১। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা’র দিন রোযা রাখা হারাম। অনুরূপভাবে যে তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে, সেটি শাবান মাসের শেষ তারিখ নাকি রমযানের প্রথম, তাহলে সে দিবসে রমযানের নিয়তে রোযা রাখা হারাম।
২। কোনো নারীর মুস্তাহাব রোযা রাখার কারণে তার স্বামীর অধিকার নষ্ট হলে তার সে রোযা রাখা জায়েয নয়; এমনকি স্বামীর অধিকার নষ্ট না হওয়ার পরও যদি তিনি স্বীয় স্ত্রীকে মুস্তাহাব রোযা রাখতে নিষেধ করেন তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে মুস্তাহাব রোযা না রাখা।
৩। সন্তানের মুস্তাহাব রোযা যদি পিতা-মাতা বা পিতামহের পীড়ার কারণ হয় তাহলে সন্তানের জন্যে তা রাখা উচিৎ নয়। বরং তা যদি তাদের জন্যে কোনো পীড়ার কারণ নাও হয় এবং তারা তা রাখতে বারণ করেন তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে সেই মুস্তাহাব রোযা না রাখা।
৪। কোনো সন্তান যদি স্বীয় পিতার অনুমতি ব্যতীত মুস্তাহাব রোযা রাখে এবং পিতা দিনের বেলায় তাকে তা রাখতে নিষেধ করেন তাহলে তার ইফতার করে নেয়া উচিৎ ও জরুরী।
৫। যদি কেউ ধারণা করেন যে, রোযা রাখা তার জন্যে ক্ষতিকর নয় – যদিও ডাক্তার তা ক্ষতিকর বলে থাকেন – তাহলে তার রোযা রাখা উচিৎ। আর যদি কেউ নিশ্চিত থাকেন যে, রোযা রাখা তার জন্যে ক্ষতিকর – যদিও ডাক্তার তা ক্ষতিকর নয় বলে থাকেন – তাহলে তিনি তা রাখতে পারবেন না এবং তিনি তা রেখে নিলে সঠিক বলে বিবেচিত হবে না। কিন্তু তিনি যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তা রাখেন এবং পরে জানা যায় যে, তা তার জন্যে ক্ষতিকর ছিল না, তাহলে তা সঠিক বলে বিবেচিত হবে।
৬। যদি কারও এরূপ ধারণা হয় যে, রোযা রাখা তার জন্যে ক্ষতিকর এবং এ ধারণা তার জন্যে ভীতির সৃষ্টি করে ও তা সাধারণ লোকের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে তার রোযা রাখা উচিৎ নয় এবং রাখলে তা সঠিক হবে না। তবে যদি তিনি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তা রাখেন এবং পরে জানা যায় যে, তার জন্যে তা ক্ষতিকর ছিল না, তাহলে তা সঠিক বলে বিবেচিত হবে।
৭। কারও যদি এরূপ আকিদা-বিশ্বাস হয় যে, রোযা তার জন্যে ক্ষতিকর নয় এবং তিনি তা রাখেন; কিন্তু ইফতারের পর জানতে পারেন যে, তার জন্যে তা ক্ষতিকর ছিল তাহলে তাকে সে রোযার কাযা করতে হবে।
৮। আশুরার দিন অথবা যে দিনটি সম্পর্কে সন্দেহ থাকে যে, সেটি কি আরাফার দিন নাকি ঈদুল আযহার, তাহলে সেদিন রোযা রাখা মকরূহ।
(সূত্র : রোযার আহকাম ও শবে কদরের আমল সংকলন: সৈয়দ মোঃ রেজা রাজাভী )