রকাশের বা লোক দেখানোর অভিপ্রায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে নিখাদ নিয়তে তা পালন করতে হবে। অন্যথায় ইচ্ছাকৃত ও জেনেশুনে লোক দেখানোর অভিপ্রায়ের কারণে তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে ।
৭৯১. ওয়াজিব হলো সুবহে সাদিকের উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয়ের সামান্য আগ পর্যন্ত (যেরূপে পূর্ববর্তী মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে) মাশআরে থাকা । তবে এই সমগ্র সময়টা (মূল) রোকন নয় । বরং এই উকুফ তথা অবস্থানের (মূল) রোকন পরিমাণ সময় হলো দুই উদয়ের (সুবহে সাদিকের উদয় এবং সূর্যোদয়) মধ্যবর্তী সামান্য কিছু সময়। এমনকি এক মিনিট হলেও যথেষ্ট। কাজেই যদি কেউ দুই উদয়ের মধ্যবর্তী সময়ের অবস্থানকে সমগ্রটা পরিত্যাগ করে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে উল্লেখ করা হবে)
৭৯২. যাদের কোন ওযর বা সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য রাতের বেলায় মাশআরে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর মিনার দিকে রওনা হওয়া জায়েজ। যেমন নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ এবং দুর্বল লোকেরা । তদ্রূপ এসব লোকের সেবা-পরিচর্যার জন্য যাদের সঙ্গে থাকা দরকার তারাও ।
৭৯৩, যে ব্যক্তি দুই উদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে অবস্থান করতে পারেনি কিম্বা রাতের বেলায়ও অবস্থান করতে পারেনি, সে যদি ওজর বা সমস্যাগ্রস্ত লোক হয়ে থাকে এবং সূর্যোদয় থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কিছু সময় অবস্থান করে, সেটা যৎসামান্যই হোক না কেন, তার হজ্ব সঠিক হবে।
৭৯৪, পূর্ববর্তী মাসআলাগুলো থেকে প্রমাণ হয় যে, মাশআরুল হারামে অবস্থানের তিনটি সময় রয়েছে
এক. ঈদপূর্ব রাতে : যাদের কোন সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য । দুই : সুবহে সাদিকের উদয় ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে :
তিন, যিলহজ্জ মাসের দশম দিনের সূর্যোদয় থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত যা মাশআরে অবস্থানের জরুরি সময়। যেমনভাবে প্রথম প্রকারের সময়টাও জরুরি সময়।
৭৯৫. যেহেতু জানা গেল যে, আরাফাত এবং মাশআরে অবস্থানের জন্য স্বাভাবিক ও জরুরি সময়সীমা রয়েছে। আর মাশআরে অবস্থানের দুই ধরনের জরুরি সময় রয়েছে। সুতরাং এই উভয় স্থানে কিম্বা কোন একটিতে, তা এক্রিয়ার তথা স্বাভাবিক সময়ে কিম্বা জরুরি সময়ে স্বতন্ত্রভাবে অথবা যুক্তভাবে হোক, তদ্রূপভাবে তা যদি ইচ্ছাকৃত কিম্বা অজ্ঞতার কারণে কিম্বা ভুলে যাওয়ার কারণে হয়- এভাবে মাসআলার একাধিক রূপ দাঁড়ায়। তবে এখানে যে মাসআলাগুলোর বেশি প্রয়োজন হতে পারে সেগুলোই তুলে ধরা হলো :
প্রথমতঃ মুকাল্লাফ ব্যক্তি উভয় স্থানেই এক্তিয়ারী তথা স্বাভাবিক সময়ে উপস্থিত হতে সক্ষম হলো। অর্থাৎ আরাফাত দিবসে যোহর থেকে আরাফাতে এবং যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখের ভোরে দুই উদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে মাশআরে উপস্থিত হলো । সুতরাং তার হজ্ব সঠিক হওয়ার পথে কোন সমস্যা নেই ।
দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের এক্তিয়ারী তথা স্বাভাবিক সময়কে পেল। তবে মাশআরে অবস্থানের ক্ষেত্রে দিনের বেলার জরুরী সময়কেই শুধু পেল। সুতরাং, সে যদি মাশআরের স্বাভাবিক বা এক্তিয়ারী সময়কে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল । অন্যথায় হজ্ব সঠিক
তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি মাশআরে অবস্থানের স্বাভাবিক সময়কে এবং আরাফাতে অবস্থানের জরুরি সময়কে পেল, সে যদি আরাফাতের স্বাভাবিক সময়কে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল । অন্যথায় হজ্ব সঠিক
চতুর্থতঃ যে ব্যক্তি আরাফাতে জরুরি সময়কে এবং মাশআরের দিনের বেলার জরুরী সময়কে পেল, সে যদি দুই আরাফাত ও মাশআরের স্বাভাবিক সময়ের কোন একটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল । অন্যথায় হজ্ব সঠিক হওয়া অসম্ভব নয় । যদিও সতর্কতা হলো হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার শর্তে পরবর্তী বছরে তা পুনঃ আদায় করা ।
পঞ্চমতঃ যে ব্যক্তি কেবলম আরাফাতের জরুরি সময়কে পেল, এমতাবস্থায় তার হজ্ব বাতিল
ষষ্ঠতঃ যে ব্যক্তি মাশআরের স্বাভাবিক সময়কে পেল, এমতাবস্থায় সে যদি আরাফাতে অবস্থানকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ না করে থাকে, তাহলে তার হজ্ব সঠিক । অন্যথায় তার হজ্ব বাতিল ।