আশুরার সৌন্দর্য এবং যায়নাব (আ.)-এর এই উক্তি

কীভাবে আশুরার সৌন্দর্য এবং যায়নাব (আ.)-এর এই উক্তি ما رایت الا جمیلا  – আমি সুন্দর ছাড়া কিছুই দেখিনি

কখনও কখনও মহত্ত্ব কোন বিষয়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে থাকে ,ঐ জিনিসে নয়-যাকে দেখা হয় । যেমন কেউ কেউ বলেছেন ,কখনও কখনও সৌন্দর্য থাকে মানুষের চোখে এবং দৃষ্টিতে ,ঐ বস্তুতে নয়-যাকে দেখা হয় । আল্লাহর সৃষ্ট এ জগৎ হলো সর্বোত্তম সৃষ্টিব্যবস্থা -যদি কেউ এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল অস্তিত্বের দিকে তাকায় তবে অনেক অদৃশ্য বিষয়কে সে দেখতে পাবে এবং তাকে সুন্দরও দেখবে । এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কোন্ দৃষ্টিকোণ থেকে অস্তিত্ব বা ঘটনাটিকে দেখছি ।

সুন্দর দৃষ্টিতে অস্তিত্ব জগৎ ও জীবনকে দেখলে একদিকে আত্মা ও বিবেক প্রশান্তি লাভ করে অন্যদিকে তা মনে এমন অবিচলতা ,দৃঢ়তা এবং পৌরুষের সৃষ্টি করে যা অপ্রিয় জিনিসসমূহকে সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । এই দৃষ্টিতেই আশুরা হযরত যায়নাব কুবরা (সা.আ.)-এর কাছে সুন্দর ব্যতীত কিছুই ছিল না । যখন শত্রুরা এ ঘটনাকে আহলে বাইতের জন্য অবমাননাকর গণ্য করে কটাক্ষ ও বিদ্রূপ করছিল তখন বীরঙ্গনা নারী যায়নাবما رایت الا جمیلا (আমি সুন্দর ছাড়া কিছুই দেখিনি) বলে তাদেরকে জবাব দিয়েছেন ।

ইমাম হোসাইন (আ.) এই সফরের শুরুতেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে ,যা কিছু ঘটবে আল্লাহর ইচ্ছায় তা যেন তাঁর এবং তাঁর সাথিদের জন্য মঙ্গলকর হয় । আর তা বিজয়ের দ্বারাই হোক আর শাহাদাতের মাধ্যমেই হোক ।

ارجو ان یکون خیرا ما اراد الله بنا قتلنا ام ظفرنا অর্থাৎ আমি আশা করছি আল্লাহর ইচ্ছায় যা-ই সংঘটিত হোক তা আমাদের জন্য মঙ্গলই হবে ,শহীদ হই অথবা বিজয়ী হই ।

বোনের দৃষ্টিতে ঘটনাটি সৌন্দর্যময় হওয়া এবং ভাইয়ের দৃষ্টিতে তা মঙ্গলজনক হওয়া এ দু টি একে অপরের পরিপূরক । কারবালার দর্পণের অনেক সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়ে আছে । তার থেকে আমরা এখানে কিছু দিকের উল্লেখ করব ।

১. মানুষের পূর্ণতার দ্যুতি : মানুষ যে কত ঊর্ধ্বে আরোহণ এবং কতটা খোদায়ী রঙ ধারণ করতে পারে যে ,তাঁর (তাজাল্লির) মধ্যে বিলীন হতে পারে তা কর্মের মধ্যেই প্রতিফলিত হয় । কারবালা দেখিয়ে দিয়েছে মানুষের আত্মার মর্যাদা কত বেশি এবং এর ঊর্ধ্বগামিতা ও পূর্ণতার সীমা কতদূর পর্যন্ত হতে পারে! এই মহান ঘটনা প্রমাণ করেছে যে ,মানুষের মর্যাদা সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে । মূল্যবোধের অনুসন্ধানকারীদের কাছে এ দিকটি অনেক মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ।

২. আল্লাহর সন্তুষ্টির উজ্জ্বলতম প্রকাশ : আধ্যাত্মিকতার বিভিন্ন পর্যায়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট হওয়ার মর্যাদায় পৌঁছানো অনেক কঠিন ও দুঃসাধ্য ব্যাপার । যদি হযরত যায়নাব (আ.) কারবালার ঘটনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত মনে করেন তা আল্লাহর ওলী সাইয়্যেদুশ শুহাদা ,তাঁর সঙ্গী সাথি এবং পরিবার-পরিজনের কর্মে যে মহান বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশিত হয়েছে তার কারণে ।

