ইমাম হুসাইনের (আ.) স্মৃতি ও পথকে বাঁচিয়ে রাখতে মাসূমগণের পন্থা

ভাষান্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মাদ আলী মোতর্জা

রক্তাক্ত কারবালা আন্দোলনকে স্থায়ী করার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং শিয়া ইমামগণ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আর এর জন্য তাঁরা বিভিন্ন পন্থা ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। যাতে ইতিহাসের পাতা থেকে এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন মুছে না যায়। এখন শিয়াদের উপর মহান দায়িত্ব হল তারা সেই পদ্ধতিসমূহকে সঠিকভাবে জানবে এবং তার অনুসরণ করবে। কেননা ইমাম হুসাইনের বিপ্লব ও পথ টিকে থাকলে ইসলাম এবং শিয়া মাযহাবও চিরকাল বেঁচে থাকবে।

অন্যান্য ইমামদের মধ্যে ইমাম হুসাইনের অবস্থান ব্যাখ্যা করা
সাইয়্যেদুশ শোহাদা ইমাম হুসাইনের স্মরণ ও নামকে জীবন্ত রাখার জন্য মাসূমগণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যুম একটি হচ্ছে তাঁর পরিচয় ও অবস্থান ব্যাখ্যা করা। ইয়ালি আমেরি বলেন: মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে তিনি দেখলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করছেন। মহানবী তাকে কোলে নেয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন কিন্তু ইমাম হুসাইন কোলে না এসে ছোটাছুটি করতে লাগলেন। এবার মাহনবী তার সাথে খেলে তাকে আনন্দিত করে কোলে নিয়েতার মুখে মুখ রেখে চুমু খেয়ে বললেন:

হুসাইন আমা হতে এবং আমি হুসাইন হতে। যে হুসাইনকে ভালবাসে মহান আল্লাহও তাকে ভালবাসেন। হুসাইন আমার নাতিদের মধ্যে একজন। (কামেলুয যিয়ারাত, ইবনে কুলেভেই পৃ: ৫২)

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, একদা রাসূল (সা.) ইমাম হুসাইনের হাত ধরে চুমু খেয়ে বলেন: হে আল্লাহ! আমি হুসাইনকে ভালবাসি। অতএব আপনিও তাকে এবং তার মহব্বতকারীকে ভালবাসুন। হে হুসাইন! তুমি নিজে ইমাম এবং ইমামগণের পিতা। (বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৩৬তম খন্ড, পৃ: ৩১৩)

উপরোক্ত হাদিস ছাড়াও ইমাম হুসাইনের শানে মহানবীর আরও অসংখ্য হাদিস রয়েছে। যেমন:হুসাইন বেহেশতের দরজাসমূহের মধ্যে একটি দরজা। যে তার সাথে শত্রুতা করবে মহান আল্লাহ তার জন্য বেহেশতের সুগন্ধকেও হারাম করে দিবেন। (এহকাকুল হাক, শুশতারি, ৯ম খন্ড, পৃ: ২০২)

নিশ্চয়ই হাসান ও হুসাইন দুনিয়াতে আমার দু’টি সুগন্ধি ফুল। যারা আমাকে ভালবাসে তারা যেন এদের দু’জনকেও ভালবাসে। (সুনানে তিরমিযি, ৫ম খন্ড, পৃ: ৬১৫, আল ফুসুলুল মুহিম্মা, ইবনে সাব্বাগ মালেকি)

ইমাম হুসাইনের (আ.) জন্মের পূর্বে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হযরত ফাতিমা যাহরাকে (আ.) বলেন:
হে ফাতিমা! আমি তোমার চেহারায় নুর দেখতে পাচ্ছি। খুব শীঘ্রই তুমি একজন হুজ্জাতের (আল্লাহর প্রতিনিধির) জন্ম দিবে। তখন হযরত ফাতিমা যাহরা বললেন: যখন থেকে এই শিশু আমার গর্ভে এসেছে তখন থেকে আমার রাতের বেলা আর আলোর প্রয়োজন পড়ে না। (বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৪৩ খন্ড, পৃ: ২৭৩)

যখন বেহেশতবাসীরা বেহেশতে অবস্থান করবে, তখন বেহেশত আল্লাহকে বলবে: হে আল্লাহ! আপনি ওয়াদা দিয়েছিলেন যে, আমাকে দুইটি রুকনের (মূল্যবান অস্তিত্বের) মাধ্যমে সুসজ্জিত করবেন। তখন মহান আল্লাহ জবাব দিবেন: আমি কি তোমাকে হাসান ও হুসাইনের মাধ্যমে সুসজ্জিত করি নি? তখন বেহেশত একজন সুসজ্জিত নব বধুর মত নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করবে। (কাঞ্জুল উম্মাল, ১২তম খন্ড, পৃ: ১২১)

