রজব, শাবান ও পবিত্র রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব
বিভিন্ন ধর্মে “পবিত্র স্থান” নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে যা নির্দিষ্ট স্থান, বস্তু বা দিনকে মূল্য দিয়ে থাকে। কারণ সেগুলো আমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আহলে বাইত (আ.) মাযহাবে মক্কা, মদিনা, নাজাফ ও কারবালার মত নির্দিষ্ট কতক শহরের প্রতি বিশেষ মূল্য দেয়া হয়েছে। একইভাবে, ইমাম হোসাইনের (আ.) তুরবাতের (কবরের চারপাশের মাটি) পবিত্রতার উপর মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন, “আল্লাহ এতে উপকার করবেন বলে যদি কেউ ইমাম হোসাইনের (আ.) তুরবাত বা কবরের মাটি বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ এতে উপকার করবেন।” (শেখ কুলায়নি, আল কাফী, ৪র্থ খন্ড, পৃ. ৫৮৮।)
“পবিত্র সময়ের” ক্ষেত্রে যেসব মাস অবিশ্বাস্যভাবে তাৎপর্যপূর্ণ তা হল রজব, শাবান ও রমজান। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলছেন, “আর অবশ্যই আমরা মুসাকে আমাদের নিদর্শনসহ পাঠিয়েছিলাম ও বলেছিলাম, আপনার সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনগুলোর দ্বারা উপদেশ দেন। এতে তো নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক পরম ধৈর্য্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।” (সূরা: ইবরাহীম, ৫ম আয়াত।)
নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ইসলামী পুঞ্জিকার সপ্তম, অষ্টম ও নবম মাসকে “আল্লাহর মাস” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ এ মাসগুলোর প্রতিটি দিনের এক নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও ইবাদত যুক্ত রয়েছে যা দোয়ার বইগুলোতে উল্লেখ হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “রজব সর্বশক্তিমান আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস।” (মাফাতিহুল জিনান।)
এই মাসের সাধারণ গুণাবলি:
যদিও তিনটি পবিত্র মাসের প্রত্যেকটির নিজস্ব অনন্য গুণাবলি ও প্রার্থনার নির্ধারিত রূপ রয়েছে তবুও এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সাধারণ বিষয়ও রয়েছে।
ক্ষমা চাওয়া ও অন্যদের ক্ষমা করা: এই মাসগুলোতে বাস্তবায়ন করার জন্যে অনেক ইবাদতের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কাজগুলো আমাদের আধ্যাত্মিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে ক্ষমা চাওয়া। দিনে সত্তরবার “আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আসআলুহুত্ তাওবাহ” – আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাঁর নিকট তওবা করছি – পাঠ করার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ অনুতাপ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আমাদের মধ্যে কেউ পাপ করে থাকতে পারে এবং আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হলে তার পাপ ক্ষমা করা হবে। আমাদের কথা বা কাজের মাধ্যমে যারা আঘাত পেয়েছে তাদের কাছ থেকেও আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। যদি কেউ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করে থাকে এবং আমরা এখনও তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করে থাকি তাহলে তাদেরও ক্ষমা করার জন্যে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। মনে রাখতে হবে যে, আমরা যদি সৃষ্টির প্রতি করুণাশীল হই তাহলে হয়তো আল্লাহও আমাদের প্রতি দয়াশীল হবেন।
রোজা: শুধু রমজান মাসেই নয়, বরং রজব ও শাবান মাসেও রোজা রাখার জন্যে অনেক সুপারিশ করা হয়েছে। এই মাসগুলিতে রোজা রাখার উপকারিতা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। ইমাম মুসা কাজিম (আ.) বলেন, “যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখে, তার থেকে জাহান্নামের আগুন (এক বছরের জন্যে) দূরে থাকে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে তিন দিন রোজা রাখে তার জন্যে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।” (শেখ সাদুক, আল্ ফাকীহ, ২য় খন্ড, পৃ. ৯২।)
ইমাম রেজা (আ.) বলেন: “যে ব্যক্তি শাবান মাসে একদিন রোজা রাখবে সে জান্নাতে পুরস্কৃত হবে।” (শেখ মাজলিসী, বিহার, ৯৪তম খন্ড, পৃ. ৭২।)
উপরোক্ত হাদীসগুলো প্রমাণ দেয় যে, এই সময়ে রোজা রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে কেউ ইবাদত-বন্দেগী করে শুধু আল্লাহকেই খুশি করবে তা নয়, বরং পুরস্কারটিও তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েকদিন রোজা রাখার জন্যে জান্নাত দানের আশ্বাস! এর চেয়ে বড় প্রতিদান আর কী হতে পারে?