সত্যিই হোসাইন ইবনে আলী (আ.) ব্যথা অথবা নিরাময় এবং মিলন অথবা বিরহের মধ্যে কোন্টাকে বেছে নেবেন তা নিয়ে চিন্তা করেছিলেন । অতঃপর যা কিছু মহান প্রেমময় সত্তা আল্লাহ পছন্দ করেন তা-ই পছন্দ করেছিলেন ।

কারবালা আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি মানুষের সন্তুষ্টির উজ্জ্বলতম প্রকাশস্থল । ইমাম হোসাইন (আ.) জীবনের শেষ মুহূর্তে শহীদ হওয়ার স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত এ কথাটির পুনরাবৃত্তি করছিলেন-

الهی رضی بقضائک

( হে আল্লাহ! আমরা তোমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট )। নিজের বোনকেও তিনি এই উপদেশ দিচ্ছিলেন-ارضی بقضائ الله ( আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাক )। এটা আধ্যাত্মিকতার উচ্চ পর্যায় । অর্থাৎ নিজেকে মোটেই না দেখা এবং কেবল আল্লাহকেই দেখা । আল্লাহর পছন্দের মোকাবিলায় নিজের কোন পছন্দ না থাকা । তিনি মক্কা থেকে কুফার দিকে রওয়ানা হওয়ার পূর্বেও তাঁর বক্তৃতায় বলেন :رضا الله رضانا اهل البیت ( আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের সন্তুষ্টি )।

এটাই হচ্ছে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর ভালোবাসা এবং আত্মোৎসর্গের ভিত্তি । আর যায়নাব (আ.) এটাকেই সুন্দর বলেছেন এবং এই চিন্তাধারা ও জীবনধারাকেই প্রশংসা করেছেন ।

সত্যমিথ্যার সীমারেখা : আশুরার অন্যান্য সৌন্দর্যের মধ্যে একটি হলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য এবং হিংস্র স্বভাবের মানুষ ও ফেরেশতার মতো মানুষের অবস্থান ও কর্মের সীমা পরিষ্কার করে দেওয়া । যখন ভালো-মন্দ ,সত্যমিথ্যা মিশ্রিত হয়ে পড়ে ,মিথ্যার অন্ধকাররাশি সত্যকে অস্পষ্ট ও আচ্ছাদিত করে দেয় ,সেই অন্ধকারময় অবস্থায় মানুষের চিন্তাধারায় বিকৃতি ঘটা ও মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার । আর তখন অস্পষ্ট মুখোশধারী কুফর ইসলামের বেশ ধরে সহজ-সরল মুসলমান এবং অগভীর দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষদের সত্য সম্পর্কে সন্দেহে ফেলে দেয় । ইমাম হোসাইন (আ.)-এর কর্মের সৌন্দর্য হচ্ছে যে ,তিনি এমন এক মশাল জ্বালিয়েছেন যেন সত্যপথ পরিষ্কার হয় এবং অন্ধকার দূরীভূত হয় । মেষের পোশাকে আসা নেকড়েস্বরূপ ফিতনা ও মিথ্যার চেহারা প্রকাশিত ও চিহ্নিত হয় এবং তাদের প্রতারণা বা ধোঁকা যেন আর কার্যকর না হয় । এটা কি সুন্দর নয় ?

আশুরা ছিল সত্যমিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী একটি সীমানা যা নামধারী মুসলমানদের থেকে প্রকৃত মুসলমানদের চিহ্নিত করেছে । কারবালায় পরম করুণাময়ের অনুসারীরা এবং শয়তানের বাহিনী পৃথক প্লাটফর্মে আবির্ভূত হয়েছে । যেহেতু মিথ্যা কারবালায় মুখোশবিহীন অবস্থায় ময়দানে এসেছিল সেহেতু সত্য নিশ্চিন্তে ও অকুণ্ঠ চিত্তে মিথ্যার মোকাবেলায় নেমেছিল । যদিও তারা প্রতারণামূলকভাবে ইমাম হোসাইনকে হত্যার উদ্দেশে আগতদেরیا خیل الله ارکبی ( হে আল্লাহর সৈন্যরা! যুদ্ধের জন্য আরোহণ কর ) স্লোগান দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল ।

যদি তাদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পথে সামান্য কিছু অস্পষ্টতা থেকেও থাকে তবে সিরিয়া এবং কুফায় যায়নাব (আ.)-এর বক্তৃতার মাধ্যমে তা দূরীভূত হয়েছিল । এটা রক্তাক্ত আশুরার একটি অতি মূল্যবান সৌন্দর্য ।

৪. প্রকৃত বিজয়ের দীপ্তি : আশুরার অপর একটি সৌন্দর্য হচ্ছে বিজয়ের নতুন এক অর্থ ও তাৎপর্য দান । কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ভুলবশত কেবল সামরিক বিজয়কেই বিজয় এবং অত্যাচারিত হওয়া ও শাহাদাত বরণ করাকে পরাজয় বলে মনে করে । আশুরা দেখিয়ে দিয়েছে যে ,চরম অত্যাচারিত হওয়ার মধ্যেও বিজয় থাকতে পারে । নিহত হওয়ার মাধ্যমেও বিজয়ের গ্রন্থ রচনা করা এবং রক্ত দিয়েও বিজয়ের চিত্র অঙ্কন করা সম্ভব । সুতরাং কারবালা সংগ্রামের প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন ইমাম হোসাইন (আ.) এবং কী চমৎকার এ বিজয়!

এটাই সেই তরবারির ওপর রক্তের বিজয় -যা ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর বক্তৃতায় বিভিন্ন সময় প্রতিধ্বনিত হয়েছে । তিনি বলেছেন : যে জাতি শাহাদাতকে সৌভাগ্য বলে মনে করে তারাই বিজয়ী । আমরা শহীদ হওয়া এবং হত্যা করা উভয় অবস্থায়ই বিজয়ী । এটাই কোরআনের সেই শিক্ষাاِحدی الحسنین (অর্থ: দুই কল্যাণের একটি অর্জন) যা আল্লাহর পথে সংগ্রামীদের সংস্কৃতি ।

যে আল্লাহর নির্ধারিত ছক ও নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে সে সর্বাবস্থায় বিজয়ী এবং সেটা প্রকৃত বিজয়ও বটে ।

এই দৃষ্টিভঙ্গি ইমাম হোসাইন ,ইমাম সাজ্জাদ এবং হযরত যায়নাবেরও ছিল ।

যেহেতু ঐসব তিক্ত ঘটনা সত্য এবং ইসলামের জন্য নিঃসন্দেহে কল্যাণকর ছিল সেহেতু তা সুন্দর এবং আকর্ষণীয় । যখন ইবরাহীম বিন তালহা ইয়াযীদের দরবারে ইমাম যায়নুল আবেদীনকে তিরস্কার করে বলল : (আজ) কে বিজয়ী হয়েছে ? তিনি বললেন : যখন নামাযের সময় হবে এবং আযান ও ইকামত দেয়া হবে তখন বুঝবে যে ,কে বিজয়ী হয়েছে!

নিহত এবং শহীদ হয়েও বিজয় লাভ করা কি সুন্দর নয় ?

৫. আল্লাহর কাঙ্ক্ষিত পথে যাত্রা করা : মানুষ যখন কোন কাজ আল্লাহর ইচ্ছা ও আল্লাহর চাওয়া অনুযায়ী ই ঘটেছে বলে মনে করে তখন তার সৌন্দর্য উত্তমরূপে প্রতিভাত হয় । যদি শহীদদের নেতা বা তাঁর সঙ্গী-সাথিরা শহীদ হয়ে থাকেন এবং হযরত যায়নাব ও নবীর পরিবার বন্দি হয়ে থাকেন তবে আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়েছে । কেননা ,লওহে মাহফুযে তা লিপিবদ্ধ ছিল । কী চমৎকার যে ,দলবদ্ধ একটি কাজ আল্লাহর চাওয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ!

তাহলে কি হোসাইন বিন আলী (আ.)-কে অদৃশ্য থেকে সম্বোধন করে বলা হয়নি-

ان الله شاء ان یراک قتیلا ان الله شاء ان یراهن سبایا

 নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে নিহত অবস্থায় দেখতে চান এবং তাদেরকেও (নারী-শিশুদের) বন্দি দেখতে চান । সুতরাং এটাই কি আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না যে ,নবীর আহলে বাইত (নারী-শিশুসহ সকল সদস্য) তাঁর ধর্ম এবং মানুষের মুক্তির জন্য বন্দি হবেন ?

অতএব ,এই শাহাদাত বা বন্দি হওয়াতে দুঃখ বা আফসোস কিসের ?

