প্রশ্ন-৪১৮: যদি হজ্বের ইহরামের মধ্যে জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আরাফাতে অবস্থান করার পূর্বে স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তাহলে নিশ্চিতভাবে তার হজ্ব বাতিল হবে। আর যদি মাশআরুল হারামে অবস্থানের পূর্বে হয়, তাহলেও জোরালো মত অনুযায়ী তা বাতিল হবে। আর তার কাফফারা রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ করার পর পরবর্তী বছরে সে হজ্ব পুনঃ আদায় করবে। কিন্তু যদি অজ্ঞতার বশে হয়, তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ অজ্ঞতার বশে হলে তার আমল সঠিক। কাফফারাও নেই।
প্রশ্ন-৪১৯ : সাবান এবং কিছু কিছু শ্যাম্পু যেগুলোর সুঘ্রাণ রয়েছে তা কি শরীরে ব্যবহার করা যায়? উল্লেখ্য, তা তেমন সুঘ্রাণও নয়।
উত্তর : যদি সুঘ্রাণ বলে প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা পরিহার করবে।’ অন্যথায় বাধা নেই।
প্রশ্ন-৪২০ : পানির কৌটা যা একটি সেলাইকৃত বন্ধনীর মধ্যে করে বহন করা হয়, ইহরাম কারীর জন্য তার নির্দেশ কি?
উত্তর : সতর্কতা হলো সেটাকে কাঁধে ফেলে বহন না করা। আর তা হাতে নেয়া নিষেধ নয়।
প্রশ্ন-৪২১ ৪ আয়নায় তাকানোর ব্যাপারে- কখনো তাকায় নিজেকে দেখার জন্য
আর কখনো তাকায় গাড়ি, ঘোড়া ইত্যাদি কিম্বা রোগ নিরাময়ের জন্য। ইহরামকারীর
জন্য কি এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে নাকি সবই সমান? উত্তর : অধিকতর সতর্কতা হলো তা পরিহার করা, প্রশ্নে উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।”
প্রশ্ন-৪২২: ইহরাম অবস্থায় কিছু লোক পরস্পরের ছবি তোলে এবং ফটো ক্যামেরায় তাকায় যা আয়না অথবা ঐ রকমই স্বচ্ছ, যা আয়নার অনুরূপ। অনুগ্রহপূর্বক বলবেন যে এতে কোনো অসুবিধা আছে কী?
উত্তরঃ যদি এটা স্পষ্ট না হয় যে আয়নায় তাকাচ্ছে তাহলে আপত্তি নেই।”
প্রশ্ন-৪২৩ : ইহরাম অবস্থায় সাধারণ প্রচলিত কসম খাওয়ায় কি অসুবিধা রয়েছে? যেমন হাট-বাজারের লোকজনের নিত্য-নৈমিত্তিক কসমসমূহ?
উত্তর : আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম খাওয়া ইহরাম অবস্থায় হারামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রশ্ন-৪২৪ : শরীর ঘর্মাক্ত হওয়ার কারণে ক্রীম মালিশের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ইহরামকারী কি ঐ ক্রীম নিজ শরীরে মাখতে পারবে?
উত্তর: পারবে না, তবে প্রয়োজন ছাড়া, কিন্তু এতে কাফফারা নেই। এমনকি জরুরি ক্ষেত্র ছাড়াও, যদি না তা সুঘ্রাণযুক্ত হয়। এক্ষেত্রে তার কাফফারা হলো একটি ভেড়া। যদিওবা তা জরুরি কারণেও হয়।১
প্রশ্ন-৪২৫ঃ যদি মাথায় ও মুখে হাত দেয়ার কারণে চুল উঠে আসে এবং তার কাফফারা থাকে তাহলে তা ইচ্ছাকৃত, ভুলক্রমে কিম্বা উদাসীনতার বশে ঘটার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য রয়েছে?
উত্তর : পার্থক্য নেই, শর্ত হলো হাত দেয়াটা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হয়ে থাকে।
প্রশ্ন-৪২৬ঃ যদি ইহরাম বাঁধেনি এমন ব্যক্তি ইহরামবাঁধা ব্যক্তির চুল উঠিয়ে ফেলে কিম্বা যেসব কাজ ইহরামকারীর জন্য হারাম এবং কাফফারা রয়েছে সেগুলোর কোনো একটা করে, তাহলে নির্দেশ কী?
