কুরবানি সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর বা ফতোয়া
প্রশ্ন-৮৬৪ : একদল হাজী চাঁদা প্রদান করে কিছু টাকা একত্রে জমা করে। অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে একজন যৌথ টাকায় তাদের সকলের জন্য কিছুসংখ্যক ভেড়া ক্রয় করলো এবং জবাই করার সময় তাদের প্রত্যেকের নামে একটি করে ভেড়ার নিয়ত করে কুরবানি করলো। এ পদ্ধতিতে কুরবানি করলে কি অসুবিধা রয়েছে? আর যেহেতু তারা সকলে সমান পরিমাণ টাকা জমা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে যদি ভেড়াগুলোর দামে তারতম্য থাকে তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াবে?
উত্তর: যদি টাকার মালিকরা সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৮৬৫: যে ব্যক্তি তার ভেড়াকে অ-মুমিনের হাতে দিয়েছে এবং সে জবাই করেছে এবং তারপর মাথামুণ্ডন ও সংশ্লিষ্ট আমলসমূহ সম্পন্ন করেছে অতঃপর তা বুঝতে পেরেছে। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: পুনরায় কুরবানি করতে হবে। আর মাথামুণ্ডন এবং সংশ্লিষ্ট আমলসমূহ সঠিক।
প্রশ্ন-৮৬৬: কেউ কুরবানির পশুকে একজন অ-মুমিনের হাতে তুলে দিয়েছে এবং সে তা জবাই করেছে। অতঃপর বুঝতে পেরেছে, তৎসত্ত্বেও সে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরবানি পুনঃ আদায় ছাড়াই মাথা মুণ্ডন করে এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট আমলগুলো পালন করে। এমতাবস্থায় সে কি ইহরাম থেকে মুক্ত হয়েছে? আর সে কি শুধু কুরবানি করবে, নাকি সকল আমলের পুনঃ আদায় করবে?
উত্তর : যদি কুরবানির পর যেসব আমল পালন করেছে সেগুলো সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সে ইহরাম থেকে মুক্ত হয়েছে। এখন শুধু কুরবানি তার দায়িত্বে রয়েছে। আর তার আমলসমূহ সঠিক।
প্রশ্ন-৮৬৭৪ কুরবানির মাসআলায় জবাই করার নতুন স্থান সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, স্পষ্ট কোনো হুকুম নেই। অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে আপনার মতামত কি জানাবেন?
উত্তর: জবাই করার নতুন স্থানে কুরবানি করা জায়েজ ও যথেষ্ট।
প্রশ্ন-৮৬৮ : কুরবানির শর্তাবলীর ক্ষেত্রে কি অনুসন্ধান করার প্রয়োজন রয়েছে যাতে, শর্তসম্পন্ন থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জিত হয়?
উত্তরঃ পশু নিখুঁত থাকার পর যেসব খুঁত তার ওপর আরোপিত হয় যেমন খাসি না থাকা, কিম্বা খুঁত না থাকা, ইত্যাদি শর্তাবলীর ক্ষেত্রে অনুসন্ধান প্রয়োজন নেই। আর সন্দেহ হলে কোন অনুসন্ধান ছাড়াই জবাই করতে পারবে। কিন্তু অন্যান্য শর্তের বেলায় যেমন পশুর বয়স কিম্বা জবাইকারীর মুমিন হওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা এবং নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক।
প্রশ্ন-৮৬৯: মক্কায় একজনের পকেটমার হয়ে টাকা চুরি গেছে। সে আইনের শরণাপন্ন হলো। অতঃপর আইনগত পদক্ষেপসমূহ অতিক্রম করে সেখানকার হাকিম নির্দেশ দিলেন চোরের নিকট থেকে তার টাকা আদায় করে তাকে প্রদান করার জন্য। তার জন্য এই টাকা গ্রহণ করে তদ্বারা কুরবানির ভেড়া কেনা কি জায়েজ?
উত্তরঃ যদি সে জানে টাকা তার নিজেরই, তাহলে আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৮৭০ : কোন ব্যক্তি কুরবানি করার প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করা ছাড়াই তার পরিবার কিম্বা অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই মনে করে কুরবানি করে যে, ঐ অনুমতি তার রয়েছে এবং সে নিশ্চিত যে, যখন সে তার পরিবার বা বন্ধুর কাছে বলবে যে, আমি তোমার পক্ষ থেকে কুরবানির স্থলে কুরবানি করেছি তখন সে সন্তুষ্ট হবে এবং খুশিও হবে। এই ধরনের কুরবানি কি যথেষ্ট?
