সৈয়দ মোহাম্মদ আলী
রাসুলে খোদা (সা.) বলেছেন “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি, একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অন্যটি হলো আমার বংশধর, আমার পরিবার (আহলে বাইত)। যদি তোমরা এ দু’টিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধর তাহলে কোনো দিনও পথভ্রষ্ট হবে না। কারণ, এ দু’টি কখনোই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আমার “হাউজে কাউসারে” উপস্থিত হয়। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং-৫৯২০)
প্রিয় পাঠক! লেখার শিরোনামের মাধ্যমেই হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে, আজ আমি আপনাদের মাঝে কোন বিষয়টি উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। প্রিয় পাঠক! আমি আজ আমার লেখার বিষয়টিকে দু’টি ভাগে বিভক্ত করে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো।
প্রথম ভাগে ‘আহলে বাইত (আ.)গণ কারা’ তা কুরআন ও হাদিসের আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো এবং দ্বিতীয় ভাগে ‘কেন আমরা আহলে বাইত (আ.)কে অনুসরন করবো’ সেই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।
প্রিয় পাঠক! চলুন আমরা লেখার শুরুতে রাসূলে খোদা (সা.)-এর উক্ত হাদিস উল্লেখ করেছি যে হাদিসে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি, একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অন্যটি আমার পরিবার (আহলে বাইত)।
আহলে বাইত (আ.)গণ হলেন রাসূলে খোদা (সা.)-এর পরিবারের ঐ সকল সম্মানিত সদস্য যাদেরকে বাছাই করা হয়েছে রাসূলে খোদার (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম উম্মাহর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথ প্রদর্শন ও সামগ্রিক বিষয় বলতে নেতৃত্বের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে আহলে বাইত (আ.) সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, “হে আহলে বাইত! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদেরকে সব অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখতে এবং তোমাদের পবিত্র করতে চান পরিপূর্ণ পবিত্রতায়।” (সূরা আহযাব-৩৩)
পবিত্র কুরআনের উক্ত আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয় তখন রাসূলে খোদা (সা.) তার স্ত্রী উম্মে সালমাহ-এর গৃহে অবস্থান করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর আয়াতটি অবতীর্ণ হবার পর হযরত আলী (আ.), হযরত ফাতিমা (সা.আ.), হযরত হাসান (আ.) ও হযরত হুসাইন (আ.)কে ডাকলেন এবং তার ইয়েমেনী জামাটি তাদের উপরে ছড়িয়ে দিয়ে বললেন; “হে আল্লাহ! এরাই আমার আহলে বাইত”। তখন বিবি উম্মে সালমাহ্ (রাসূলে খোদার [সা.] এর স্ত্রী) জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত নই?
রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তুমি আমার স্ত্রী এবং সঠিক পথে আছো। আর এরা আমার আহলে বাইত”।
এছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “বলুন (হে নবী) এসো আমরা আমাদের সন্তানদের আর তোমরা তোমাদের সন্তানদের এবং আমরা আমাদের নারীদের তোমরা তোমাদের নারীদের এবং আমরা আমাদের নিজেদের (নাফসকে) আর তোমরা তোমাদের নিজেদের (নাফসকে) ডেকে নিয়ে এসো। অতঃপর আমরা (আল্লাহর দরবারে) আবেদন জানাই এবং মিথ্যাবাদীদের উপরে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষণ করি”। (সূরা আলে ইমরান: ৬১)
যখন পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হল তখন আল্লাহর রাসূল (সা.): হযরত আলী (আ.), হযরত ফাতেমা (সা.আ.), হযরত হাসান (আ.) ও হযরত হোসাইন (আ.)কে ডেকে আনলেন। রাসূলে খোদা (সা.) বললেন, “হে আল্লাহ! এরাই আমার আহলে বাইত”। উক্ত হাদিস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) নিশ্চিত করেছেন কারা আহলে বাইত (আ.)-এর অন্তর্ভুক্ত।
