ইমামে জামান (আঃ)-এর নৈকট্য লাভের উপায়

লেখকঃ মোঃ সাফিউর রহমান

এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই যে, সত্যের বিজয় হবেই। সেটা আগামী ৫-৭ বছরে হোক অথবা ৪০-৫০ বছর পরে। কোন সন্দেহ নাই যে, ইমাম এ জামান, মুনতাজির এ কায়েনাত হজরত মুহাম্মদ আল মাহদী (আঃ) নিজেকে প্রকাশিত করবেন। কোন সন্দেহ নাই যে তিনি এই পৃথিবীকে সত্য এবং ন্যায় বিচার দিয়ে ভরিয়ে দিবেন এবং মিথ্যাকে সমূলে উৎপাটন করবেন। কোন সন্দেহ নাই যে তাঁর অনুসারীরাই হবে বিজয়ী এবং সম্মানিত। বিজয় সুনিশ্চিত, তবে তা বিনা পরিক্ষায় নয়, বিনা ত্যাগে নয়, বিনা আমলে নয়।

এটা নিশ্চিত যে শুধু তারাই শেষ পর্যন্ত ইমাম (আঃ)-এর সাথে থাকবেন, যারা জয় করতে পারবেন নিজের লোভকে, নিজের অহংকারকে। তারাই বিজয়ী হওয়ার হক রাখে যারা বিজয়ী হওয়ার পরেও নিজের পা মাটিতে রেখে দীনদার এর মতো অহংকারমুক্তভাবে চলার মতো মানসিক দৃঢ়তা রাখে।

সুতরাং আমাদের সকলের উচিৎ যে, যার যার নিজেদের ইগোকে ভুলে, দলবাজি, গলাবাজি ভুলে, নিজেকে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং ইমাম এ জামান (আঃ) এর এক ক্ষুদ্র সেবক মনে করে, সত্যের পক্ষে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য প্রস্তুত রাখা। মনে রাখবেন ইমাম এ জামান (আঃ) কোন আত্ম-অহংকারী ফিতনাবাজকে তার দলে স্থান দিবেন না। যারা নিজেকে নির্দিষ্ট কোন পরিবার, দল বা গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ রাখে বা কোন নির্দিষ্ট দলের প্রতি অন্ধ, যারা কোনভাবেই নতুন কাউকে গ্রহণ করতে পারে না অথবা বিচারকার্যে নিজের পরিচিতজনদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে, তারা নিশ্চয়ই ইমামে জামান (আঃ)-এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।

“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক। যদি তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা কিংবা তোমাদের আত্মীয়-স্বজনের ক্ষতির কারণও হয়; (যদি পক্ষগুলোর একটি) বিত্তবান হয় অথবা বিত্তহীন, তবু আল্লাহই তাদের শুভাকাক্সক্ষী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুবর্তী হয়ো না। যদি তোমরা ন্যায়কে বিকৃত কর এবং ন্যায় বিচারকে অস্বীকার কর, অবশ্যই তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন।”(সুরা নিসাঃ ১৩৫)
‘যেসব মুনাফিক ঈমানদার লোকদের বাদ দিয়ে কাফের লোকদেরকে নিজেদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে এ সংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে। উহারা কি সম্মান লাভের সন্ধানে তাদের নিকটে যায়? অথচ সম্মান তো একমাত্র আল্লাহরই জন্য।’ (সুরা নিসাঃ ১৩৮-১৩৯)

‘নিঃসন্দেহে মুনাফেকরা থাকবে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তারা তাদের জন্য কখনও কোনো সাহায্যকারী পাবে না।’ (সুরা নিসাঃ ১৪৫)।  অতএব আসুন আমরা নিজেদেরকে ইমামে জামানার (সা.) সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলি ও ঈমান এবং আমলকে সঠিকভাবে পালন করি।###

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More