কুরআন তিলাওয়াত: এই পবিত্র মাসসমূহে ক্ষমাপ্রার্থনা ও রোজা রাখার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই পবিত্র কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যে নিজেদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ইমাম বাকির (আ.) বলেন, “প্রত্যেক জিনিসেরই একটি বসন্তকাল রয়েছে। আর কুরআনের বসন্তকাল হচ্ছে রমজান মাস।” (শেখ কুলায়নি, আল কাফী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬৩০।)
রমজান মাসে অধিকমাত্রাই কোরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আমাদেরকে আধ্যাত্মিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং কুরআনের আয়াতের অর্থ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। রমজান মাস পবিত্র কুরআনের মাস হিসেবে পরিচিত। তাই এ মাসে একটু বেশি সময় ধরে পবিত্র কুরআন পড়ার জন্যে উৎসর্গ করা উচিত। এটি এক ছোট পদক্ষেপ হলেও এর মাধ্যমে আমরা আমাদের আত্মা ও ওহীর মধ্যে এক সংযোগ গড়ে তুলতে পারি।
রজব মাসের রাতগুলোই বিশেষভাবে বরকতময় রাত হিসেবে পরিগণিত হয়। মহানবী (সা.) বলেন, “রজব মাস রজব আল্ আসাব বা উপচে পড়া মাস নামে পরিচিত। কারণ এতে আমার উম্মতের উপর রহমত উপচে পড়ে।” (শেখ আব্বাস কুমী, মাফাতীহুল জিনান, পৃ. ১৮০।)
এই মাসের সকাল-সন্ধ্যা আমরা বলি, “হায়, যিনি চাওয়া হলে দেন! যিনি না চাইলেও দেন। হে সেই সত্তা যিনি স্বীয় করুণা দান করেন তাদেরকে যারা তাঁকে জানে ও যারা তাঁকে জানে না।” (শেখ আব্বাসে কুমী, মাফাতীহুল জিনান, পৃ. ১৮৬।)
এই প্রার্থনার মাধ্যমে ইমামগণ (আ.) আমাদের জন্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আল্লাহ সর্বদা করুণাময়। যারা চায় তাদেরকে তো তিনি দান করেনই; কিন্তু যারা চায় না ও তাঁকে চেনে না তাদেরকেও তিনি দান করেন। কারণ তিনি স্বীয় সৃষ্টির প্রতি অত্যন্ত করুণাময় ও দয়ালু। এই দিন ও রাতগুলো আমাদের দুনিয়া ও পরকালের জন্যে আকাঙ্খা অর্জনের এক অবিশ্বাস্য সুযোগ।
রজব মাসের মত শাবান মাসেও নির্দিষ্ট কতক ইবাদত ও দোয়া রয়েছে। এক উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে, এই মাসের পনের তারিখে হযরত ইমাম হোসাইনের (আ.) যিয়ারত করা। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন, “যে ব্যক্তি ১,২৪,০০০ নবীর সঙ্গে হাত মেলাতে চায় তার উচিত শাবানের পনের তারিখে ইমাম হোসাইনের (আ.) কবর যিয়ারত করা। নিশ্চয়ই নবীদের আত্মাগুলো এই সফরের জন্যে আল্লাহর কাছে অনুমতি চান এবং আল্লাহ তাদের অনুমতি দেন। নিঃসন্দেহে জান্নাত সেই ব্যক্তির জন্যে যে তাঁদের হাত নাড়ার সুযোগ পায়। তাঁদের মধ্যে হযরত নূহ, ইবরাহীম, মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ (সা.) সহ সর্বশ্রেষ্ঠ নবীরা রয়েছেন।” (শেখ আব্বাসে কুমী, মাফাতীহুল জিনান, পৃ. ৫১৬।)
নবীদের ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মাধ্যম হচ্ছে ইমাম হোসাইনের (আ.) কবর যিয়ারত। ইমাম হোসাইনের (আ.) প্রতি আমাদের আনুগত্যের অঙ্গীকার করা আমাদের জন্যে এক সুযোগ যে, আমরা যদি আশুরার দিন তাঁর সঙ্গে থাকতে পারতাম ও আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে পারতাম!