আহলে বাইত (আ.)-এর মর্যাদার ব্যাপারে সকলেই একমত হলেও আহলে বাইত (আ.)-এর ব্যাপারে সকলেই একমত না। আহলে বাইত (আ.) কারা এ ব্যাপারে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। তাই আমি মনে করি যাদের মধ্যে এখন আহলে বাইত (আ.) কারা এ ব্যাপারে অনেক মতবিরোধ রয়েছে তাদের জন্য একমাত্র পথ পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং রাসূলে খোদার উল্লেখিত হাদিস ও রেওয়ায়েত সকল ভালভাবে যাচাই করে দেখা। কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস দ্বারা সংক্ষিপ্তভাবে হলেও চেষ্টা করেছি আহলে বাইত (আ.) গণ কারা সে সম্পর্কে কিছু বলতে এবং তাদের পরিচয় আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে।
প্রিয় পাঠক! এখন আমরা লেখার মূল অংশ অর্থাৎ ২য় অংশ শুরু করবো আর এই অংশে আমরা জানবো আহলে বাইত (আ.)গণকে কেন অনুসরণ করবো? এবং তাদের অনুসরণে কি ধরণের ফজিলত বা বরকত রয়েছে সেই সম্পর্কে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমার উম্মতের মাঝে আমার আহলে বাইতের উদাহরণ হলো নূহের নৌকার মতো। যে তাতে আরোহন করবে সে পরিত্রাণ লাভ করবে এবং যে তাদের থেকে বিমুখ হবে সে ধ্বংস হবে। [বিহারুল আনওয়ার, খন্ড-২৭, পৃ: ১১৩]
লেখার শুরুতেই আমরা আহলে বাইত (আ.)গণ সম্পর্কে জেনেছি এবং তাদের পরিচয় পেয়েছি। উপরে রাসূলে খোদা (সা.)-এর যে হাদিসটি রয়েছে উক্ত হাদিসে রাসূল্লুলাহ (সা.) আহলে বাইত (আ.)গণকে হযরত নূহ (আ.) তৈরীকৃত নৌকার সাথে তুলনা করে উদাহরণ দিয়েছেন।
আমাদের সকলেরই হয়তো হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকার ইতিহাস জানা রয়েছে। হযরত নূহ (আ.)-এর আমলে কাফেরদের ধ্বংসের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশে মহা প্লাবন সংগঠিত হয়। সেই সময়ের আগে হযরত নূহ (আ.) মহান আল্লাহর আদেশে একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন এবং প্লাবন-এর সময় যারা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে নৌকায় আরোহণ করেছিল তারা সকলেই সেই মহা প্লাবন থেকে বেঁচে গিয়েছিল। ঠিক একইভাবে আহলে বাইত (আ.)গণের যারা অনুসরণ করবে তারা দুনিয়া ও আখেরাত দুই দিক থেকেই সফলকামী হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের সন্তানদের তিনটি আদব শিক্ষা দেবে; তোমাদের নবীর প্রতি ভালবাসা, তার আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা এবং কুরআন তেলাওয়াত করা”। [আল-জামি’আস-সাগির, খন্ড-১, পৃ: ১৪]
নবী কারীম (সা.) যে তিনটি আদব-এর কথা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো আহলে বাইত (আ.)দের প্রতি ভালবাসা। রাসুলে খোদা (সা.) তাদের ভালবাসতে এবং অনুসরণ করতে বলার পিছনে অনেক কারণ বা ফজিলত রয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাদের নাম আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাদের সকলের মধ্যেই রাসুলে খোদার (সা.) সকল গুণ রয়েছে। এবং তাদের ফজিলত-এর বিবরণ মহান আল্লাহ তার পবিত্র কুরআনে এবং রাসুলে পাক (সা.) তার হাদিসে তুলে ধরেছেন। আসুন দেখে নিই রাসুলে খোদা (সা.) যাদেরকে আহলে বাইত (আ.)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন পবিত্র কুরআন ও রাসুলে খোদা (সা.)-এর হাদিসে তাদের মর্যাদা কতটা। প্রথমেই আমি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের মাধ্যমে রাসুলে আকরাম এবং হযরত আলী (আ.) এর মর্যাদা তুলে ধরবো।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদায় ইরশাদ করেছেন-“তোমাদের অভিভাবক শুধু আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং সেই বিশ্বাসী যে নামায বজায় রাখে এবং যাকাত দেয় রুক অবস্থায়। (সূরা আল মায়েদা-৫৫)