এ দু টি ছিল আল্লাহর দ্বীন রক্ষা এবং খোদাদ্রোহীদের মুখোশ উন্মোচন করার মূল্য যা অবশ্যই দিতে হবে যা প্রেমপূর্ণভাবে ,ধৈর্যসহকারে এবং সাহসিকতার সাথে সম্পাদিত হয়েছে ।

মহীয়সী নারী যায়নাব ওহীর ক্রোড়ে এবং হযরত আলীর শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হয়েছেন । তাই তাঁর নিকট আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁরই পথে এই যাত্রা হচ্ছে অতি মূল্যবান এবং সৌন্দর্যের সর্বোত্তম রূপ । তিনি এই কর্মসূচির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুকেই সৌন্দর্যমণ্ডিত অবলোকন করেছেন । কারণ ,তিনি একে একে প্রতিটি প্রাঙ্গন ও ক্ষেত্রকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করেন । এই ব্যাখ্যা ও দৃষ্টিকোণ থেকে আশুরার ঘটনাটি কি সৌন্দর্যময় নয় ?

৬. আশুরা ভাগ্যনির্ধারণের রাত্রি : এই ক্ষেত্রটিতে আশুরার সৌন্দর্যের উজ্জ্বলতম প্রকাশ ঘটেছে । কারণ ,হোসাইন (আ.)-এর সঙ্গীরা প্রস্থান এবং অবস্থান এই দুয়ের মধ্যে অবস্থান করাকে বেছে নিয়েছিলেন ,যা তাঁদের আত্মত্যাগ ও বিশ্বস্ততার নিদর্শন । তাঁরা হোসাইনবিহীন জীবনকে অপমান ও প্রকৃত মৃত্যু মনে করেছেন ।

আশুরার রাতে ইমামের ঐ ঐতিহাসিক বক্তৃতা ,তাঁর প্রতি সঙ্গী-সাথিদের বিশ্বস্ত থাকার ঘোষণা ,ইমাম হাসানের কিশোর সন্তান কাসেমের সাথে ইমামের কথোপকথন এবং প্রশ্নোত্তরের বিষয়বস্তু ও ধরন , সকাল পর্যন্ত সাহাবীদের ইবাদত ,মৃদুস্বরে কোরআন পাঠ ,তাঁবুগুলো থেকে দোয়া পাঠের ধ্বনি উচ্চারিত হওয়া ,ইমাম হোসাইন (আ.) এবং যায়নাবের সামনে তাঁদের সাথিদের বিশ্বস্ততার অঙ্গীকার করা-এগুলোর প্রতিটি এই সুন্দর বইয়ের সোনালি অধ্যায় । তাই যায়নাব কেন আশুরাকে সৌন্দর্যময় দেখবেন না ?

কারবালার শিক্ষার ভিত্তিতেই ইতিহাসে পৃথিবীর প্রতিটি জায়গায় যুলুম-অত্যাচারের সাথে সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে । এটা কি অপরূপ নয় ?

আশুরার প্রতিটি মুহূর্ত ও ক্ষণ শিক্ষালয়ে পরিণত হয়েছে যা মানুষকে স্বাধীনতা ,বিশ্বস্ততা ,মহানুভবতা ,ঈমান ,সাহসিকতা ,শাহাদাতকামিতা এবং অন্তর্দৃষ্টি লাভের শিক্ষা দেয় । এটা কি সুন্দর নয় ?

মরু-প্রান্তরের মাটিতে ঝরে পড়া পবিত্র রক্তের স্রোত যুলুম-অত্যাচারের মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করেছে । এটা কি সুন্দর নয় ?

কুফা এবং সিরিয়ায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা ভেবেছিল যে ,সত্যপন্থীদের হত্যার মাধ্যমে নিজেদেরকে চিরস্থায়ী করেছে! কিন্তু যায়নাব (আ.)-এর দৃষ্টিতে তারা নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়েছে এবং আহলে বাইতের নূরানি চেহারাকে আরো উজ্জ্বল এবং তাঁদের নাম চিরস্থায়ী করেছে । আর এভাবে আল্লাহর ধর্মকে পুনর্জীবিত করেছে । ফলে কারবালা হয়েছে এক বিশ্ববিদ্যালয় ।

পরম সাহসী ও মহীয়সী নারী হযরত যায়নাব এ সত্যগুলো জানতেন এবং সময়ের ঊর্ধ্বে এ ঘটনার সুপ্রসারিত প্রভাবকে দেখেছিলেন । এই সম্মানিত বন্দি নারীকে ইবনে যিয়াদ তিরস্কারপূর্ণ ভাবে সম্বোধন করে বলেছিল : তোমার ভাই এবং তার পরিবারের সাথে আল্লাহর আচরণকে কেমন দেখলে ? তিনি বললেন : আমি সুন্দর ছাড়া কিছু দেখিনি । এটাই ছিল কুফার শাসকের বিদ্রূপাত্মক কথার জবাব ।

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More