মাসুম গণ (আ.) -এর বানীতে ইমাম হোসাইন (আ.)

মাসুম গণ (আ.) -এর বানীতে ইমাম হোসাইন (আ.)
অনুবাদ : মো. আলী নওয়াজ খান
১. হাদীসে কুদসী : হোসাইনকে ওহীভান্ডারের রক্ষক মনোনীত করা হয়েছে এবং আমি শাহাদতের মাধ্যমে সম্মান প্রদান করেছি। আর তার শেষ পরিণতিকে চরম সাফল্যমন্ডিত করেছি। তাই সে-ই হল শহীদদের শিরোমণি এবং সকলের শীর্ষে তার অবস্থান। আমি আমার র্পূণ কালিমাকে তার সাথে রেখেছি এবং আমার র্পূণনিদর্শনকেও তার কাছেই রেখেছি। আর তার বংশধারার র্নিভর করছে প্রত্যেকের প্রতিদান ও শাস্তি। (উসুল আল কাফী, ২খন্ড, ৪৭২ পৃ. মাযাআ ফি ইসনা আশার ওয়ান নাস্ আলাইহা, অধ্যায় ৩ নম্বর হাদীস।)
২. হযরত মহানবী (স.)নিঃসন্দেহে হোসেনের (আ.) শাহাদত মুমিনদের অন্তরে এমন এক উত্তাপ ও আবেগের সৃষ্টি করে যা কখনও শীতল হবে না। (মুস্তাদরাকুল ওসাইল ১০ম খন্ড, ৩১৮ পৃ. ৪৯তম আববাবুল মাজার, মাজার অধ্যায় ১৩ নম্বর হাদীস।)
৩. হযরত আমিরুল মুমেনিন আলী (আ.): ইমাম আলী (আ.) নিজ সন্তানের দিকে তাকিয়ে বললেন : এ এমন এক ব্যক্তি যার স্মৃতি ও নাম স্মরণ মুমিনদের চোখে অশ্রæ ঝরাতে থাকবে। হোসেন (আ.) বললেন : আপনি কি আমাকেই সম্বোধন করে বলছেন ? তিনি উত্তরে বললেন : জ্বী, আমার সন্তান। (বিহারুল আনোয়ার ৪৪তম খন্ড, ২৮০ পৃ, ওয়া ফাজলু যিয়ারাতুল হোসায়েন (আ.) ৩৮পৃ.।)
৪. হযরত ফাতেমা জাহরা (আ.): আমার গর্ভাবস্থায় যখন হোসাইন (আ.)ছয় মাসে উর্ত্তীণ হল, তখন থেকে রাতের আঁধারে আর আমার প্রদ্বীপের প্রয়োজন হয়নি আর ইবাদতের সময় ও প্রভুর সান্নিধ্য লাভের জন্য যখন নির্জনতা অবলম্বন করতাম তখন তাঁর তাসবিহ ও তাকদীস পাঠের আওয়াজ শুনতে পেতাম। (বিহারুল আনোয়ার ৪৩খন্ড, ২৭৩ পৃ,। আওয়ালেম গ্রন্থ ১৭তম খন্ড؛ ১১পৃ.। আদ্দামায়াস সাকিরাহ্ ২৫৯ পৃ. এবং খাসাইসুস হোসাইনীয়া ৩১ পৃ.।)
৫. ইমাম হাসান (আ.): আমাকে বিষ পানে শহীদ করা হবে কিন্তু হে আবা আবদুল্লাহ্! তোমার মসিবতের দিনটির ন্যায় আর কোন মসিবতের দিন আসবে না। (আমুলী-ই শেখ সাদুক ১১৬ পৃ,। বিহারুল আনোয়ার ৪৫ খন্ড, ২১৮ পৃ,। মাসিরুল আহজান, ৯ পৃ,। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ১৫৪ পৃ. এবং লুহুফ ২৫ পৃ.।)
৬. হযরত ইমাম হোসাইন (আ.): আমার হত্যা ক্রোন্দনে এক মহাধারার সৃষ্টি করবে। আর কোন মুমিন ব্যক্তিই দুঃখ ও অশ্রæসিক্ত চোখ না নিয়ে আমাকে স্মরণ করবে না। (আমুলী-ই শেখ সাদুক ১৩৭ পৃ। কামিরুজ জিয়ারাত, ১০৮ পৃ.। বিহারুল আনোয়ার ৪৪ খন্ড, ২৮৪ পৃ.। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ৫৩৬ পৃ. এবং ইসবাতুল হিদাইয়া ২খন্ড, ৫৮৪ পৃ.।)
৭. হযরত সাইয়েদুস সাজেদিন হোসাইন বিন আলী (আ.): আমি এক ব্যক্তির সন্তান যার জন্য আসমানের ফেরেস্তাগণ এবং ভূ-পৃষ্ঠে জ্বীনেরা ও পাখিরা বাতাসে শোকে শোকাহত হয়ে ক্রোন্দন করেছিল। (বিহারুল আনোয়ার ৪৫খন্ড, ১৭৪ পৃ, এবং আওয়ালেম গ্রন্থ ১৭ তম খন্ড ৪৮৫ পৃ.।)
৮. হযরত ইমাম মুহাম্মদ বাকের (আ.): ইয়াহিয়া ইবনে জাকারিয়ার মৃত্যুর পর আর কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে আসমানকে কাঁদতে দেখা যায়নি একমাত্র হোসাইন ইবনে আলীর (আ.) শাহাদত ব্যতীত। তাঁর শাহাদতে চল্লিশদিন ধরে শোকে ক্রোন্দনরত ছিল। (কামিরুজ জিয়ারাত, ৯০ পৃ,। বিহারুল আনোয়ার ৪৫ খন্ড, ২১১ পৃ,। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ৪৬৯ পৃ.।)
