তাওয়াফের ওয়াজিবসমূহ
তাওয়াফের ওয়াজিবসমূহ দুই প্রকারেরঃ
প্রথম প্রকারঃ যে বিষয়গুলো তাওয়াফের শর্ত। আর তা পাঁচটি বিষয়ঃ এক. নিয়ত। অর্থাৎ তাওয়াফকে আল্লাহর জন্য নিখাদ উদ্দেশ্যে সম্পাদন করতে হবে।
৪৬২. নিয়তকে জিহ্বায় উচ্চারণ করা আবশ্যক নয় এবং মনে মনে বলাও
অপরিহার্য নয়। বরং শুধু যদি মনস্থ করে যে, সে এই আমলকে সম্পাদন করবে এবং
এই সংকল্প সহকারেই তা সম্পাদন করে, তাতেই যথেষ্ট। অন্য কথায়, ইবাদত ও অন্য কাজসমূহের ক্ষেত্রেও নিয়তের দিক থেকে পার্থক্য নেই। কাজেই মানুষ যেভাবে স্ব- ইচ্ছায় পানি পান করে বা পথ চলে, ইবাদতকেও যদি ঐভাবে পালন করে, তাহলে তা নিয়ত সহকারেই পালন করা হলো। ৪৬৩. ইবাদতকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের জন্যেই পালন করতে হবে। আর এ বিচারে অন্যান্য কাজের তুলনায় তার পার্থক্য পরিদৃষ্ট হবে। কাজেই তাওয়াফকে মহান
আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যেই পালন করতে হবে।
৪৬৪. যদি ওমরাহ্ ও হজ্বের তাওয়াফ কিম্বা অন্যান্য আমলসমূহ যেগুলো ইবাদত বলে গণ্য, পালনের ক্ষেত্রে ‘রিয়া’ তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ও অন্যের ওপরে বড়াই করা এবং নিজের আমলকে ভালো প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পালন করে, তাহলে তার তাওয়াফ এবং অনুরূপ যা কিছুই এভাবে সম্পাদন করবে, তা বাতিল বলেই গণ্য হবে। আর এ কাজের মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতাও সে করলো।
৪৬৫. আমল সম্পন্ন করার পর এবং তাওয়াফ ও অন্যান্য আমল সম্পূর্ণ করার পর রিয়া (তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে করা আচরণ)-এর কারণে তা বাতিল হয় না।
৪৬৬. আমল সঠিক হওয়ার জন্য তা আল্লাহর জন্যে কিম্বা আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে কিম্বা জাহান্নামের ভয় অথবা বেহেশত ও সওয়াব লাভের জন্য পালন করলেও যথেষ্ট হবে।
৪৬৭. আল্লাহর জন্য যে আমল সম্পাদন করে, তার মধ্যে যদি অন্যের সন্তুষ্টিকেও যুক্ত করে এবং শুধু আল্লাহর জন্য তা নিখাদ না হয়, তাহলে সে আমল বাতিল।
দ্বিতীয় প্রকার: বড় ধরনের অপবিত্রতা, যেমন- জানাবাত (তথা যৌন অপবিত্রতা), মাসিক, ও প্রসবাস্তিক স্রাব থেকে পবিত্র হতে হবে এবং ছোট ধরনের অপবিত্রতা থেকেও মুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ ওযু অবস্থায় থাকতে হবে।
৪৬৮. ওয়াজিব তাওয়াফের ক্ষেত্রে ছোট ও বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা একটি শর্ত। তা ওমরাহ’র তাওয়াফই হোক অথবা হজ্বের তাওয়াফ কিম্বা তাওয়াফে নিসা হোক। এমনকি মুস্তাহাব ওমরাহ ও হজ্বের বেলায়ও, যা ইহরাম বাঁধার পরে ওয়াজিব হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ করা (সেখানেও পবিত্রতা শর্ত)।
৪৬৯. ছোট ও বড় ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা মুস্তাহাব, তাওয়াফের জন্য শর্ত নয়। কিন্তু যে ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত বা যৌন অপবিত্রতাবস্থায় কিম্বা মাসিকের অবস্থায় রয়েছে, তার জন্য মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা জায়েজ নয়। কিন্তু যদি উদাসীনতাবশত কিম্বা ভুলে যাবার কারণে কেউ মুস্তাহাব তাওয়াফ করে, তাহলে তা সঠিক।
৪৭০. তাওয়াফ (অর্থাৎ, কাবাঘরের চতুর্দিকে ৭ পাক প্রদক্ষিণ করা) মুস্তাহাব কাজ। বরং, মানুষ যত বেশি তাওয়াফ করতে সক্ষম হবে, ততই তা উত্তম। আর এই তাওয়াফের জন্যে পবিত্রতা শর্ত নয়।
৪৭১. যদি ছোট কিম্বা বড় অপবিত্রতাসহ, কোন ব্যক্তি তাওয়াফ করে, তাহলে তা বাতিল। সেটা ইচ্ছাকৃতই হোক, কিম্বা উদাসীনতা বা ভুলে যাবার কারণে অথবা মাসআলা না জানার কারণেই হোক।
