আসলে কি আমরা রাসুলের (সা.) উম্মতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছি?

আসলে কি আমরা রাসুলের (সা.) উম্মতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছি?

রবিউল আউয়াল মাস মুসলমানদের কাছে অসাধারণ তাৎপর্যময়। এ মাসেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন সর্বশেষ নবী, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর আগমন অন্ধকারাচ্ছন্ন দুনিয়াকে আলোকিত করেছে। তিনি ছিলেন মানবতার শিক্ষক, ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং রহমাতুল্লিল আলামিন। আমরা প্রত্যেকেই গর্ব করে বলি “আমরা নবীজির উম্মত।” কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত আছি? নাকি শুধু মুখের কথায় উম্মত দাবি করি, অথচ কাজে তার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ?
রাসূল (সা.) এর উম্মত হিসেবে যে গুণাবলি থাকা উচিত তা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
যেমন,আল্লাহর আনুগত্য ও রাসুলের সুন্নাহ পালন- পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: “তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর।” (সুরা আনফাল: ২০)
তারপর সত্যবাদিতা ও আমানতদারি নবীজি (সা.) বলেছেন, “যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই।”
আবার পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ মুসলিম মুসলিমের ভাই, একে অপরের ক্ষতি না করে সহযোগিতা করা।
এছাড়াও ইবাদতে আন্তরিকতা- নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি ফরজ বিধানগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পালন।
এবং পরিশেষে বলা যায় আখলাকে রাসুল (সা.) গ্রহণ করা- নম্রতা, দয়া, ন্যায়পরায়ণতা, মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার।
বর্তমান যুগে আমাদের অবস্থা
যদি আমরা নিজেদের ভেতর তাকাই, তবে দেখব উম্মতের এই গুণগুলো অনেকাংশেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মধ্যে দিয়ে।
যেমন: ইবাদতে অবহেলা করা অনেকেই নামাজ-রোজা অবহেলা করছে, ফরজ ইবাদতকে হালকা করে নিচ্ছে। সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া নবীজির জীবনাচরণকে উপেক্ষা করে দুনিয়ার ভোগবিলাসে মগ্ন হয়ে পড়তেছি। তারপর ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তি মুসলমানরা আজ দলাদলি, হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থপরতায় নিমজ্জিত।
সত্যবাদিতা হারিয়ে যাচ্ছে: দুর্নীতি, প্রতারণা, মিথ্যা ও প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবনে।
এগুলো প্রমাণ করে আমরা নামেমাত্র মুসলমান, কিন্তু কাজে রাসুল (সা.) এর প্রকৃত উম্মত হবার দাবিদার রাখিনা।
প্রকৃত উম্মত হতে আমাদের যা করণীয় তা হলো: যদি সত্যিই রাসুল (সা.) এর উম্মত হতে চাই, তবে আমাদের কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
যেমন : আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসা-কুরআন ও সুন্নাহর বিধানকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে মানা। তারপর সুন্নাহর অনুসরণ- খাদ্যাভ্যাস, পর্দা, আচরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবখানে রাসুলের (সা.) জীবনকে আদর্শ বানানো। সব দিয়ে প্রধান আমি যে বিষয়টা মনে করি তা হলো ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি দূর করে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। পরিশেষে সুন্দর চরিত্র গঠন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, দয়া, ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতাকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। এই সকল বিষয়গুলো আমাদের জীবনে ফুটিয়ে তুলতে হবে। পরকালকে আসল লক্ষ্য করে দুনিয়ার লোভে না পড়ে আখিরাতের সাফল্যকে লক্ষ্য করা।
পরিশেষে এতোটুকু বলতে চাই, আমি রাসূল (সা.) এর উম্মত হওয়া শুধু নামের ব্যাপার নয়, বরং কাজের প্রমাণ করতে হবে আমাদের সবাই কে। লোক দেখানো ইবাদতের এবং সুন্নাহ পালনের কোন লাভ নাই দুনিয়ার জীবনে কারণ দুনিয়ার জীবন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। তাই ওই পারে দীর্ঘ জীবনের জন্য নিজেকে এখনই প্রস্তুত করে নিতে হবে। রবিউল আউয়াল মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নবীজির শিক্ষা ও আদর্শই আমাদের প্রকৃত সম্পদ। আমরা যদি তাঁর আদর্শ ভুলে যাই, তবে আমরা উম্মতের মর্যাদা হারাবো। তাই এখনই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা করা, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠা এবং এমন জীবনযাপন করা যা প্রমাণ করে আমরা সত্যিই নবীজির উম্মত। কিয়ামতের দিনে যেন রাসূল (সা.) আমাদেরকে চিনে নেন তাঁর উম্মত হিসেবে এটাই আমাদের সর্বোচ্চ কামনা হওয়া উচিত।

লেখক: সৈয়দ মোহাম্মাদ আলী আবেদী।

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More