হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী

Macca Kabe

 বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে হজ্ব ওয়াজিব হয় । সেগুলোর সবক’টি বর্তমান না থাকলে হজ্ব ওয়াজিব হবে নাঃ এক ও দুই : সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া । কাজেই শিশু ও পাগলের ওপর হজ্ব ওয়াজিব নয় ।

৪. যদি নাবালক হজ্ব পালন করে তাহলে তা সঠিক হবে যদিও তা ওয়াজিব হজ্ব আদায় হবার জন্যে যথেষ্ট নয় ।

৫. যদি বিচার বুদ্ধি জ্ঞানসম্পন্ন শিশু হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধে এবং মাশআরুল হারামে অবস্থানকালে সাবালক হয় তাহলে ওয়াজিব হজ্ব আদায়ের জন্য তা যথেষ্ট হবে । একইভাবে পাগল যদি মাশআরুল হারামে পৌঁছবার আগে সুস্থ মস্তিষ্ক হয়ে যায়, তার ক্ষেত্রেও একই কথা ।

৬. যে ব্যক্তি ধারণা করতো যে, সাবালক হয়নি এবং মুস্তাহাব হজ্বের নিয়্যত করেছে, অতঃপর জানা গেল যে সে সাবালক ছিল তখন তা তার ওয়াজিব হজ্ব আদায় হবার জন্য যথেষ্ট হবে না (যদি সে নিয়ত না করে যে, আল্লাহ তার কাছ থেকে যে হজ্ব চেয়েছেন সেটাই সে সম্পাদন করছে।) তবে যদি সে তার বর্তমান কর্তব্য পালনের নিয়ত করে থাকে এবং বর্তমান পালনীয় কর্তব্যের (হজ্ব) ব্যাপারে ভুলবশত মুস্তাহাব হজ্বের নিয়ত করে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা (অর্থাৎ ওয়াজিব হজ্ব আদায় হবে) ।

৭. অবুঝ শিশুর অভিভাবকের জন্য মুস্তাহাব হলো তাকে ইহরাম বেঁধে দেবে এবং ইহরামের কাপড় তাকে পরিয়ে দেবে এবং নিয়ত করবে : “আমি এই শিশুকে ইহরাম বেঁধে দিচ্ছি হজ্বের জন্য” অথবা “এই শিশুকে তামার ওমরাহর জন্য ‘মু’তামার’ করে দিচ্ছি।” আর যদি সম্ভব হয় তালবিয়্যাহ উচ্চারণ করে শুনিয়ে শুনিয়ে তাকে দিয়েও বলাবে। অন্যথায় সে নিজেই তার পরিবর্তে বলবে ।

৮. ইহরাম বাঁধার পর কিম্বা তাকে ইহরাম বেঁধে দেবার পর অভিভাবকের কর্তব্য হলো তাকে ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়াবলী থেকে বিরত রাখা। আর শিশু যদি বুঝসম্পন্ন না হয়, তাহলে স্বয়ং অভিভাবকই তাকে নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে রক্ষা করবে ।

৯. শিশু ইহরাম বাঁধার পর যদি ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে আঞ্জাম দেয় অথবা অভিভাবক তাকে সেগুলো থেকে বিরত না রাখে, তাহলে শিশুর অভিভাবকের ওপরেই কাফ্ফারা ন্যস্ত হবে। শিশুর মাল-সম্পদে নয় । তবে অধিকতর শক্তিশালী নত হলো এটা শুধু (প্রাণী) শিকারের বেলায়, আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো ইহরামের অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ করার ক্ষেত্রেও কাফফারা প্রয়োজ্য।

১০. শিশুর হজ্বের কুরবানির পশুর দায়িত্ব অভিভাবকের ওপর ন্যস্ত।

১১. যদি নাবালক শিশু হজ্বের মীকাতে ইহরাম বাঁধার পূর্বে সাবালক হয় তাহলে তার হজ্ব ওয়াজিব হজ্বই হবে যদি ঐ মুহূর্তে অর্থাৎ যখন সে ইহরাম বাঁধে সেখানেই হজ্বের জন্যে প্রয়োজনীয় সামর্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকে । তৃতীয়: স্বাধীনতা চতুর্থ : অর্থ-সম্পদ, শারীরিক সুস্থতা, সক্ষমতা, রাস্তা নির্বিঘ্ন এবং মুক্ত থাকা এবং হজ্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ও যথেষ্ট সময় হাতে থাকার দিক থেকে সামর্থ্যবান থাকা।

