২২২. ইহরামেরসময় তিনটি জিনিস ওয়াজিবঃ
প্রথম: নিয়ত।’ অর্থাৎ মানুষ যখন ইহরাম বাঁধতে চায় তামাত্তু ওমরাহ বাবদ, তখন তামাত্তু ওমরাহ’র নিয়ত করবে। আর ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ হারাম হয় সেগুলো বর্জন করার নিয়ত করার আবশ্যকতা নেই। বরং যে ব্যক্তি তামাণ্ডু ওমরাহ’র নিয়তে কিম্বা তামাত্তু হজ্বের নিয়তে ওয়াজিব লাব্বায়েকসমূহে বলবে, সে ইহরাম সম্পন্ন হবে। তা সে ইহরামের উদ্দেশ্যেই করুক অথবা না করুক। আর হারামসমূহকে বর্জন করার সংকল্পেই সে তা করুক অথবা না করুক। কাজেই যে ব্যক্তি জানে যে, কোন কোন হারাম কাজ-যেমন সফর অবস্থায় ছায়ার নিচে সে যাবে, তার ইহরাম সঠিক হবে। তবে সতর্কতা হলো, হারামসমূহকে বর্জনের সংকল্পও সে করবে।
২২৩. হারামসমূহ বর্জনের সংকল্প করার আবশ্যকতা নেই বলে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ঐ হারামসমূহ থেকে ভিন্ন, যা ওমরাহ্ কিম্বা হজ্বকে বাতিল করে দেয়। যেমন অধিকাংশ হারাম কাজ। কিন্তু যা ওমরাহ কিম্বা হজ্বকে বাতিল করে দেয় যেমন স্ত্রী সহবাসের কিছু কিছু ধরন, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে। সুতরাং তা সম্পাদন করার উদ্দেশ্য থাকলে ইহরাম বাতিল বরং অসম্ভব হবে।
২২৪. ওমরাহ এবং হজ্ব এবং তার অংশসমূহ ইবাদাতেরই অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহর আনুগত্যের একনিষ্ঠ সংকল্প সহকারেই তা পালন করতে হবে।
২২৫. যদি হজ্বকে একনিষ্ঠ নিয়ত সহকারে পালন না করে বরং কপটতা বা অন্য কিছু ধারা বাতিল হজকে তাকলে পরবর্তী বছরে ওমরাহ ও হজ্ব পুনঃআদায় করতে হবে। ২২৬, যদি ওমরাহ ও হজ্বের কিছু কিছু বা মূল বিষয়কে একনিষ্ঠ নিয়ত সহকারে
পালন মাই করেন এবং বকপটতা বা অন্য কিছু দ্বারা বাতিল করে এবং তা পূরণ করতে না পাবেন কাহরে এবং কপটতালায় তা বাতিল হওয়ার নির্দেশ জারী হবে। আর হজ্বের বেলায়ও তা বাতিল হওয়ার নির্দেশ জারী হবে। কিন্তু যদি পূরণ হওয়ার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে এবং তা পূরণ করে তাহলে তার আমল সঠিক হবে যদিও সে পাপ
করলো। ২২৭. যদি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা অন্য কোন কারণে তামাকু ওমরাহ’র নিয়তের স্থলে তামার হজ্বের নিয়ত করে, সেক্ষেত্রে যদি তার দৃষ্টিতে এটা থাকে যে, অন্য সবাই এই যে আমলটি পালন করছে, সেও তা সম্পাদন করবে এবং ধারণা করেছে যে হজ্বের দুই অংশের প্রথম অংশটির নাম তামাকু হজ্ব, সেক্ষেত্রে বাহ্যত তার আমল সঠিক এবং তামার ওমরাহ হবে। তবে উত্তম হলো নিয়তকে নতুন করে করবে।
২২৮. যদি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা অন্য কোন কারণে ধারণা করে যে, তামাকু হজ্ব, তামাকু ওমরাহ’র চেয়ে অগ্রবর্তী এবং তামাকু হজ্বের নিয়ত করে এই সংকল্পে যে, ইহরামের পরে আরাফাত ও মাশআরুল হারামে যাবে এবং হজ্ব সম্পাদন করবে এবং ওমরাহকে তার পরে পালন করবে তাহলে তার ইহরাম বাতিল হবে। তাকে মীকাতে গিয়ে পুনরায় ইহরাম বাঁধতে হবে। আর যদি মীকাত থেকে পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সম্ভব হলে মীকাতে ফিরে যাবে ও ইহ্রাম বাঁধবে। নতুবা ঐ জায়গা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে এবং বুঝতে পারে, তাহলে সম্ভব হলে হেরেম থেকে বাইরে যাবে এবং ইহরাম বাঁধবে। নতুবা ঐ জায়গাতেই ইহরাম বাঁধবে?