৪৭২. যদি তাওয়াফের মাঝে কোন অপবিত্রতা সংঘটিত হয়, সেটা যদি চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার পরে হয়ে থাকে, তাহলে তাওয়াফ করা বন্ধ করবে এবং পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর যেখান থেকে তাওয়াফকে ছেদ করেছিল, সেখান থেকেই তা সম্পন্ন করবে।’
৪৭৩. যদি পূর্বোক্ত মাসআলার বক্তব্য অনুযায়ী চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার আগে অপবিত্রতা সংঘটিত হয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তাওয়াফকে সম্পূর্ণ করবে এবং তা পুনঃ আদায় করবে।
৪৭৪. যদি তাওয়াফের মাঝে জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতা কিম্বা মাসিকের মত বড় অপবিত্রতা সংঘটিত হয়, তাহলে অনতিবিলম্বে মসজিদুল হারাম থেকে বাইরে চলে
যাবে। অতঃপর যদি চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার পূর্বে হয়, তাহলে গোসল করার পরে তাওয়াফকে পুনঃ আদায় করবে।’
৪৭৫. যদি ওযু ও গোসল করতে ওযর বা সমস্যা থাকে তাহলে তায়াম্মুম করা ওয়াজিব।
৪৭৬. যদি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে এবং ছোট অপবিত্রতা দেখা দেয়, তাহলে বড় অপবিত্রতার জন্য তায়াম্মুম আবশ্যক নয়। বরং ছোট অপবিত্রতার জন্য তায়াম্মুম করতে হবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তার জন্যে বড় অপবিত্রতা দেখা না দেয় এবং তার সমস্যা বহাল থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ প্রথম তায়াম্মুমই যথেষ্ট। তবে সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো, গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুমও করবে।
৪৭৭. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যদি আশা থাকে যে, তার ওযু কিম্বা গোসলের ওযর তথা সমস্যা দূরীভূত হয়ে যাবে, তাহলে তাকে ধৈর্য ধারণ করতে
হবে। যতক্ষণ না সময় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে কিম্বা তার আশায় ছেদ পড়ে।
৪৭৮. যদি ওযু অবস্থায় থাকে এবং সন্দেহ হয় যে ছোট অপবিত্রতা সংঘটিত হয়েছে কিনা, তাহলে ধরে নিবে যে ওযু সহকারেই রয়েছে এবং ওযু করার প্রয়োজন নেই। তদ্রূপ যদি বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকে এবং সন্দেহ করে যে অপবিত্রতা ঘটেছে কি না তাহলেও অনুরূপ নির্দেশ মেনে চলবে।
৪৭৯. যদি ছোট কিম্বা বড় অপবিত্রতার দ্বারা অপবিত্র থাকে এবং সন্দেহ করে যে ওযু করেছে কি-না কিম্বা গোসল করেছে কি-না, তাহলে প্রথমোক্ত সন্দেহের বেলায় ওষু করতে হবে এবং দ্বিতীয়োক্ত সন্দেহের বেলায় গোসল করতে হবে।
৪৮০. যদি তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর সন্দেহ করে যে ওযু সহকারে তা সম্পন্ন করেছে কি-না কিম্বা যদি সন্দেহ করে যে গোসল সহকারে তা সম্পন্ন করেছে কি-না, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক। কিন্তু পরবর্তী আমলসমূহের জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে
হবে।
৪৮১. যদি তাওয়াফের মাঝপথে সন্দেহ করে যে ওষু’ অবস্থায় ছিল কি-না, তাহলে যদি চতুর্থ পাকের শেষ হওয়ার পরে হয় তাহলে তাওয়াফ ত্যাগ করবে ও ওষু করবে এবং সেখান থেকেই তাওয়াফের অবশিষ্ট অংশ সম্পন্ন করবে। আর যদি চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার আগে হয় তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তাওয়াফ সম্পূর্ণ
করবে এবং পুনঃ আদায় করবে।
৪৮২. তাওয়াফের মধ্যে সন্দেহ সংক্রান্ত যতগুলো মাসআলায় পবিত্র অবস্থাকে ধরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে কিম্বা তার তাওয়াফ সঠিক বলা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে উত্তম হলো পুনঃ ওযু গ্রহণ করা এবং সওয়াবের আশায় গোসল করবে। কেননা হয়তো পরবর্তীতে জানা যাবে যে, তার ওযু বা গোসল ছিল না এবং ফলে অসুবিধা দেখা দেবে।
