আহলে বাইতের (আ.) প্রকৃত অনুসারী ও তাদের গুণাবলি
জাবির হতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মুহাম্মাদ আল-বাক্বির (আ.) তাকে বলেন: “হে জাবির, কোন শিয়া [অনুসারী। ব্যক্তির জন্য এটুকু বলাই কি যথেষ্ট যে সে আমাদের আহলে বাইতকে ভালোবাসে? না, আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তি আমাদের শিয়া [অনুসারী] নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক হয় ও তাঁর আনুগত্য করে। হে জাবির, তাদেরকে চেনা যায় না শুধু এ ছাড়া যে, তারা বিনয়ী, অনুগত, সৎ, অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিক্র করে, রোজা রাখে, নামাজ পড়ে, পিতামাতার কল্যাণ করে, তার নিকটে থাকা দরিদ্র, ভিক্ষুক, ঋণগ্রস্ত ও ইয়াতিমদের সাহায্য করে; এবং সত্য কথা বলে, কুরআন তেলাওয়াত করে, ভালো কথা ছাড়া লোকদের থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে, আত্মীয়দের যে কোন বিষয়ে বিশ্বস্ততা রক্ষা করে ו” [আল-কাফী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৭৪]
সুলাইমান ইবনে মাহরান বলেন যে, আমি ইমাম সাদিক (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলাম যখন তার সামনে কয়েকজন শিয়া [অনুসারী] উপস্থিত ছিল এবং শুনলাম ইমাম (আ.) তাদেরকে বলছেন: “হে শিয়ারা, [এমন আচরণ কর যেন। তোমরা আমাদের অলঙ্কার হও এবং আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হয়ো না। মানুষকে ভালো কথা বল এবং তোমাদের জিহ্বাকে সংরক্ষণ কর একে বাচালতা ও আক্রমণ করে কথা বলা থেকে সংযত রাখো।” [আমালী আস-সাদুত্ব, পৃষ্ঠা-৪০০)
আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: “নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে ভালোবাসি যারা বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারী, উপলব্ধিকারী, জ্ঞানী, সহনশীল, ধৈর্যশীল, বিশ্বস্ত এবং অঙ্গীকার রক্ষাকারী। অবশ্যই কোমল আচরণের অধিকারী মহাক্ষমতাবান ও মহিমান্বিত আল্লাহ নবীদেরকে (আ.) উচ্চমানের চারিত্রিক গুণাবলি দিয়েছেন। অতএব যার সেগুলো আছে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, কিন্তু যার সেগুলো নেই, সে যেন ঐগুলো পাওয়ার জন্য মহাক্ষমতাবান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে কাঁদে। জাবির তখন জিজ্ঞেস করলো, ‘আমি আপনার জন্য কোরবান হই, সেগুলো কি?’ তিনি (আ.) উত্তরে বললেন: ‘সেগুলো হচ্ছে: ধার্মিকতা, পরিতৃপ্তি, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, কষ্ট-সহিষ্ণুতা, লজ্জা, উদারতা, সাহসিকতা, উৎসাহ-উদ্দম, অন্যের প্রতি কল্যাণকামিতা, কথায় সত্যবাদিতা এবং আমানত যথাযথভাবে ফেরত দানকারী’।” [আল-কাফী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৬)
ইমাম বাকির (আ.) বলেন: “… যে আল্লাহর অনুগত-সে আমাদের বন্ধু, এবং যে আল্লাহর অবাধ্য সে আমাদের [আহলে বাইতের] শত্রু।” [আল-কাফী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৭৫।