কঙ্কর নিক্ষেপের বিবিধ মাসায়েল
১০৪১. মহিলারা ও তাদের দেখাশুনাকরীরা, আর সেসকল দুর্বল লোক যাদের মধ্যরাতের পরে মাশআরুল হারাম থেকে মিনায় প্রবেশ করার অনুমতি রয়েছে, তারা যদি দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে অপারগ হয়, তাহলে রাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবে। বরং মহিলাদের সর্বৈবভাবে ঐ রাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করার অনুমতি রয়েছে।
১০৪২. জামারাহ’য় দ্বিতীয় তলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা জায়েজ। প্রথম তলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করার আবশ্যকতা নেই।
১০৪৩. যাদের ঈদের দিনে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে অক্ষমতা রয়েছে, তারা তার আগের রাত কিম্বা পরের রাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবে। আর যদি যিলহজ্বের এগারতম দিনেও নিক্ষেপ করতে অক্ষম থাকে, তাহলে ঈদের তথা দশম দিন কঙ্কর নিক্ষেপ করার পর এগারতম রাতে ঐ দিনের কঙ্কর নিক্ষেপকেও সম্পন্ন করতে পারবে।
তিন জামারাহয় কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ও ফতোয়া
প্রশ্ন-১০৪৪ : যারা দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে অক্ষম হবার কারণে বাতের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারে, তাদের জন্য কি রাতের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা আবশ্যক? নাকি ঐ দিনেই প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে?
উত্তর: প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে?
প্রশ্ন-১০৪৫: যদি কেউ যিলহজ্বের দশম দিনের সকালে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে অপারগ থাকে কিন্তু নিশ্চিত হয় যে বিকেলে ভিড় কম থাকবে এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করতে সক্ষম হবে, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক বলুন যে সে কি সকালেই প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে, নাকি দেরি করবে যাতে ভিড় কমে যায় এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করতে
পারে? উত্তর: যদি দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারে, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে না।
প্রশ্ন-১০৪৬: বিনা কারণে কি রাতের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা যায় নাকি যথেষ্ট নয়? আর যদি রাতে সঠিক হয়, তাহলে পাপ হবে কি-না? তদ্রূপ কুরবানীকে যদিও হদের দিন থেকে দেরী করা সঠিক, কিন্তু এতে পাপ হবে কি-না?
উত্তর: ওযর বা সমস্যা ছাড়া রাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা যায় না। আর যদি কারণ। ছাড়া দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ বর্জন করে, তাহলে পাপ করলো। তদ্রূপভাবে অধিকতর সতর্কতা হলো যদি কুরবানীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঈদের দিন থেকে দেরি করে, তাহলেও পাপ করলো। যদিও কুরবানী সঠিক হবে।
প্রশ্ন-১০৪৭: যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের কাজে প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে সে কি রাতের বেলা নিক্ষেপ করতে পারবে নাকি পারবে না? তদ্রূপ যে ব্যক্তি মূল হজ্ব পালনের কাজে প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে এবং প্রথম থেকেই জানতো যে, কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবে না, কিম্বা দিনের বেলায় নিক্ষেপ করতে পারবে না বা দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপে অবহেলা করবে, তার নির্দেশ কী?
উত্তরঃ প্রতিনিধিকে হজ্বের স্বাভাবিক আমলসমূহ পালন করতে হবে। আর যদি অক্ষম হয় তাহলে প্রতিনিধি হতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের কাজে প্রতিনিধি হয়েছে তাকে দিনের বেলা তা নিক্ষেপ করতে হবে। আর অবহেলা প্রতিনিধিত্ব বাতিলের কারণ হবে না। যদিও উক্ত প্রশ্নের আলোকে তা জায়েজ নয়।
‘যদি ঐ সকল ওযরের মধ্যে থেকে হয় যার কারণে পূর্ববর্তী রাতে কঙ্কর নিক্ষেপের অনুমতি রয়েছে যেমন ভয় ও ব্যস্ততা ইত্যাদি, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যদি এমন কোন ওরে হয় যা দিনের বেলায় ঘটেছে, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে। কিন্তু যদি পরের রাতে দূরীভূত হয়ে যায়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো আমল পুন: আদায় করবে।
প্রশ্ন-১০৪৮। যদি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় প্রথমে পার্শ্ববর্তী দেয়ালে এবং পরে জামারাহয় আঘাত করে তাহলে কি যথেষ্ট হবে নাকি আরেকটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে?
উত্তরঃ দৃশ্যত যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-১০৪৯: এক ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় সন্দেহ করলো, করটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করেছি, অতঃপর ঐ পরিমাণ বাদ দিয়ে পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করলো, এতে কি তার কঙ্কর নিক্ষেপে কোনো সমস্যা হবে?