৪৮৩. যদি তাওয়াফের মাঝপথে সন্দেহ হয় যে জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতা কিম্বা মাসিক বা প্রসবাস্তিক স্রাবের গোসল করেছে কি-না, তাহলে অনতিবিলম্বে মসজিদুল হারাম থেকে বেরিয়ে যাবে।’ অতঃপর যদি চতুর্থ পাক শেষ করে থাকে এবং সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তাহলে গোসলের পরে ফিরে আসবে এবং অবশিষ্ট তাওয়াফ সম্পন্ন করবে। অন্যথায় গোসলের পরে তা পুনঃ আদায় করবে। আর সতর্কতা হলো প্রথম অবস্থার বেলায়ও তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে।
তৃতীয় প্রকার: শরীর এবং কাপড়ের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা
৪৮৪. সতকর্তামূলক ওয়াজিব হলো নামাযের মধ্যে যে অপবিত্রতাকে ক্ষমাযোগ্য করা হয়েছে (যেমন এক দিরহামের কম পরিমাণ রক্ত এবং এমন কাপড় যা দ্বারা নামায
পড়া যায় না যেমন রুমাল, মোজা এমনকি অপবিত্র আংটি) সেগুলো থেকে তাওয়াফের সময় বিরত থাকা।
৪৮৫. ক্ষতস্থানের রক্তের বেলায় যতদূর রক্তকে ধুয়ে ফেলা এবং কাপড়কে বদলে ফেলা সম্ভব হয়, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তা ধুয়ে ফেলা কিম্বা কাপড়কে বদলে ফেলা।
৪৮৬. সতর্কতা হলো যদি তাওয়াফ বিলম্ব করতে পারে যাতে বিনা কষ্টে ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে বিলম্বে করবে। তবে শর্ত হলো সময় যেন সংকীর্ণ না হয়।
৪৮৭. যদি তাওয়াফ করে এবং তাওয়াফ শেষ করার পর জানতে পারে যে, তাওয়াফ অবস্থায় অপবিত্র ছিল, তাহলে অধিকতর স্পষ্ট হলো তার তাওয়াফ সঠিক।
৪৮৮. যদি সন্দেহ করে যে তার শরীর কিম্বা কাপড় অপবিত্র, তাহলে সে অবস্থায় তাওয়াফ করতে পারবে এবং তা সঠিক। এখন সে জানুক যে ইতঃপূর্বে সে পবিত্র ছিল আর নাই জানুক। কিন্তু যদি জানে যে, ইতঃপূর্বে সে অপবিত্র ছিল এবং পবিত্র হয়েছে কিনা না জানে তাহলে ঐ অবস্থায় তাওয়াফ করতে পারবে না। বরং পবিত্র হতে হবে, অতঃপর তাওয়াফ করবে।
৪৮৯. যদি তাওয়াফের মাঝে তার কাপড়ে কিম্বা শরীরে কোন অপবিত্রতা লেগে যায়, তাহলে অধিকতর স্পষ্ট হলো তাওয়াফ বন্ধ রেখে শরীর কিম্বা কাপড় পবিত্র করবে এবং ঐ জায়গা থেকেই তাওয়াফ সম্পন্ন করবে। তার তাওয়াফ সঠিক হবে।
৪৯০. যদি তাওয়াফের মাঝখানে নিজের শরীর কিম্বা কাপড়ে অপবিত্রতা দেখে এবং ধারণা করে যে, এই অবস্থায় অপবিত্রতা ঘটেছে তাহলে বাহ্যত এর নির্দেশ হবে
পূর্ববর্তী নির্দেশের মতই।
৪৯১. যদি তাওয়াফের মাঝে জানতে পারে যে, তার দেহ কিম্বা কাপড়ে প্রথম থেকেই অপবিত্র ছিল, তাহলে সতর্কতা হলো তাওয়াফ বাদ দিয়ে পবিত্র হবে এবং ঐ জায়গা থেকেই তাওয়াফের বাকি অংশ শেষ করবে। অতঃপর তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে। বিশেষ করে যদি পবিত্র হতে দেরি হয়। এক্ষেত্রে শেষ করার পর তাওয়াফের নামায পড়বে এবং অতঃপর তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে এবং তাওয়াফের নামাযকে পুনঃআদায় করবে। আর এই সতর্কতার ক্ষেত্রে তা চার পাক ঘোরার পরে জানতে পারুক কিম্বা তার আগেই জানতে পারুক-এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যদিওবা দ্বিতীয়টির বেলায় সতর্কতা আরো জোরালো।
৪৯২. যদি পবিত্রতা ভুলে যায় এবং তাওয়াফ করে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তা পুনঃ আদায় করা। তদ্রুপ যদি তাওয়াফের মাঝে তার মনে পড়ে, তাহলেও এটাই করবে।
চতুর্থ, পুরুষদের জন্য খতনা করা। এ শর্তটি নারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আর সতর্কতামূলক’ ওয়াজিব হলো নাবালক শিশুদের বেলায়ও মেনে চলতে হবে।
৪৯৩. যদি শিশু খতনাকৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