এই কারণেই ইমাম হোসাইন (আ.) স্বীয় জীবন এবং সর্বস্ব খোদার পথে দান করেছেন। আল্লাহ ইমাম হোসাইনকে (আ.), তাঁর যিয়ারতে আসা লোকদের জন্যে মহান পুরস্কার (জান্নাত) সংযুক্ত করার সম্মান দিয়েছেন।
পবিত্র রমজান মাসের দিন-রাতগুলো সর্বাধিক পবিত্র দিন-রাত। প্রতিটি রাতের জন্যে নির্দিষ্ট প্রার্থনা রয়েছে। যাইহোক, লাইলাতুল ক্বদর যেটি পবিত্র রমজান মাসের ঊনিশ কিংবা একুশ অথবা তেইশ বা সাতাশ তারিখের কোনো এক রাতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেটি ইসলামী পুঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “লাইলাতুল ক্বদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।” (সূরা: ক্বদর, ৩য় আয়াত।)
এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা এই রাতে ঘটেছিল তা হল পবিত্র কুরআন নবী মুহাম্মদের (সা.) কাছে নাজিল হয়েছিল। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি একে (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি মর্যাদাপূর্ণ রাতে (শবে ক্বদর)।” (সূরা: ক্বদর, ১ম আয়াত।)
এই মহান রাতে আসমান থেকে মানবজাতির জন্যে চূড়ান্ত নির্দেশনা অবতীর্ণ হয়েছিল। প্রতি বছর আমরা আমাদের জন্মদিন ও বার্ষিকী উদযাপন করে থাকি। কারণ সেগুলো আমাদের আনন্দের অনুষ্ঠানের কথা মনে করিয়ে দেয়। একইভাবে, আমরা আমাদের পবিত্র গ্রন্থ নাজিলের বার্ষিকী উদযাপন করতে পারি। কারণ এটি আমাদের জীবনকে আলোকিত করে এবং কিভাবে দুনিয়া ও পরকালে সফল হওয়া যায় তা আমাদের শেখায়।
এই রাতেই মহান আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্যে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। ইমাম সাদিক (আ.) বলেন, “লাইলাতুল ক্বদরে ফেরেশ্তাগন নিম্ন আসমানে অবতরণ করেন এবং সেই বছর আল্লাহ যা আদেশ করেন তা লিখে রাখেন। আল্লাহ কোনো কিছু স্থগিত বা সংযোজন করতে চাইলে ফেরেশ্তাদের তা মুছে ফেলার বা সংযোজন করার আদেশ দেন।” (বিহার, ৯৪তম খন্ড, পৃ. ১২।)
আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটবে তা এই রাতের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহপাক নির্ধারণ করে দেন। আমরা এই রাতে দোয়া ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে আগামী বছরের জন্যে যদি সবচেয়ে বেশি সদ্ব্যবহার করি তাহলে আমাদের নিজস্ব ভাগ্যের ব্যাপারে কিছু বলার সুযোগ রয়েছে। যদি আমরা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি তাহলে মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের প্রার্থনায় সাড়া দেবেন। যেমনটি তিনি বলেন, “আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে (তখন বলে দিন) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে রয়েছি। আহব্বান কারী যখন আমাকে আহব্বান করে তখন আমি তার আহব্বান সাড়া দেই। কাজেই, তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।” (সূরা: বাক্বারা, ১৮৬তম আয়াত।)
কতক পরামর্শ: এই পবিত্র মাসগুলিতে আমাদের উচিত, আমাদের শক্তিকে আধ্যাত্মিক শক্তিতে পরিণত করে ও সর্বশক্তিমান আল্লাহকে খুশি করে এমন সব কাজ করা। রোজা রাখা, প্রার্থনা করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা ছাড়াও আরও বহু কাজকর্ম রয়েছে যা আল্লাহকে খুশি করার জন্যে আমরা করতে পারি, যেমন:
পিতা-মাতার প্রতি সদয় আচরণ: একদা এক ব্যক্তি হযরত ইমাম সাদিককে (আ.) বল্ল, “আমার পিতা অতীব বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়ায় আমরা তাকে টয়লেট করতে সাহায্য করি।” ইমাম বললেন, “যদি তুমি পার তাহলে তার জন্যে এসব করা অব্যাহত রাখ এবং তাকে নিজের হাতে খাওয়াও! এটিই আগামীকাল তোমার জন্যে জান্নাত।” (শেখ কুলায়নি, আল্ কাফী, ২য় খন্ড, ৭০তম অধ্যায়।)
ইফতার তৈরিতে সহযোগিতা করা: ষষ্ঠ ইমামের মতে মহানবী (সা.) বলেন, “যদি কেউ দিনের শেষে কোনো রোজাদারের জন্যে খাবার পরিবেশন করে তাহলে আল্লাহ তা এক ক্রীতদাস মুক্ত করার সমান পুরস্কার তার আমলনামায় লিখেন এবং তার অতীতের সব পাপ ক্ষমা করে দেন।” বলা হল: “হে আল্লাহর রসুল! আমরা প্রত্যেকেই রোজাদারকে ইফতার করাতে পারি না (তাহলে আমরা কি সওয়াব পাব না?)।” আল্লাহর রসুল (সা.) বলেন, “আল্লাহ দয়ালু। তিনি তোমার সামান্য কাজের জন্যেও মহৎ পুরস্কার দিবেন। কেউ যদি সামান্য শরবত, কিংবা মিষ্টি অথবা একটি খেজুর ব্যতীত কোনো কিছু দেয়ার সামর্থ্য না রাখে তাহলেও আল্লাহ তার এই স্বল্প আমলের জন্যে মহৎ পুরস্কার দিবেন …। (শেখ কুলায়নি, আল্ কাফী, ৪র্থ খন্ড, ৪৭তম অধ্যায়, পৃ. ৬৭।)
আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদাচার: আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাধারণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরী। আর এর ফলে মানুষের আয়ু ও রুজি বৃদ্ধি পায়। কাজেই আমরা যেন সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ না করি! আল্লাহর রসুল (সা.) বলেন, “দ্রুত প্রতিদানসহ ভাল কাজ হল আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।” (শেখ কুলায়নি, আল্ কাফী, ২য় খন্ড, পৃ. ১৫২।)
অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ: আত্মীয়স্বজন সহ সমাজের কোনো রুগ্ন বা অসুস্থ ব্যক্তিকে আমরা দেখতে গেলে সে মানসিকভাবে শক্তি-সাহস অনুভব করে। কাজেই অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া এবং সাধ্য মত তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা আমাদের উচিত। হযরত ইমাম সাদিক (আ.) বলেন, “যদি কেউ কোনো রুগ্ন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যায় তাহলে মহান আল্লাহ তার কবরে তাকে দেখার জন্যে একজন ফেরেশতা নিয়োগ করেন।” (শেখ কুলায়নি, আল্ কাফী, ৩য় খন্ড, পৃ. ৮২।)
রজব, শাবান ও রমজান মাসের দিনগুলি ইসলামী পুঞ্জিকার সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ.) অসংখ্য হাদীসের মাধ্যমে এসব মাসের দিনগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই মাসগুলো হতে উপকৃত হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এগুলো দ্রুত আসে ও দ্রুতই চলে যায়। আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া, রোজা রাখা, কুরআন তিলাওয়াত করা ও আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর এসব কাজ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আমরা যেন আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করতে পারি – এটাই হোক আজ আমাদের ঐকান্তিক কামনা।
( অনুবাদক: মল্লিক শিহাব ইকবাল।)