উত্তর: যদি ইহরামকারী নিজ ইচ্ছায় উপস্থিত হয়, যাতে উদাহরণস্বরূপ নাপিত তার মাথা মুণ্ডন করবে, তাহলে তা হারাম এবং কাফফারা দিতে হবে। কিন্তু যদি তার অনিচ্ছায় ঘটে, তাহলে কাফফারা নেই, এমনকি উক্ত নাপিতের ওপরেও।
প্রশ্ন-৪২৭: ইহরামকারীর মাথা ভেজা রয়েছে। এ অবস্থায় যদি সে দেরি করে যাতে নিজ থেকে মাথা শুকিয়ে যায় এবং অতঃপর ওযু করে তাহলে সূর্যোদয় ঘটে যাবে, এবং তার নামায কাযা হয়ে যাবে। তার কর্তব্য কি তায়াম্মুম করা?
উত্তর : যদি সে তার হাত দিয়েও মাথা শুকাতে না পারে তাহলে অধিকতর সতর্কতা হলো এ অবস্থায় ওযু করবে আবার তায়াম্মুমও করবে।’
প্রশ্ন-৪২৮: যে পরচুলা ব্যবহার করে এবং এ অবস্থায় ওমরাহ ও হজ্বের জন্য ইহরাম বেঁধেছে এবং স্বীয় আমলসমূহকে পালন করেছে তার কি কোনো অসুবিধা রয়েছে?
উত্তর: ওমরাহ্ ও হজ্বের ক্ষতি করবে না। কিন্তু পুরুষ লোক যদি তা মাথায় দেয়, তাহলে কাফফারা দিতে হবে।
প্রশ্ন-৪২৯: ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলা হারাম হওয়ার দিকে লক্ষ্য রেখে প্রশ্ন হলো চিবুকও কি মুখম-লের অংশ বলে গণ্য হবে এবং তা খোলা রাখতে হবে নাকি যদি মাথায় স্কার্ফ পরে যা ঠোঁট পর্যন্ত চিবুককে ঢেকে দেয়। তাহলে আপত্তি নেই?
উত্তরঃ চিবুকের তলভাগ মুখম-লের অংশ বলে গণ্য হবে না। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে ঢাকতে আপত্তি রয়েছে।’
প্রশ্ন-৪৩০৪ ইহরামধারী মহিলা কি তোয়ালে দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল মুছতে পারবে, নাকি পুরুষের মাথার নির্দেশের মতই হবে, যেখানে তা ঢাকতে পারে না?
উত্তর: সতর্কতা পালনীয়।’
প্রশ্ন-৪৩১ : স্ত্রীলোকদের ইহরাম অবস্থায় স্কার্ফ পরা বা খোলার সময় যে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে যায় এর নির্দেশ কী?
উত্তর : চেষ্টা করতে হবে যাতে ঢেকে না যায়। আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জেনে শুনে না ঢেকে থাকে তাহলে অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৪৩২ঃ আপনি বলেছেন যে, ইহরামকারী তার অবতরণস্থল থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত গাড়ির ছাদের নিচে করে যেতে পারবে। প্রশ্ন হলো, যারা হজ্বের জন্য
মসজিদুল হারামে ইহরাম বাঁধে তারা কি মক্কায় ছাদের নিচে যেতে পারবে?
উত্তর: যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ বিচারে মক্কার বাড়িতে থাকবে এবং মক্কা থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে চলমান বা ভ্রমণরত নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ছায়া অন্বেষণ করতে পারবে।
প্রশ্ন-৪৩৩ঃ যে ব্যক্তি তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধে, তার জন্য ছায়া গ্রহণের ব্যাপারে নির্দেশ কী?