১২. ধন-সম্পদের দিক থেকে সামর্থ্যবান থাকার অর্থ হলো পাথেয় ও বাহন থাকা । আর যদি সেগুলো নাও থাকে তাহলে অর্থ কিম্বা অন্য কোনো পণ্য থাকতে হবে যা সেসব সংগ্রহ বাবদ ব্যয় করতে পারে। আর শর্ত হলো ফিরে আসার খরচাদিও থাকতে হবে। সামর্থ্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু বিষয়ও শর্ত হিসেবে রয়েছে যা পরবর্তী মাসআলাসমূহে বর্ণিত হবে ।

১৩. হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার জন্য যাওয়া-আসার খরচাদি থাকা ছাড়াও জীবনের অপরিহার্য উপকরণাদি এবং জীবনধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন যেমন বসতবাড়ি, গৃহসামগ্রী, বাহন ইত্যাদি যা তার অবস্থান ও মর্যাদার উপযোগী তা থাকাও শর্ত। আর যদি তা না থাকে তাহলে অর্থ কিম্বা অন্য যা যারা সেগুলোকে সংগ্রহ করতে পারবে তা থাকতে হবে ।

১৪. জীবন ধারণের অপরিহার্য জিনিসসমূহকে কিম্বা সেগুলোর টাকাকে যদি বহু বাবদ ব্যয় করে ফেলে, তাহলে তার হজ্ব আদায় হবার জন্য তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে না ।

১৫. যে ব্যক্তির বিয়ে করা প্রয়োজন এবং একাজে তার টাকার দরকার, সে তখনই ওয়াজিব হজ্বের জন্য সামর্থ্যবান হচ্ছে যখন হজ্বের খরচাদি ছাড়াও বিবাহের খরচাদি তার কাছে বর্তমানে থাকবে।

১৬. যে ব্যক্তি অন্যের কাছে টাকা পায় এবং সামর্থ্যের বাদবাকি শর্তাবলীরও অধিকারী থাকে, তার পাওনার সময় যদি উপস্থিত হয়ে থাকে এবং সে কোনো কষ্টে নিপতিত হওয়া ছাড়াই তা গ্রহণ করতে সক্ষম থাকে, তাহলে তা (পাওনা) চাওয়া ওয়াজিব। আর ঐ পাওনা আদায় করেই সে হজ্বে যাবে। যদি না দেনাদার তা পরিশোধে অক্ষম থাকে। সেক্ষেত্রে পাওনা চাওয়া জায়েজ নয় এবং হজ্বের সামর্থ্য অর্জিত হবে না । একইভাবে, যদি তার পাওনার সময় উপস্থিত না হয়ে থাকে এবং দেনাদার তা পরিশোধ করে দিতে চায়, তাহলে পাওনাদারের তা গ্রহণ করা আবশ্যক । এবং সামর্থ্যবানে পরিণত হবে। কিন্তু যদি দেনাদার পরিশোধ না করতে চায় তাহলে চাওয়া ওয়াজিব নয়, যদিও চাওয়ার কারণে সে পরিশোধ করতে প্রস্তুত হয় ।

১৭. যদি অ-সামর্থ্যবান ব্যক্তি হজ্বের খরচকে ঋণ করে নেয়, তাহলে সামর্থ্যবান বলে গণ্য হবে না । আর যদি তা দিয়ে হজ্ব পালন করে, তাহলে ইসলামের ওয়াজিব হজ্ব আদায় হবার জন্যে তা যথেষ্ট হবে না ।