কুরআনের উপরোক্ত আয়াতের তাফসীরে অধিকাংশ স্বনামধন্য মুফাসসিরগণ বলেছেন এখানে অভিভাবক হিসেবে তিন জনকে পরিচয় করানো হয়েছে: (ক) আল্লাহ, (খ) আল্লাহর রাসূল এবং (গ) আলী যিনি ঐ আয়াতের তৃতীয় প্রতিচ্ছবি। অতএব এ আয়াত ও তার তাফসীর প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদা কতটা বেশি।
এছাড়াও রাসূলে খোদা (সা.) তার একটি হাদিসে উল্লেখ করেন “আলী আমার ভাই এবং আমার পরবর্তীকালের আমার ওয়াসী এবং আমার খলীফা তার আদেশ নিষেধকে মান্য করো এবং তার অনুগত্য করো। (কানযুল উম্মাল, খ. ১৩, পৃ: ১৩১) এটি হলো হযরত আলী (আ.)-এর মর্যাদা।
এখন আসুন দেখি আহলে বাইত (আ.)-এর আর একজন সম্মানিত অংশিদারীনি হযরত ফাতেমা (সা.আ.) সম্পর্কে রাসূলে খোদা (সা.) কি বলেছেন-
রাসূল্লুলাহ্ (সা.) বলেন, “ফাতেমা আমার দেহের অংশ যে তাকে কষ্টদেয় সে আমাকে কষ্টদেয় আর যে আমাকে কষ্ট দেয় সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়। [সহীহ আল-বুখারী]
রাসূল্লুলাহ (সা.) তার হাদিস দ্বারা বুঝিয়েছেন হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর প্রতি তার ভালবাসা ও মর্যাদা কতখানি।
এছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্টদেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি”। [সূরা আহযাব: ৫৭]
পবিত্র কুরআনুল কারীমের উক্ত আয়াতের সাথে সমন্বয় করলে বোঝা যায় যে, হযরত ফাতেমা (সা.আ.)কে কষ্ট দিলে স্বয়ং রাসূলে খোদাকে কষ্ট দেওয়া হয় আর যে রাসূলকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে কষ্ট দিল। অতঃপর তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার প্রতিফল মহান আল্লাহ উক্ত আয়াতে বর্ণনা করে দিয়েছেন।
হযরত ফাতেমা (সা.আ.)-এর সব থেকে বড় মর্যাদা হলো তিনি হচ্ছেন জান্নাতে নারীদের সর্দার। এই সম্পর্কে রাসূলে খোদার হাদিসও বর্ণিত রয়েছে। সর্বশেষ অবশিষ্ট যে দু’জন আহলে বাইতের বাতি বা প্রদীপ রয়েছে তাদের মর্যাদা তুরে ধরতে একটি মাত্র হাদিসই যথেষ্ট। রাসূল (সা.) বলেন, “নিশ্চয়ই হাসান ও হুসাইন জান্নাতে যুবকদের সর্দার”। (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং-৩৭২০)
প্রিয় পাঠক! পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত স্বল্প কিছু আয়াত ও হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, তাদেরকে কেন আহলে বাইত (আ.)-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের কেন আমরা অনুসরণ করবো।
রাসূলে আকরাম ইরশাদ করেন, “যারা দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ সাধন করতে চাও তারা আমার আহলে বাইতকে অনুসরণ করো এবং যারা আমার আহলে বাইতকে ভালবাসবে তারা সকলেই জান্নাতি হবে”।
পাঠকবৃন্দ! আমাদের রাসূল (সা.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন শুধুমাত্র তার আহলে বাইতদের অনুসরণ-এর ফলে। এখন আসুন জেনে নিই কেন তাদের অনুসরণ করলে জান্নাতি হতে পারবো তার কারণ কি এবং তাদের অনুসরণ-এর ফলে দুনিয়াবি ও আখিরাতে কি ধরণের কল্যাণ বা মর্যাদার অধিকারী হবো।
প্রিয় পাঠক! দুনিয়াতে যদি আপনারা চান সম্মান ও মর্যাদার সহিত জীবন যাপন করতে তাহলে নিজেদের মধ্যে আহলে বাইত (আ.)গণের গুণ গুলি ফুটিয়ে তুলতে হবে। আর এটার জন্য তারা দুনিয়াতে কিভাবে জীবন যাপন করতেন তা আমাদের অনুসরণ করতে হবে।