উত্তরঃ যেহেতু তানঈম মক্কার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং মক্কা হলো মঞ্জিল (তথা অবতরণস্থল) কাজেই প্রশ্নের আলোকে ছায়া গ্রহণ করতে আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৪৩৪: মুফরাদা ওমরাহ’র মীকাত হলো স্বয়ং মক্কা। প্রশ্ন হলো, কেউ যদি সেখানে মুফরাদা ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধে সে কি ছাদবিশিষ্ট বাসে আরোহন করতে পারবে? লক্ষণীয় যে তার আবাসস্থল হলো মক্কা।
উত্তর: প্রশ্নের বক্তব্য অনুযায়ী আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৪৩৫ : কিছু লোক শাজারাহ্ মসজিদ থেকে ইহরাম বাঁধলো এবং রাতারাতি মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিন্তু সূর্যোদয় নিকটবর্তী সময়ে ছাদবিশিষ্ট গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়লো ও সূর্যোদয় হওয়ার পরে জাগ্রত হলো এবং গাড়ি থামালো। এই যে চলমান অবস্থার সময়টুকু ছাদের নিচে ছিল তার জন্য কি কাফফারা রয়েছে? আর এখন যে থেমে পড়েছে এবং অবতরণ করতে চায় এ ব্যাপারে নির্দেশ কী ?
উত্তরঃ যে সময়টুকু ঘুমিয়ে ছিল কিম্বা গাড়ি থেমে ছিল তার জন্য কাফফারা ওয়াজিব নয়। কিন্তু যদি জাগ্রত ও মনোযোগী হওয়ার পর এবং গাড়ি থামার পূর্বে যদি ছায়া গ্রহণ করে থাকে এমনকি জরুরি কারণে হলেও, তাহলে কাফফারা ওরা যদি হবে।
প্রশ্ন-৪৩৬ : ইহরাম অবস্থায় যখন ছাদ বিহীন গাড়িসমূহ চলতে থাকে এবং সফর সংঘটিত হয় তখন থামা অবস্থায় গাড়ি থেকে ওঠানামা করা যদি গাড়ির সম্মুখভাগের ছাদের নিচ দিয়ে অতিক্রম করার আবশ্যকতা থাকে তাহলে নির্দেশ কী?
উত্তর: আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৪৩৭ : যারা মসজিদুল হারামে হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধে এবং মসজিদুল হারাম থেকে ছাদ বিশিষ্ট গাড়িতে আরোহণ করে এবং উদাহরণস্বরূপ আজিজিয়া’য় যা তার অবতরণস্থল, সেখানে অবতরণ করে। প্রশ্ন হলো, মসজিদুল হারাম থেকে অবতরণস্থল পর্যন্ত ছাদবিশিষ্ট বাসে আরোহণ করার নির্দেশ কী? আর যদি অবতরণ না করে এবং প্রথম থেকেই আরাফাতের সংকল্প রাখে তাহলে তার নির্দেশ কী?
উত্তর : প্রশ্নের প্রথমোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপত্তি নেই। আর দ্বিতীয় বিবরণ অনুযায়ী সতর্কতা পালনীয়।
প্রশ্ন-৪৩৮: আমি একজন হজ্ব কাফেলার সেবক। এ বছর ফার্সি (১৩৬৫ সাল) আরাফাতের কর্তব্য পালন করে কাফেলার প্রধান, তার সহকারী, আমি এবং কাফেলার মহিলারা একত্রে একটি ছাদবিশিষ্ট বাসে আরোহণ করে জরুরি ভিত্তিতে মাশআরুল হারামে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু যেহেতু মুযদালিফা থেকে মিনার পথে যানজটের কবলে পড়ি এ কারণে দিনের আলোতে ছাদবিশিষ্ট বাসে ছিলাম। হঠাৎ আমার স্মরণ হলো যে, বাসের ছাদের নিচে অবস্থান করা ঠিক নয়। কয়েক মিনিট ছাদবিশিষ্ট বাস জেনেও অবস্থান করি এবং জ্যামের কারণে বাস থামার পরে অবতরণ করি। পরে মিনায় তাঁবুর স্থান পর্যন্ত অবশিষ্ট পথ পায়ে হেঁটে যাই। এমতাবস্থায় মহোদয়ের কাছে প্রশ্ন হলোঃ
১. কাফফারা দেয়া লাগবে কি-না?
