ইমাম রেযা ‘(আ.) এর যিয়ারত সম্পর্কিত কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হলো

Light Blue Delicate Child Reel Instagram - 1

 

ইমাম রেযা (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ দূর থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে যিয়ারত পাঠ করে তাহলে কেয়ামতের দিন আমি তাকে তিনটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবো:

১-যখন সে ভয় পাবে।

২- যখন মানুষের আমলনামাকে তার ডান অথবা বাম হাতে দেয়া হবে।

৩- যখন সে পুলসিরাত অতিক্রম করবে।

বাযানতি থেকে বর্ণিত ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন: আমার অনুসারিদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মারেফতের সাথে আমার যিয়ারত করবে কেয়ামতের দিন আমি তাকে শাফায়াত করবো। (মান লা ইয়াহ যারুহল ফাকিহ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৮৩, আমলি সাযুক্ত, পৃষ্ঠা ১১৯)

হাসান বিন ফাজ্জাল ইমাম রেযা(আ.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: অচিরেই আমাকে বিষপানের মাধ্যমে শহীদ করা হবে এবং প্রবাসী অবস্থায় আমাকে দাফন করা হবে। উক্ত ভবিষ্যত

বাণীটি আমার বাবা তার বাবার কাছে এবং এভাবে তিনি ইমাম আলী(আ.) থেকে এবং তিনি রাসুল(সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি আমার যিয়ারত করবে কেয়ামতের দিন স্বয়ং রাসুল(সা.), আমার পূর্ববর্তী ইমামগণ এবং আমি তার শাফায়াত করবো। আর যদি তার গুনাহ সকল মানুষ এবং জ্বিন জাতির সমতুল্যও হয়ে থাকে আমাদের শাফায়াতের কারণে তার সকল গুনাহকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।( বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১০১, পৃষ্ঠা ৩৫ )

হারাভী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা ইমাম রেযা (আ.) হারুন’এর কবরের কাছে আসলেন এবং স্বীয় হাত দ্বারা একটি রেখা এঁকে দিয়ে বলেন: আমাকে এখানে দাফন করা হবে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উক্ত স্থানটিকে আমার অনুসারিদের সমাগমের স্থান করে দিবেন। মহান আল্লাহর শপথ যারা আমার যিয়ারত করবে বা আমার প্রতি সালাম প্রেরণ করবে আমরা আহলে বাইত গণ তার জন্য শাফায়াত করবো।

শেখ সাদুক (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা খোরাসানের অধিবাসী এক ব্যক্তি ইমাম রেযা (আ.) এর নিকট এসে বললেন: হে রাসুল(সা.)” এর সন্তান! আমি রাসুল(সা.)কে স্বপ্নে দেখেছি এবং তিনি আমাকে বললেন যে, যখন আমার দেহের অংশকে তোমাদের দেশে দাফন করা হবে তখন কিভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে? ঐ ব্যক্তির কথা শেষ হওয়ার পর ইমাম রেযা( আ.)  বললেন: আমিই সেই ব্যক্তি, রাসুল(সা) এর দেহের অংশ, আমানত এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র যাকে তোমাদের দেশে দাফন করা হবে। জেনে রাখ! যারাই আমার যিয়ারত করবে কেয়ামতের দিন আমার পবিত্র পূর্বপুরুষগণ এবং আমি তার শাফায়াত করবো।

হজরত শাহ আব্দুল আযিম হাসানি বলেন: আমি ইমাম হাদি(আ.)-এর কাছ থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন: কুমবাসিদের গুনাহকে ক্ষমা করে দেয়া হবে কেননা, তারা তুস শহরে আমার বাবা ইমাম আলী ইবনে মূসা(আ.)’এর যিয়ারত করতে যায়। জেনে রাখ। যদি তুস যাওয়ার পথে কাউকে কোন কষ্ট সহ্য করতে হয় তাহলে তার শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে। ( ওসায়েলুস শিয়া, খন্ড ১৪,পৃষ্ঠা ৫৬০ )

ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন: আমাকে বিষপানের দ্বারা নির্যাতনের মাধ্যমে শহীদ করা হবে এবং হারুনের কবরের পাশে আমাকে দাফন করা

হবে। কেয়ামতের দিন আমার কবরের যিয়ারতকারীরা সম্মান ও মর্যাদার সাথে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে। যদি আমার কোন ব্যক্তি আমার কবরের যিয়ারতের জন্য আসে এবং পথে সে কোন কষ্টের সম্মুখীন হয় তাহলে সে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে হবে।

ইমাম জাওয়াদ (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তুস শহরে দুটি পাহাড়ের মাঝে বেহেস্তের মাটির একটি টুকরা আছে যারা সেখানে প্রবেশ করবে কেয়ামতের দিন তারা জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ পাবে।

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে একদা হাসান বিন ওয়াশশা ইমাম রেযা (আ. ) জিজ্ঞাসা করেন যে, হে ইমাম! আপনাদের যিয়ারতের বিনিময়ে আমাদেরকে কি পরিমাণ সওয়াব দান করা হবে?

