কিভাবে ইমামকে রেযা উপাধি দেওয়া হয়
ইমামদের নাম, উপাধি ও উপনামসমূহ প্রত্যেকটি একেকটি বিশেষ বাণী বহন করে থাকে আর ইমাম রেযা’র উপাধিসমূহের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। অবশ্য প্রত্যেকটি উপাধি নিয়ে আলোচনা করা এই স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয় তাই শুধুমাত্র ইমামের বিশেষ উপাধি অর্থাৎ রেষ সম্পর্কে আলোচনা করাটা জরুরী বলে মনে করছি। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, যখন ইমাম ওয়ালীয়ে আহাদ তথা যুবরাজের পদটি গ্রহণ করেন তখন মামুন এই উপাধিটি ইমামকে প্রদান করেন। ইবনে জারীর তাবারী ২০১ হিজরী সনের ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে এভাবে বলেছেন: এ বছরে মামুন, আলী ইবনে মুসা ইবনে জাফরকে ওয়ালীয়ে আহাদ ও তার পরবর্তী খলিফ নির্ধারণ করেন এবং তাঁকে আর রাজী মিন আলে মুহাম্মাদ তথা নই পরিবারের রাজী বলে তাঁকে সম্বোধন করেন।( তারীখে তাবারী, ৭/১৩৯ )
নুরূপ বর্ণনা ইবনে কাসীর,( আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/২৪৭ ) ইবনে আসির, ( আল কামিল, ৬/৩২৬) গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে খালদুনও এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন তবে তিনি আর রাজী মিন আলে মুহাম্মাদ অর্থাৎ নবী পরিবারের রাজী এ কথার স্থলে আর রেযা মিন আলে মুহাম্মাদ অর্থাৎ নবী পরিবারের রেযা বলে উল্লেখ করেছেন।( তারীখে ইবনে খালদুন, ৩/২৪৭)
আলোচনা ও পর্যালোচনা
বিভিন্ন দলিল-প্রমাণাদিতে আছে যে, ইমামদের নাম রাখা এবং উপাধি নির্ধারণ করার বিষয়টি এমনই এক বিষয় যা ঐতিহাসিকদের ব্যাখ্যারও অনেক উর্দ্ধে। এই প্রমাণাদিগুলোকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়:
১। যেসব প্রমাণাদি শুধুমাত্র শিয়াদের দৃষ্টিতে ও যারা আহলে বাইতেরান্স) বেলায়াতে বিশ্বাসী তাদের দৃষ্টিতে বর্ণিত হয়েছে। আর সেগুলো হচ্ছে এই যে, আহলে বাইতের নাম ও উপাধিসমূহ পূর্ব থেকেই রাসূলের) মাধ্যমে এমনকি ওহীর ফেরেশতার মাধ্যমে নির্ধারণ হয়েছে, যেমনভাবে রাসূল(স) ইমাম হাসানাশ) ও ইমাম হোসাইনের (আ) নামের ক্ষেত্রে বলেছেন: নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি আল্লাহর উপর অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারব না। ( যে সব বর্ণনা রাসূল (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে বার ইমামের নাম উল্লেখ আছে এবং বিশেষভাবে ইমাম রেযা’র) নাম যেগুলোতে স্থান পেয়েছে।) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ লওহে মাহফুজে তাঁকে রেযা নামকরণ করেছেন। ( মাজমুয়ে আবু নাফিসা ২২৩)
২। ঐসব প্রমাণাদি যেগুলো সবার নিকট গ্রহণযোগ্য আর সেগুলো পূর্ববর্তী ইমামগণের মাধ্যমে বর্ণিত হওয়া যেখানে তাঁরা “রেযা” উপাধির কথা উল্লেখ করেছেন।