২. যদি কাফফারা বর্তায় তাহলে অবশ্যই কি তা মিনায় জবাই করতে হবে?
৩. এখন যেহেতু আমি বর্তমানে তেহরানে সুতরাং কুরবানির পশু কি আমার অবস্থানস্থলে জবাই করতে পারবো?
৪. যেহেতু আমি কাফেলার সেবক ছিলাম এবং কাফেলা পরিচালকের নির্দেশেন্ট। বয়স্কা মহিলাদের জামারাহ্ আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ কাজে সাহায্য করার বয়কাশ্য মিনায় রওনা হই এবং আমার নিজের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। কাজেই এই ভেড়ার মূল্য কে পরিশোধ করবে? হজ্ব কমিটি, নাকি কাফেলা পরিচালক, নাকি আমি?
৫. যদি হজ্ব কমিটি তা বহন করে, তাহলে কি জবাই’র কর্তব্য আমার ওপর থেকে রহিত হয়ে যাবে?
উত্তর : আপনাকে অবশ্যই কুরবানি করতে হবে। আর যদিও মিনায় জবাই করতে হবে’ তদুপরি আপনার নিজ মহল্লায় জবাই করলেও কাফফারা হিসেবে তা যথেষ্ট হবে। আবার কমিটির কর্মকর্তাদেরকেও প্রতিনিধিত্ব প্রদান করতে পারেন যাতে আপনার পক্ষ থেকে জবাই করে। এক্ষেত্রে তাদের দিয়ে জবাইও যথেষ্ট হবে। তবে প্রতিনিধিত্ব ছাড়া জবাই সঠিক নয়।
[10:45 am, 23/12/2023] +880 1842-675796: প্রশ্ন-৪৩৯ : ছায়া গ্রহণ কি কেবল সূর্যের সরাসরি কিরণজনিত হতে হবে, নাকি তীর্যক ভাবে সূর্যকিরণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে?
উত্তর: কোনো পার্থক্য নেই।
প্রশ্ন-৪৪০ ঃ ছায়াগ্রহণ কি কেবল মাথার ওপর ছায়া সংক্রান্ত নাকি যদি শুধু কাঁধের ওপর ছায়া পড়ে তাহলেও ছায়া গ্রহণ বলে প্রযোজ্য হবে?
উত্তর: প্রযোজ্য হবে না।
প্রশ্ন-৪৪১: ছায়া গ্রহণ কি কেবল ছাদসংক্রান্ত নাকি গাড়ির দেয়ালের ছায়াও এর অন্তর্ভুক্ত হবে?
উত্তর: অন্তর্ভুক্ত হবে না।
প্রশ্ন-৪৪২ : আরাফাতেও কি মিনার ন্যায় ছাতার নিচে চলা যাবে? নাকি আরাফাতের নির্দেশ মিনার নির্দেশ থেকে ভিন্ন?
উত্তর: আরাফাতে ছাতার নিচে চলতে আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৪৪৩ : মক্কা শহরে কিছু সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হয়েছে যা লম্বায় ১৫০০ ধাপেরও বেশি। হজ্বের ইহরাম অবস্থায় কি গাড়িতে করে ঐসব সুড়ঙ্গের মধ্যে সফর করা যাবে এখন জানে যে তা ছাদবিশিষ্ট?
উত্তর: আপত্তি নেই। তবে হ্যাঁ, যদি সে নিজে ঐ পথ বেছে নেয় এবং উক্ত ছাদের নিচ দিয়ে যায় তাহলে অসুবিধা রয়েছে।’
প্রশ্ন-৪৪৪ : ইহরামধারী ব্যক্তি মক্কায় পৌঁছামাত্র ছায়া গ্রহণ করতে পারবে নাকি অবতরণস্থলে পৌঁছাতে হবে এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করার পরে তা জায়েজ?
উত্তর : মক্কা নিজেই একটি অবতরণস্থল। কাজেই সেখানে পৌঁছে ছায়া গ্রহণ করতে নিষেধ নেই।
প্রশ্ন-৪৪৫ : সম্প্রতি জবাইখানার সীমানা থেকে জামারাত পর্যন্ত একটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে। যে ইহরামধারী এখনো অবতরণস্থল গ্রহণ করেনি এবং মাশআর থেকে সরাসরি জামারাতে যাচ্ছে, তার জন্য কি এই পথ দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ?
