মা ফাতিমার সন্তুষ্টিতে খোদার সন্তুষ্টির দর্শন

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) বলেছেন, ফাতিমা আমার অস্তিত্বের অংশ বিশেষ যে তাকে কষ্ট দেবে সে আমাকে কষ্ট দিল।

মানবজাতির সর্বকালের সেরা মহামানব ও শিক্ষক পিতা বিশ্বনবীর (সা.) ওপর মুশরিকদের চাপিয়ে দেয়া নানা কষ্ট আর যন্ত্রণা লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন হযরত ফাতিমা (সা.আ.)। বাবার সেবায় জননীসুলভ অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য তাকে বলা হত উম্মে আবিহা বা পিতার মা।অন্যদিকে বিশ্বনবীর (সা.) পবিত্র আহলে বাইত ও বংশধারা রক্ষিত হয়েছে এই বেহেশতি নারীকুলের সম্রাজ্ঞী ফাতিমার (সা.আ.) মাধ্যমে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) হযরত ফাতিমা (সা:) সম্পর্কে বলেছেন, ফাতিমা আমার দেহের অঙ্গ, চোখের জ্যোতি, অন্তরের ফল এবং আমার রূহস্বরূপ। সে হচ্ছে মানুষরূপী স্বর্গীয় হুর।

প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ বুখারীতে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ফাতিমা আমার অংশ। যে কেউ তাকে অসন্তুষ্ট ও ক্রোধান্বিত করলো সে আমাকেই অসন্তুষ্ট ও ক্রোধান্বিত করলো। একই ধরনের হাদীস বর্ণিত হয়েছে মুসলিম শরীফ ও আহমদ ইবনে শুয়াইব নাসায়ীর ফাজায়েল গ্রন্থসহ আরো অনেক হাদীস গ্রন্থে। হাদীসে এটাও এসেছে যে যা আল্লাহর রসূলকে (সা.) অসন্তুষ্ট করে তা আল্লাহকেও অসন্তুষ্ট বা ক্রুদ্ধ করে। হযরত ফাতিমা (সা:)’র উচ্চতর মর্যাদা উপলব্ধি করার জন্য কেবল এ হাদীসই যথেষ্ট। বিশ্বনবীর (সা.) আহলে বাইতের (আ.) সদস্য হযরত ফাতিমা যে নিষ্পাপ ছিলেন তাও এসব বর্ণনা থেকে স্পষ্ট।
আর এই আহলে বাইতকে উদ্দেশ্য করে সূরা শুরার ২৩ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: হে রাসূল! আপনি বলে দিন আমি আমার ২৩ বছরের রেসালতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমার নিকট আত্মীয়ের ভালবাসা ছাড়া আর কিছুই চাই না।###

Related posts

ইমাম জাফর সাদিক (আ.): জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার অনন্য আলোকবর্তিকা

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বলার নীতি ও সুন্দর জীবন গঠনের শিক্ষা

রাসুলের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা: একটি ঐতিহাসিক হাদিসের আলোকে প্রস্তাবনা

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More