যে ব্যক্তি আসমানবাসীদের নিকট সবচেয়ে বেশী প্রিয় ব্যক্তির দিকে তাকাতে চায় সে যেন হুসাইনের দিকে দৃষ্টিপাত করে। (মানাকিবে, ইবনে শাহরে আশুব, চতুর্থ খন্ড, পৃ: ৭৩)

ইমাম রেজা (আ.) ইমাম হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন:
ইমাম রেজা (আ.) তাঁর পিতাদের সূত্রে ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি একদা রাসুলের কাছে গেলাম সেখানে উবাই বিন কা’ব বসে ছিল। রাসূল (সা.) আমাকে দেখে বললেন: হে আবা আব্দিল্লাহ এবং হে আসমান ও যমিনের জ্যোতি! সাবাস। তখন উবাই বিন কা’ব মহানবীকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি থাকতে কি অন্য কেউ আসমান ও যমিনের জ্যোতি হতে পারে? রাসূর (সা.) বললেন: সেই আল্লাহর শপথ! যিনি আমাকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন। নিঃসন্দেহে হুসাইন ইবনে আলী আসমানে যমিনের থেকে বেশী প্রিয় ও সম্মানিত। আল্লাহর আরশের ডান পাশে লেখা আছে: হুসাইন হচ্ছে হেদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং নাজাতের তরী। সে হচ্ছে দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত ইমাম, সম্মানিত, পথপ্রদর্শক এবং দুনিয়া ও আখিরাতের পাথেয়। মহান আল্লাহ তাঁর বংশে পাক ও মোবারাক ইমামদের নির্ধারণ করেছেন।

আরও একটি বিস্তারিত হাদিসে ইমাম হুসাইনের মর্যাদায় আনাস রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন:
অতঃপর মহান আল্লাহ আমার সন্তান হুসাইনের নুরকে সৃষ্টি করলেন এবং বেহেশত ও হুরুল আইনকে সৃষ্টি করলেন। অতএব বেহেশত এবং হুরুল আইন আমার হুসাইনের নুর থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আমার সন্তান হুসাইন আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আর আমার সন্তান হাসাইন বেহেশত ও হুরুল আইন থেকে উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ। (বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ১৫ খন্ড, পৃ: ১১)

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) একদা ইমাম হাসান ও হুসাইনকে খুঁজতে বের হলেন এবং দেখলেন যে, তারা দুই জন একটি বাগানে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূল (সা.) অত্যন্ত স্নেহের সাথে আস্তে করে ইমাম হুসাইনের মাথা ধরে উঠাতে লাগলেন এবং তাঁকে আদর করে ও চুমু খেয়ে জাগ্রত করলেন। অতঃপর জনৈক সাহাবী বললেন: হয়ত হুসাইন হাসানের থেকে বড় সে জন্য তাকে আপনি আগে জাগ্রত করেছেন। মহানবী মিকদাদকে জবাবে বললেন:

হুসাইনের জন্য মু’মিনদের অন্তরে ভালবাসা লুকাইত রয়েছে। (বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৪৩ খন্ড, পৃ: ২৭২)
প্রত্যেক ইমামের জন্য জান্নাতে বিশেষ মাকাম ও মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু ইমাম হুসাইনের জন্য বিশেষ মাকাম ও মর্যাদার পাশাপাশি অন্যান্য আরও কিছু বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। এসম্পর্কে মহানবী বলেছেন:

হে হুসাইন! তোমার জন্য জান্নাতের কিছু বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং শাহাদাত ছাড়া সেখানে পৌঁছাতে পারবে না। (আমালি শেখ তুসি, পৃ: ১৫৩; বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৪৪ খন্ড, পৃ: ৩১৩)

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, এই দুই জনের সাথে বন্ধুত্ব হচ্ছে আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব আর এই দুই জনের সাথে শত্রুতা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শত্রুতার শামিল। তিনি বলেন: যে হাসান ও হুসাইনকে ভালভাসবে আমিও তাকে ভালবাসব। আর আমি যাকে ভালবাসব মহান আল্লাহও তাকে ভালবাসবেন। আর মহান আল্লাহ যাকে ভালবাসবেন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অনুরূপভাবে যে হাসান ও হুসাইনের সাথে শত্রুতা করবে আমিও তার সাথে শত্রুতা করব। আর আমি যার সাথে শত্রতা করব মহান আল্লাহও তার সাথে শত্রুতা করবেন। আর আল্লাহ যার সাথে শত্রুতা করবেন তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (ইরশাদে শেখ মুফিদ, ২য় খন্ড, পৃ: ২৮; বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৪৩ খন্ড, পৃ: ২৭৫)

