হাদিস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি এ পৃথিবীতে কোন (মুসলমান) ভাইয়ের দুঃখসমূহ থেকে একটি দুঃখ দূর করে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার দুঃখসমূহ থেকে একটি দুঃখ দূর করে দিবেন।” [শাহাবুল আখবার, পৃষ্ঠা-১৯৪)

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন: ‘নিশ্চয়ই তোমাদের দিকে মানুষের প্রয়োজনগুলোর স্রোত হলো তোমাদের ওপর মহান আল্লাহর কাছ থেকে আসা নেয়ামত। তাই, এ নেয়ামতগুলোর কারণে দুঃখ করো না।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-৩১৮)

আমীরুল মু’মিনীন ইমাম আলী (আ.) বলেন: “যখন জানতে পারবে যে তোমাদের মুসলমান ভাইদের মধ্যে কারো সাহায্যের প্রয়োজন, তখন তাকে তা মুখে বলার বোঝা বইতে দিয়ো না।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-১৬৬]

ইমাম সাদিক (আ.) তার পূর্বপুরুষদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি কোন ক্ষুধার্ত মু’মিনকে খাওয়ায়, তাকে আল্লাহ বেহেশতের ফলসমূহ থেকে খাওয়াবেন; যে ব্যক্তি তাকে বস্ত্রহীন পেয়ে পোশাক পরায়, তাকে আল্লাহ কারুকার্যখচিত রেশমী পোশাক পরাবেন; যে ব্যক্তি তাকে পিপাসার্ত পেয়ে শরবত পান করায়, তাকে আল্লাহ জান্নাতের মুখ-বন্ধ [অর্থাৎ বিশেষ যত্নে সংরক্ষিত। পাত্র থেকে পান করাবেন; এবং যে ব্যক্তি তাকে সাহায্য করে অথবা তার কোন দুঃখ দূর করে, তাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন যখন ঐ ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।” [বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড-৭৪, পৃষ্ঠা-৩৮২]

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “মানুষ জীবনোপকরণের [রিযক্) জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল, তাই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রিয় যে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলদের সাহায্য করে এবং পরিবারের সদস্যদের আনন্দিত রাখে।” (আল-কাফী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৬৪]

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে সাহায্য করে, মহাক্ষমতাবান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তার তিয়াত্তরটি দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন যার একটি এ পৃথিবীতে এবং অবশিষ্ট বাহাত্তরটি দূর করবেন ইরাট দুঃখ-কষ্টের সময়ে।” এরপর তিনি (সা.) বললেন: “তখন মানুষ নিজেদের নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকবে।” [আল-কাফী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৯৯)

Related posts

আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব

ইমাম সাদিক (আ.)-এর শিক্ষা

হাদিস

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More