আয়াতুল্লাহ শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর ইন্তেকালে বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদের শোক ও সমবেদনা

ইরানের প্রখ্যাত ফকিহ ও শিয়া মুসলিম বিশ্বের সম্মানিত মারজায়ে তাকলিদ আয়াতুল্লাহ শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদ।

 আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর ইন্তেকালে বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদের প্রকাশিত পুর্নাঙ্গ শোকবার্তা:

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

যখন কোনো আলেম ইন্তেকাল করেন, তখন ইসলামে এমন এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় না।

বিশিষ্ট রাব্বানি আলেম, প্রাজ্ঞ ফকিহ এবং বিশ্ব শিয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় মারজা, হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর পরলোকগমন আমাদের গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত করেছে।

বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকাবহ বিয়োগে হযরত ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর পবিত্র দরবারে, হাওযায়ে ইলমিয়ার সম্মানিত মারজায়ে তাকলিদ, উস্তাদ ও ফাজেলগণ, মরহুমের ছাত্র-শিষ্য ও ভক্তবৃন্দ এবং আহলে বাইত (আ.)-এর আলোকোজ্জ্বল আদর্শের অনুসারী সর্বসাধারণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছি।

এই মহান আলেম হাওযায়ে ইলমিয়ার অন্যতম বিশিষ্ট জ্ঞানী ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তাঁর পবিত্র ও বরকতময় জীবন ইসলামের নূরানী শিক্ষা এবং আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শ ও জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, পাঠদান ও প্রচারের কাজে উৎসর্গ করেছেন।

তাঁর গভীর ফিকহি জ্ঞান, সূক্ষ্ম ইলমি দৃষ্টিভঙ্গি, তাকওয়া, গাম্ভীর্য, বিনয় ও একনিষ্ঠতা তাঁকে আলেম ও ধর্মীয় জ্ঞানীদের মাঝে এক বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিল। নিঃসন্দেহে, এমন এক জ্ঞানী ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের ইন্তেকাল হাওযায়ে ইলমিয়া ও ধর্মীয় সমাজের জন্য এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তাঁর রচনাবলি, ছাত্র-শিষ্যদের অবদান এবং মূল্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার হাওযায়ে ইলমিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান ও স্থায়ী সম্পদ হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদ মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছে— তিনি যেন এই রাব্বানি আলেমের একনিষ্ঠ সেবা, জ্ঞানচর্চায় সাধনা এবং মূল্যবান প্রচেষ্টাগুলো নিজ অসীম অনুগ্রহ ও দয়ায় কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে স্বীয় রহমতের সান্নিধ্যে এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের (আ.) অনুগ্রহের ছায়ায় উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তাঁকে আল্লাহর নেক বান্দাদের সঙ্গে পুনরুত্থিত করেন।

এছাড়াও আমরা মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের সম্মানিত পরিবার, ছাত্র-শিষ্য, ভক্ত-অনুরাগী এবং সর্বসাধারণ শোকসন্তপ্ত স্বজনদের জন্য সবর-এ-জামিল (উত্তম ধৈর্য) ও আজর-এ-আজিম (মহান প্রতিদান) প্রার্থনা করছি।

আমরা আশা করি, জ্ঞান, তাকওয়া এবং আহলে বাইতের (আ.) শিক্ষার সেবায় অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জ্ঞানী ও ধর্মীয় সমাজ এই মরহুম আলেমের স্মৃতি ও মূল্যবান উত্তরাধিকারকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বাংলাদেশ শিয়া উলামা পরিষদ

সূএ: হাওজা নিউজ এজেন্সি

Related posts

হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ মাহফিল

মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান বিশ্বের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইরানের ভূমিকা শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক

ইরানের ইসলামী প্রতিরোধের ভবিষ্যৎ: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More