উত্তর: যথেষ্ট নয়, যদি না তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে থাকে।’
প্রশ্ন-৮৭১ ৪ ঈদের দিন কিছু কিছু লোক কুরবানি স্থলে যায় এবং কুরবানির ব্যাপারে তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও তারা নিজেরাই তাদের বন্ধুদের জন্য কুরবানি করে থাকে। এই কুরবানি কি যথেষ্ট? আর যদি যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তাহলে কুরবানির খরচ কে বহন করবে?
উত্তর : যথেষ্ট নয়। আর টাকা সেই ব্যক্তির সম্পদ থেকে যাবে যে ব্যয় করেছে। যদি না এক্ষেত্রে প্রতারণার কোন বিষয় থাকে।
‘প্রশ্ন-৮৭২৪ কুরবানির স্থলে হাজীগণ এবং ভেড়ার মালিক পরস্পর চুক্তি করে যে, যতগুলো ভেড়া তারা চায় প্রত্যেকটি নির্ধারিত মূল্যে এবং অমুকের নামে নিয়ে যাবে, হাজীও তা মেনে নেয়। এভাবে সে যেসকল ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে তাদের একেকজনের নামে একেকটি ভেড়া জবাই করে। অতঃপর ভেড়ার মালিকের নিকটে হিসাব নিষ্পত্তি করে। এক্ষেত্রে কি কুরবানির মধ্যে অসুবিধা রয়েছে?
উত্তর: অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৮৭৩ ঃ কুরবানির স্থানে দশজন হাজী ভেড়ার মালিকের সাথে চুক্তি করে যে, আমরা দশটি ভেড়া বেছে নেব এবং কুরবানি করবো। প্রত্যেকটির দাম উদাহরণস্বরূপ ২০০ সৌদি রিয়াল হিসেবে। এরই মধ্যে তাদের আরো কয়েকজন বন্ধু এসে পড়ে এবং ভেড়ার মালিকের সাথে নতুন করে চুক্তি করা ছাড়াই তাদের সংখ্যার সমান আরো কিছু ভেড়া কুরবানি করে। আর তাদের সিদ্ধান্ত হলো, অন্যান্যদের চুক্তি অনুযায়ী তারাও ভেড়ার মালিককে মূল্য পরিশোধ করবে। এমতাবস্থায় তাদের কুরবানি কি সঠিক?
উত্তর : যদি ভেড়ার মালিকের সন্তুষ্ট হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তাহলে আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-৮৭৪ : একজন অ-মুমিন ব্যক্তি কুরবানির পশু জবাই করার কাজে ব্যস্ত ছিল। আর অন্য যে ব্যক্তির জন্য এই কুরবানি করা হচ্ছিল, সে জবাইকারীর হাতের উপরে হাত রেখে দিল এবং ছুরি চালনার সময় চাপ দিচ্ছিল। এমনভাবে যে ভেড়ার জবাইর কাজ তাদের উভয়ের দ্বারাই হচ্ছিল বলা চলে। এ কুরবানী কি সঠিক?
উত্তর: যদি সে নিজে জবাই না করে থাকে, তাহলে সঠিক নয়।’
প্রশ্ন-৮৭৫: কুরবানীর দিন সচরাচর প্রত্যেক কাফেলার কয়েকজন অন্যদের পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়। তারা কুরবানীর স্থলে আসে। এ সময়ে যদি কেউ সন্দেহ করে যে, অমুক ব্যক্তির জন্যও কুরবানী করেছি নাকি করিনি, তাহলে উক্ত প্রতিনিধির কর্তব্য কী?
উত্তরঃ (তাকে) কুরবানী করতে হবে।
প্রশ্ন-৮৭৬ : ইস্পাতের তৈরি চাকু যা লোহা কি-না জানা নেই, তা দ্বারা জবাই করার হুকুম কী?
উত্তর: সঠিক নয়।
প্রশ্ন-৮৭৭: যদি অসুস্থ ব্যক্তি তামাকু হজ্বে কুরবানী করতে সক্ষম না হয় এবং অন্যকে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করে আর উক্ত প্রতিনিধি ভুলে যায় এবং মদীনায় কিম্বা ইরানে ফিরে আসার পর তার মনে পড়ে যে সে কুরবানী করেনি। তার কর্তব্য কী?