২২৯. দ্বিতীয়ঃ তালবীয়্যাহ, অর্থাৎ লাব্বায়েক বলা। আর তার সঠিকতম রূপ হলো বলতে হবে যেঃ
لبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক
যদি এই অংশটুকুই বলে তাহলে সে ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং তার ইহরাম সঠিক হবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো উপরোক্ত নিয়মে চারবার ‘লাব্বাইকম বলার পরে বলবে:
إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَ الْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ উচ্চারণ : ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা।
আর যদি অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে চায় তাহলে উল্লেখিত অংশ বলার পরে বলবে:
لَيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَ الْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্, লা শারীকা লাকা লাব্বাইক।
আর মুস্তাহাব হলো এর পরে বলবে:
ليك ذا المعارج لبيك لبيك داعياً إلى دار السلام لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ غَفَّارَ الذُّنُوبِ لَبَّيْكَ ، لبيك أَهْلَ التَّلْبِيَّةِ لَيْك لبيك ذا الجلال و الْإِكْرَامِ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ تُبْدِئُ وَ الْمَعَادُ إِلَيْكَ لَيْكَ ليْكَ تَسْتَغْنى وَيُفْتَقَرُ إِلَيْكَ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ مَرْهُوباً وَ مَرْغُوباً إِلَيْكَ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ إِلَهَ الْحَقِّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ ذَا النَّعْمَاءِ وَ الْفَضْلِ الْحَسَن الجميل لبيْكَ، لَبَّيْكَ كَشَافَ الْكَرْبِ الْعِظَامِ لَيْكَ لَيْكَ عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدَيكَ، لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ يا كَرِيم لبيك.
উচ্চারণ: লাব্বাইকা যাল্ মাআরিজি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা দাঈআন ইলা দারিছ ছালামি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা গাফফারায যুনুবি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা আহলাত তালবিয়্যাতি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা যাল্ হালালি ওয়াল্ ইকরামি লাব্বাইকা। লাব্বাইকা তুবদিউ ওয়াল্ মাআদু ইলাইকা লাব্বাইক, লাব্বাইকা তাস্তাগনী ওয়া ইউফতাকারু ইলাইকা লাব্বাইক, লাব্বাইকা মারহুবান ওয়া মারগুবান ইলাইকা লাব্বাইক্। লাব্বাইকা ইলাহাল হাক্কি লাব্বাইক। লাব্বাইকা যান না’মায় ওয়াল্ ফাদলিল হাছানিল্ জামিলি লাব্বাইক্। লাব্বাইকা কাশশাফাল কারবিল ইযামি লাব্বাইক। লাব্বাইকা আব্দুকা ওয়াবনু আব্দাইকা লাব্বাইক। লাব্বাইকা ইয়া কারিমু লাব্বাইক্।
এই বাক্যগুলোও বলা ভাল:
لَبَّيْكَ أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِمُحَمَّد وَ آلِ مُحَمَّد لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ بِحَجَّةً وَ عُمْرَةً لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ وَ هَذِهِ عمرة متعة إلى الْحَجِّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ أَهْلَ التَّلْبِيَةِ لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ تَلْبِيَةِ تَمَامُهَا وَ بَلَاغُهَا عَلَيْكَ
উচ্চারণ : লাব্বাইকা আতাকাররাবু ইলাইকা বি মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন লাব্বাইক। লাববাইকা বিহাজ্জাতিন ওয়া উমরাতিন লাব্বাইক। লাব্বাইকা ওয়া হাদিহী উমরাতু মুতআতিন ইলাল হাজ্জি লাববাইক। লাব্বাইকা আহলাহ তালবিয়্যাতি লাব্বাইক। লাব্বাইকা তালবিয়্যাতি তামামুহা ওয়া বালাগুহা আলাইক।
২৩১. যদি উল্লেখিত পরিমাণ ‘তালবিয়্যাহ’কে সঠিকভাবে বলতে না জানে, তাহলে তাকে তা শিখতে হবে কিম্বা বলার সময় কেউ তাকে উচ্চারণ করে বলে দেবে। অর্থাৎ উক্ত ব্যক্তি প্রতিটি শব্দ পৃথকভাবে উচ্চারণ করে যাবে, আর ইহরাম বাঁধা ব্যক্তিও তাকে অনুসরণ করে সঠিকভাবে সেগুলো উচ্চারণ করবে।
২৩২. যদি কেউ শিখতে সক্ষম না হয়, কিম্বা শেখার সময় হাতে না থাকে এবং উচ্চারণ করে বলে দেবার মাধ্যমেও বলতে না পারে, তাহলে সতর্কতা হলো, যেভাবেই পারে বলবে এবং তার অনুবাদও বলবে। আর উত্তম হলো এছাড়া প্রতিনিধিও নিযুক্ত করবে।’
২৩৩. যদি লাব্বায়েক বলতে ভুলে যায় কিম্বা এ সংক্রান্ত নির্দেশ না জানার কারণে না বলে, তাহলে সম্ভব হলে মীকাতে ফিরে আসা ও ইহরাম বাঁধা এবং লাব্বায়িক বলা ওয়াজিব। আর যদি ফিরে আসতে না পারে, তাহলে সেখানেই বলবে’, যদি তখনও হেরেমে প্রবেশ না করে থাকে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে তাহলে হেরেমের বাইরে বের হয়ে আসা এবং ইহরাম বাঁধা এবং লাবব্বায়েক বলা ওয়াজিব। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেখানেই ইহরাম বাঁধবে এবং লাব্বায়েক বলবে। অতঃপর যদি তা পূরণ করার সময় পার হওয়ার পর তার মনে পড়ে তাহলে তার আমল সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়।
২৩৪. যদি কেউ ওয়াজিব লাব্বায়েক না বলে তা সমস্যার কারণেই হোক আর বিনা কারণেই হোক, ইহরাম সম্পন্ন ব্যক্তির ওপর যেসব জিনিস হারাম হয় তার ওপর তা হারাম হবে না। আর ইহরামে যা কিছু কাফফারার কারণ হয় সেগুলো যদি করে তাহলে কোন কাফফারা লাগবে না। তদ্রূপ যদি লাব্বায়েককে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যেও বাতিল করে ফেলে, তাহলেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
২৩৫. যদি মীকাতে ওয়াজিব লাব্বায়েক বলার পর তামাত্তু ওমরাহর নিয়ত করেছে নাকি তামাত্তু হজ্বের নিয়ত করেছে তা ভুলে যায়, তাহলে ধরে নেবে যে,
তামাতু ওমরাহ নিয়ত করেছে। তার ওমরাহ সঠিক। তদ্রূপ যদি যিলহজ্বের ৮ম দিনে লাব্বায়েক বলার পর যা তামাত্তু হজ্বের জন্য বলতে হবে, কিন্তু হজ্বের জন্য বলেছে নাকি ওমরাহর জন্য, তা ভুলে যায়, তাহলে ধরে নেবে তামাণ্ডু হজ্বের জন্যই তা বলেছে। তার হজ্ব সঠিক ও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো তালবিয়্যাহকে পুনঃসম্পাদন করা।
২৩৬. ওয়াজিব লাব্বায়েক বলাকে মীকাত থেকে বিলম্ব করা জায়েজ নয়। আর যদি বিলম্ব করে তাহলে ১৮৮ নং মাসআলার বর্ণিত নির্দেশ অনুযায়ী আমল করবে।( * ১৮৮. যে ব্যক্তি ভুলে যাওয়া কিম্বা মাসআলা না জানার কারণে, কিম্বা অন্য কোন কারণে ইহরাম ছাড়াই মীকাত থেকে অতিক্রম করে গেছে, অতঃপর যদি মীকাতে ফিবে আসা সম্ভব থাকে এবং ফিরে আসার মাধ্যমে ওমরাহ’র আমল সমূহে পৌঁছাতে পারে, তাহলে তার ফিরে আসাই ওয়াজিব এবং তাকে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে, সে হেরেমেই প্রবেশ করে থাকুক বা প্রবেশ না করে থাকুক। আর যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সেভাবে ফিরে আসা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে যদি হেরেমে প্রবেশ না করে থাকে, তাহলে ঐ স্থান থেকেই ইহ্রাম বাঁধবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব’ হলো যতটুকু পারে মীকাতের দিকে ফিরে আসবে এবং সেখানে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি হেরেমে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে যদি সক্ষম হয় এবং ওমরাহর আমলসমূহে পৌছুতে পারে তাহলে ওয়াজিব হলো হেরেম থেকে বের হওয়া এবং ইহরাম বাঁধা আর যদি এভাবে সক্ষম না হয়, তাহলে সেখানেই ইহরাম বাঁধতে হবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো যতটুকু সম্ভব হেরেমের দিকে ফিরে আসবে এবং সেখানে ইহরাম বাঁধবে।)
