সাঈ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া

Macca Kabe

সাঈ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া

প্রশ্ন-৬৮৫: যে ব্যক্তি সাঈ’র মাঝপথে পানি খাওয়ার জন্য তার পথ থেকে বিচার হয়ে পড়ে এবং পানি পান করার পর পুনরায় অব্যাহত রাখে, তার সাঈ’র ব্যাপারে নির্দেশ কী?

উত্তর : যদি সাঈকে ছেদ না করে থাকে এবং সাঈ’র নিয়ত সহকারে তার এল অব্যাহত রাখে এবং পথিমধ্যে পানি পান করে, কিম্বা যদি ছেদ করে থাকে, তাজ যেখান থেকে ছেদ করেছে সে স্থান কিম্বা তার বরাবর সমান্তরাল স্থান থেকে কৃতস্য সম্পূর্ণ সঠিক।

প্রশ্ন-৬৮৬ : যে সকল মহিলা মাসিক প্রতুিস্রাবের কারণে তাওয়াফের প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, তারা কি সাঈ’র জন্যেও প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে? উত্তর: সাঈর স্থান মসজিদ নয়। তাই তারা নিজেরাই সাঈ সম্পাদন করছে তবে তাওয়াফ ও সাঈ’র মধ্যে ধারাক্রম বজায় রেখে।

প্রশ্ন-৬৮৭ : এক ব্যক্তি তামায় ওমরাহ’র তাওয়াফ পালন করার পর নিখোঁজ হয়। যায় এবং খোঁজ পাওয়ার পর সে তার সঙ্গীদেরকে বলে যে, সাফা ও মারলাম। মধ্যেকার সাঈ সে পালন করেছে। অতঃপর তাছীর সম্পন্ন করে তামাকু হজ্বের জানান ইহরাম বেঁধেছে। কিন্তু আরাফাত ও মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তাওয়াফ এবং সাক্ষ ও মারওয়ার মধ্যে সাঈসহ হজ্বের আমলসমূহ পালন করার সময় সে বললো, যেন হয়। হচ্ছে আমি ওমরাহ’র আমলসমূহের জন্য সাফায় আসিনি। এমনি এমনিই বলো। ইনশাল্লাহ, এসেছিলে। ইরানে প্রত্যাবর্তনের পরে সে কয়েকবার তার ছেলেদেরকে। বলেছে, আমার আমলসমূহ অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে এবং মৃত্যুর পূর্বে সে অসিয়ত করেছে যে। তার জন্যে যেন প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়। যদি উক্ত ব্যক্তির আমলসমূহ বাতিল হয়ে। থাকে তাহলে তার উত্তরাধিকারীরা আমাকে তার হজ্বের আমলসমূহ পালনের জন প্রতিনিধি করে পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। এ মর্মে আপনার অভিমত কী?

উত্তর: উত্তরাধিকারীরা আপনাকে তামাত্তু হজ্বের আমলসমূহের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারে। তবে প্রতিনিধিকে পৃথকভাবে উক্ত মরহুমের পক্ষ থেকে নিয়য়। সহকারে সাঈ পালন করতে হবে।

‘ প্রশ্ন-৬৮৮: সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তীটা এমনভাবে রয়েছে যে, একদিক থেকে যাবে আর অপরদিক থেকে ফিরে আসবে। অর্থাৎ আসা ও যাওয়ার পথের মাঝে দুই

তিন মিটার ব্যবধান রয়েছে। প্রশ্ন হলো, যদি যে পথ দিয়ে সে সাফায় গিয়েছে সেই পথ দিয়েই মারওয়ায় ফিরে আসলে কি অসুবিধা আছে?

উত্তর : অসুবিধা নেই। তবে অন্যের বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়।

প্রশ্ন-৬৮৯ : এক ব্যক্তি সাঈরত অবস্থায় ছিল। এক সময় দেখলো যে অংশটুকু দৌড়ে দৌড়ে চলার জন্য চিহ্নিত করে রাখা আছে সে জায়গাটা সে সাধারণশটুরে অতিক্রম করে এসেছে। তার ধারণা ছিল দৌড়ে দৌড়ে চলা আবশ্যকীয়। এ কারণে সে ফিরে আসলো এবং যে অংশটুকু সাধারণভাবে গিয়েছিল তা দৌড়ে দৌড়ে পুনরায় সম্পন্ন করলো। তার সাঈ’র কি কোনো অসুবিধা হবে?