উত্তর : তার হজ্বে কোনো সমস্যা নেই। তবে কুরবানী তার দায়িত্বে বহাল রয়ে গেল। পরবর্তী বছরে মিনায় তা সম্পন্ন করতে হবে। আর যদি যিলহজ্জ মাসে বুঝতে পারে তাহলে সম্ভব হলে ঐ মাসেই কুরবানী করবে।
প্রশ্ন-৮৭৮ : এক ব্যক্তি নিজের এবং কয়েক ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে কুরবানীর স্থানে গেল এবং দশটি ভেড়া কিনে কুরবানী করলো। অতঃপর বাসায় ফিরে আসার পর সে নিশ্চিত হলো যে, নয়টি ভেড়ার মূল্য পরিশোধ করেছে। এমতাবস্থায় সে যে একটি ভেড়ার মূল্য পরিশোধ করেনি, সে ব্যাপারে তার কর্তব্য কী? উল্লেখ্য, সে কুরবানীর স্থানে ফিরে গিয়ে ভেড়ার মালিককের খুঁজে পায় নি। এক্ষেত্রে সে কি ঐ টাকা খরচ করতে পারবে? আর ইরানে ফিরে আসার পর কি ইরানী টাকা ফকীহর নিকট জমা দেবে কিম্বা সদকাহ প্রদান করবে? আর যদি তা খরচ করা জায়েজ থাকে, তাহলে এখন ইরানে ফিরে আসার পর তা কি সৌদি রিয়ালে নাকি সরকারি মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রায়, নাকি খোলাবাজারের মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রদান করবে?
উত্তর : তার মালিককে খুঁজে পাবার ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার পর তার পক্ষ থেকে ফকিরদেরকে সদকা প্রদান করবে। সেটা হয় রিয়ালে প্রদান করবে না হয় উপরোক্ত মূল্যে প্রদান করবে।
প্রশ্ন-৮৭৯: এক ব্যক্তি এই বিশ্বাসে কুরবানী করে না যে, ভেড়ার গোশত নষ্ট হয়ে যাবে এবং সেগুলো কাজে লাগানো যাবে না। আর এভাবেই তাকছীর করে হজ্বের আমলসমূহকে সম্পন্ন করে। তার কর্তব্য কি?
উত্তর: যদি অজ্ঞ থাকে এবং মনে করতো যে তার আমল সঠিক তাহলে সে ইহরাম থেকে বের হয়ে গেছে। তবে কুরবানী তার দায়িত্বে বলবৎ রয়ে গেছে।
প্রশ্ন-৮৮০ : ইহ্রাম বাঁধা ব্যক্তি কি নিজের ভেড়া জবাই করার আগে অন্যের ভেড়া জবাই করতে পারবে?
উত্তর: বাধা নেই।
প্রশ্ন-৮৮১ : যদি কেউ জবাইকারীর মুমিন হওয়ার বিষয়টি ভেড়া জবাই করার আগে নিশ্চিত হয়, অতঃপর জানা যায় যে এর বিপরীত ছিল, তাহলে কি উক্ত কুরবানী যথেষ্ট হবে?
উত্তর: যথেষ্ট হবে না।
প্রশ্ন-৮৮২ : যদি কুরবানী ঘুমস পরিশোধ না করা টাকা থেকে হয়, তাহলে তার নির্দেশ কী?
উত্তর: যথেষ্ট হবে না।
প্রশ্ন-৮৮৩ ঃ যখন সুস্থ নিখুঁত ভেড়া থাকবে না, সেক্ষেত্রে কি যে ভেড়ার অ-কোষ দুটো মেশিনে চেপে গুলিয়ে দেয়া হয়েছে, এমন ভেড়া জবাই করা যাবে?
উত্তরঃ যদি খাসিকৃত ও অ-কোষ চেপে দেয়া হয়েছে এমন ভেড়া ছাড়া অন্য ভেড়া পাওয়া না যায়, তাহলে খাসি এবং অ-কোষ চেপে দেয়া ভেড়াই যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-৮৮৪ : যে ব্যক্তি এই বিশ্বাসে পশু জবাই এবং মাথা মুণ্ডন সম্পন্ন করেছে যে তার প্রতিনিধি কঙ্কর নিক্ষেপকে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল যে প্রতিনিধি তার পক্ষ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পন্ন করেনি। এমতাবস্থায় তার জবাই এবং
মাথামুণ্ডন কি সঠিক?