এ ধরণের আরও অনেক হাদিস আহলে সুন্নাতের সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, যেমন: মুসতাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাকেম নিশাপুরি, ৩য় খন্ড, পৃ: ১৬৬; মোজামুল কাবির, তাবারানি, ৩য় খন্ড, পৃ: ৫০; তারিখে মাদিনাতু দামেশক, ইবনে আসাকির, ১৪তম খন্ড, পৃ: ১৬৫; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাইছামি ৯ম খন্ড, পৃ: ১৮১।

আহমাদ বিন হাম্বাল যার থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: মহানবী নামাজ পড়তেন এবং যখন তিনি সিজদায় যেতেন হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে উঠতেন। সাহাবারা তাদেরকে নামিয়ে দিতে চাইলে রাসূল (সা.) ইশারা করে বলতেন, তাদেরকে থাকতে দাও। এভাবে নামাজ শেষ হওয়ার পর তাদের দু’জনকে কোলে নিয় বলতেন: যারা আমাকে ভালবাসে তারা যেন এই দু’জনকেও ভালবাসে।

আহলে সুন্নতের সূত্রে বর্ণিত আরও একটি হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হাসান ও হুসাইনকে আহলে বাইতের সব থেকে প্রিয় ব্যক্তি হিসাবে উল্লেখ করেছেন: মহানবীর কাছে প্রশ্ন করা হল আপনার আহলে বাইতের মধ্যে আপনার নিকট সব থেকে প্রিয় কে? তিনি উত্তর দিলেন: হাসান ও হুসাইন। আর তিনি ফাতিমাকে বলেন: আমার দুই সন্তানকে ডাক। অতঃপর তাদেরকে কোলে নিয়ে আদর করতেন এবং শুকতেন। (সুনানে তিরমিযি, ৫ম খন্ড, পৃ: ৩২৩)

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইমাম হাসান ও হুসাইনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে হযরত আলীকে বলেন:
হে দুই সুগন্ধি ফুলের পিতা! আমি তোমাকে আমার দুই সুগন্ধি ফুলের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমার দু’টি মজবুত খুঁটি পড়ে যাওয়ার আগেই তুমি তাদের দুনিয়ার কল্যাণ কামনা কর। যখন মহানবী ইন্তেকাল করলেন তখন হযরত আলী বললেন: এটা হচ্ছে সেই দু’টি মজবুত খুঁটির একটি যা পড়ে গেল। আর যখন হযরত ফাতিমা যাহরা শাহাদাতবরণ করেন: তখন তিনি বলেন: এটা হচ্ছে সেই দ্বিতীয় মজবুত খুঁটি যা পড়ে গেল। (ইবনে আসাকির, তারিখে মাদিনাতু দামেশক ১৪তম খন্ড, পৃ: ১৬৬)

কিফায়াতুল আছার গ্রন্থে তারেক বিন শাহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.) তোমরা দু’জন আমার পরবর্তী ইমাম, তোমরা নিষ্পাপ মাসূম এবং জান্নাতের যুবকদের সরদার। মহান আল্লাহ তোমাদেরকে হেফাজত করুন এবং যারা তোমাদের সাথে শত্রুতা করবে তাদের উপর লানত বর্ষণ করুন। (ইছবাতুল হুদা, ৫ম খন্ড, পৃ: ১৩৩)

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেন: কারবালার যমিন কিয়ামতের দিন মুক্তা এবং নক্ষত্রের মত জ্বলজ্বল করবে এবং বলতে থাকবে: আমি মহান আল্লাহর পবিত্র ভূমি। আমি এতটা পবিত্র এবং বরকতময় যে, শহীদদের নেতা এবং জান্নাতের যুবকদের সরদারকে আমার অভ্যন্তরে ধারণ করেছি। (আদাবুত তেফ, ১ম খন্ড, পৃ: ২৩৬)

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) ইমাম হুসাইনের অবস্থান ও মর্যাদাকে মহানবীর মর্যাদার সাথে তুলনা করেছেন: মুহাম্মাদ বিন মুসলেম বলেন: ইমাম জাফর সাদিককে বললাম, এই যদি হয় ইমাম হুসাইনের যিয়ারাতকারীদের ফজিলত তাহলে স্বয়ং ইমাম হুসাইনের ফজিলত ও মর্যাদা কত বেশী হবে। ইমাম বললেন: মহান আল্লাহ ইমাম হুসাইনকে মহানবীর সমপরিমাণ মর্যাদা দান করেছেন। অতঃপর ইমাম সাদিক এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না। (আমালি তুসি, পৃ: ৩১৭; বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ১০১ খন্ড, পৃ: ৬৯)