২৩৭. লাব্বায়েক একবারের বেশি বলা ওয়াজিব নয়। তবে পুনরাবৃত্তি করা এবং যত পারে ততবার বলা মুস্তাহাব। আর ৭০ বার বলার জন্য অনেক সওয়াবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইহরাম বাঁধা অবস্থায় যা বলেছে তা পুনরাবৃত্তি করা আবশ্যক নয়। বরং ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্’ বললেই যথেষ্ট হবে। অথবা শুধুমাত্র ‘লাব্বাইকা’ অংশটি পুনরাবৃত্তি করবে।
২৩৮, যে ব্যক্তি তামাকু ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বেঁধেছে, তার জন্য সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মক্কার ঘর-বাড়ি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সময় ‘লাব্বাইকা’ বলা ত্যাগ করা এবং আর লাব্বাইকা না বলা।’ আর মক্কার ঘরবাড়ি বলতে বুঝায় যখন ওমরাহ পালন করে তখন যেসব ঘরবাড়ি মক্কার অন্তর্গত থাকে, মক্কা শহর যতই বড় হোক না কেন। আর যে ব্যক্তি হজ্বের ইহরাম বেঁধেছে তার জন্য সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো লাব্বাইক্ কে আরাফাতের দিবসের যোহরের ওয়াক্তের পর না বলা।”
২৩৯. তৃতীয়ত ইহরামের দু’টি কাপড় পরিধান করা (পুরুষদের জন্য)। একটি লুঙ্গী এবং অপরটি চাদর যা কাঁধের ওপরে রাখতে হবে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো এই কাপড় দুটোকে ইহরামের নিয়ত ও লাব্বাইক বলার আগে পরিধান করতে হবে। আর যদি লাব্বাইক বলার পরে পরিধান করে তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো লাব্বাইকে পুনরায় বলবে।
২৪০. লুঙ্গি নাভী ও হাঁটুকে আবৃত করা আবশ্যক নয়। প্রচলিত নিয়মে হলেই তা যথেষ্ট হবে। তবে নাভী ও হাঁটুকে ঢাকা মুস্তাহাব।
২৪১. ইহরামের কাপড় দুটো পরিধান করার ব্যাপারে বিশেষ কোন ধারাবাহিকতা জরুরি নয়। বরং যে ধারাতেই পরিধান করুক আপত্তি নেই। শুধু একটিকে লুঙ্গী
হিসেবে নির্ধারণ করবে, তা যে পদ্ধতিতেই হোক। আর অপরটিকে চাদর হিসেবে নির্ধারণ করবে, তা যে পদ্ধতিতেই হোক। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো চাদরটি কাঁধকে আবৃত করে থাকবে।’
২৪২. সুযোগ থাকা অবস্থায় সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো কেবল একটি দীর্ঘ জামা দ্বারাই ক্ষান্ত না হওয়া, যার কিছু অংশকে লুঙ্গী আর কিছু অংশকে চাদর হিসেবে নির্ধারণ করা বরং দু’টি পৃথক কাপড় হতে হবে।
২৪৩. ইহরামের কাপড় পরিধানের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো নিয়ত করবে এবং খোদায়ী নির্দেশ পালন ও তাঁর আনুগত্য করার সংকল্প করবে। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো সেলাইকৃত কাপড় খুলে ফেলার বেলায়ও নিয়ত এবং আনুগত্যের সংকল্প করবে।
২৪৪. এ দু’টি কাপড়ের বেলায় শর্ত হলো তা দিয়ে নামায পড়া সঠিক হতে হবে। কাজেই রেশমী ও অ-খোরাকীয় কাপড় এবং যে কাপড় অপবিত্র থাকে, এমন অপবিত্রতা যা নামায শুদ্ধ হবার ব্যাপারে অমার্জনীয় তেমন কাপড় ইহরামের জন্য যথেষ্ট নয়।
২৪৫. যে কাপড়কে লুঙ্গী হিসাবে নির্ধারণ করবে তা যেন এমন পাতলা না হয় যাতে শরীর দেখা যায়। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো চাদরও যেন শরীর প্রকাশক না হয়।
২৪৬. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মহিলাদের ইহরামের কাপড় যেন খাঁটি রেশমের না হয়। বরং সতর্কতা হলো শেষ অবধি রেশম পরিধান না করা।
