‘ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণা’ শীর্ষক বিল পাশের নিন্দায় মাজমার বিবৃতি

জায়নবাদী ইসরাইলি পার্লামেন্টে ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণা’র মত ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণিত বিল পাশের নিন্দা জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছে আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা (মাজমা)।

ঐ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে প্রদত্ত বিবৃতিতে, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি কুদস এবং দখলকৃত ভূখণ্ড মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিবৃতির শুরুতে সূরা বাকারাহ’র ১২০নং আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে;

“وَلَنْ تَرْضَىٰ عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُم؛ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِير

“ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। আর যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার কোন উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই”।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জায়নবাদী পার্লামেন্টে ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণা’ শীর্ষক বিল পাশ হওয়া, ফিলিস্তিন ও কুদসের দখলদার জায়নবাদীদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যনীতির প্রমাণ। এই বিল পাশ করার মধ্য দিয়ে দখলকৃত ভূখণ্ডকে ইহুদিদের আবাসভূমি ও ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভয়ংকর ও অমানবিক এ চক্রান্তের ভিত্তিতে আগামিতে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সকল ফিলিস্তিনীদের বের করে দেয়া হবে। বিশেষ করে এর মাধ্যমে কুদসের বাসিন্দাদেরকে পশ্চিম তীর ও গাজার দিকে সরিয়ে দেয়ার পথ সুগম হল। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনী গৃহহারা হবে এবং তারা ন্যূনতম যে অধিকারটুকু পেত সেটা থেকেও বঞ্চিত হবে।

আক্রমণাত্মক এ পদক্ষেপ আরও একবার প্রমাণ করলো যে, জায়নবাদী ইসরাইল মূলতঃ ইসলাম ও ফিলিস্তিনীদের মোকাবিলার জন্যই গঠিত হয়েছে। যদিও দখলদার এ সরকারের কর্মকর্তারা বিগত ৭ দশক ধরে সবসময়, তাদের আগ্রাসী ও কুৎসিত চেহারাকে ঢেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

দুঃখজনকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ এবং সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মত আরব দেশ ইসরাইলের এ ভয়ংকর কুক্ষিগতকরণ নীতির বিপরীতে রহস্যজনক নিরবতা অবলম্বন করেছে। পাশাপাশি ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ (ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি)-এর মত ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের খরচ বহনের দায়িত্বও গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে তারা ফিলিস্তিনের স্বশাসিত সরকারকে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে!!

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা, ইসরাইলের গোঁড়ামীপূর্ণ, বৈষম্যমূলক ও আক্রমণাত্মক এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি কুদস এবং দখলকৃত ভূখণ্ড মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।পাশাপাশি দখলদার ও মতলববাজ ইসরাইলি সরকারের সাথে আলোচনা ও সমঝোতা এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সকল প্রকার চেষ্টার নিন্দা জানায় এবং একে ইসলাম ও ফিলিস্তিনীদের স্বপ্নের প্রতি খেয়ানত বলে জ্ঞান করে।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থা।
৩০ তির, ১৩৯৭
(২১ জুলাই, ২০১৮)

সুত্রঃ আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা)

Related posts

শহীদ হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব আয়াতুল্লাহ শেখ রমাযানী — ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন সৈয়দ ইবরাহীম খলীল রাজাভীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ইরানের গার্ডিয়ান পরিষদ এবং হাউযা ইলমিয়া কুমের শিক্ষক সমিতির সম্মানিত সদস্যআয়াতুল্লাহ মাহদী শাবযেন্দেদার ও হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন সৈয়দ ইবরাহীম খলীল রাজাভীর সাক্ষাৎ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More