আসুন দেখি দুনিয়াবী জীবনে তাদের অনুসরণ-এর ফলে আমাদের মধ্যে কি ধরণের পরিবর্তন আসবে বা গুণ ফুটে উঠবে। আহলে বাইত (আ.)গণ বলেন, ‘দুনিয়াতে কেউ যদি সম্মান ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে চাও তাহলে তোমাকে সংযমী হতে হবে।’ হযরত ইমাম আলী (আ.) বলেন, ‘সংযমী হলো সেই ব্যক্তি যে দুনিয়াতে কিছু পাবার আশায় থাকে না। তারা দুনিয়াতে কিছু পেলেও মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন আর কিছু না পেলেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।”
এটি ছিল আমাদের আহলে বাইত (আ.)গণের সব থেকে বড় গুণ যারা সর্ব অবস্থায় আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন। দ্বিতীয় যে গুণটি আহলে বাইত (আ.)দের অনুসরণ করলে আমাদের মধ্যে প্রতিফলিত হবে তা হলো ‘ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।’ তৃতীয় যে গুণটি প্রতিফলিত হবে তা হলো ‘দ্বীনের প্রতি তাদের ভীতি জন্মাবে’ অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের প্রতি তার ভয় থাকবে। আর এই ভয়ে সে কখনো খারাপ কাজে অগ্রসর হবে না। দ্বীনের প্রতি তার ভক্তি ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে। চতুর্থ দিক হলো ‘ইবাদাত বন্দেগীতে তার আগ্রহ বাড়বে’।
পঞ্চম যে বৈশিষ্ট্য আহলে বাইত (আ.)গণের অনুসরণ করলে আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হবে তা হলো ‘তাহাজ্জুত-এর নামাযে সে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে’। হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত তাহাজ্জুত-এর নামায আদায় করবেন সেই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তওবা করার সুযোগ পাবে। আমরা সকলেই জানি, যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তওবা করে মৃত্যুবরণ করেন মহান আল্লাহ পাক তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! এটি গেল আহলে বাইত (আ.)গণের অনুসরণের ফলে দুনিয়াতে আপনি কি ধরণের মর্যাদার অধিকারী হবেন এবং জান্নাতের অধিকারী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! এতক্ষণ তো আমরা জানলাম দুনিয়াবী ফজিলতের কথা এখন আমরা জেনে নিবো পবিত্র এই আহলে বাইতের সদস্যদের অনুসণের ফলে আখিরাতে কি ধরণের সুসংবাদ পাবো এবং কি ধরণের সুমর্যাদার অধিকারী হতে পারবোঃ
সর্ব প্রথম সু-সংবাদ হলো ‘আখিরাতে তাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে প্রদান করা হবে’।
দ্বিতীয় সু-সংবাদ হলো ‘জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা দেয়া হবে’।
তৃতীয় সু-সংবাদ হলো ‘আখিরাতের দিন তার চেহারা চাঁদের মতো উজ্জ্বল থাকবে।
চতুর্থ সু-সংবাদ হলো ‘তাদের বেহেশ্্তি পোষাক পরানো হবে’।
পঞ্চম সু-সংবাদ হলো ‘যে ব্যক্তি আহলে বাইত (আ.)দের অনুসরণ করে এবং তাদের দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করে ঐ ব্যক্তি মৃত্যুর পরে আখিরাতের ময়দানে মহান আল্লাহর দরবারে তার পরিবারের ১০০ জনের জন্য শাফায়াত করতে পারবে।
এর থেকে বড় সু-সংবাদ আর কি হতে পারে। আল্লাহর রাসূল ও তার আহলে বাইতকে ভালবাসা ও তাদের অনুসরণ করার মাধ্যমে নিশ্চিত জান্নাত আপনার জন্য রয়েছে।
পরিশেষে রাসূলে খোদার একটি হাদিস বলতে চাই।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমার আহলে বাইতদের ভালবাসা হলো দ্বীনের [ধর্মের] পূর্ণতা”। [আমালী আস-সাদুক্ব; ১৬১/১] [আল ইখতিসাস; ৩৭]
প্রিয় পাঠক! মহান আল্লাহর দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভালভাবে মেনে চলতে হলে আমাদের সকলকেই এই পবিত্র আহলে বাইত (আ.)দের অনুসরণ করতে হবে। নিজেদেরকে তাদের দেখানো পথে পরিচালনা করতে হবে তা হলেই আমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের রেখে যাওয়া দ্বীনকে পূর্ণতা দিতে পারবো।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আমাদের সকলকে যেন আহলে বাইত (আ.)দের অনুসরণ করার এবং তাদের সঠিকভাবে সম্মান করার ও মানার তৌফিক দান করেন (আমিন)। সমাপ্ত###