মাসআলা (৬৮): মুতলাক পানির আহকাম নিম্নরূপ:
১. মুতলাক পানি অপবিত্র জিনিসকে পবিত্র করে দেয় (অর্থাৎ অপবিত্রকে পবিত্রকারী)।
২. মুতলাক পানি, তবে কালিল পানি ব্যতীত, যতক্ষণ না অপবিত্র (ময়লা)—র সাথে স্পর্শের কারণে বর্ণ কিংবা গন্ধ কিংবা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাবে, ততক্ষণ পবিত্র থাকবে।
৩. মুতলাক পানি দ্বারা ওযু ও গোসল সঠিক হবে।
মাসআলা (৬৯): মুতলাক পানির ব্যাপােও শারয়ী দিকগুলো কার্যকরী হওয়ার জন্য সাধারণ বিচােও তার উপর মুতলাক নামটি প্রযোজ্য হওয়াই যথেষ্ট। কাজেই যেহেতু ে¯্রফ লবণাক্ততাবশত পানির ঘনত্ব থাকার কারণে ঐ পানিতে মুতলাক বলায় অন্তরায় সৃষ্টি হয় না, একারণে সমুদ্রের যে পানি প্রচুর লবণাক্ততার কারণে ঘন হয়ে আছে, তা দ্বারা অপবিত্র জিনিসসমূহকে ধৌত করা যাবে এবং ওযু ও গোসল করা যাবে।
১. বৃষ্টির পানি:
মাসআলা (৭০): বৃষ্টির পানি যদি কোনো অপবিত্র হওয়া জিনিসের উপর বর্ষিত হয় তাহলে সেটাকে পবিত্র করে দেয়।
২. কুর ও প্রবহমান পানি
মাসআলা (৭১): যে জিনিস অপবিত্র হয়ে গেছে সেটাকে যদি কুর কিংবা প্রবহমান পানির মধ্যে ডুবায় তাহলে তা পবিত্র হয়ে যায় এবং খোদ পানি অপবিত্র হয় না।
মাসআলা (৭২): যদি কুর ও প্রবহমান পানির মধ্যে কোনো অপবিত্র জিনিস পড়ার কারণে তার রং, গন্ধ কিংবা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে তা অপবিত্র হয়ে যায়। আর সেক্ষেত্রে তা অপবিত্র হওয়া জিনিসকে পবিত্র করে না।
মাসআলা (৭৩): (অপবিত্র জিনিসকে) পবিত্র করার ক্ষেত্রে কুর ও প্রবহমান পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৩. কালিল পানি:
মাসআলা (৭৪): যদি কোনো অপবিত্র জিনিসকে কালিল পানির মধ্যে ডুবানো হয় তাহলে উক্ত পানি অপবিত্র হয়ে যায়। আর ঐ পানি কোনো অপবিত্র জিনিসকে পবিত্র করতে পারে না।
মাসআলা (৭৫): যদি কালিল পানিকে যেসব জিনিস অপবিত্র হয়ে গেছে, সেসব জিনিসের উপর ঢালে তাহলে সেগুলোকে পবিত্র করে দেয়। কিন্তু অপবিত্র জিনিসের উপর ঢালার যে পানিটুকু ঐ জিনিসের গা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে তা অপবিত্র থাকে।
মাসআলা (৭৬): যে কালিল পানি কোনো বেগ ছাড়াই নিচের দিকে বেয়ে পড়ছে এবং তার নিচের দিকে বেয়ে পড়ছে এবং তার নিচের অংশ অপবিত্র (ময়লা) জিনিসের সাথে স্পর্শ করছে, সেক্ষেত্রে যদি পানির বেয়ে পড়াটা এমনভাবে হয় যে এটাকে উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়া বলা যায়, তাহলে এর উপরের অংশ পবিত্র।
মাসআলা (৭৭): কালিল পানি যদি কুর কিংবা প্রবহমান পানির সাথে সংযুক্ত থাকে তাহলে তা কুর ও প্রবহমান পানির হুকুমভুক্ত হবে।