ইমাম রেযা তার উত্তরে বলেন, ইমাম হুসাইন( আ.)’এর কবর যিয়ারতের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। তখন আমি ইমামকে জিজ্ঞাসা করলাম যদি কেউ ইমাম হুসাইন ‘এর যিয়ারত করে তাহলে তাকে কি পরিমাণ সওয়াব দান করা হবে?

ইমাম(আ) বলেন: সেই পবিত্র সত্ত্বার শপথ! তাকে জান্নাত দান করা হবে।

আব্দুর রহমান বিন মুসলিম ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যদি কেউ আমাদের মৃত্যুর পরে আমাদের কবর যিয়ারত করে তাহলে তাকে আমাদের জীবিত অবস্থায় যিয়ারত করার সওয়াব দান করা হবে।

শেখ তুসী ইমাম রেযা(আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খোরাসানে একটি মাজার তৈরি হবে যেখানে কেয়ামত পর্যন্ত লোকজন তার যিয়ারতের জন্য আসবে এবং ফেরেস্তারা উক্ত কবরের চারিপাশে ঘুরতে থাকবে।

ইমাম(আ)কে জিজ্ঞাসা করা হয় হে রাসুল (সা.)’এর সন্তান! উক্ত কবরটি খোরাসানের কোথায় রয়েছে? তিনি বলেন তুস নামক স্থানে। মহান আল্লাহর শপথ উক্ত স্থানটি হচ্ছে বেহেস্তের একটি বাগানের ন্যায়। যারা আমার উক্ত কবরের যিয়ারত করবে তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক তার মত যে

রাসুলাস’এর কবর যিয়ারত করবে এবং তাকে উক্ত যিয়ারতের বিনিময়ে এক হাজার গ্রহণযোগ্য হজ্ব, এক হাজার উমরাহ হজ্বের সওয়াব দান করা হবে এবং আমিও আমার পূর্বপুরুষগণ কেয়ামতের দিন তার জন্য শাফায়াত করবো।

বাযানতিাব্দ) বর্ণনা করেন যে, ইমাম রেযা(আ.) তাঁর এক খাদেমকে চিঠি লিখেছিলেন যে, আমার অনুসারিদেরকে বল আমার কবরের যিয়ারত করলে তাকে এক হাজার হজ্বের সওয়াব দান করা হবে।

বাযানতি বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে ইমাম জাওয়াদ ( আ.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হাজার হজ্বের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে?! ইমাম জাওয়াদ(আ.) বললেন: মহান আল্লাহর শপথ যদি কেউ মারেফতের সাথে যিয়ারত করে তাহলে তাকে এক হাজার গ্রহণযোগ্য হজ্বের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।

ইমাম মূসা কাযিমা(আ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন: যদি কেউ আমার সন্তান ইমাম রেযা ‘এর কবর যিয়ারত করে তাহলে তাকে ৭০ হাজার গ্রহণযোগ্য হজ্বের সওয়াব দান করা হবে।

মাযানি বলেন: আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ৭০ হাজার হজ্বের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে? ইমাম(আ.) বলেন, হ্যাঁ, ৭০ হাজার হজ্বের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে কেননা, অনেকেই আছে যাদের হজ্ব কবুল হয় না। যদি কেউ আমার সন্তানের যিয়ারত করে এবং একরাত সেখানে অতিবাহিত করে তাহলে তার অবস্থা হবে এমন যেন সে আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থান করছে।( ( বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১০১, পৃষ্ঠা ৩৫ )

উল্লেখিত হাদিসসমূহে যিয়ারত সম্বলিত বিভিন্নভাবে সওয়াব বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাই বলে হাদিসগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কেননা, ইমাম কাযিম, রেযা এবং জাওয়াদ (আ) এর নিকটতম শ্রোতাদের সকলের ঈমানী স্তর এক ছিল না। আর এ কারণেই উক্ত তারতম্যটি পরিলক্ষিত হয়। অনেকে উক্ত সওয়াবের কথা শুনে অতিব আশ্চর্যান্বিত হয়ে পড়েছিল। আর উক্ত হাদিসসমূহের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এটাই ছিল যেন তারা ইমাম (আ.)’এর মারেফত অর্জন করতে পারে।

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More