বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
এই হুসাইনিয়ায় আরও একবার এই জ্যোতির্ময় ও বরকতপূর্ণ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হতে দেখে আমি খুবই আনন্দিত এবং মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আর এ থেকে আমি আত্মিক প্রেরণা পাচ্ছি। আপনাদের পূত-পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও আলোকোজ্জ্বল হৃদয়গুলো আমাদেরকে দুয়া করা, নসিহত ও উপদেশ গ্রহণ, শোকগাঁথা পাঠ ও সবকিছুর প্রতি উৎসাহিত করছে। মূল বিষয় হচ্ছে হৃদয়; আলোকোজ্জ্বল ও পূত-পবিত্র হৃদয়। আল্লাহর প্রশংসা যে, আপনারা এ জিনিসেরই অধিকারী ও এরই দ্বারা প্রভাবিত। এই সম্মানিত ক্বারী, সুরুচির পরিচয় দিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে আয়াতাংশটি তিলাওয়াত করেছেন। ইনশাআল্লাহ আপনারা এই আয়াতাংশেরই দৃষ্টান্ত হবেন যেখানে আল্লাহ বলছেন: “নিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।” (সূরা: কাহাফ, ১৩তম আয়াত।) আমরা যেন এই ধরনের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি!
আরবাঈন হচ্ছে হযরত হুসাইন ইবনে আলীর (আ.) উচ্চসম্মানের নিশানা। চলতি বছরের আরবাঈন অনুষ্ঠানটি অন্য সব বছরের তুলনায় ও ইতিহাসের সব যুগের চেয়ে অধিকতর জাঁকজমকপূর্ণভাবে ও বৃহদাকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সত্যিকারার্থে ও ইনসাফের সঙ্গে বলতে হয় যে, আরবাঈনের ঘটনা, এই পদযাত্রা, মুসলিম জনতার সার্বজনীন এ উপস্থিতি এক অলৌকিক ঘটনা ও অলৌকিক লাঠির ন্যায়। এটি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। কোনো প্রক্রিয়া, পরিকল্পনা, কৌশল ও কোনো রাজনীতির মাধ্যমেই এমনটি সম্ভব ছিল না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা সংঘটিত করা সম্ভব নয়; এটি শুধুমাত্র আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত।
যাইহোক, এটি এক সুসংবাদ। এটি আমার ও আপনাদের জন্যে সুসংবাদ ও খুশির খবর। এটি স্পষ্ট যে, ইসলামের হিতাকাঙ্খী ও ইসলামে আকৃষ্টকারী মোবাল্লিগদের উন্নতির নিমিত্তে মহান আল্লাহ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং আহলে বাইতের (আ.) ইসলামের পতাকাকে তিনি ক্রমান্বয়ে উন্নততর করছেন। এটি তারই নিদর্শন যে, আমাদের আগামী দিনের চলার পথটি এক আলোকোজ্জ্বল পথ। যেপথটি আমরা অতিক্রম করতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।
হে প্রিয় যুবকরা! আমি আপনাদেরকে উপদেশ দিব যে, আপনারা আপনাদের সংগঠন বা পরিষদগুলোর মূল্যায়ন করবেন! আমি সর্বদাই যুবকদের বলব যে, আপনারা আপনাদের তারুণ্যের মূল্য উপলব্ধি করবেন! আপনারা আজকেও আপনাদের যৌবনের মূল্য বুঝবেন! তবে এই সংগঠন বা পরিষদগুলোর মূল্য অনুধাবন করবেন! এই সংগঠনগুলো হচ্ছে ধনভান্ডার। সত্যিই! এটি এক নির্ভরযোগ্য ও মূল্যবান ধনভান্ডার। হুসাইনী সংগঠন বা পরিষদের অর্থ হচ্ছে “স্মরণ” ও “স্পষ্টকরণ”। অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দেয় ও স্পষ্ট করে দেয়। সংগঠন বা পরিষদ এ ধরনের হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়, যে স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করবে এবং স্পষ্ট করার ও ব্যাখ্যা দেয়ার কেন্দ্র হবে। এটি আমাদের আজকের (বর্তমান) জন্যে আবশ্যক। আপনারা মনে রাখবেন যে, এমন সব পথদস্যু (ডাকাত) আছে যারা আপনাদের মত যুবকদের আন্দোলনকে পছন্দ করে না। এমন সব পথদস্যু রয়েছে যারা নাজাফ-কারবালার মধ্যবর্তী আরবাঈনের দৃশ্যের ন্যায় কোনো দৃশ্যকে পছন্দ করে না। ওরা জনগণের এরূপ স্লোগানমুখর ও জমকালো উপস্থিতিকে পছন্দ করে না। আর এ জন্যে (এটিকে স্থগিত করার বাসনায়) তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে, কাজ করে যাচ্ছে।
