৭৭০. আরাফাতে অবস্থান করা ওয়াজিব। অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে এবং নিষ্ঠার সাথে তা পালনীয়। (আরাফাত হলো প্রসিদ্ধ একটি স্থান, যার সীমানা সুনির্দিষ্ট)
৭৭১. ‘উকুফ’ তথা অবস্থান বলতে সে স্থানে থাকাকে বুঝানো হয়, বাহনের
ওপরই থাকুক আর পায়ের ওপর দাঁড়িয়েই থাকুক অথবা বসে থাকুক কিম্বা শুয়ে থাকুক বা চলমান যেভাবেই থাকুক না কেন, তাই যথেষ্ট।
৭৭২. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যিলহজ্বের নবম দিনের যোহরের সূচনা থেকে মাগরিবের শরিয়তসম্মত সময় পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করা আবশ্যক। সুতরাং বিলম্ব করা জায়েজ নয় । যেমন বিকেলে এসে অবস্থান করা।
৭৭৩. যদি যোহরের ওয়াক্তের সূচনা থেকে সামান্য বিলম্ব করে যেমন যোহর ও আছর নামাযদ্বয় একত্রে পড়ার সময়টুকু পরিমাণ দেরি করে, তাহলে তা হারাম কি-না, তা স্পষ্ট নয়, তবে সতর্কতা হলো বিলম্ব না করা।
৭৭৪. যদিও সামষ্টিকভাবে যোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব (ইতঃপূর্বে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে)। কিন্তু এই পুরো সময়টুক (মূল বিষয় বা রোকন নয় যে, তা পরিত্যাগ করলে হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে। বরং যদি সামান্য সময়ও অবস্থান করে এবং চলে যায় কিম্বা বিকালের দিকে আসে এবং অবস্থান করে, তাহলে তার হজ্ব সঠিক হবে। যদিও অবস্থান না করাটা ইচ্ছাকৃত ও জ্ঞাতসারেই হয় ।
৭৭৫. অবস্থান করার ক্ষেত্রে যেটা মূল বিষয় বা রোকন, তা হলো নামমাত্র অবস্থান করা। অর্থাৎ যেন বলা যায় যে, সে আরাফাতে ছিল। যদিও সেটা যত্ সামান্যই হয় । যেমন এক বা দুই মিনিট । তবে যদি আদৌ আরাফাতে না যায়, তাহলে সে উকুফের মূল বিষয় বা রোকনকেই বর্জন করলো ।
৭৭৬.যদি ইচ্ছাকৃত ও জ্ঞাতসারে রোকন পরিমাণ (ন্যূনতম সময়) অবস্থা করাকে বর্জন করে, অর্থাৎ যোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ের কোন অংশেই আরাফাতে না থাকে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল। আর ঈদের পূর্ব রাতে তার অবস্থান। (যা জরুরি অবস্থান বলে গণ্য) যথেষ্ট হবে না ।
৭৭৭. যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মাগরিবের শরিয়তসম্মত ওয়াক্তের পূর্বে আরাফাত থেকে চলে যায় এবং আরাফাতের সীমানা অতিক্রম করে বের হয়ে আসে, অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাহলে জোরালো মত অনুযায়ী তার ওপর কোন কিছুই বর্তাবে না। তবে সতর্কতা হলো, একটি উট কাফফারা দেয়া। একইভাবে যদি অনুতপ্ত হওয়া ছাড়াই কোন প্রয়োজনে সে প্রত্যাবর্তন করে, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত সহকারে অবস্থান করে, তাহলেও তার ওপর কিছুই বর্তাবে না।