উত্তর: সমস্যা নেই, যদিও বাদ দেয়া হয় না।
প্রশ্ন-১০৫০ : আপনি বলেছেন, নারীদের জন্য যিলহজ্বের দশম রাতে রওনা হওয়া এবং মাশআরুল হারামে জরুরি উকুফ বা অবস্থানে পৌঁছা এবং যিলহজ্বের দশম রাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা জায়েজ। আর নারী হওয়াটাই হলো একটি ওযর। এমতাবস্থায় নারীরা কি প্রতিনিধি হতে পারবে?
উত্তরঃ প্রতিনিধি হতে পারবে।
প্রশ্ন-১০৫১ : অতীতে যখন জামারাহগুলো বর্তমান রূপে ছিল না এবং নিঃসন্দেহে পরবর্তীতে আরো উঁচু ও মোটা করে নির্মিত হয়েছে, সুতরাং জামারাহ-ই আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ নির্দিষ্ট করে কেবল সিমেন্টের দেয়ালের মধ্যবর্তী পাথরটির ওপর হতে হবে কেন এবং সিমেন্টের দেয়ালে কঙ্কর নিক্ষেপ জায়েজ নয় কেন? আর যদি আপনি জায়েজ মনে করেন, তাহলে অনুগ্রহ করে বলবেন। কেননা, অধিকাংশ লোকই জামারাহ্-ই-আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের সময় পাথরের দুই পার্শ্বস্থ সিমেন্টের দেয়ালকেই যথেষ্ট মনে করে থাকে? আর মোটকথা জামারাহ’য় কঙ্কর নিক্ষেপের মাপকাঠি কী?
উত্তর: জামারাত্র পেছনের সিমেন্টের দেয়াল জামারাহ’র অন্তর্ভুক্ত নয়। তার ওপরে নিক্ষেপ করা যথেষ্ট হবে না।
প্রশ্ন-১০৫২ঃ যে ব্যক্তি দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারে সে যদি কোন মহিলার কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়, তাহলে কি ঐ মহিলার কঙ্কর নিক্ষেপকে রাতের বেলায় পালন করতে পারবে?
উত্তর: পারবে না। দিনের বেলাতেই কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।
প্রশ্ন-১০৫৩ঃ যে সকল ব্যক্তির সেসব ওয়াজিব কাজ পালনে অক্ষমতা রয়েছে যেগুলো এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলেও হজ্বের কোন ক্ষতি হয় না, যেমন যিলহজ্বের একাদশ ও দ্বাদশ দিনে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং এগারতম ও বারতম তারিখে মিনায় রাত্রিযাপন, তারা কি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রতিনিধি নিযুক্ত হতে পারবে?
উত্তর: অক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রতিনিধি হতে পারবে না। এমনকি যদি উল্লেখকৃত অক্ষমতার ন্যায় ওযরধারীও হয়।
প্রশ্ন-১০৫৪ঃ যে ব্যক্তি অন্যের প্রতিনিধি হয়ে কঙ্কর নিক্ষেপ করে, সে কি প্রথমে তার নিজের জন্যে প্রত্যেকটি জামারাহ’য় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে অতঃপর অন্যদের প্রতিনিধি হয়ে, সেটা দশজনেরই হোক, সবগুলোই একসাথে, অতঃপর জামারাহ-ই উচ্চতাতেও এভাবে এবং পরিশেষে জামারাহ-ই আকাবায়ও একইভাবে করবে- এতে কি যথেষ্ট হবে? নাকি প্রথমে জামারাহত্রয়ের প্রত্যেকটিতে নিজের জন্য এবং তারপর প্রত্যেকটিতে দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য ও এভাবে অন্যান্যদের জন্যও সম্পন্ন করতে হবে?
উত্তর: উভয় পদ্ধতিই সঠিক।
প্রশ্ন-১০৫৫ঃ যে ব্যক্তি ঈদের দিনে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারে না, সে কি কঙ্কর নিক্ষেপের আগে মাথামুণ্ডন করতে এবং পরের দিন কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবে?
উত্তর: অধিকতর সতর্কতা হলো, পারবে না।’
প্রশ্ন-১০৫৬: জামারাহ-ই আকাবায় কি যে কোন দিক থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করা
যাবে?
উত্তর: যদি জামারাহ’য় নিক্ষেপ করে তাহলেই যথেষ্ট হবে। কিন্তু দেয়ালে হলে যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন-১০৫৭: মাশআরুল হারামে যেসব কঙ্কর বিদ্যমান রয়েছে এবং এটা স্পষ্ট যে মাশআরের বাইরে থেকে সেগুলোকে আনা হয়েছে, তবে তা হেরেমের নাকি হেরেমের বাইরে থেকে আনা সেটা জানা নেই, এমতাবস্থায় উক্ত কঙ্করগুলো কি নিক্ষেপের জন্য ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: যদি জানা থাকে যে বাইরে থেকে আনা হয়েছে তাহলে উক্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে, তা ব্যবহার করা ঠিক হবে না, যদি না এমনভাবে থাকে যে, তা মাশআরের অংশ বলে পরিগণিত হয়।
প্রশ্ন-১০৫৮: এক ব্যক্তি জামারাহ-ই-আকাবার কঙ্কর নিক্ষেপকে ভুলভাবে পালন করেছে এবং যিলহজ্বের তেরতম দিনে সে তা বুঝতে পারে। তাকে কি জামারাহ্-ই আকাবার কাযা পালন করার পর এগার ও বারতম দিনের কঙ্কর নিক্ষেপকেও পুনরাবৃত্তি করতে হবে?