উত্তর: যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-৮৮৫: এক ব্যক্তি কুরবানীর জন্যে কাউকে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলো। অতঃপর আরেকজনকেও প্রতিনিধি নিয়োগ দান করলো। কিন্তু প্রথম ব্যক্তি পশু জবাই করলো। এটা কি সঠিক হবে?
উত্তর: যদি প্রথম ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্ব থেকে অপসারণ না করে থাকে, তাহলে যথেষ্ট হবে। আর নিছক দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করার অর্থ এটা নয় যে, প্রথম ব্যক্তিকে অপসারণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৮৮৬: এক ব্যক্তি জবাইকারীর মুমিন হওয়ার শর্ত সম্পর্কে অজ্ঞতাবশত অন্য একজনের ওপর নিজের কুরবানীকে সোপর্দ করলো, যে তার জন্য জবাই করবে। জবাই করার পর সে মাসআলা সম্পর্কে অবগত হলো। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি জবাইকারীর মুমিন হওয়ার বিষয়টি জানা না থাকে, তাহলে পুনরায় কুরবানী করতে হবে।
প্রশ্ন-৮৮৭ : কাউকে কুরবানীর জন্য প্রতিনিধি করা হলো। সে কি অপর কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে?
উত্তর : যদি প্রতিনিধি করা হয় এভাবে যে প্রতিনিধি নিজে কুরবানী করবে, তাহলে অপর কাউকে (প্রতিনিধিত্ব) প্রদান করতে পারবে না।
প্রশ্ন-৮৮৮ : যদি অ-মুমিন ব্যক্তির দ্বারা কুরবানীর পশু জবাই সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে কি তার পুনরাবৃত্তি হতে হবে তাশরীক দিবসসমূহে?
উত্তর : যদি যিলহজ্ব মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে তার শেষ দিন পর্যন্ত কুরবানী করা হয়, তাহলে যথেষ্ট হবে। যদিও তা তাশরীকের দিবসসমূহ থেকে বিলম্ব করা জায়েজ নয়।
প্রশ্ন-৮৮৯ : যে ইহরাম বাঁধা ব্যক্তির কাপড় জবাই করার সময় অপবিত্র রয়েছে, সে কি অন্যদের জন্যে জবাই করার সময় পরিমাণে অপবিত্র ইহরামের কাপড়ে থাকতে পারবে?
উত্তর: সম্ভব হলে তার কাপড়কে পবিত্র করে নেবে। আর যদি না করে, তাহলে ইহরাম কিম্বা কুরবানীর কোনো ক্ষতি হবে না।
প্রশ্ন-৮৯০ : হজ্বের নিয়মাবলীর মধ্যে লেখা রয়েছে, সতর্কতা অনুযায়ী ওয়াজিব হলো কুরবানীকে ঈদের দিন থেকে বিলম্ব না করা। এখন যদি কেউ বিনা কারণে বিলম্ব করে, তাহলে কি হারাম কাজ করা ছাড়াও তার আর কোন দশা হয়?
উত্তর: তার কুরবানী সঠিক। তবে কুরবানী, মাথা মুণ্ডন এবং মক্কার আমলসমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’
প্রশ্ন-৮৯১: আপনি বলেন যে, যদি যিলহাজের শেষ নাগাদ মিনায় কুরবানী করা সম্ভব হয়, তাহলে কুরবানি বিলম্ব করবে। আপনি কি অনুমতি প্রদান করেন যে, মাথামুণ্ডন ঈদের দিনেই সম্পন্ন করবে নাকি মাথামুণ্ডন এবং তাকছীর কুরবানীর পর পর্যন্ত বিলম্ব করবে, যদি দশ দিনও বিলম্ব হয়?
উত্তর: অধিকতর সতর্কতা হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
প্রশ্ন-৮৯২: যে ভেড়ার অ-কোষ মেশিন দিয়ে চেপে দেয়া হয়েছে এবং যে ভেড়ার অ-কোষ মুচড়িয়ে দেয়া হয়েছে এ দু’টি কি এক সমান? আর মোট কথা যদি কোনো
এক্ষেত্রে ঈদের দিন মাথামুণ্ডন কিম্বা তাকক্সীর ওয়াজিব হওয়া অসম্ভব। কিন্তু জবাই’র পূর্বে হজ্জের
ভেড়ার অ-কোষকে মুচড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে কি তা কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে? অনুগ্রহ পূর্বক আপনার মতামত জানাবেন।
উত্তর : সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মুচড়ানোও যেন না হয়।’
প্রশ্ন-৮৯৩ : যে পশুকে কুরবানীর উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়, যদি রগ চতুষ্টয়কে কর্তন করে ফেলা হয় এবং পশুকে ছেড়ে দেয়া হয় ও সে নিজে নিজে কিবলার দিকে পেছন করে কিম্বা রগ চতুষ্ঠয়কে কর্তন করার পর, প্রাণ ত্যাগ করার পূর্বে উক্ত পশুকে অন্যান্য জবেহকৃত পশুর ধড়ের ওপর নিক্ষেপ করে এবং এর ফলে পশুটি কিবলা থেকে দিকচ্যুত হয় এবং সে অবস্থায় প্রাণত্যাগ করে তাহলে তার নির্দেশ কী?