ইমাম সাদিকের (আ.) অপর একটি হাদিসে সরাসরি অন্যান্য ইমামদের থেকে ইমাম হুসাইনের (আ.) অধিকারকে বেশী বলে উল্লেখ করা হয়েছে: ইবনে ইয়াফুর বলেন, ইমাম জাফর সাদিককে বললাম: আপনার প্রতি অধিক ভালবাসার কারণেই আমি অনেক কষ্ট সহ্য করে আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি। ইমাম জবাবে বললেন: তোমার প্রতিপালকের প্রতি সন্দেহ রেখনা। যার অধিকার আমার থেকেও বেশী তাঁর যিয়ারাতে কি গিয়েছ? ইয়াফুর বলেন: আপনার থেকেও যিনি বেশী অধিকার রাখেন তিনি কে? ইমাম সাদিক (আ.) বললেন: তিনি হচ্ছেন হুসাইন ইবনে আলী, তুমি কি তাঁর যিয়ারাত করেছ? সেখানে গিয়ে কি আল্লাহকে ডেকেছ? এবং সেখানে গিয়ে কি আল্লাহর কাছে তোমার মনের আশা আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছ? (কামেলুয যিয়ারাত, ইবনে কুলেভেই, পৃ: ১৬৮)

যখন ইমাম রেজার ভাই যাইদ বিন মুসা মদিনায় সংগ্রাম করেন এবং আব্বাসীয়দের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে যাইদুন নার হিসাবে পরিচিত হন। তখন মামুন তাকে ধরার জন্য লোক পাঠায়। তারা তাকে ধরে মামুনের কাছে নিয়ে যায়। মামুন বলে, তাকে ইমাম রেজার কাছে নিয়ে যাও। যখন তাকে ইমাম রেজার কাছে আনা হয় তখন ইমাম তাকে বলেন:
হে যাইদ! তুমি কি কুফার লোকদের কথায় অহংকারী হয়েছ, কেননা তারা বলে: হযরত ফাতিমা যাহরা যেহেতু পাক, পবিত্র ও অধিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, আল্লাহ তাঁর সন্তানদের উপর আগুনকে হারাম করেছেন। জেনে রাখ এই কথা শুধুমাত্র ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের জন্য প্রযোজ্য, আমার এবং তোমর জন্য নয়। (উয়ুনে আখবারে রেজা, ২য় খন্ড, পৃ: ৫৮৬; বিহারুল আনওয়ার, আল্লামা মাজলিসি, ৪৯তম খন্ড, পৃ: ২১৭)

অন্যত্র ইমাম রেজা (আ.) ইমাম হুসাইনের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে মহানবীর কথা উল্লেখ করেছেন:
নিশ্চয়ই হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের সরদার। (উয়ুনে আখবারে রেজা, ২য় খন্ড, পৃ: ৫৮৬)

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং সকল ইমামগণ সকলেই জান্নাতের দরজা। কিন্তু ইমাম হুনাইনের (অঅ.) দরজা অধিক বড় ও প্রসস্ত। সকলেই নাজাতের তরী কিন্তু ইমাম হুসাইনের তরী অধিক বড় এবং গতি সম্পন্ন। যা খুব সহজে ও নিরাপদে মানুষকে মুক্তির তীরে পৌঁছে দিতে পারে। তাঁর সকলেই হেদায়াতের আলো। কিন্তু হুসাইনের হেদায়াতের আলোর জ্যোতি অনেক বেশী যা সকলকে পথ দেখাতে সক্ষম। তারা সকলেই আশ্রয় কেন্দ্র কিন্তু ইমাম হুসাইনের আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছানো অনেক সহজ।

এই বিষয়টি ইমাম রেজা (আ.) বারংবার বলতেন: আমরা সকলেই নাজাতের তরী কিন্তু হুসাইনের তরী অধিক প্রশস্ত ও অধিক গতি সম্পন্ন। (ইমাম হুসাইনের আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও কেরামত, পৃ: ৭২)

ইমাম রেজা (আ.) বারংবার বলতেন:
হায়! আমি যদি তাদের সাথে থাকতে পারতাম এবং মহান সাফল্য অর্জন করতে পারতাম।!######

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More