উত্তর: অসুবিধা রয়েছে।’ ক্ষমতা ও সুযোগ থাকা অবস্থায় এরূপ করা ঠিক হবে না। তবে উল্লেখিত ক্ষেত্রে তার সাঈ সঠিক এবং তার ওপর কোনো কিছুই বর্তাবে না। যদিও সতর্কতা হলো সাঈ সম্পূর্ণ করে তা পুন:আদায় করা।

প্রশ্ন-৬৯০ : এক ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করার সময় যে স্থান দিয়ে সাফা কিম্বা মারওয়ায় পৌঁছায় সে স্থান দিয়ে পরবর্তী পাক আরম্ভ করে নি। বরং প্রায় দুই তিন মিটার চন্দ্রাকৃতির কিম্বা সরাসরি আড়াআড়িভাবে সরে গিয়ে সেই স্থান থেকে আরম্ভ করে। আর এই অংশটুকুর সময় সে সাঈ’র নিয়ত সহকারে আছে কি-না সেদিকে মনোযোগ নেই। কিন্তু যদি তাকে প্রশ্ন করা হয় কি করছো? উত্তর দেয় আমি সাঈ করছি। এটা কি ক্ষতিকর?

উত্তর: উপরোক্তভাবে পাহাড়ের ওপরে হাঁটা সাঈর জন্য ক্ষতিকর নয়। আর আলোচ্য মাসআলার বেলায় সাঈ সঠিক।

প্রশ্ন-৬৯১: যে স্থান দিয়ে অসুস্থ লোকদেরকে হুইল চেয়ারে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফিরিয়ে আনা হয় (অর্থাৎ পাহাড়ের ঢালের পাদদেশ থেকে প্রায় দুই মিটার উপর থেকে) সাঈ আরম্ভ করা কি সঠিক এবং তা কি যথেষ্ট হবে? নাকি অবশ্যই সাফা পাহাড়ের প্রথম থেকে আরম্ভ করতে হবে এবং মারওয়ার স্বচ্ছ পাথরসমূহের পরে অবস্থিত পাহাড়ের অবশিষ্ট থেকে যাওয়া কালো পাথর সমূহে পৌঁছতে হবে?

উত্তর: সাঈ দুই পাহাড়ের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে এবং তা নিশ্চিত হতে হবে। উপরে যাওয়া আবশ্যকীয় নয়।

প্রশ্ন-৬৯২ : আপনি হজ্বের মাসআলায় বলেছেন, যে ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করে, ওয়াজিব হলো মারওয়ার অভিমুখে চলার সময় তার মনোযোগ থাকবে মারওয়ার দিকে এবং বিপরীতক্রমে সাফা অভিমুখে চলার সময় তার মনোযোগ থাকবে সাফার দিকে। এই মনোনিবেশ করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি কি হারাম-হালাল সংক্রান্ত আবশ্যকতা, নাকি জায়েজ- না জায়েজ সংক্রান্ত আবশ্যকতা?

উত্তর: জায়েজ না জায়েজ সংক্রান্ত।

প্রশ্ন-৬৯৩ : মানুষ কখনো ভিড়ের কারণে সাঈ করতে যাওয়ার জন্য মসজিদ হারাম পার হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে মাসিক ও প্রসবজি স্রাবগ্রস্তাদের কর্তব্য কি। তারা কি তাওয়াফের ন্যায় সাঈ’র জন্যও প্রতিনিধি দিচে করবে?

উত্তর: যদি অন্য কোনো পথ দ্বারা যাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে বিলায় কথা হবে। আর সেটাও যদি সম্ভব না থাকে, তাহলে প্রতিনিধি নিয়োগের পালা আনসার আর বরখেলাপ করে থাকলে, যদি ঐ পথ দিয়ে যায় এবং সে স্বয়ং তার সাই য তাহলে তার সাঈ সঠিক হবে, যদিও সে পাপ করলো।

প্রশ্ন-৬৯৪: অজ্ঞতাবশত সাঈকে অতিরিক্ত করলে তা ভুলক্রমে অতিরিক্ত বাং নির্দেশে পড়বে, নাকি ইচ্ছাকৃতের নির্দেশে পড়বে?

উত্তর: অসুবিধা রয়েছে।’

প্রশ্ন-৬৯৫ : যে ব্যক্তি হুইল চেয়ারে আরোহণ করা ছাড়া সাঈ’র পথ অতিক করতে পারে না, কিন্তু আর্থিক সঙ্গতিও নেই। কারণ তার বৈদেশিক মুদ্রা উপা কেনার কাজে ব্যয় করে ফেলেছে, এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?

উত্তর : যদি হুইল চেয়ার দিয়ে সাঈ করতে পারে, সেটা যদি কোনো ছি বিক্রয়ের মাধ্যমে কিম্বা ধার করেও হয়, তাহলেও সে নিজেই সাঈ কররে সি প্রতিনিধি নিয়োগ করা সঠিক নয়। যদি না কষ্ট ও অসুবিধার প্রশ্ন থাকে।

প্রশ্ন-৬৯৬: এক ব্যক্তি সাঈ’র তৃতীয় পাককে ভেঙ্গে ফেললো এবং সাফ বিলম্বের পরেই আরো সাত পাক সম্পন্ন করলো এবং তাছীর করলো। তার এই সং কি সঠিক?