হৃদয়গুলো প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন এবং আমাদের সকলকেই উদ্যোগী হতে হবে। প্রত্যেকেরই এক একটি দায়িত্ব রয়েছে। আমারও একটি দায়িত্ব রয়েছে। আপনারও একটি দায়িত্ব রয়েছে। দেশের সম্মানিত কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরও একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো দায়িত্ব রয়েছে। আপনার নিজের পদমর্যাদা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করতে আপনি সচেষ্ট হন! আপনার করণীয় কী তা আপনার জানা আবশ্যক।
আমার মতে, কুরআনের (… পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়। সূরা: আসর, ৩য় আয়াত।) এই জীবন্ত, মৌলিক ও চিরন্তন বাক্যদ্বয় আমাদের সর্বদার জন্যে কর্মসূচী।
আজ সর্বদার চেয়ে অধিক পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দানের বিষয়টি যেন আপনারা বিস্মৃত না হন! একইভাবে পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দানের বিষয়টিও যেন আপনাদের স্মৃতি থেকেম্লান না হয়ে যায়! ধৈর্যধারণের অর্থই হচ্ছে দৃঢ়তা, প্রতিরোধ, ক্লান্তিহিনতা, নিজেকে বন্ধ গলিতে অনুভব না করা ইত্যাদি। আপনারা সৎপথে চলেন এবং অন্যদেরকেও সৎপথে আহ্বান জানান! আপনারা চেষ্টা চালান যাতে মোমিন, মুসলমান, আগ্রহী ও সাংগঠনিক তরুণরা কুরআনী ও ইসলামী বাণীর প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পরিবেশে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেন! তারা যে রঙে রঞ্জিত রয়েছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে পরিবেশকে সে রঙে রঞ্জিত করার যেন চেষ্টা করেন! এই উপদেশ দান করা আপনাদের ও আমাদের জন্যে আবশ্যক। আজ আপনারা সত্যের উপদেশ দিন এবং ধৈর্যের উপদেশ দিন! পরিবেশকে এক ক্লান্তিকর পরিবেশে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিয়েন না! ব্যর্থ পরিবেশ হওয়ার ফুর্সাত দিয়েন না!
আমি মহান আল্লাহর নিকট আপনাদের সকলের জন্যে তওফীক কামনা করছি। রোগ-ব্যাধি, করোনা ও এগুলোর ন্যায় বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব ভাই-বোনকে আমরা এই হুসাইনিয়ায় সমবেত করতে পারিনি তাদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং তাদেরকে সালাম জানাচ্ছি। আর যারা দূর-দূরান্ত থেকে আমাকে সালাম জানিয়েছেন ও আমার প্রতি ভালবাসা পোষণ করেছেন, আমিও তাদের সকলকে সালাম জানাই এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে তওফীক কামনা করি।
ইনশাআল্লাহ, হযরত আবু আব্দিল্লাহিল হুসাইনের (আ.) পবিত্র আত্মা আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন! আমাদের যুগের ইমামের (আজ্জা.) পবিত্র হৃদয় আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন! হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.) এবং শহীদদের পবিত্র আত্মাগুলোও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।