উত্তর: দরকার নেই।
প্রশ্ন-১০৫৯: সাতটির বেশি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেও কি দোষণীয়?
উত্তর : যদি প্রথম থেকে সাতটির বেশি নিক্ষেপ করার সংকল্প থাকে, তাহলে সঠিক নয়। তাকে তা পুনঃআদায় করতে হবে। কিন্তু যদি সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা শেষ হয়ে যাবার পর যা সাতের নিয়তে ছিল, বেশি নিক্ষেপ করে, তাহলে ক্ষতি নেই।
প্রশ্ন-১০৬০ ৪ যে ব্যক্তি কুরবানী করতে পারে নি এবং মাথা মুণ্ডন কিম্বা তাকছীরও করতে পারেনি, সে কি যিলহজ্বের এগারতম দিনের কঙ্কর নিক্ষেপকে পালন করতে পারবে?
উত্তর: নিষেধ নেই।
প্রশ্ন-১০৬১ : মহিলাদেরকে কি যিলহজ্বের দশম রাতে মধ্যরাতের পর মাশআরুল হারাম থেকে জামারাহ-ই-আকাবায় নিয়ে যাওয়া যায়? তারা সেখানে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে এবং অতঃপর তাঁবুতে ফিরে আসবে এবং যিলহজ্বের এগারতম দিনে সূর্যাস্তের নিকটবর্তী সময়ে তাদেরকে পুনরায় জামারাহ্ সমূহে নিয়ে যাওয়া, যাতে যিলহজ্বের বারতম রাতেও যিলহজ্বের এগারতম দিনের কঙ্কর নিক্ষেপও সম্পন্ন করতে পারে, ভিড়
ও অন্যান্য বিপদাপদের প্রতি লক্ষ্য রেখে।
উত্তর : মহিলাদের জন্য মাশআরে অবস্থান করার পর এবং কুরবানীর ঈদের ঐ রাতেই জামারাহ্-ই-আকাবয় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে নিষেধ নেই। কিন্তু যিলহজ্বের এগার ও বারতম রাতের কঙ্কর নিক্ষেপ রাতের বেলায় তাদের জন্য তখনই সঠিক হবে, যখন দিনের বেলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করায় অক্ষমতা থাকবে।
প্রশ্ন-১০৬২: এক ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় মনে করছিল যে, কঙ্করগুলো জামারাহ’য় স্থাপিত পাথরে লাগতে হবে। কাজেই সে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এগারটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলো এবং তন্মধ্যে সাতটিকে সঠিক বলে গণ্য করলো। তার এই কঙ্কর নিক্ষেপ কি সঠিক হয়েছে?
উত্তর: যদি যেগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ ছিল এবং সতর্কতামূলকভাবে নিক্ষেপ করে থাকে, তাহলে সমস্যা নেই। আর যদি সন্দেহের বশেও নয় এবং বেশি করার উদ্দেশ্যও ছিল না, তাহলে সঠিক হবে। যদিও এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।
প্রশ্ন-১০৬৩ : এক ব্যক্তি কুরবানীর ঈদের দিনে জামরাহ-ই-আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করার জন্য গেল এবং তা সম্পন্ন করলো, কিন্তু পরবর্তী দুই দিন অসুস্থতার কারণে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলো, আর যিলহজ্বের তেরতম দিনে কঙ্কর নিক্ষেপের কাযা পালনের জন্য সে নিজেই গেল। কিন্তু প্রথমে জামারাহ-ই আকাবায় নিক্ষেপ করলো। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করলো এবং জামারাহ্-ই উলা থেকে আরম্ভ করলো এবং যিলহজ্বের এগার ও বারতম দিনে একবারে চৌদ্দটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলো, সাতটি যিলহজ্বের এগারতম দিন বাবদ আর সাতটি যিলহজ্বের বারতম দিনের জন্য। আর
জামারাহ-ই উছতায়ও জামারাহ-ই আকাবায় বারটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করলো এবং জামারাহ্-ই আকাবায় ফিরে এসেছে। তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি সে অসুস্থ ও অক্ষম থাকে এবং প্রতিনিধি নিযুক্ত করে থাকে, তাহলে তার কাজ সঠিক। তা পুনরাবৃত্তির দরকার নেই। আর সর্বাবস্থায় উল্লেখিত পন্থায় পুনরাবৃত্তি করা সঠিক নয়।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)