১. নেক সন্তানের জন্য বাবার নেক দোয়া এবং খারাপ সন্তানের জন্য বাবার বদ দোয়া ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: তিন ধরনের দোয়া কখনোই বিফল হ না যথাঃ নেক সন্তানের জন্য পিতার নেক দোয়া এবং খারাপ সন্তানের জন্য পিতার বদ দোয়া, জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের বদ দোয়া এবং মজলুমের সাহায্যকারীর জন্য মজলুমের নেক দোয়া কখনোই বিফল হয় না। পিতামাতার সাথে সদাচারের অনেক পদ্ধতি এবং পন্থা রয়েছে তার মধ্যে সব থেকে উত্তম হচ্ছে তাদের জন্য দোয়া করা।
২. জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের বদ দোয়া রাসূল (সা.) বলেছেন: মজলুমের দোয়া কখনোই বৃথা বা বিফলে যায় না। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন: মজলুমের আর্তনাদকে ভয় কর। কেননা মজলুম যখন নিজের হক আদায়ের জন্য আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করে দোয়া করে তখন তা কবুল হয়। ২ তিনি আরও বলেছেন: মজলুমের ফরিয়াদ তথা আর্তনাদকে ভয় কর। কেননা তার আর্তনাদ বিদ্যুতের গতির থেকেও দ্রুত আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। মাওলা আলীর (আ.) কাছে জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন: আসমান ও জমিনের দূরত্ব কতটা? ইমাম জবাব দিলেন: আসমান ও জমিনের দূরত্ব হচ্ছে মানুষের দৃষ্টি এবং মজলুমের আর্তনাদের সীমা পর্যন্ত।
৩. মুমিনের জন্য মু’মিনের দোয়া : কবুল দোয়াসমূহের মধ্যে আরেকটি দোয়া হচ্ছে মু’মিনের জন্য মু’মিনের দোয়া বিশেষ করে যে ব্যক্তি সামনে না থাকে তার জন্য দোয়া করলে তা কবুল হয়। কেননা এর মধ্যে ইখলাস এবং নিষ্ঠা বেশী থাকে। আর মহান আল্লাহ এমন দোয়া বেশী কবুল করেন। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: এক মু’মিন আরেক মু’মিনের জন্য দোয়া করলে বালা-মুসিবত দূর হয় এবং রিজিক বৃদ্ধি পায়।
৪. যে অধিক কোরআন তিলাওয়াত করে তার দোয়া : যে ব্যক্তি অধিক কোরআন তিলাওয়াত করে তার দোয়া সর্বদা কবুল হয়। আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন: চারটি স্থানে অবশ্যই দোয়া করবে তার মধ্যে একটি হচ্ছে কোরআন তিলাওয়াতের সময়। প্রতিটি মু’মিনের উচিত হচ্ছে আহলে বাইত (আ.) থেকে বর্ণিত দোয়া পাঠ করা। কেননা তাঁদের থেকে বর্ণিত দোয়ার মধ্যে অনেক উচ্চ পর্যায়ের মা’রেফাত, আকিদা-বিশ্বাস এবং নৈতিকতা লুক্কায়িত থাকে ।