১৮. যে ব্যক্তির হজ্বের খরচ রয়েছে আবার দেনাও রয়েছে, যদি তার দেনা মেয়াদী হয়ে থাকে এবং নিশ্চিত থাকে যে, দেনা পরিশোধ করার সময় তা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার রয়েছে, তাহলে হজ্বে যাওয়া ওয়াজিব । তদ্রূপ যদি দেনা পরিশোধ করার সময় উপস্থিত হয়ে থাকে, কিন্তু পাওনাদার যদি বিলম্বে পরিশোধে রাজি হয় আর দেনাদার নিশ্চিত থাকে যে, পাওনাদার চাওয়া মাত্রই দেনা সে পরিশোধ করতে সক্ষম থাকবে, অন্যথায় হজ্ব ওয়াজিব নয়

১৯. যে ব্যক্তির খুমস ও যাকাত পরিশোধ করা বাকি রয়েছে, সে তখনই হজ্বের সামর্থ্যবান হিসেবে গণ্য হবে যখন খুমস ও যাকাতের অর্থ ছাড়াও হজ্বের জন্য অতিরিক্ত খরচ তার কাছে বর্তমান থাকবে।

২০. যদি যে বছরে আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু শারীরিক কিম্বা পথ উন্মুক্ত থাকার শর্তের দিক থেকে সামর্থ্যবান না থাকে, আর পরবর্তী বছরগুলোতে উক্ত দিকসমূহেও সামর্থ্য লাভ করে, তাহলে সে ঐ টাকা খরচ করে ফেলতে পারে এবং নিজেকে সামর্থ্যের অবস্থা থেকে বের করে ফেলতে পারে ।

২১. যে ব্যক্তি হজ্বের সামর্থ্য রাখে তাকে হজ্বসংশ্লিষ্ট প্রাথমিক খরচাদি যেমন টিকেট ও ভিসা সংগ্রহ, জামানত জমা রাখা ইত্যাদি যা কিছু হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সেগুলো প্রদান করতে হবে । আর এসব অতিরিক্ত খরচাদি হজ্ব রহিত হওয়ার কারণ হয় না । কিন্তু যদি এ জাতীয় খরচের সামর্থ তার না থাকে তাহলে সে সামর্থবান নয়

২২. যদি গাড়ী কিম্বা প্লেনের ভাড়া বেশি হয় কিম্বা স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়, তদ্রূপ সামর্থ লাভের বছরে পণ্য সামগ্রীর দাম বেশি কিম্বা স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক থাকে তাহলেও তাকে ঐ বছরই হজ্ব পালন করতে হবে। সামর্থ্যের বছর থেকে বিলম্ব করা জায়েজ নয়, যদি না ঐ মূল্যবৃদ্ধি এমন মাত্রায় হয় যে, জীবনযাপন কষ্টক ও সমস্যাসংকুল হয়ে দাঁড়ায়। (সেক্ষেত্রে ঐ বছর হজ্ব পালন ওয়াজিব হবে না)

২৩. সামর্থ্যবান ব্যক্তির যদি টাকা না থাকে কিন্তু সম্পত্তি থাকে তাহলে তা বিক্রি করবে এবং হজ্বে যাবে। যদিও ক্রেতা না থাকার কারণে প্রচলিত মূল্যের চেয়েও কম দামে বিক্রয় করতে হয়। যদি না এরূপে বিক্রি করা তার জন্য কষ্ট ও সমস্যার কারণ ঘটায় ।

২৪. যাদের অনেক বই রয়েছে এবং সেগুলো প্রয়োজন পড়ে না। আর যদি অতিরিক্তগুলোকে বিক্রয় করে দেয় তাহলে তার হজ্বের খরচের পরিমাণ হয় এবং অন্যান্য শর্তবালীরও অধিকারী থাকে, তাহলে তার হজ্বে যাওয়া ওয়াজিব। বরং যদি ওয়াকফকৃত বইতেই তার (পড়ার) প্রয়োজন মোটে আর নিজের মালিকানার বই হজ্বের খরচের সমপরিমাণে হয়, তাহলে ওয়াজিব হলো হজ্বে যাওয়া। তবে শর্ত হলো, ঐ কারণে ওয়াকফকৃত বইগুলো যেন বিনষ্টের কবলে না পড়ে।