উত্তর: রগ চতুষ্টয় কর্তনের সময় কিবলামুখী থাকলেই যথেষ্ট।
প্রশ্ন-৮৯৪ : যদি কেউ কুরবানীর পশু জবাই করার এবং হজ্বের অন্যান্য আমল সম্পন্ন করার পর অথবা তার পূর্বে বুঝতে পারে যে, কুরবানীর পশুর বয়স নিসাব পরিমাণের চেয়ে কম, তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ পুনঃ আদায় আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন-৮৯৫ঃ যদি কাফেলার আলেম জানেন যে, ঈদের দিন কুরবানীর স্থানে তার ইহরামের কাপড় রক্ত-কলুষিত হয়ে যাবে, তিনি যেহেতু আলেম এবং হাজীদের আমলের ওপর নজর রাখা তার দায়িত্ব, কয়েক ঘণ্টা যাবৎ তার ইহরামের কাপড় রক্তে কলুষিত হয়ে থাকে। প্রশ্ন হলো, কাপড় অপবিত্র হওয়ার বিষয় জ্ঞাত থাকা এবং সময় দীর্ঘ হওয়ার প্রেক্ষিতে তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি পরিবর্তন কিম্বা পবিত্র করতে অপারগ হয় তাহলে অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৮৯৬: কাফেলার আলেম হলেন প্রতিনিধি এবং তিনি জানেন যে, হাজীদের হজ্বের আমলসমূহের প্রতি নজর রাখতে হলে কুরবানী স্থানে তার কাপড় রক্ত কলুষিত হয়ে পড়বে এবং তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের কারণে সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ বিলম্ব করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ দিকটি জানার পর হজ্বে তার প্রতিনিধি হওয়ায় কি সমস্যা রয়েছে?
উত্তর: তার প্রতিনিধি হওয়ার মধ্যে সমস্যা নেই।
প্রশ্ন-৮৯৭ : মক্কার কিছু কিছু নতুন মহল্লায়, মিনার দরজা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কি কুরবানী করা যাবে?
উত্তরঃ যদি মিনার দরজা হয় তাহলে নিষেধ নেই। তবে মিনার দরজা কি না- নিশ্চিত না হলে সঠিক নয়।
প্রশ্ন-৮৯৮ : যে ব্যক্তি সন্দেহ করে যে, এ বছর কিম্বা পূর্ববর্তী বছরগুলোতে তার কুরবানীর পশু জবাইকারী ব্যক্তিটি মুমিন ছিল কি-না, এমতাবস্থায় বর্তমানে তার কর্তব্য কী?
উত্তর : যদি আমলের সময় মাসআলাটি জ্ঞাত থাকে এবং সেদিকে মনোযোগী ছিল এবং সন্দেহটা হয় আমলের পরে তাহলে ভ্রক্ষেপ করবে না। অন্যথায় কুরবানী পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৮৯৯ : কোন কোন কাফেলার পরিচালকবৃন্দ কিম্বা অন্যান্য পরোপকারী লোক কুরবানীর জন্য লোকদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করে, কখনো কখনো তারা নিজেই পশু জবাই করতে জানে না। এ কারণে কুরবানীর পশুগুলোকে অ-মুমিন লোক জবাই করে। এক্ষেত্রে প্রথমতঃ যার প্রতিনিধিত্ব করছে তার পক্ষ থেকে কি এটা যথেষ্ট হবে? আর দ্বিতীয়তঃ প্রতিনিধি কি দায়ী থাকবে?
উত্তর: উপরোক্ত কুরবানী যথেষ্ট হবে না। আর যে ব্যক্তি প্রতিনিধি নিয়োগকারীর নিকট থেকে টাকা নিয়েছে সে দায়ী থাকবে।’
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)