উত্তর: বাধা নেই।
প্রশ্ন-৪৪৬ : ইহরামধারী ব্যক্তি কর্তৃক ইহরাম না করা ব্যক্তির নখ কাটা কি জায়েজ?
উত্তর: অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৪৪৭: ইহরামধারী ব্যক্তি কি তাকছীর তথা নখ কাটার উদ্দেশ্যে অন্যের নখ কাটতে পারবে?
উত্তর: অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৪৪৮ : ইহরামধারী জন্য দাঁত তোলা যে হারাম, সেখানে তাঁর নিজের দাঁতকে বুঝানো হয়েছে, নাকি অন্যের দাঁতও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে? আর যদি হারাম হয়, তাহলে সেটা কি রক্ত বের হলে নাকি সর্বাবস্থায়?
উত্তর: অন্যের দাঁত অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি রক্ত বের হয়
প্রশ্ন-৪৪৯: ইহরাম অবস্থায় যে দাঁতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে এবং ডাক্তার তা তুলে ফেলতে পরামর্শ দেন, তা তুলে ফেলতে পারবে? যদিও তা রক্তপাতের কারণ হয়?
উত্তর : যদি জরুরি হয় তাহলে আপত্তি নেই। তবে অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে কাফফারা রয়েছে।
প্রশ্ন-৪৫০ : লোক মাঝে প্রচলিত রয়েছে যে, ইহরামকারী কাউকে নির্দেশ দিতে পারবে না। যেমন কাউকে বলতে পারবে না যে, এক গ্লাস পানি বা চা অথবা অন্য কিছু আমার জন্য আনো। বরং তাকে নিজেই তা গ্রহণ করতে হবে। ইহরাম অবস্থায় যদি তার বন্ধুর কাছে এরূপ অনুরোধ করে তাহলে কি পাপ করলো? আর পাপ হলে তার কি কাফফারাও রয়েছে?
উত্তর: অসুবিধা নেই।
৪৫১. পবিত্র হেরেম এলাকায় প্রবেশের মুস্তাহাব বিষয়সমূহঃ
১. হাজী হেরেমে পৌঁছেই অবতরণ করবে এবং হেরেমে প্রবেশের উদ্দেশ্যে গোসল করবে।
২. মহান আল্লাহর প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রকাশার্থে পায়ের জুতো খুলে ফেলবে এবং খালি পায়ে জুতো হাতে নিয়ে হেরেমে প্রবেশ করবে। এই কাজের অনেক সওয়াব রয়েছে।
৩. হেরেমে প্রবেশ করার সময় এই দোয়াটি পড়বে :
اللَّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ فِي كِتَابِكَ وَ قَوْلُكَ الحَقُّ وَ أَذْنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ . اللَّهُمَّ إِنِّى أَرْجُو أَنْ أَكُونَ مِمَّنْ أَجَابَ دَعْوَتَكَ، وَ قَدْ حنت من شقة بعيدة و فَجٍّ عَمِيقٍ سَامِعاً لندَائِكَ ومُستَجِيباً لَكَ مُطِيعاً لِأَمْرِكَ وَ كُلُّ ذَلِكَ بفَضْلِكَ عَلَى وَ إِحْسَانِكَ إِلَيَّ فَلَكَ الْحَمْدُ عَلَى مَا وَفَقْتَنِي لَهُ أَبْتَغِي بِذَلِكَ الظُّلْفَةُ عِنْدَكَ وَ القرية إِلَيْكَ وَ الْمَنْزِلَةَ لَدَيْكَ وَ الْمَغْفِرَة لِذُنُوبِي وَ التَّوْبَةَ عَلَيَّ مِنْهَا بَنَّكَ ، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَحَرَّمَ بَدَنِي عَلَى النَّارِ وَ آمِنِّى مِنْ عَذَابِكَ وَ عِقَابِكَ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ
الراحمين
৪. হেরেমে প্রবেশ করার সময় কিছু ঘাস নিয়ে তা চিবাবে।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)