২৫. যদি কেউ সন্দেহ পোষণ করে যে, তার যা ধন-সম্পদ রয়েছে তা হজ্বের যাওয়ার সামর্থ্যের সম পরিমাণে হয় কি না, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো এ ব্যাপারে হিসাব নিকাশ করা। এক্ষেত্রে তার ধন-সম্পদের পরিমাণ কিম্বা হজ্বের খরচের পরিমাণকে না জানার বাবদ অনুসন্ধান ওয়াজিব হওয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই ।

২৬. যদি হজ্বে যাওয়ার ফলে অন্য কোনো ওয়াজিব কাজ বর্জন কিম্বা হারাম কাজ সম্পাদন করার কারণ হয়, সেক্ষেত্রে হজ্ব বা ঐ হারাম কাজ বা ঐ ওয়াজিব কাজের মধ্যে কোনটির গুরুত্ব অধিক, তার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। যদি হজ্বের গুরুত্ব অধিক হয় তাহলেই হজ্বে যাবে অন্যথায় যাওয়া যাবে না। আর যদি হজ্বে যায় এবং কোনো হারাম কাজ করে বসে কিম্বা কোনো ওয়াজিব কাজ ত্যাগ করে, তাহলে সে পাপী হবে। কিন্তু তার ঐ হজ্ব সঠিক হয়েছে বলেই গণ্য হবে ।

২৭. যদি কেউ নিজেকে হজ্বে যেতে সামর্থ্যবান নয় মনে করে মুস্তাহাব হজ্বের নিয়্যত করে এবং পরবর্তীতে জানা যায় যে সে সামর্থ্যবান ছিল তাহলে তা তার ওয়াজিব হজ্ব আদায় হবার জন্যে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। তবে যদি সে তার বর্তমান বাস্তব কর্তব্য পালনের নিয়ত করে থাকে এবং ভুলক্রমে সেটাকে মুস্তাহাব হজ্বের নিয়তের সাথে মিলিয়ে ফেলে তাহলে ভিন্ন কথা।

২৮. যে ব্যক্তি হজ্বের পথে বেতনভুক্ত শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত হয় এবং এমন পরিমাণ পারিশ্রমিক সে পায় যা দিয়ে সে হজ্বের সামর্থ্য লাভ করে, তখন তার ওপর হজ্ব ওয়াজিব হয়। যদিও ঐ চাকরী তার ওপর ওয়াজিব ছিল না। কিন্তু তারপর সে যদি আবার কখনো সামর্থ্যবান হয়, তাহলে আবার তাকে হজ্বে গমন করতে হবে।

২৯. যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষ থেকে (বদলী হজ্ব পালনের জন্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োজিত হয় এবং এর পারিশ্রমিক দ্বারা হাজ্বের সামর্থ অর্জন করে, সে যদি প্রথম বছরের (অর্থাৎ যে জীবনে কখনো হজ্ব করেনি) জন্য প্রতিনিধি নিয়োজিত হয়ে থাকে তাহলে সে প্রতিনিধিমূলক হজ্বকেই (বদলী হজ্ব) অগ্রাধিকার দেবে। আর যদি বদলী হজ্বের দ্বারা ঐ অর্জিত সামর্থ্য পরবর্তী বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পরবর্তী বছর নিজের জন্য হজ্ব করবে।

৩০. হজ্বের সামর্থ্যের মধ্যে একটি শর্ত হলো হজ্ব থেকে প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত তার পরিবারের খরচাদি থাকতে হবে। যদিও তার পরিবার তার ওয়াজিব ভরণ- পোষণের আওতায় নাও থাকে ।

৩১. সামর্থ্য অর্জনের ক্ষেত্রে একটি শর্ত হলো সচ্ছলতার সাথে প্রত্যাবর্তন কিম্বা শিল্প অথবা সম্পত্তির মুনাফা যেমন বাগান, দোকান ইত্যাদির অধিকারী থাকবে এমনভাবে যে, জীবন ধারণের জন্য যেন তাকে কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় । আর যদি সে তার অবস্থার সাথে সংগতিশীল উপার্জনে সক্ষম থাকে তাহলেই যথেষ্ট । আর হাজী যদি প্রত্যাবর্তনের পরে যাকাত, ধুমস ইত্যাদি ধর্মীয় টাকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে হজ্বের সামর্থ্য অর্জনের জন্যে তা যথেষ্ট হবে না। এ কারণে যে সকল দ্বীনি ছাত্র এবং আলেম হজ্ব থেকে ফেরার পর মাদ্রাসার মাসিক ভাতার মুখাপেক্ষী হয়, তাদের ওপর হজ্ব ওয়াজিব নয় ।