৭৭৮. যদি পূর্বোক্ত মাসআলার বিবরণ অনুযায়ী সে প্রত্যাবর্তন না করে, তাহলে তার কাফফারা হলো একটি উট। যা আল্লাহর পথে কুরবানি করতে হবে, যেখানেই সে চায় । আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো মক্কায় কুরবানি করা। আর যদি কুরবানি
করতে সক্ষম না থাকে, তাহলে ১৮ দিন রোযা পালন করবে ।
৭৭৯. যদি ভুলক্রমে আরাফাত থেকে বাইরে চলে যায়, অতঃপর যদি তার স্মরণ হয়, তাহলে প্রত্যাবর্তন করবে। আর যদি প্রত্যাবর্তন না করে, তাহলে সে পাপী হবে। তবে জোরালো মত হলো তার কাফফারা নেই । আর যদি মনে না পড়ে, তাহলে কিছুই তার ওপর বর্তাবে না।
৭৮০. যদি কেউ মাসআলা না জানার কারণে যা কিছু বর্ণিত হলো সেগুলো করে, তাহলে তার জন্য নির্দেশ হবে ঐ ব্যক্তির মত যে ভুলবশত করে ।
৭৮১. যদি কেউ কোন কারণবশত যেমন ভুলে যাওয়া, সময়ের সংকীর্ণতা ইত্যাদি, যিলহজ্বের নবম দিনে যোহর থেকে মাগরিবের শরীয়তসম্মত সময় পর্যন্ত আরাফাতে না থাকে এবং উক্ত সময়ের কোন অংশেই আরাফাতে উপস্থিত না থাকে, তাহলে ঈদ-পূর্ব রাতের কিছু সময়, সেটা যৎসামান্যই হোক না কেন, আরাফারে অবস্থান করলেই তার জন্য যথেষ্ট হবে । এটাকেই বলা হয় আরাফাতের জরুরি সময়।
৭৮২.যে ব্যক্তি কোন কারণবশত যিলহজ্বের নবম দিনে উকুফ তথা আরাফাতে অবস্থান করেনি এবং দশম দিনের পূর্ব রাতেও ইচ্ছাকৃতভাবে ও কোন কারণ ছাড়াই আরাফাতে অবস্থান না করে, বাহ্যত তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে। যদিও সে মাশআরুল হারামে অবস্থান করেও থাকে ।
৭৮৩. যদি কেউ ভুলক্রমে কিম্বা উদাসীনতা বা অন্য কোন কারণে যিলহজ্বের নবম দিনে স্বাভাবিক বা সক্ষম সময়ে আরাফাতে অবস্থান করাকে বর্জন করে, তাহলে যদি সে মাশআরুল হারামে স্বাভাবিক বা সক্ষম সময়ে অবস্থান করে, তাহলে তার হজ্ব সঠিক হওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে ।
আরাফাতে অবস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া
প্রশ্ন-৭৮৪ : আরাফাত, মুযদালিফা এবং মিনার জন্য যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হজ্বের আমলসমূহ পালনের জন্য কি নির্ভরযোগ্য? উত্তর ঃ যদি মহল্লার অধিবাসীদের কাছে তা স্বীকৃত বা গ্রহণীয় হয়, তাহলেই তা গ্রহণীয় হবে।
উওর : যদি মহল্লার অধিবাসীদের কাছে তা স্বীকৃত বা গ্রহনীয় হয় , তাহলেয় তা গ্রহণীয় হবে ।
প্রশ্ন-৭৮৫ : জাবালুর রহমাহ্’ পাহাড়ে আরোহণ করা মাকরূহ হওয়ার বিষয়টি
কি আরাফাতে অবস্থানের নিয়ত করার আগে নাকি পরের জন্য প্রযোজ্য?
উত্তর: উকুফ (অবস্থান) করার সময় ঐ পাহাড়ে আরোহণ করে ওপরে ওঠা মাকরূহ
। প্রশ্ন-৭৮৬ : আরাফাতে জরুরি অবস্থানের সময়সীমা কি রাতের প্রথম ভাগ থেকে
সুবহে সাদিকের উদয় পর্যন্ত নাকি সূর্যোদয় পর্যন্ত?
উত্তর : আরাফাতে জরুরি অবস্থানের সময় হলো ঈদের পূর্ব রাতে। আর রাত হলো সুবহে সাদিকের উদয় পর্যন্ত।