উত্তর: অসুবিধা রয়েছে’। আর সাঈ পুনঃ আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-৬৯৭ : এক ব্যক্তি প্রত্যেকবার সাফা ও মারওয়ায় যাওয়া আর আসা ফি সাঈ’র এক পাক মনে করে সাঈ আরম্ভ করে এবং তৃতীয় পাকে সে মাসআলায় অনুধাবন করতে সক্ষম হয় এবং তার সাঈকে সাত পাকে শেষ করে। তার এ সঙ্গী ব্যাপারে নির্দেশ কী?

উত্তর: তার সাঈ সঠিক।

প্রশ্ন-৬৯৮: এক ব্যক্তি সাঈ অবস্থায় কখনো কখনো পেছন হয়ে মারওয়া কিম্বা সাফা অভিমুখে গেছে তার করণীয় কি?

উত্তর : ঐ অংশটুকু পূরণ করে নিতে হবে। আর যদি সে স্থান অতিক্রম করে বিয়ে থাকে তাহলে তার সাঈ’র অসুবিধা হবে। আর সতর্কতা হলো তা সম্পূর্ণ করো এবং পুনঃ আদায় করা।

প্রশ্ন-৬৯৯: বর্তমানে দ্বিতীয় তলা যা সাফা ও মারওয়ার চেয়ে ওপরে অবস্থিত, সেখান থেকে সাঈ করা কি জায়েজ?

উত্তর: অসুবিধা রয়েছে।

প্রশ্ন-৭০০ : এক ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মধ্যকার সাঈতে পাঁচ বার যাওয়া এবং ফিরে আসা মিলে মোট দশ পাক, সম্পাদন করলো। আর যখন মাসআলার প্রতি তার খেয়াল হলো, সেখান থেকেই সাঈকে ছেদ করলো এবং তাকছীর করলো। তার কর্তব্য কী?

উত্তর: প্রশ্ন অনুযায়ী তার কর্তব্য হলো সর্তকতার ভিত্তিতে সাঈ পুনঃ আদায় করা।

]প্রশ্ন-৭০১: এক ব্যক্তি সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ওপরে যাওয়াকে আবশ্যক মনে করে যেহেতু পথের এ অংশটুকু লোকের ভিড়ের মধ্যে গেছে এ কারণে তা পুনঃ আদায়ের জন্য সাঈ’র মধ্যে কিছুটা প্রবেশ করে সাঈ’র নিয়তে ফিরে আসে এবং প্রকৃতপক্ষে পথের কিছুটা অংশ দু’বার অতিক্রম করে। এমতাবস্থায় তার সাঈ কি সঠিক?

উত্তর: যদি সতর্কতার নিয়তে আমল করে থাকে তাহলে ক্ষতি নেই।

প্রশ্ন-৭০২: এক ব্যক্তি সাঈ’র জন্যও ওযুর প্রয়োজন রয়েছে মনে করে দেড় পাক সাঈ সম্পন্ন করার পর তার সাঈ ছেদ করে এবং ওযু করে নিয়ে সাঈর আরো সাত পাক সম্পন্ন করে। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?

উত্তর: অসুবিধা রয়েছে।’ তার সাঈকে পুনঃ আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-৭০৩: যে ব্যক্তি সাঈ’র পাকের ন্যূনতম সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত রয়েছে, কিন্তু পরবর্তী পাকটি সম্পন্ন করেছে কি-না সে ব্যাপারে সন্দেহ করে, যেমন সে নিশ্চিত যে পঞ্চম পাকটি সম্পন্ন করেছে কিন্তু সন্দেহ করে যে অবশিষ্টকে সম্পন্ন করেছে কি- না, তার কর্তব্য কী?

উত্তর: উপরোক্ত প্রশ্নে সন্দেহটা পাকের সংখ্যাকেন্দ্রিক, যা বাতিলের কারণ।

প্রশ্ন-৭০৪ : যদি কেউ মারওয়ায় পৌছানোর পূর্বে সাত পাক, না কি নয় পত হয়েছে এমন সন্দেহ করে, তার কর্তব্য কী?

উত্তর: বাতিলের কারণ হবে এবং সাঈ পুনঃ আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-৭০৫ : যদি সাঈ’র মধ্যে মহিলাদের মুখমণ্ডল ও হাতের দু’ত শরীরের কিছু কিছু অংশ প্রকাশ হয়ে পড়ে তাহলে কি তার সাঈ’র কোনো ক্ষতি হবে। উত্তর: ক্ষতি হবে না।

প্রশ্ন-৭০৬: এক ব্যক্তি সাঈরত অবস্থায় তার পাকের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ কর এবং সংশয় নিয়েই তার সাজ অব্যাহত রাখে এবং সংখ্যাকে ঠিক রাখার চিন্তার ধারে অতঃপর চিন্তা-ভাবনা করার পর এবং একশ মিটার সাঈ করার পর বিঘা পররাষ্ট পাকে প্রবেশ করার পর সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সক্ষম হয় এবং নিশ্চিত বিশ্বসা অবশিষ্ট সাঈ সম্পন্ন করে। তার এই সাঈ কি সঠিক?

উত্তর: সঠিক।

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More