৩২. হজ্ব ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো, শারীরিক সামর্থ্য, রাস্তা খোলা থাকার দিক থেকে সামর্থ্য এবং সময়ের প্রশস্ততার দিক থেকে সামর্থ্য। কাজেই যে রোগীর হজ্বে যাওয়ার শক্তি নেই কিম্বা তার তা কষ্টকর ও দুঃসাধ্য হয়, তর ওপর হজ্ব ওয়াজিব নয় । তদ্রূপ যার জন্য রাস্তা উন্মুক্ত নেই কিম্বা সময় সংকীর্ণ এমনভাবে যে হজ্বে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না, তার ওপরেও হজ্ব ওয়াজিব নয় ।

৩৩. যদি সামর্থ্য অর্জিত হওয়ার পর হজ্বকে পরিত্যাগ করে, তাহলে তার ওপর হজ্ব অপরিহার্য হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে যে কোনো ভাবেই হোক হজ্বে তাকে যেতেই হবে।

৩৪. সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে স্বয়ং হজ্বে যেতে হবে। তার পক্ষ থেকে অন্যের হজ্ব পালন যথেষ্ট হবে না; কেবল অসুস্থ কিম্বা বৃদ্ধ অক্ষম লোকের ক্ষেত্রে ছাড়া, যার বিস্তারিত পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে ।

৩৫. যে ব্যক্তি নিজেই হজ্বের জন্য সামর্থ্যবান সে অন্যের পক্ষ থেকে হজ্বের প্রতিনিধি হতে কিম্বা মুস্তাহাব হজ্ব পালন করতে পারবে না। আর যদি প্রতিনিধিরূপে বদলী হজ্ব কিম্বা মুস্তাহাব হজ্ব পালন করে, তাহলে তা বাতিল বলেই গণ্য হবে ।

৩৬. যার ওপরে হজ্ব নির্ধারিত বা অপরিহার্য হয়ে গেছে এবং সে তা পালন না করে মৃত্যুবরণ করেছে; তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার জন্য বদলী হজ্ব পালন করাতে হবে এবং এক্ষেত্রে ‘মীকাতি হজ্বই’ যথেষ্ট হবে । আর আবশ্যক হলো ঐ মৃত্যুর বছরেই তার জন্য বদলী হজ্ব সম্পাদন করানো। বিলম্ব করা জায়েজ নয় । আর যদি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর বছরে তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করার জন্য তার দেশ ছাড়া অন্য কোথায় (মীকাতে) লোক পাওয়া না যায় তাহলে তার দেশ থেকেই বদলী হজ্ব করার। জন্যে লোক ভাড়া করা আবশ্যক এবং এর যাবতীয় খরচ মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের মূল অংশ থেকেই মেটাতে হবে। তদ্রূপ যদি ঐ বছরে প্রচলিত পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক প্রদান করা ছাড়া বদলী হজ্ব করার জন্যে মীকাত থেকে লোক যোগাড় করতে না পারে, তাহলে বেশি পারিশ্রমিক দিয়েই লোক নিয়োগ করা আবশ্যক এবং বিলম্ব করা যাবে না। আর যদি ওছিয়াত্তকৃত ব্যক্তি বা মৃতের উত্তরাধিকারীরা এ ব্যাপারে অবহেলা বা ঢিলেমি করে এবং বিলম্ব করে, আর পরিত্যক্ত সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তারা এ ব্যাপারে অবশ্যই দায়বদ্ধ থাকবে । হ্যাঁ, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো পরিত্যক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে তার উত্তরাধিকারীদের ওপর তার বদলী হজ্ব করানো ওয়াজিব হবে না।

(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More