পঞ্চম, লজ্জাস্থান ঢাকা। সুতরাং যদি লজ্জাস্থান না ঢেকেই তাওয়াফ করে তাহলে তা বাতিল। আর ঐ আবৃতকারী কাপড় মোবাহ (বৈধ বা হালাল) হতে হবে। অর্থাৎ যদি অন্যায় পথে অর্জিত কাপড়ে লজ্জাস্থান ঢেকে তাওয়াফ করে, তাহলে তা সঠিক নয়। বরং শুধু লজ্জাস্থানের কাপড় নয়, অন্যান্য কাপড়ও সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুযায়ী অন্যায় পথে অর্জিত হলে চলবে না। আর সতর্কতা হলো এক্ষেত্রে নামাযী ব্যক্তির পোশাকের শর্তাবলীই মেনে চলতে হবে।
৪৯৪. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো- তাওয়াফের মধ্যে ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতাকে সাধারণ বিচার অনুযায়ী মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ তাওয়াফের পাকসমূহের মধ্যে এতবেশি দেরি করা যাবে না যার ফলে একটি তাওয়াফের অবস্থা
বিনষ্ট হয়ে যায়।
দ্বিতীয় ভাগ: এমন কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলোকে বলা হয় তাওয়াফের হাকিকত তথা সারসত্যের অন্তর্নিহিত অংশ। যদিও সেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু তাওয়াফের শর্তও বটে। তবে কার্যক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। সেগুলো মোট সাতটি:
এক. হাজারুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করা
৪৯৫. হাজরুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করার ব্যাপারে তাওয়াফকারীর শরীরের সকল প্রত্যঙ্গ হাজারুল আসওয়াদের সমুদয় অংশ দিয়ে অতিক্রম করতে হবে এমন কোন আবশ্যকতা নেই। বরং ওয়াজিব হলো ব্যক্তি হাজারুল আসওয়াদ থেকে, তার যে স্থানই হোক না কেন, তাওয়াফ আরম্ভ করবে, এবং সেখানেই এসে তা সমাপ্ত করবে
৪৯৬, যেটা ওয়াজিব, তাহলো সাধারণ বিচারে বলা হবে তাওয়াফ কে হাজারুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করেছে এবং হাজারুল আসওয়াদেই তা এসে সমাপ্ত করেছে। তা তার প্রথম থেকে আরম্ভ করুক আর হাজারুল আসওয়াদের মাঝখানে কিম্বা শেষভাগ থেকেই আরম্ভ করুক।
৪৯৭. হাজারুল আসওয়াদের যে স্থান থেকেই আরম্ভ করবে সপ্তম পাকে ঐ স্থানে এসেই তাওয়াফ সমাপ্ত করতে হবে। সুতরাং যদি তা প্রথম থেকেই আরম্ভ করে থাকে তাহলে তা প্রথমে এসে সমাপ্ত করবে। তদ্রূপ যদি মাঝখান কিম্বা শেষ ভাগে থেকে আরম্ভ করে থাকে তাহলে সে স্থানেই এসেই সমাপ্ত করবে।
৪৯৮, তাওয়াফের বেলায় যেভাবে সকল মুসলমান তাওয়াফ করে, হাজারুল আসওয়াদের সমান্তরালে সম্মুখভাগ থেকেই আরম্ভ করতে হবে। এক্ষেত্রে নানা জনের নানামতের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে হবে। আর পরবর্তী পাকগুলোতে না থেমেই
প্রদক্ষিণ করতে হবে যাতে সাত পাক শেষ হয়ে যায়। ৪৯৯, কখনো কখনো দেখা যায় লোকেরা প্রত্যেক পাক ঘুরে এসে থেমে দাঁড়ায় এবং সামনে পেছনে করে হাজারুল আসওয়াদের সমান্তরাল হওয়াকে ঠিক করে নেয়ার
জন্য। এ কাজে অসুবিধা রয়েছে এবং কখনো কখনো তা হারাম। দুই. তাওয়াফের প্রত্যেক পাককে হাজারুল আসওয়াদে পৌঁছে শেষ করা। আর তা সম্পন্ন হয় না থেমে সাত পাক সমাপ্ত করার মাধ্যমে এবং সপ্তম পাকে যে স্থান থেকে আরম্ভ করেছিল সেখানেই এসে সমাপ্ত করার মাধ্যমে। আর প্রত্যেক পাকে থামা এবং পুনরায় আরম্ভ করার দরকার নেই। আর অজ্ঞদের কর্মকা-কে অনুসরণ করা উচিত নয়
তিন. তাওয়াফ করার সময় কাবাঘর তাওয়াফকারীর বাম দিকে অবস্থান করবে
৫০০. তাওয়াফের সার্বক্ষণিক অবস্থায় কাবাঘর প্রকৃতই বাম কাঁধ বরাবর অবস্থান করা আবশ্যক নয়। বরং হিজুরে ইসমাঈল ঘুরে আসার সময় কাবাঘর যদি কিছুটা বাম দিকে থেকে সরে যায়, তাহলে অসুবিধা নেই। এমনকি যদি কাবাঘর প্রায় পেছনেও পড়ে যায় কিন্তু ঘুরে আসাটা প্রচলিতভাবে হয় তাহলে অসুবিধা নেই।
