ইমাম মুসা কাযেমের বিশেষ খোদা পরিচিতি ,মহান প্রভুর প্রতি ,তাঁর সত্তাগত জ্যোতির প্রতি তাঁর আত্মিক আকর্ষণ যা পবিত্র ইমামগণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সকল কিছুই তাঁকে প্রেমময় ইবাদত ও উপাসনার দিকে ধাবিত করেছিল । তিনি ইবাদতকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে মনে করতেন ,যেরূপ মহান আল্লাহ বলেছেন : সামাজিক কর্মকাণ্ডের অবসরে তিনি কিছুকেই এর সমকক্ষ বলে মনে করতেন না । যখন হারুনের নির্দেশক্রমে তিনি কারারুদ্ধ হয়েছিলেন ,তখন বলেছিলেন :
প্রভু হে! কতদিন তোমার নিকট চেয়েছি আমাকে (কেবল মাত্র) তোমার ইবাদতের জন্য অবসর দাও । এমন আমার প্রার্থনা তুমি গ্রহণ করেছ ,সুতরাং এজন্য তোমার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি ।( হায়াতুল ইমাম ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১)
এ উক্তিটি কারাগারে আসার পূর্ব পর্যন্ত সামাজাকি কর্মকাণ্ডে ইমামের অপরিসীম ব্যস্ততার প্রমাণবহ ।
যখন ,ইমাম রাবির কারাগারে ছিলেন ,হারুন কখনো কখনো ইমামের কারাগারের ছাদে আসত এবং কারাভ্যন্তরে উঁকি দিয়ে দেখত । যতবারই তাকাত ,প্রত্যেকবারই দেখত একগুচ্ছ জামা কাপড়ের মত কারাগারের এককোণে পড়ে আছে এবং সেখান থেকে স্থানান্তরিত হচ্ছে না । একবার জিজ্ঞাসা করেছিল ঐ পোশাকগুলো কার ?
রাবি বলল : পোশাক নয় ,তিনি মুসা ইবনে জা ’ ফর (আ.) যিনি অধিকাংশ সময়ই প্রভুর ইবাদতের মধ্যে কাটান ও সিজদাবনত হয়ে মাটিতে চুম্বন করেন ।
হারুন বলল : প্রকৃতই তিনি বনি হাশেমের ইবাদতকারীদের অন্তর্ভূক্ত ।
রাবি জিজ্ঞাসা করল : তবে কেন কারাগারে তার উপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে থাকেন ।
হারুন বলল : হায়! এছাড়াতো আমার কোন উপায় নেই!! (হায়াতুল ইমাম মুসা ইবনে জাফর ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১ )
একবার হারুন ভরা শশী এক দাসীকে তাঁর সম্মানে পাঠিয়েছিল । আর এর আড়ালে এ কুমন্ত্রণা ছিল যে ,যদি ইমাম ঐ দাসীর প্রতি আকৃষ্ট হন ,তবে তা হবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উত্তম হাতিয়ার । ইমাম ঐ নারীর আনয়নকারীকে বললেন : তোমরা এ উপহারের প্রতি প্রলুব্ধ এবং এ গুলোই তোমাদের দম্ভ ,এ উপঢৌকন ও এগুলোর মত কিছুই আমার প্রয়োজন নেই । হারুন (আল্লাহর অভিশম্পাত তার উপর) ক্রুদ্ধ হলো এবং ইমামকে এ কথা বলার নির্দেশ দিল যে ,আমরা আপনার খুশীমত আপনাকে কারাবন্দী করিনি । (অর্থাৎ এ দাসীর কারাগারে থাকাটাও আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না । )
কালাতিপাত হয়নি ,ইমাম ও ঐ দাসীর সম্পর্কের ব্যাপারে সংবাদদাতা গুপ্তচররা হারুনকে সংবাদ দিল যে ,ঐ তরুণী অধিকাংশ সময়ই সেজাদাবনত থাকে । হারুন বলল : আল্লাহর শপথ! মুসা ইবনে জা ’ ফর (আ.) ঐ নারীকে যাদু করেছে .. ।
দাসীকে নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ,সে ইমামের সুনাম ব্যতীত কিছুই বলে নি ।
হারুন ঐ দাসীকে নিজেদের নিকট আটক রাখার জন্যে তার প্রহরীদেরকে নির্দেশ দিল যাতে সে কারো নিকট এ ব্যাপারে কিছু না বলতে পারে । ঐ দাসী অনবরত ইবাদতে মশগুল থাকত এবং ইমামের শাহাদাতের কিছু দিন পূর্বে পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেছিল । (হায়াতুল ইমাম মুসা ইবনে জাফর ,১ম খণ্ড ,পৃ. ১৪০ ,এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৮১ )
ইমাম এ দোয়াটি প্রায়ই পড়তেন :
প্রভু হে! আমি তোমার কাছে সহজ মৃত্যু কামনা করি ,আর কামনা করি বিচার দিবসে সহজ হিসাব । ( এরশাদ ,মুফিদ ,পৃ. ২৭৭ )
ইমাম মুসা কাযেম (আ.) এত সুন্দর ও সুললিত কন্ঠে কোরআন পড়তেন যে ,যে কেউ তাঁর কোরআন পাঠ শুনত ,ক্রন্দন করত । মদীনার অধিবাসীরা তাঁকে ‘ যাইনুল মুতাহাজ্জেদীন ’ অর্থাৎ রাত্রি জাগরণকারীদের সৌন্দর্য উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন ।