কীভাবে বুঝবেন—আপনার নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে?

 ফিকহের দৃষ্টিতে নামাজ শুদ্ধ হওয়া আর আল্লাহর কাছে তা কবুল হওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের শীর্ষ আলেমে দ্বীন ও আরেফ আয়াতুল্লাহিল উযমা আবদুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, নামাজ কবুল হয়েছে কি না, তার কিছু আলামত দুনিয়াতেই মানুষের চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী (হাফিযাহুল্লাহ) নামাজের ‘শুদ্ধতা’ (ফিকহগত বৈধতা) এবং ‘কবুল হওয়া’ (আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্যতা)—এই দুই বিষয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কোনো নামাজ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো—তা পুনরায় আদায় বা কাজা করার প্রয়োজন নেই। তবে সেই নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে কি না, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
নামাজের শুদ্ধতা ও কবুল হওয়ার পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের আমলের প্রকৃত অবস্থা কিয়ামতের দিনই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাবে। তবে দুনিয়াতেও এর কিছু লক্ষণ উপলব্ধি করা সম্ভব। কেউ যদি জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করে, তাহলে সে কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, তার নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে কি না।
শুদ্ধতা (সিহহত) হলো ফিকহের বিষয়। অর্থাৎ, নামাজ যদি তার সব শর্ত, রুকন ও ওয়াজিব যথাযথভাবে পূরণ করে এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ। সে ক্ষেত্রে ওই নামাজ পুনরায় আদায় বা কাজা করার প্রয়োজন হয় না।
কিন্তু কবুল হওয়া ভিন্ন বিষয়। এটি মানুষের আধ্যাত্মিক অবস্থান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা সেই ইবাদত গ্রহণ করেছেন কি না—এটাই এর মূল বিষয়। এর চূড়ান্ত বাস্তবতা মানুষ কিয়ামতের দিন জানতে পারবে। তবে দুনিয়াতেও এর কিছু আলামত একজন মানুষ নিজেই অনুভব করতে পারে।
যদি কেউ জোহর ও আসরের নামাজ আদায়ের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহর অনুগ্রহে নিজের চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, কলম ও কথাবার্তাকে গুনাহ থেকে সংযত রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে তার উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কারণ এটি তার নামাজ কবুল হওয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ। নানা পরীক্ষার মুখেও সে আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকতে পেরেছে।
পক্ষান্তরে, যদি সে নিজের জিহ্বা, দৃষ্টি, হাত বা পাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার উপলব্ধি করা উচিত যে, যদিও তার নামাজ ফিকহগত দৃষ্টিতে শুদ্ধ হয়েছে, তবুও তা আল্লাহর কাছে প্রত্যাশিতভাবে কবুল হওয়ার মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি।”— আয়াতুল্লাহিল উযমা আবদুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী, (বক্তব্য: ১০ অক্টোবর ২০১৩)

 

Related posts

ইসলামে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব

আহলে বাইত (আ.) তাঁদের বাণী ও ঐতিহ্য প্রচারকারীদের ভালোবাসেন

ইমাম হোসায়েন (আ.)-এর চল্লিশার আমল

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More