৫০১. যদি কাবাঘরের কোণসমূহে পৌছানোর সময় কাঁধ কাবাঘরের সমান্তরাল থেকে সরে যায় তাহলে কোন অসুবিধা নেই, যদি প্রচলিতভাবে ঘুরে আসে। এমনকি যদি কাবাঘর পেছনে পড়ার উপক্রম হয় তাতেও অসুবিধা নেই।
৫০২. অনেক সময় দেখা যায় কিছু কিছু অজ্ঞ লোক সতর্কতার জন্য অন্যকে বাধ্য করে যেন তাকে তাওয়াফ করিয়ে দেয়। আর স্বয়ং তাওয়াফকারী তার নিজের স্বাধীনতাকে অন্যের হাতে তুলে দেয় এবং তার হাতের ওপরই নির্ভর করে। আর অন্য ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে তাওয়াফের পথে ঘোরাতে থাকে। এই তাওয়াফ বাতিল। আর যদি তাওয়াফে নিসাকে এভাবে সম্পাদন করে তাহলে পুরুষের জন্য নারী বা নারীর জন্য পুরুষ তার ওপর হারাম হবে।
৫০৩. তাওয়াফের সকল অবস্থায় কাবাঘর প্রকৃতই বাম পার্শ্বে থাকবে এমন সতর্কতা যদিওবা তা খুবই দুর্বল এবং ভ্রুক্ষেপযোগ্য নয় এবং অজ্ঞ ও সন্দেহের বাতিকগ্রস্ত লোকেরা তা পরিহার করে চলবে। আর অপরাপর মুসলমান যেভাবে প্রদক্ষিণ করেছে সেভাবেই প্রদক্ষিণ করবে। কিন্তু যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্কের জ্ঞানী ব্যক্তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চায় এবং হিজ্বরে ইস্মাঈল কিম্বা কাবার রোকনসমূহের নিকটে পৌঁছানোর সময় কাঁধকে এমনভাবে বাম বরাবর করে যা প্রচলিত পদ্ধতির পরিপন্থী না হয় এবং অন্যদের অঙ্গুলি ইশারার পাত্রে পরিণত না হয়, তাহলে কোন বাধা নেই।
৫০৪. যদি তাওয়াফকারীদের বিঘ্নতার কারণে প্রদক্ষিণ করার কিছু পরিমাণ প্রচলিত পদ্ধতির পরিপন্থী হয়। উদাহরণস্বরূপ তাওয়াফকারীর মুখমণ্ডল কাবা অভিমুখী হয়ে পড়লো কিম্বা তার পৃষ্ঠদেশ কাবামুখী হয়ে পড়লো অথবা পেছনে হয়ে তাওয়াফ করলো তাহলে ঐ অংশটুকুর পূরণ করতে হবে এবং প্রথম থেকে আরম্ভ করবে।
৫০৫. তাওয়াফ করার সময় যেভাবেই চলুক আপত্তি নেই। ধীরে ধীরে চলতে পারে আবার দ্রুতও চলতে পারে। তদ্রূপ দৌড়াতে পারে এবং জন্তুর পিঠে সওয়ার হয়ে কিম্বা সাইকেলে চড়েও তাওয়াফ করতে পারে। তবে উত্তম হলো মধ্যম গতিতে চলবে।
চার. তাওয়াফের মধ্যে হিজ্বরে ইসমাইলকে অন্তর্ভুক্ত করা। আর হিজ্বরে – ইসমাঈল হলো ঐ স্থানটি যা কাবাঘরের সাথে সংযুক্ত। আর তাওয়াফকারীকে – হিজ্বরে ইসমাঈলেরও চতুর্দিকে ঘুরে আসতে হবে
৫০৬. যদি হিজুরে ইসমাঈলের চতুর্দিকে ঘুরে না আসে এবং তার ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করে তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল। তা পুনঃ আদায় করতে হবে।
৫০৭. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করে থাকে তাহলে তাওয়াফ ইচ্ছাকৃতভাবে । বাতিল করার নির্দেশভুক্ত হবে, যা ইতঃপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।
৫০৮, যদি ভুলক্রমে এই কাজ করে থাকে, তাহলে ভুলক্রমে বাতিল করার নির্দেশ
ভুক্ত হবে। ৫০৯. যদি তাওয়াফের কোন কোন পাকে হিজ্বরে ইসমাঈলকে অন্তর্ভুক্ত না করে থাকে তাহলে সতর্কতামূলক’ ওয়াজিব হলো ঐ পাককে প্রথম থেকে পুনরায় আরম্ভ করবে এবং তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে। যদিও বাহ্যত তাওয়াফ পুনঃ আদায়
আবশ্যক নয়।
৫১০. যদি কেউ তাওয়াফের কোন কোন পাকে হিজ্বরে ইস্মাঈলের দেয়ালের ওপর দিয়ে যায়, তাহলে সতর্কতা হলো সে পূর্বোক্ত মাআলা অনুযায়ী আমল করবে। আর এই মাসআলার ক্ষেত্রেও সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যেখান থেকে দেয়াল টপকে গেছে সেখান থেকে পাক সম্পূর্ণ করলে যথেষ্ট হবে না।
পাঁচ, তাওয়াফ সর্বদিক দিয়ে কাবাঘর ও মাকামে ইবরাহীম (আঃ)-এর মধ্যবর্তী ব্যবধানের দূরত্বের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে
৫১১. তাওয়াফ কাবাঘর ও মাকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী দূরত্বের মধ্যে হওয়া
