হজ্ব

Macca Kabe

প্রতিনিধিত্ব :

প্রশ্ন-৯ : এক ব্যক্তি মদীনায় অন্য একজনকে মজুর নিয়োগ করলো যাতে তার পিতার জন্য মীকাতি হজ্ব পালন করে। কিন্তু এটা নির্ধারণ করে দেয়নি যে মসজিদ-এ শাজারাহ থেকে ইহরাম বাঁধবে নাকি অন্য কোনো মীকাত থেকে। সেক্ষেত্রে মজুর কি মুফরাদা ওমরাহ’র নিয়তে মসজিদে শাজারাহ থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে এবং অতঃপর জুহফা কিম্বা কারনুল মানাযিল যাবে এবং মজুরকৃত তামাকু ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধবে?

উত্তর : উল্লিখিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে মজুর ব্যক্তি প্রসিদ্ধ যে কোনো মীকাত থেকে প্রতিনিধি হিসাবে ইহরাম বাঁধতে পারবে। যদি না মদীনায় মজুর নিয়োগের এই লক্ষণ বহন করে যে নিয়োগকারীর উদ্দেশ্য ছিল মসজিদে শাজারাহ। তাহলে সে ক্ষেত্রে মসজিদে শাজারাহ থেকেই ইহরাম বাঁধতে হবে।

প্রশ্ন-১০ : এক ব্যক্তির ওপর হজ্ব ফরজ হওয়ার পর সে পাগল হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তার হজ্জের ব্যাপারে তার ওয়ালী তথা অভিভাবকের কর্তব্য কি?

উত্তর: পাগলের হজ্বের ব্যাপারে তার অভিভাবকের কোনো কর্তব্য নেই। যদি তার আয়ুষ্কালে শেষাবধি সেরে ওঠে তাহলে সে নিজেই হজ্জ পালন করবে। অন্যথায় তার মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে।

প্রশ্ন-১১ : হজ্বের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে প্রতিনিধি কি স্বীয় মারজায়ে তাকলীদের ফতোয়া মেনে চলবে নাকি যার প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে তার মারজায়ে তাকলীদের ফতোয়া মেনে চলবে?

উত্তর: প্রতিনিধি তার নিজের মারজায়ে তাকলীদের ফতোয়া মেনে চলবে।

প্রশ্ন-১২ : ওযরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য হজ্বে প্রতিনিধি হওয়া কি জায়েজ নাকি জায়েছ নয়। আর তামাতু ওমরাহ’র পরে ইহরাম ছাড়া হেরেম থেকে বের হওয়া কি ওয়র মনে করেন?

উত্তর : ওযরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রতিনিধি হওয়া আপত্তির বিষয়। আর উল্লেখিত ‘বের হওয়া’ ওযরের ক্ষেত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রশ্ন-১৩ : পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে আমি আমার স্বামীর সাথে জীবন। যাপন করে কোনো সন্তান-সন্ততির অধিকারী হইনি। কেবল মাত্র আমার স্বামীর দৃষ্টি বোন রয়েছে। তামাতু হজ্জের নাম নিবন্ধন করার সময় আমার মরহুম স্বামী নাম নিবন্ধন করে যার স্লিপ বিদ্যমান রয়েছে। এই স্লিপ কি তার পরিত্যক্ত সম্পদের মধ্যে গণ্য হবে নাকি হবে না? এটা কি মরহুমের সাথে সংশ্লিষ্ট যে হজ্ব সম্পন্ন করতে হবে?

উত্তরঃ মরহুমের সাথে সম্পর্কিত হজ্বে যাওয়ার স্লিপ মরহুমের পরিত্যক্ত সম্পদের। অংশ। কিন্তু যদি মরহুমের ওপর হজ্ব ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার জন্য প্রতিনিধির মাধ্যমে হজ্ব পালন করতে হবে। তদ্রুপ যদি কেউ হজ্বের ওসীয়ত করে থাকে সে ক্ষেত্রেও এরূপ করতে হবে। প্রশ্ন – ১৪ : প্রতিনিধির মাধ্যমে হজ্বের ক্ষেত্রে কিছু কিছু আমলের জন্যও প্রতিনিধি নিয়োগ করা যাবে নাকি যাবে না?

উত্তর: ওযরগ্রস্ত লোকদের প্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, প্রতিনিধি ব্যক্তি কুরবানির কাজে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে?

প্রশ্ন-১৫: যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে হজ্বে গমন করেছে এবং তার নিজের হজ্বের সামর্থ্য ছিল না কিন্তু এখন মুফরাদা ওমরাহ’র সামর্থ রয়েছে তাহলে কি মুফরাদা ওমরাহ তার ওপর ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয়?

উত্তর: প্রতীয়মান এটাই যে, দূর থেকে আগমনকারীর ওপর মুফরাদা ওমরাহ ওয়াজিব হয় না। তার কর্তব্য হলো তামাত্তু ওমরাহ পালন করা। কিন্তু যে প্রতিনিধি সামর্থ্যবান হয় তার জন্য মুফরাদা ওমরাহ পালন করা অধিকতর এহতিয়াতের বিষয়।

প্রশ্ন-১৬ : যে ব্যক্তি মজুর নিযুক্ত হওয়ার সময় ওযরগ্রস্ত ছিল না, বরং মাঝপথে এসে সে ওযরগ্রস্ত হয়ে পড়লো। এক্ষেত্রে তার প্রতিনিধিত্ব কি সঠিক হবে? উত্তর: যদি ওযর হজ্বের কিছু কিছু আমল অসম্পূর্ণ হবার কারণ না হয়, যেমন ইহরাম অবস্থায় কিছু কিছু নিষিদ্ধ বিষয় মেনে চলতে অপারগ হয় তাহলে প্রতিনিধিত্ব সঠিক। কিন্তু যদি আপতিত ওযরের কারণে হজ্বের আমলসমূহের ত্রুটি ঘটে তাহলে সেক্ষেত্রে মজুর নিয়োগ বাতিল হওয়া অসম্ভব নয়। তখন এহতিয়াত হলো হজ্বকে পুনঃ আদায় করা এবং মজুরের টাকার ব্যাপারে আপোষ-মীমাংসা করে নেয়।

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More