২৪৭. ইহরামকারী ব্যক্তিকে যে দু’টি কাপড় পরিধান করার কথা বলা হয়েছে তা কেবল পুরুষদের জন্য স্বতন্ত্র। আর মহিলারা তাদের কাপড়ে যেভাবে হোক ইহরাম বাঁধতে পারবে। সেটা সেলাইকৃত হোক কিম্বা না হোক। তবে খাঁটি রেশমী যেন না হয়, যেমনটা ইতঃপূর্বে বলা হয়েছে।
২৪৮. যদি ইহরামের কাপড় কিম্বা শরীরকে পবিত্র না করে তাহলে ইহরামকারীর কাফ্ফারা নেই।
২৪৯. সতর্কতা হলো ইহরামের কাপড় চামড়ার না হওয়া।’ তবে বাহ্যত যদি সেটাকে কাপড় বলা হয় তাহলে আপত্তি নেই।
২৫০. ইহরামের কাপড় বয়নকৃত হওয়া আবশ্যক নয়। বরং যদি পশমের মতো লেপ্টে থাকে এবং সেটাকে কাপড় বলা হয়, তাহলে আপত্তি নেই।
২৫১. উত্তম হলো ইহরামকারী ব্যক্তি যদি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করে থাকে, যখন তাওয়াফের জন্য মক্কায় প্রবেশ করবে তখন ঐ যে কাপড়ে ইহরাম বেঁধেছে সেটাই পরিধান করবে। বরং এ মতটি সতর্কতামূলক মুস্তাহাবের পক্ষে।
২৫২. যদি ঠান্ডা বা অন্য কোন কারণে ইহরামকারী ব্যক্তি ওভার কোট বা জামা পরিধান করতে বাধ্য হয়, তাহলে তা পরতে পারবে। তবে ওভারকোটকে উপর নিচে উল্টো করে কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে দেবে এবং হাতকে আস্তিনের মধ্যে ঢুকাবে না। আর অধিকতর সতর্কতা হলো ভিতর-বাইরেও উল্টো করে পরবে। আর জামাকেও কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবে, পরিধান করবে না। আর যদি তা পরিধান না করলে প্রয়োজন না মেটে তাহলে পরিধান করতে পারবে।’
২৫৩. ইহরামের কাপড়কে সব সময় পরিধান করে থাকতে হবে এমন কোন আবশ্যকতা নেই। বরং তা পরিবর্তন করা এবং ধোয়ার জন্য ও গোসল করার জন্য খুলে ফেলা জায়েজ। বরং প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার প্রয়োজনে দুটোই খুলে ফেলা এবং উলঙ্গ হওয়াও জায়েজ।
২৫৪. ইহরামকারী ব্যক্তি ইহরামের দু’টি কাপড়ের চেয়ে বেশি কাপড়ও পরতে পারবে। যেমন ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য বা অন্য কোন কারণে দু’তিনটি লুঙ্গী এবং দু’তিনটি চাদরও পরতে পরবে।
২৫৫. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ইহরামের পোশাক পরিধান না করে কিম্বা যখন ইহরাম বাঁধতে চায়, সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করে তাহলে সে পাপ করলো। কিন্তু তার ইহরামের কোন ক্ষতি হবে না। তার ইহরাম সঠিক। আর যদি সমস্যার কারণে হয়, তাহলে পাপও করেনি এবং তার ইহরামও সঠিক।
২৫৬. ইহরামের কাপড়ে গিরা দেয়ায় আপত্তি নেই। কিন্তু সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, যে কাপড়টা লুঙ্গী হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেটাকে গলায় গিট না দেয়া। আর
যদি অজ্ঞতা কিম্বা ভুলবশত গিট দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো শীঘ্রই তা খুলে ফেলা। কিন্তু এতে তার ইহরামের ক্ষতি হবে না এবং তার ওপর কোন কিছু বর্তাবেও না। আর ইহরামের কাপড়ে পাথর রাখা এবং সুতা দ্বারা আটকানো জায়েজ।
২৫৭. ইহরাম বাঁধার ক্ষেত্রে বড় ও ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকার শর্ত নেই। কাজেই জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতা, মাসিক প্রসবাস্তিক স্রাব অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধা জায়েজ। বরং মাসিক ও প্রসবান্তি স্রাবগ্রস্তদের জন্য ইহরামের গোসল মুস্তাহাব।
২৫৮. যদি ইহরাম বাঁধার পরে জামা পরিধান করে তাহলে জামাকে ফেঁড়ে ফেলবে এবং নিচ দিয়ে বের করে আনবে। কিন্তু যদি জামা পরিধান করে ইহরাম বাঁধে তাহলে ফেঁড়ে ফেলা এবং নিচ থেকে বের করে আনার দরকার নেই। এটাই যথেষ্ট যে, সেটা খুলে ফেলে ইহরামের কাপড় পরবে। আর উভয় অবস্থায় তার ইহরাম সঠিক।