বলতে বুঝায়- কাবাঘর ও মাকামে ইবরাহীম (আঃ)-এর মধ্যবর্তী দূরত্বকে বিবেচনায়
রাখা এবং তাওয়াফকারী কাবাঘরের চতুপার্শ্বে কাবাঘর থেকেই ঐ পরিমাণ দূরত্ব থেকে বেশি দূরে যাবে না। (বলা হয়েছে, এই দূরত্ব আনুমানিক সাড়ে ছাবিবশ হাত)। সুতরাং চতুর্পার্শ্বে এই পরিমাণের চেয়ে বেশি দূরত্বে যাবে না। ৫১২. যদি কেউ মাকামে ইবরাহীমের পেছন দিয়ে তাওয়াফ করে যাতে মাকামে ইবরাহীমও তার তাওয়াফের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল। তা
পুনঃ আদায় করতে হবে।
৫১৩. যদি তাওয়াফের কিছু কিছু পাককে মাকামের পেছনে দিয়ে তাওয়াফ করে, তাহলে উক্ত পাককে ঐ অংশ পুনঃআদায়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করবে। আর অধিকত
সতর্কতা হলো তাওয়াফ পুনঃ আদায় করতে হবে। যদিও বাহ্যত পুনঃ আদায় আবশ্যক নয়। বরং ঐ অংশটুকুই পুনঃআদায় করলে যথেষ্ট হওয়া অসম্ভব নয়।
৫১৪. যেহেতু হিজুরে ইসমাঈলের (আঃ) দিকে তাওয়াফের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায় কারণ হিজুরের পরিমাণ তা থেকে কমে যায় এবং বলা হয় যে, প্রায় সাড়ে ছয় হাত জায়গা তাওয়াফের জন্য অবশিষ্ট থাকে, কাজেই তাওয়াফের সময় ঐ পাশ থেকে সাড়ে ছয় হাতের বেশি দূর হবে না।
৫১৫. যদি হিজুরে ইসমাঈলের (আঃ) দিক থেকে সাড়ে ছয় হাতের বেশি দূরে সরে যায় তাহলে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো ঐ অংশকে পুনঃ আদায় করবে এবং তাওয়াফের স্থান দিয়ে ঘুরে আসবে।
ছয়. তাওয়াফকারী কাবাঘর থেকে এবং যা কিছু তার বলে গণ্য হয়, তা থেকে বের হওয়া
৫১৬. কাবাঘরের দেয়ালের পার্শ্বে একটি স্ফীত অংশ রয়েছে যাকে ‘শাযরাওয়ান’ বলা হয়। আর তা কাবাঘরেরই অংশ। তাওয়াফকারীর ঐ অংশটিকেও তাওয়াফের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫১৭. যে স্থানে ‘শাব্রাওয়ান’ অবস্থিত সেখানে কাবাঘরের দেয়ালে হাত রাখা জায়েজ। এতে তাওয়াফের ক্ষতি হয় না।
৫১৮. তাওয়াফ অবস্থায় হিজ্বরে ইসমাঈল (আঃ) দেয়ালে হাত রাখা জায়েজ। তা তাওয়াফের ক্ষতি করে না। যদিও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো তা ত্যাগ করা।
সপ্তম প্রকার: সাত পাক প্রদক্ষিণ করা; কমও নয়, বেশিও নয়।
৫১৯. যদি প্রথম থেকেই সংকল্প করে যে, আট পাক প্রদক্ষিণ করবে, কিন্তু তার মনস্থ থাকে যে, তন্মধ্যে সাত পাক হবে তাওয়াফের আর এক পাক হবে সওয়াবের আশায় কাবাঘরের চতুর্দিকে পায়চারী করা কিম্বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২০. যদি অনুমান করে যে, এক পাকও মুস্তাহাব যেভাবে সাত-পাক মুস্তাহাব এবং সংকল্প করে যে, ওয়াজিব সাতপাককে সম্পাদন করবে এবং তার পশ্চাতে এক পাক মুস্তাহাবও প্রদক্ষিণ করবে, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২১. যদি ওয়াজিব তাওয়াফের পরে (যা সাত পাক) এই ভেবে যে এক পাক হলো স্বতন্ত্র একটি মুস্তাহাব কাজ, আট পাক সম্পাদন করে তাহলেও তার তাওয়াফ সঠিক।
সতর্কতা হলো তাওয়াফ পুনঃ আদায় করতে হবে। যদিও বাহ্যত পুনঃ আদায় আবশ্যক নয়। বরং ঐ অংশটুকুই পুনঃআদায় করলে যথেষ্ট হওয়া অসম্ভব নয়।
৫১৪. যেহেতু হিজ্বরে ইসমাঈলের (আঃ) দিকে তাওয়াফের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায় কারণ হিজুরের পরিমাণ তা থেকে কমে যায় এবং বলা হয় যে, প্রায় সাড়ে ছয় হাত জায়গা তাওয়াফের জন্য অবশিষ্ট থাকে, কাজেই তাওয়াফের সময় ঐ পাশ থেকে সাড়ে ছয় হাতের বেশি দূর হবে না।
৫১৫. যদি হিজ্বরে ইসমাঈলের (আঃ) দিক থেকে সাড়ে ছয় হাতের বেশি দূরে সরে যায় তাহলে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো ঐ অংশকে পুনঃ আদায় করবে এবং তাওয়াফের স্থান দিয়ে ঘুরে আসবে।
ছয়. তাওয়াফকারী কাবাঘর থেকে এবং যা কিছু তার বলে গণ্য হয়, তা থেকে বের হওয়া