৯. হযরত জাফর সাদিক (আ.): মসিবতের সময় আহাজারি ও ফরিয়াদ করে কান্নাকাটি অপছন্দনীয় তবে কেবল হোসাইন (আ.)এর শোকে ক্রোন্দন ব্যতীত। হোসাইনের (আ.) শোকে ক্রোন্দন ও আহাজারির জন্য প্রতিদান দেয়া হবে। (কামিরুজ জিয়ারাত, ১০০ পৃ,। বিহারুল আনোয়ার ৪৪ খন্ড, ২৯১ পৃ,। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ৫৩৩ পৃ.।)
১০. হযরত মুসা ইবনে জাফর (আ.) ইমাম রেজার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন : মহররম মাস যখন শুরু হত তখন আমার পিতার মুখে আর হাসি-খুশী দেখা যেত না। তিনি যেন দুঃখ ও বেদনায় ভরাক্রান্ত হয়ে পড়তেন। এভাবে আশুরার দিন পর্যন্ত যেদিন, শোক ও দুঃখে ক্রোন্দন করতেন। আর বলতেন এমন একটি দিনে হোসেনকে হত্যা করা হয়েছিল। (আমুলী-ই শেখ সাদুক ১২৮ পৃ,। বিহারুল আনোয়ার ৪৪ খন্ড, ২৮৪ পৃ,।। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ৫৩৮ পৃ.।)
১১. হযরত ইমাম আলী ইবনে মুসা দো (আ.): হোসেনের (আ.)মসিবত আমাদের অন্তরকে আহত ও চক্ষুকে ব্যথিত করে তুলেছে। এ মসিবত আমাদের অশ্রæ ঝরিয়েছে, আমাদের আপনজনদেরকে ঐ দুরদেশে লাঞ্ছিত ও অসহায় করেছে। সেদিনের দুঃখ বেদনা এতই গভীর যে আমাদেরকে চিরদিনের জন্য শোকাহত ও ব্যথিত করেছে। (আমুলী-ই শেখ সাদুক ১২৮ পৃ,। বিহারুল আনোয়ার ৪৪ খন্ড, ২৮৪ পৃ,। আল আওয়ালেম, ১৭ খন্ড, ৫৩৮ পৃ.।)
১২. হযরত ইমাম ত্বাকী (আ.): কোন ব্যক্তি যদি ২৩ রমজানে (যে রাতটি কদরের রাত হওয়ার সম্ভবনা আছে) ইমাম হোসেনকে (আ.) জিয়ারত করে তাহলে ২৪ হাজার ফেরেস্তা এবং স্বয়ং মহানবীও (স.)তার সাক্ষাত করেন। এরা ঐদল যারা এই রাতে ইমাম হোসেনকে (আ.) জিয়ারত করার জন্য আল্লাহর কাছে অনুমতি আবেদন করেন। (ওসাইলুশ শীয়া ১০ম খন্ড ১৭০ পৃ. ৫৩ নম্বর অধ্যায় আল আববাসুল মাজার ৫ নম্বর হাদীস।)
১৩. হযরত ইমাম আলী নকী (আ.): যে ব্যক্তি ইমাম হোসেনকে (আ.) জিয়ারতের জন্য নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে ফুরাতের নদে স্নান করবে। খোদা তার নাম সফল ব্যক্তিদের লিষ্টে লিখে দিবেন। আর যখন সে ঐ হোসেনকে সালাম করবে তখন তাকে সফলতা লাভকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিগণনা করেন। তারপর যখন সে জিয়ারতের নামাজ শেষ করে তখন একজন ফেরেস্তা তাকে বলেন : আল্লাহর রাসুল তোমার প্রতি দরুদ পাঠিয়েছেন এবং তোমাকে বলেন, তোমার গোনাহ্ সমূহ ক্ষমা করা হয়েছে। অতঃপর তখন তুমি আবার প্রথম অবস্থায় ফিরে গেছে। (ওসাইলুশ শীয়া ১০ম খন্ড ৩৮০ পৃ. ৫৯ নম্বর অধ্যায় আববাসুল মাজার ১০ নম্বর হাদীস। কামিরুজ জিয়ারাত, ১৮৫-১৮৬ পৃ,।)
১৪. হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.): হে আল্লাহ্ আমি তাঁর ওসিলা দিয়ে তোমার কাছে প্রাথনা করছি যে এমন একটি দিনে (৩রা শাবান) জন্ম গ্রহণ করেছিল। যার জন্মের পূর্বে তাঁর শাহাদতের প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছিল। যার শোকে আসমান ও আসমানবাসীরা, আর ভূ-পৃষ্ঠ ও তার অধিবাসীগণ ক্রোন্দন করছে। এটা এমন এক অবস্থায় যখন সে পৃথিবীতেই পা রাখেনি। (মিসবাহুল মুতাহাজ্জিদ, ৭৫৮ পৃ, বিহারুল আনোয়ার ৯৮ খন্ড, ৩৪৭ পৃ. মাফাতিহুল জিনান, মহরমের তৃতীয় দিনে আমল।)
১৫. হযরত ইমাম মাহদী (আ.): যদিও সময় আমাকে পিছিয়ে দিয়েছে পরিণতি আপনাকে সাহায্য করা থেকে বিরত রেখেছে ফলে আপনার সাথী হয়ে দুশমনদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারিনি। তবে প্রতিটি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাঁদছি আর আপনার স্মৃতিচারণ করে বুক ফাটা কান্নায় আর্তনাদ করছি। (বিহারুল আনোয়ার, ৯৮ খন্ড, ৩২ পৃ.।)

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More