৫১৬. কাবাঘরের দেয়ালের পার্শ্বে একটি স্ফীত অংশ রয়েছে যাকে ‘শাহ্রাওয়ান’ বলা হয়। আর তা কাবাঘরেরই অংশ। তাওয়াফকারীর ঐ অংশটিকেও তাওয়াফের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৫১৭. যে স্থানে ‘শাব্রাওয়ান’ অবস্থিত সেখানে কাবাঘরের দেয়ালে হাত রাখা জায়েজ। এতে তাওয়াফের ক্ষতি হয় না।
৫১৮. তাওয়াফ অবস্থায় হিজ্বরে ইস্মাঈলের (আঃ) দেয়ালে হাত রাখা জায়েজ। তা তাওয়াফের ক্ষতি করে না। যদিও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো তা ত্যাগ করা।
সপ্তম প্রকার: সাত পাক প্রদক্ষিণ করা; কমও নয়, বেশিও নয়।
৫১৯. যদি প্রথম থেকেই সংকল্প করে যে, আট পাক প্রদক্ষিণ করবে, কিন্তু তার মনস্থ থাকে যে, তন্মধ্যে সাত পাক হবে তাওয়াফের আর এক পাক হবে সওয়াবের আশায় কাবাঘরের চতুর্দিকে পায়চারী করা কিম্বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২০. যদি অনুমান করে যে, এক পাকও মুস্তাহাব যেভাবে সাত-পাক মুস্তাহাব এবং সংকল্প করে যে, ওয়াজিব সাতপাককে সম্পাদন করবে এবং তার পশ্চাতে এক পাক মুস্তাহাবও প্রদক্ষিণ করবে, তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২১. যদি ওয়াজিব তাওয়াফের পরে (যা সাত পাক) এই ভেবে যে এক পাক হলো স্বতন্ত্র একটি মুস্তাহাব কাজ, আট পাক সম্পাদন করে তাহলেও তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২২. যদি তাওয়াফের ৭ পাক থেকে কম করার পর অনেক কাজ করে, যার ফলে তাওয়াফের ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে তার নির্দেশ হবে তাওয়াফকে ছেদ করার নির্দেশের মতই, যা পরবর্তীতে উল্লেখিত হবে।
৫২৩. যদি স্মরণে না আসে যে, তাওয়াফকে অসম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরে তা তার মনে পড়ে, তাহলে সতর্কতা হলো’ সে নিজে মক্কায় ফিরে যাবে। আর যদি ফিরে যেতে না পারে কিম্বা সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে।
৫২৪. ওয়াজিব তাওয়াফে কেরান (বা সংযুক্তি) জায়েজ নয়। অর্থাৎ দু’টি তাওয়াফের মাঝে নামাযের মাধ্যমে ব্যবধান ছাড়া ওয়াজিব তাওয়াফকে অন্য তাওয়াফে পরপরই তার পশ্চাতে সম্পাদন করা যাবে না। আর মুস্তাহাব তাওয়াফেও এটা মাকরূহ।
৫২৫. নফল তাওয়াফ কোন কারণ ছাড়াই ছেদ করা জায়েজ। আর শক্তিশালী মত হলো শুধুমাত্র মনের ইচ্ছায় এবং কোন কারণ ছাড়াই ওয়াজিব তাওয়াফকে ছেদ করা মাকরূহ। আর অধিকতর সতর্কতা’ হলো ছেদ না করা। এই অর্থে যে ছেদ না করা এমনভাবে যে তাওয়াফের অবশিষ্ট অংশকে পরিত্যাগ করা যার ফলে সাধারণ বিচারে তাওয়াফের ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্ণ হয়।
৫২৬. যদি তাওয়াফকে ছেদ করে এবং তাওয়াফের পরিপন্থী কোন কাজ না করে থাকে, তাহলে যদি প্রত্যাবর্তন করে এবং তা সম্পূর্ণ করে তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক।
৫২৭. যদি তাওয়াফের মাঝে তা অসম্পূর্ণ রাখার মত কোন কারণ দেখা দেয় যেমন অনিচ্ছাকৃতভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া বা মাসিক কিম্বা কোন অপবিত্রতা ঘটে যাওয়া তাহলে সেটা যদি চতুর্থ পাক সমাপ্ত হওয়ার পরে ঘটে, তাহলে সমস্যা দূরীভূত হওয়ার পরে প্রত্যাবর্তন করবে এবং সেই স্থান থেকেই তা সম্পূর্ণ করবে। আর যদি তার পূর্বে ঘটে তাহলে তাওয়াফ পুনঃ আদায় করবে। আর প্রথমোক্ত উদাহরণে মাসিক ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো তাওয়াফ সম্পূর্ণ করা এবং পুনঃ আদায় করা।
৫২৮. যে ব্যক্তি কোন কারণবশত তাওয়াফকে ছেদ করেছে, সে যদি সময় সংকীর্ণ হয়ে আসা পর্যন্ত তা সম্পাদন করতে না পারে, তাহলে যদি সম্ভব হয় তাকে বহন করে নিয়ে তাওয়াফ করাতে হবে। আর যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে তার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে।
৫২৯. যদি তাওয়াফে ব্যস্ত থাকে এবং ওয়াজিব নামাযের ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয়ে আসে, তাহলে তাওয়াফ পরিত্যাগ করে নামায পড়তে হবে। অতএব যদি চতুর্থ পাকের’ পরে পরিত্যাগ করে থাকে তাহলে সেখান থেকেই তাওয়াফ সম্পূর্ণ করবে। অন্যথায় তা পুনঃ আদায় করতে হবে।
৫৩০. জামাআতের নামায কিম্বা ওয়াজিব নামাযের ফযিলত তথা উত্তম সময়ে পৌঁছবার উদ্দেশ্যে তাওয়াফকে ছেদ করা জায়েজ, বরং মুস্তাহাব। আর যেখান থেকেই ছেদ করবে সেখান থেকেই নামাযের পরে সম্পূর্ণ করবে। আর সতর্কতা হলো পূর্ববর্তী মাসআলার নির্দেশ অনুযায়ী আমল করবে। আর এই সতর্কতা বর্জন করা সমীচীন নয়।
৫৩১. যদি তাওয়াফের পরে সন্দেহ করে যে, তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করেছে কি- না, যেমন যদি এমন সম্ভাবনা দেখা দেয় যে, ডান পাশ দিয়ে তাওয়াফ করেছে, কিম্বা অপবিত্র ছিল, কিম্বা হিজ্বরে ইসমাঈলের অভ্যন্তর দিয়ে তাওয়াফ করেছে, তাহলে ঐ সন্দেহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। তার তাওয়াফ সঠিক, যদিও এরপরও সে তাওয়াফের স্থানেই থাকে এবং সেখান থেকে ফিরে না যায় কিম্বা অন্য কোন কাজে তখনও ব্যস্ত না হয়ে থাকে এবং তাওয়াফের পাকের সংখ্যায় কম বেশি হওয়া সংক্রান্ত সন্দেহ ছাড়াই সাত পাক হওয়ার বিষয়টি যদি তার জন্য স্পষ্ট থাকে।
৫৩২. যদি পাকের শেষে যা হাজারুল আসওয়াদে এসে সমাপ্ত হয়েছে, সন্দেহ করে যে সাতপাক প্রদক্ষিণ করেছে নাকি আট পাক, নাকি তার বেশি, তাহলে এ সন্দেহের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবে না এবং তার তাওয়াফ সঠিক।
৫৩৩. যদি মুস্তাহাব তাওয়াফে পাকের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে কম সংখ্যাটি ধরে নিবে এবং তার তাওয়াফ সঠিক।
৫৩৪. পাকের সংখ্যার ক্ষেত্রে অনুমানের কোন মূল্য নেই এবং এর নির্দেশ হবে সন্দেহের মতই।
৫৩৫. যদি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে কেউ সাঈ করতে ব্যস্ত থাকে এবং তার মনে পড়ে যে সে তাওয়াফ করেনি তাহলে তা পরিত্যাগ করে তাওয়াফ করবে। অতঃপর সাঈকে পুনঃ আদায় করবে।
৫৩৬. যদি ভুলক্রমে কিম্বা উদাসীনতাবশত কিম্বা অজ্ঞতাবশত বিনা ওযুতে তাওয়াফ সম্পাদন করে থাকে, তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল। তদ্রূপ যদি জানাবাত তথা যৌন অপবিত্রতা কিম্বা মাসিক বা প্রসবাস্তিক স্রাবরত অবস্থায় তাওয়াফ সম্পাদন করে তাহলেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
৫৩৭. যদি কেউ কোন অসুস্থ লোক বা শিশুকে বহন করে এবং তাওয়াফ করায় এবং সে নিজেও তাওয়াফের নিয়ত করে, তাহলে উভয়ের তাওয়াফই সঠিক।
৫৩৮. তাওয়াফ অবস্থায় কথা বলা, হাসা এবং কবিতা আবৃত্তি করায় অসুবিধা নেই। তবে তা মাকরূহ। আর মুস্তাহাব হলো তাওয়াফ অবস্থায় দোয়া ও আল্লাহর যিকর এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত থাকা।
৫৩৯. তাওয়াফ অবস্থায় তাওয়াফকারীর মুখমণ্ডল সামনের দিকে ফিরে থাকা ওয়াজিব নয়। বরং ডানে ও বামে তাকানো এবং মুখ ঘুরানো এমনকি পেছনে তাকানোও জায়েজ। এছাড়াও তাওয়াফ পরিত্যাগ করতে পারে এবং কাবাঘরকে চুম্বন করে ফিরে আসতে পারবে এবং সেখান থেকেই তাওয়াফ সম্পূর্ণ করবে।
৫৪০. তাওয়াফের মধ্যে ক্লান্তি দূর করা এবং বিশ্রামের জন্য বসা কিম্বা শোয়া জায়েজ। অতঃপর সেখান থেকেই তা সম্পূর্ণ করবে। তবে এত বেশি বিলম্ব করবে না যে, সাধারণ বিচার অনুযায়ী তাওয়াফের ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্ণ হয়ে পড়ে। আর যদি ঐ পরিমাণ দেরি করে, তাহলে সতর্কতা হলো তা সম্পূর্ণ করবে এবং পুনঃ আদায়ও করবে।